Topic: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

পন্ডিত ভীমসেন জোশী

PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI
(১৯২২-২০১১)

ভীমসেন গুরুরাজ জোশী। জন্ম কর্নাটকের ধারওয়ার জেলার এক তালুক গডগ গ্রামে, ১৯২২-এর ৪ ফেব্রুয়ারি। পিতা গুরুরাজ তৎকালে এক জন এম এ পাশ করা মানুষ। বিভিন্ন বিষয়ে বেশ ক’টি বই আছে তাঁর। পিতামহ ভীমাচার্য প্রসিদ্ধ কীর্তনকার। এমত শিক্ষিত পরিবারে সংগীতের পরিবেশ অনুকূলই ছিল। ভীমসেনের সঙ্গীতশিক্ষা শুরু হয়েছিল চানাপ্পা কুর্তাকোর্তি নামক এক কীর্তনকারের কাছে পাঁচ টাকা দক্ষিণার বিনিময়ে। চানাপ্পা জাতে ধোপা, কিন্তু মানসিকতায় সঙ্গীতকার। তাঁর কাছে মাত্র সাত মাসের তালিমে গানের সঙ্গে হারমনিয়মও যখন বেশ সপ্রতিভ, তখন শুরু হল দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে পণ্ডিত শ্যামাচার্য নামক গায়কের কাছে সুরশিক্ষা। সেই ছেলেবেলায় পাওয়া শ্যামাচার্যের দাক্ষিণ্য ভীমসেন কখনও বিস্মৃত হননি, আজীবন তাঁকে পেনশন হিসেবে অর্থ প্রদান করে এসেছিলেন।


bhimsen


এ পর্যন্ত শিক্ষার গতিময়তা ঠিক থাকলেও ভীমসেনের গতানুগতিক জীবন বদলে গেল এক আকস্মিকতায়। পছন্দের দোকানে তাঁর কান এক দিন শুনে ফেলল আবদুল করিম খানের বসন্ত রাগে গাওয়া ‘বৃজ দেখনে কো’ আর ঝিঁঝিটের ঠুমরি ‘পিয়া বিন নহী আওত চৈন’। উৎকৃষ্ট খাদ্যদ্রব্য যেমন রসনার জন্য দুটিই যথেষ্ট, এ ক্ষেত্রেও তা-ই। ভীমসেন ও দুটি গান আর শোনেননি। মনের কোনও দামি রত্নের মতো তা গচ্ছিত রইল এবং সঙ্গে রইল অদম্য আশা— আমিও এক দিন এমন গাইব।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

