Topic: ZODIAC CHARACTERISTICS OF WOMEN MEENA_PISCE_মীন রাশির নারীর বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন রাশির নারী বৈশিষ্ট্য
মীন (১৯ ফেব্রু - ২০ মার্চ) : নারী
লাইনটা ডান দিকে। বেশি ভিড় জমাবেন না। এমনতো হওয়ার নয় যে, প্রতিটি পুরুষই তার জীবনসঙ্গী হিসেবে একজন মীন নারীকে পাবে। কিন্তু তা-ই বলে লাইন ভেঙে সামনে চলে যাবেনন্ধ সেটা তো ঠিক নয়। আপনার সুযোগ এলে তবেই তার মুখোমুখি হবেন। আশা করুন সব যেন ভালো হয়।
রাশিচক্র না পড়তেই মীন নারীর যাদুকরী ব্যক্তিত্বের যথেষ্ট শোরগোল পড়ে গেছে। তারও কিছু দোষত্রুটি রয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। কিন্তু প্রথম দর্শনে কলেজে বা ভার্সিটিতে সব ছেলেরাই তাকে নিজেদের ভ্যালেন্টাইন হিসেবে দেখতে চায়।
প্রয়োজনে নিজেদেরকে একটু প্লে-বয় ইমেজে নিয়ে যেতেও তাদের দেরি হয় না। আমাদের অবশ্য এটাও মেনে নেয়া উচিত যে, আধুনিক স্বাধীনচেতা নারীদের লৌহকঠিন ইমেজটাও মীন নারীদের চাহিদাকে আকাশচুম্বি করে তুলেছে। নারীসুলভ সেই রহস্যময়তা ফেলে এই ধরনের স্বাধীনচেতা আচরণ যখন প্রেমিকদের মনে ঘন-কুয়াশার স্তর জমিয়ে দিচ্ছে তখন বিনয়ী, সুন্দরী, অসহায় নেপচুন সৃষ্টিগুলোর আর কি-ই বা করার আছেন্ধ সরু লাঠি দিয়ে প্রেমিকের দলবদ্ধ সারিতে পেটাতে শুরু করা ছাড়া ?
এটা মোটেও বিষ্ময়কর নয় যে, নেপচুন-শাসিত নারীরা পুরুষদের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ। মীন নারী তার প্রেমিক কিংবা স্বামীকে ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত জীবনে বৃত্তিগত উন্নতির চেষ্টা করে না বললেই চলে। তার পুরুষটির উপর প্রভুত্ব খাটানোর বিন্দুমাত্র আগ্রহ কিংবা গোপন ইচ্ছা তার মধ্যে নেই। পুরুষটির জন্যে সে চেয়ার ঠেলে দিতে পারবে। ওভার কোট তার গায়ে পড়িয়ে দিতে পারবে। ট্যাক্সি ডাকতে পারবে। এমনকি সিগারেটটাও ধরিয়ে দিতে পারবে। যতক্ষণ খুশি প্রাণখুলে আপনার গুণকীর্তনও করতে পারবে। মীনটির একটাই প্রত্যাশান্ধ আপনি তাকে নিরাপত্তা দেবেন এবং তার যত্ন নেবেন। সেও সুখিচিত্তে আপনার ঘাড়ে মাথা রেখে বড় বড় চোখে বিষ্ময় নিয়ে আপনাকে প্রকাশ করবে যে, আপনি কতো শক্ত-সমর্থ এবং এই ভয়ংঙ্কর পৃথিবীতে আপনাকে তার কতো প্রয়োজন। একবার চিন্তা করে দেখুন কতো-শতো নেকড়ে নিরীহ মেয়েটির জন্যে লোভাতুরভাবে অপেক্ষা করে আছে। শুধু যেটা প্রয়োজন সেটা হলো তার ভীতিকর স্নায়বিক অসাড়তা থেকে তাকে মুক্ত করা। সে যদি পুরোপুরি সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের নারীদের মতো নাও হয় (যদিও তাদের অধিকাংশই সে যুগের নারীদের মতোই) তারপরও সে আপনার বিমুগ্ধ শ্রোতা হয়ে আপনার যাবতীয় সমস্যাগুলোর কথা শুনবে। যাকে বলা হয় দুঃসময়ের বন্ধু। ঠিক তেমনি এক বন্ধু হয়ে প্রতিটি সমস্যার মুহূর্তে আপনার পাশে থাকবে।
মীন নারীরা ভাবে যে তার প্রেমিক, বন্ধু, ভাই, বাবা বা যেকোন পুরুষ মানুষই একটা হাত বাধা থাকলেও অনেক সমস্যাই সমাধান করতে পারে। যেটা একজন নারী পারে না। একজন পুরুষের পক্ষে এই একই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হওয়া মোটেও দুরূহ নয়। শুধু যদি তার স্পর্শকাতর আস্থাটুকু সে পায়। পুরুষরা তো পুরুষই। এখনও আপনি ভাবছেন কেন এই মেয়েগুলো পুরুষদের কাছে এতো প্রিয় ? সে তার গৌরবউজ্জ্বল পুরুষটির একটি লাজুক, শান্ত এবং স্বর্গীয় প্রশান্তিময় একজন সঙ্গিনী। সারাক্ষণ বকবক করা ঝগড়াটে আর রাগচটা অন্যান্য নারীদের মতো সে নয়। তার এ্যাকোয়ারিয়ামের আলোটা মোলায়েম এবং স্নিগ্ধ।
নিয়নের আলো আর স্টক মার্কেটের সেই ছোট বড় অংকগুলো দেখে ক্লান্ত চোখকে শান্ত করে দেয় এই পরিবেশ। সে অবশ্য ভাবে না যে ওই অংকগুলো তার জীবনে নিরাপত্তার জাল বুনতে পারে (কিংবা যদি বা সে ভাবতোই যে সেখানে তার নিরাপত্তা লুকিয়ে আছে তাহলে সে হয়তো নিজের পেন্সিলটাকে ধার দিতে শুরু করতো।)
শীতকালে সে উলের তৈরি গরম পোশাক পরবে। হাতে গ্লাভস পরবে। বসন্তে কাটছাট সুন্দর ফুল-স্কার্ট পড়বে। গ্রীস্মে তাকে বিকিনি পরতে দেখবেন। হেমন্তে তাকে আপনার পাশে আদুরে ভঙ্গিতে বসে ফুটবল খেলা দেখতে দেখবেন।
হয়তো তার হাত আপনার পকেটে ঢোকানো থাকবে যেন সেগুলো উষ্ণ থাকে। আপনাকে সে খেলার স্কোর জিজ্ঞেস করবে। প্রতিটি ঋতুতেই সে নারীসুলভ। একটা বিতর্কিত কথার ঝুঁকি নিয়েই উল্লেখ করছি, পুরুষগুলো তার পেছনে এমনভাবে লেগে থাকে যেন সে মধুর উৎস এবং তারা এক একটা মৌমাছি।

