Topic: রূপসায়রে ডুব_তিলোত্তমা মজুমদার _ON BEAUTY_UMBERTO ECO
রূপসায়রে ডুব
তিলোত্তমা মজুমদার
সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নির্ণয় সহজ নয়। নির্ণয়ের চেয়েও কঠিন সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বিষয়ে একমত হয়ে ওঠা। তাজমহল দেখে অনেকেই চোখ ফেরাতে পারে না। আবার, কারও মতে, সাদা ফ্যাটফেটে চাকচিক্যহীন বস্তু— কী আছে ওতে? তা সত্ত্বেও কিন্তু মানবেতিহাসে সচেতনার আদি থেকে সৌন্দর্যচর্চা অব্যাহত। জ্ঞানী ও বহুদর্শী মানুষেরা সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিরূপণ করেছেন। তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অবলম্বন করে সৃষ্টি হয়েছে সৌন্দর্য তত্ত্ব, সৌন্দর্য দর্শন। আসলে, গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থার পর মানুষের যা করার কথা, সে হল সৌন্দর্যের উপাসনা। এমনকী, বিজ্ঞানও প্রকৃত পক্ষে সৌন্দর্যের সাধক। যত ক্ষণ সে কল্যাণের পথযাত্রী, তত ক্ষণ মানবজীবনকে সুন্দর ও মহনীয় করে তোলাই তার লক্ষ্য।

বার্তোলোমিও ভেনেতো-র আঁকা ‘ফ্লোরা’। ১৫০৭-১০
তা হলে কি সৌন্দর্যের সঙ্গে কল্যাণের একেবারে সরাসরি সম্পর্ক? অনেক সুন্দরোপাসকের ধারণা তাই। তাঁদের কাছে যা কল্যাণ, তাই সুন্দর। অর্থাৎ, এখানে সৌন্দর্যবোধের আড়ালে আছে এক উপযোগের দাবি। তা হলে কি কুইনিন বা নানা অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের কাছে সুন্দরের আদর্শ হয়ে উঠবে? এ ভাবে ভাবলে ব্যাপারটা হাস্যকর। তবে, বোঝা যাচ্ছে যে, যা কল্যাণ, তাই সুন্দর— এই সরল ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ নয়। এঁদের থেকে একটু পৃথক ধরনে ভাবেন বিশুদ্ধবাদীরা। সৌন্দর্যকে তাঁরা বলেন বিশুদ্ধ রসের, বিশুদ্ধ ভাবের উৎসার। যে-ভাব বা যে-রস মনের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করে, তাকেই আমরা বলতে পারি বিশুদ্ধ রস। তা হলে আরও একটা মত মোটামুটি দাঁড়াল: যা আমাদের মনে আনন্দের সঞ্চার করে, তাই-ই সুন্দর।
But one good friend is equal to a LIBRARY