এই স্পৃহা আরও বাড়ল, যখন পাশের গ্রাম কুন্দগোলে শুনলেন সওয়াই গন্ধর্বের লাইভ কনসার্ট। তখন রেকর্ডের গান মিলিয়ে নেওয়া— এ তো একই শৈলীর গান! মন বলল, এঁর কাছেই তালিম নিতে হবে। সওয়াই গন্ধর্বের কাছে মিনতি করলেও পারিবারিক কারণে তা সম্ভব হল না। অতএব বাড়ি থেকে পালালেন ভীমসেন। তখন মাত্র এগারো। সম্বল গাত্রবস্ত্র হিসেবে শার্ট হাফপ্যান্ট এবং শূন্য পকেট। ভীমসেন পরে বলতেন, পালানোর একটা ছুতো ছিল, ওটা মায়ের ধমক— ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি চেয়েছিলাম। অবশেষে সেই ৭৮ আর পি এম-এর ঘুরন্ত ডিস্ক ঠেলে নিয়ে এল ৭৫ মাইল দূরে বিজাপুরে এবং পরে আরও দূরে, পুণেতে। ওখানে পেলেন মাস্টার কৃষ্ণরাও ফুলমারিরকরকে। কৃষ্ণরাও নিজেই শেখাতে চাইলেন, কিন্তু কিশোর ভীমসেনের একশো টাকা দেওয়ার সামর্থ্য কোথায়? অতএব আবার দৌড়। এর মধ্যে বিনা টিকিটের যাত্রী হয়ে দু’বার জেল-ভ্রমণ। এ বার মুম্বই এবং গ্বালিয়র। গ্বালিয়রের মহারাজের দরবারে আছেন প্রসিদ্ধ সরোদিয়া হাফেজ আলি খান। সরাসরি চলে গেলেন তাঁর কাছে। হাফেজ আলির বদান্যতা জীবনে ভুলতে পারেননি ভীমসেন। মারোয়া পুরিয়ার তালিম ছাড়াও উনি পাঠালেন রাজাভাইয়া পুছোয়ালে এবং কৃষ্ণরাওশঙ্কর পণ্ডিতের কাছে। মাধব সঙ্গীত বিদ্যালয়ে সপ্তাহে তিন দিন সন্ধেবেলা ক্লাস। রাজাভাইয়া এবং হাফেজ আলি খান, দু’জনের চোখ আবিষ্কার করেছিল ভীমসেনের প্রতিভাকে। বিদ্যালয়ের জীবন ভাল লাগে না ভীমসেনের, অতএব রাজাভাইয়া নির্দেশ করেন কেশব মুকুন্দ লুখে নামক এক শিল্পীর কাছে তালিম নিতে। তিনি থাকেন বাংলার খড়্গপুরে। লুখে আবার পাঠালেন কলকাতায় ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। আশ্রয়স্থান পাহাড়ী সান্যালের বাড়ি। কাপড় কাচা, জল তোলা, নানাবিধ গৃহস্থালির কাজের সঙ্গে একটু তালিম। ভীষ্মদেব তখন অত্যধিক ব্যস্ত, নানা রেকর্ডিংয়ের কাজে প্রায়ই বাইরে, তালিম হয় অনিয়মিত। এর মধ্যে ভীমসেন একটা ছবিতে অভিনয়েরও অফার পেলেন। ভীমসেন বললেন, তিনি তো গানটাই শিখতে চান, ফিল্মস্টার হবেন কেন? ভীষ্মদেব হঠাৎ পার্স খুলে পঞ্চাশ টাকা বার করে বললেন, ‘যেখানে মন চায় চলে যাও।’

এ বার দিল্লির ট্রেনে উঠে বসা, সেখান থেকে জলন্ধর। দিলীপচাঁদ বেদি মাস্টার মদন মঙ্গতরামের খোঁজে। বরাত ভাল ভীমসেনের। রসিক এক তেলকল মালিক মাসে চার টাকা দেবেন গান শোনানোর বিনিময়ে। পঞ্জাবে প্রচুর দুধ ঘি মাখন। ভীমসেন যেমন খেতে আরম্ভ করলেন, তেমনই শুরু করলেন ব্যায়ামের কসরত। পালোয়ান হতে হবে, কারণ ধ্রুপদ গাইতে হলে শক্তি চাই। জলন্ধরের সঙ্গীত জলসায় গান শুনলেন বিনায়করাও পটবর্ধনের গান।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

এর পর ঘরে ফেরা। পুনরায় রেল-টিকিটবিহীন প্রত্যাবর্তন গডগ গ্রামে, বাবা-মাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলা, বহু দিন পরে কন্নড় উচ্চারণে। বাবা এ বার নিজেই নিয়ে গেলেন আবদুল করিমের সাক্ষাৎ শিষ্য সওয়াই গন্ধর্বের কাছে। তিনি আবার এসেছেন সেই কুন্দখোল গ্রামে। তখন শেখাচ্ছেন আর এক ফিন-এজার ফিল্মস্টার ফিরোজ দস্তুর এবং তরুণী গান্ধারী হাঙ্গলকে, পরে যিনি গঙ্গুবাই। শিক্ষা শুরু হল নতুন করে, গুরুদক্ষিণা পঁচিশ টাকা। পিতা গুরুরাজের মাসমাইনেই তখন একশো টাকা। ১৯৪০ সাল পর্যন্ত গুরুকে পেয়েছিলেন ভীমসেন। পরের কথা ইতিহাস। সেই ইতিহাসে অবশ্য অনেকের পরোক্ষ প্রভাবও রয়ে গেল, যেমন ভাস্করবুয়া বাখলে, রামকৃষ্ণবুয়া ভাজে, আমানত আলি, কেশরবাই কেরকর, বেগম আখতার, আমীর খান।

