Topic: নেই শুধু আছে_নবকুমার বসু_NEI SUDHU AACHE_NABAKUMAR BASU
নেই শুধু আছে
নবকুমার বসু
ঘর থেকে বাইরে বেরুতেই আকাশ নেই হয়ে গেল।
আকাশ- আকাশ- আকাশ বলে একটা ডাক, মাটি- গাছ- পাথরে ধাক্কা খেতে খেতেই যেন ছড়িয়ে পড়ল চরাচরে, তার পর মিলিয়ে যেতে লাগল দূর থেকে আরও দূরে, এক সময় থেমে, নেই হয়ে গেল। এক নিবিড় আকাশের অস্তিত্ব রয়ে গেল টিলার ওপর বানানো অতিথিশালার নিঝুম বারান্দায়। কিন্তু আসলে সে উধাও হয়ে গেছে কোন সুদূরে— যেখানে অস্তিত্বহীন সে একা। নামের আকাশ মিশে গেল মহাশূন্যের কোন অসীমে, টিলার বারান্দায় পড়ে আছে তার ছায়া।
এখন ভোরের আলো ফুটেছে পাইনগাছের মাথা ছাড়িয়ে, তাই হিম-কুয়াশা মেখে নেমে এসেছে আকাশ। দৃশ্যমান হয়েছে। সীমাহীন, আসলে বর্ণহীনও, তবু তারই ক্যানভাসে নিজস্ব রূপ নিয়ে জেগে উঠেছে নানান অবয়ব। পাহাড়ের চূড়া, ঝুপসি গাছ, ঢালু ছাদের বাড়ি— গড়ানে জমি আঁকড়ে ঝুলে রয়েছে পাহাড়ের গায়ে। ছায়ার আকাশ দেখে। দেখে আর ভাবে, কেমন করে আছেরা নেই হয়ে যায়। সে-ও তো ছিল, এখনও ছায়া হয়ে রয়েছে, অথচ উড়ান শুরু হয়ে গেল একটু আগে।
আকাশ কি জানে তার নীলবর্ণ? সীমাহীন শূন্যতার কি কোনও রং থাকে! আলো আর কালো, পর্যায়ক্রমে এই পট পরিবর্তনের কারণে দৃষ্টিগ্রাহ্য যা কিছু, তা একটি বর্ণে অভিহিত হয়। কিংবা দৃষ্টি নামের ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতি, তার জৈবিক কুশলতায় বস্তুর ওপর বর্ণ আরোপ করে। আকাশকে দেখে নীল, সূর্যকে লাল, গাছের পাতা সবুজ, সমুদ্র নীল, রক্ত লাল।
But one good friend is equal to a LIBRARY