bhimsen

যুবক ভীমসেন

এ যেন সেই তীর্থব্রতীর মতো পরিব্রাজন। ভারতের নানা প্রান্ত ঘুরে সেই সনাতন ভারতকেই আবিষ্কার করা। তাই ভারতীয় সঙ্গীতের ভূমিপুত্র ভীমসেন। সরল অকপট। সঙ্গীতের ধ্যানে মগ্ন এক সন্ন্যাসীর অবয়ব। সংগীত অনুষ্ঠানেও তা-ই। নেই তান-তেহাইয়ের কূট-নীতি। শুদ্ধ সুরই শেষ উত্তর। ব্যক্তিগত জীবনে একটাই শখ, বা চাহিদা— মার্সিডিজ গাড়ি। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক অসংগতিও ছিল— বৈবাহিক জীবন, সুরাযোগ। অকপট ছিলেন সুরাসক্তি নিয়ে, তার কুফল নিয়েও বলেছেন নিজেই।

পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় ভীমসেন খেয়ালের প্রচলিত ধারায় এক নতুন সংযোজন। তাঁর খেয়াল শুরু হত এক অ-সাধারণ প্রক্রিয়ায়, অন্যদের থেকে তা অনেকাংশেই আলাদা। এই প্রযোজনায় আছে নাটকীয়তা। এই নাট্যভাবেই পরতে পরতে, কখনও উন্মুক্ত কণ্ঠে, কখনও বা মৃদু থেকে মৃদুতর স্বরে রাগের উন্মোচন হবে। এলোমেলো নয়, যুক্তিযুক্ত আলাপ, গমক এবং বোলতান। তৈয়ারির ক্ষেত্রে ভীমসেন অনেক অনেক এগিয়ে ছিলেন। এই তৈয়ারি কিরাণার প্রতি তাঁর নিবেদন। সরগমের বিন্যাসেও তার অসাধারণ প্রযোজন। সওয়াই গন্ধর্বের থেকে অনেকটাই নতুন।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

এই নব্যভাব তৎকালের গুণীরা কেমন নিয়েছিলেন? পালুসকরের আপত্তির কথা শোনা যায়, তবে তার সত্যাসত্য বিচারসাপেক্ষ, কারণ তিনি বিদায় নিয়েছেন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে, ১৯৫৫ সালে। তবে আপত্তির কারণ থাকতেই পারে। ঘরানার পরম্পরা খাঁটি গব্যঘৃতের মতো বিশুদ্ধতার সঙ্গে রক্ষা করব— এমনটা সম্ভবত ভীমসেনের আদত ছিল না। এ জন্য তাঁর গায়কীতে গ্বালিয়র, আত্রাউলি-জয়পুর, পাটিয়ালা। লয়ভিত্তিক তানগুলোয় গ্বালিয়রের ছায়া, কিরাণার সঙ্গে সারেঙ্গির যোগ থাকায় ওই পিছলে যাওয়ার মতো তানগুলিও ভীমসেন অসাধারণ কাজে লাগিয়েছিলেন। ভীমসেনের শুদ্ধকল্যাণ, পুরিয়া ধানেশ্রী, ভীমপলশ্রী বা মিয়াঁ কি মলহার আপামর শ্রোতা আজীবন মনে রাখবেন। তেমনই মনে রাখবেন মরাঠি অভঙ্গ, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, হিন্দি ও কন্নড় ভজনগুলি। টেলিভিশনে দেশ রাগে ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ এই সে দিন যেন এক সুরে বেঁধেছিল। বসন্তবাহার (১৯৫৬), তানসেন (১৯৫৮), বীরবল মাই ব্রাদার (১৯৭৩) আর আঁখি (১৯৮৫) ছবিতে প্লেব্যাক করেছিলেন ভীমসেন। ১৯৯২ সালে কলকাতা শহর একটি অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিল, সে বছর আনন্দ পুরস্কার অর্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সাহিত্যসভায় তিনি গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের দুটি গান: ‘নাথ হে প্রেমপথে সব বাধা’ এবং ‘হৃদয়বাসনা পূর্ণ হল’।

বহু সম্মান পেয়েছেন জীবনে, তার মধ্যে কয়েকটি— পদ্মশ্রী (১৯৭২), পদ্মভূষণ (১৯৮৫), সেরা কণ্ঠের জন্য ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৫), প্রথম প্ল্যাটিনাম ডিস্ক (১৯৮৬), পদ্মবিভূষণ (১৯৯৯), কর্নাটকরত্ন (২০০৫), ভারতরত্ন (২০০৮)।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

ভাল মানুষ না হলে ভাল শিল্পী হওয়া যায় না

অজয় চক্রবর্তী

এই কথাটিই আবার প্রমাণ করে গেলেন পণ্ডিত ভীমসেন জোশী। এতটা আত্মাভিমানহীন সরলতা দুর্লভ।

সুর-সম্রাট ও সুর-সাধক ভীমসেন যোশী। তবে ওঁর ক্ষেত্রে সুর-সাধক কথাটিই বেশি করে খাটে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তারকার তালিকাটি কম দীর্ঘ নয়। উস্তাদ আবদুল করিম খান থেকে শুরু করে উস্তাদ ফৈয়াজ খান, উস্তাদ আবদুল ওয়াহিদ খান, উস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খান, উস্তাদ আমির খান, বাবা আলাউদ্দিন খান হয়ে পণ্ডিত রবিশঙ্কর, উস্তাদ বিলায়েৎ খান, উস্তাদ আলি আকবর খান, পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, উস্তাদ আমজাদ আলি খানের এই তালিকার এক সদস্য অবশ্যই পণ্ডিত ভীমসেন জোশী। সঙ্গীতে নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষ।

bhimsen

পন্ডিত ভীমসেন, স্ত্রী বৎসলা, বেগম আখতার

গান শেখার জন্য সব কিছুই করা সম্ভব। উনি তা নিজের জীবনে করে দেখিয়েছেন। ওঁকে প্রথম জীবনে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। জন্ম ধারওয়ারে। গান শেখার জন্য কলকাতায় চলে এলেন। পাহাড়ী সান্যালের বাড়িতে কাজ করেছেন। সম্ভবত বালিগঞ্জ অঞ্চলের কোন গ্যারাজেও কাজ করেছেন। সব কিছুর মধ্যেও গান শেখা থামেনি। তার পর নানা পথ ঘুরে গুরু সওয়াই গন্ধর্বের কাছে তালিম।

সঙ্গীতের একটি বড় অংশ নিবেদন। ওঁর গানের মধ্যে নিবেদনই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পণ্ডিত ভীমসেন জোশী শুধু কিরানা ঘরানার বড় শিল্পী বললেই ওঁর সবটা বোঝা যায় না। ওঁর সঙ্গীতের এই পুজো বা নিবেদনের দিকটি না বুঝলে কিন্তু অনেকটাই বাকি থেকে যায়। যখন উনি ‘যো ভজে হরিকো সদা...’ গাইতেন তখন অনেকের চোখে জল ঝরতে দেখেছি। উনি আত্মমগ্ন হয়ে যেতেন। এই আত্মমগ্নতাই তাঁকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়েছে। উনি যখন মরাঠি নির্গুণ ভজন গাইতেন তখন গায়ে কাঁটা দিত।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

গাইতে গিয়ে উনি তালিম, বিদ্যা বা জ্ঞান জাহির করার থেকেও তা কতটা প্রাণকে স্পর্শ করছে সে দিকেই নজর দিতেন। বোদ্ধা নন এমন শ্রোতার আত্মা স্পর্শ করাও তাঁর লক্ষ্য ছিল। সামনে কে বসে আছেন তা-ও লক্ষ করতেন না। কোনও উদ্বেগ নেই। যেন ধ্যানস্থ হয়ে গাইছেন। বিদ্যা বা তালিমের দিক থেকে ওঁর থেকে জ্ঞানী শিল্পী হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু গানের মধ্যে মজে গিয়ে শ্রোতাকে স্পর্শ করতে ক’জন পেরেছেন?

এই মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় লখনউতে ১৯৭৯-তে। আমার অনুষ্ঠানের আগে নিজেই এগিয়ে এসে আমার তানপুরা মিলিয়ে দিলেন। এর পরে ওঁর সঙ্গে অনেক জায়গায় গেয়েছি। উনি যখনই কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে আসতেন আমার তানপুরার ডাক পড়ত। আর আমার ভাই সঞ্জয় চক্রবর্তী ওঁর সঙ্গে সঙ্গত করতেন। তাই কলকাতায় এলেই সঞ্জয়েরও ডাক পড়ত। শরীর যখন খুব খারাপ তখনও পুণেতে দেখা করতে গিয়েছি। ওই অবস্থার মধ্যেও আমার কাছে সঞ্জয়ের খোঁজ নিয়েছেন।

bhimsen

পন্ডিত ভীমসেন এবং গাঙ্গুবাই

সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতে অনেক বার এসেছেন। এ কাননের খুব বন্ধু ছিলেন উনি। এ কাননের বাড়িতে দিনের পরে দিন রেওয়াজ করতেন। এ কাননের কাছ থেকে অনেক বন্দিশও নিয়েছেন। পায়জামা পরে মেঝেতে বসে ঘণ্টার পরে ঘণ্টা রেওয়াজ করতেন। আশির দশকে একটি বাণিজ্যিক সংস্থার সহযোগিতায় নেতাজি ইণ্ডোরে পর পর কয়েক বছর অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্ব ছিল আমার। সেখানে ওঁকে পেয়েছি। সেখানে যে রাগ গাইতে বলেছি, যত ক্ষণ গাইতে বলেছি, বিনা দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। বয়সে ছোট বলে কিছু মনে করেননি।

Thumbs up

Re: পন্ডিত ভীমসেন জোশী_PANDIT BHIMSEN GURURAJ JOSHI_(1922-2011)

আমাকে অনেক বার নানা অনুষ্ঠানে ডেকেছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি উনি প্রথম আমাকে সওয়াই গন্ধর্ব কনফারেন্সে ডাকলেন। কনফারেন্সের শেষ দিনের শেষ শিল্পী উনি। তাঁর আগে উস্তাদ আমজাদ আলি খান। তাঁরও আগে আমি। উস্তাদ আমজাদ আলি খানের গ্বালিয়রে একটি অনুষ্ঠান থাকায় পণ্ডিত জোশীর আগে আমাকে গাইতে হল। তার পরে গুরুর মতো আমার হাত ধরে কনফারেন্সের সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তা ছাড়া গাইতে গেলে যত্নের কোনও ত্রুটি রাখতেন না। ভাল খাবার থেকে উত্তম সরবত— সবই হাজির থাকত।

সাদামাটা সরল লোক। অর্থের দিকে খেয়াল ছিল না। ভাল তানপুরা, ভাল বিছানা আর ভাল খাওয়া হলেই চলল। নিজেকে জাহির করার চেষ্টাও ছিল না। আমাদের অনুরোধে কলকাতায় অনেক কম অর্থেও অনুষ্ঠান করছেন। ওঁর যুগ পর্যন্তই গানে অর্থের থেকে আনন্দই বড় ছিল। পুণেতে ওঁর বাড়িতে গেলেও এই সাদামাটা জীবনযাপনই চোখে পড়বে। সাধারণ বাড়ি। পোশাক-আশাকে কোনও বাহুল্য নেই। কিন্তু গাইতে বসলেই বোঝা যেত এই সাধারণ মানুষের মধ্যে কী বিদ্যুৎ লুকিয়ে আছে।

bhimsen with mercedes

পুনের কাছে নিজের মার্সিডিজ গাড়ীর সঙ্গে পন্ডিত ভীমসেন

ছিল গাড়ি চালানোর নেশা। পুণে থেকে হামেশাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। কলকাতায়ও চলে আসতেন। জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, ‘‘এ আর এমন কী কাজ!”

নতুনদের গান শুনতেন। নতুনদের দরাজ প্রশংসা করতেও তাঁর বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা ছিল না। এই সরলতা, আত্মাভিমানহীনতা শিক্ষণীয়। আসলে ভাল মানুষ না হলে ভাল শিল্পী হওয়া যায় না, এই কথাটিই আবার প্রমাণ করে গেলেন পণ্ডিত ভীমসেন জোশী।


সৌজন্যেঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১ মাঘ ১৪১৭ মঙ্গলবার ২৫ জানুয়ারি ২০১১

Thumbs up