Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi
শুনে মনটা খারাপ হয়েগেল। ওকে ওর বাড়িতে রেখে এসেছিলাম। তারপর একবার গেছিলাম। নিজের চোখে ওদের দারিদ্রতা দেখেছিলাম। আমাকে যেন ওরা ভগবানের মতো পূজো করতে লাগলো। বুঝলাম পাকে পাকে জড়িয়ে পরছি। সুমন্ত একবার চিঠি লিখল দাদা তুমি যদি সাহায্য না করো আমার পড়াশুনো বন্ধ হয়ে যাবে। সেই থেকে ওকে টাকা পাঠান শুরু, আজও চলছে।
অনিদা এবার চলো। সকাল থেকে কিছু খাও নি। ম্যাডাম তোমার জন্য বসে আছে।
অর্ক পাশে দাঁড়িয়ে। চোখটা ছল ছল করছে। গেঞ্জির হাতা দিয়ে চোখটা মুছলাম।
বটাদার ছেলের কাছ থেকে একটা সিগারেট নিয়ে আয়।
আমি মুখটা ধুয়ে নিলাম। অর্ক চা নিয়ে এসেছে। আমার আর ওর জন্য।
ওরা চলে গেছে।
হ্যাঁ।
কিছু বলছিল।
ভদ্রমহিলা যাওয়ার সময় ভীষণ কাঁদছিলেন।
কেন।
ম্যাডাম ওনার ছেলের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। উনি সব বললেন।
কিছুক্ষণ গুম হয়ে থাকলাম।
ছবি আর চেকটা দিয়েছিস।
ম্যাডাম দিয়েছেন। তারপর ম্যাডাম নিজে সুমন্তর সঙ্গে কথা বললেন। ছেলেটা কাঁদছিল।
আমি চুপ করে রইলাম।
আচ্ছা অনিদা ও কি আর বাঁচবে না ?
এ ভাবে বেশিদিন বাঁচা যায় না।
ও সেটা জানে।
জানে। তবে ঠিক বোঝে না। মনের জোরটা অসীম।
ওর বাবা-মা। জানে আবার জানে না।
আমি আগামী সপ্তাহে একবার যাব। তুমি অনুমতি দাও।
যাস। ওর শরীরে ব্যাপার নিয়ে বেশি আলোচনা করিস না।
কথা দিচ্ছি। জানি ওটা ওর সবচেয়ে সেন্সেটিভ জায়গা।
আর্টিক্যালটা কেমন লিখেছে রে।
দাদা কালকেই ছেপে দেবে। ওকে একটা চিঠিও লিখে দিয়েছে।
তাহলে ছেলেটা আরও কয়েকদিন বেশি বাঁচবে।
একথা বলছো কেন ?
সারাদিন বাবার সঙ্গে তাঁত বোনে। সপ্তাহে কুড়ি পঁচিশটা কাপর না বুনলে পেট চলবে কি করে। তাছাড়া নিজেদের কিছু জমি জমা আছে। সেগুলো দেখতে হয়। বলতে পারিস দাদার চিঠিটা ওর বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
ওর ভাই বোন নেই।
না। বাব মার একমাত্র সন্তান।
সনাতনবাবু সব শোনার পর ঘর থেকে মনখারাপ করে বেরিয়ে গেলেন। কারুর সঙ্গে কথা বললেন না। দ্বীপায়ন ঘরের বাইরে এসে কেঁদে ফেলল।
জানিস অর্ক এরকম অসংখ্য সুমন্ত আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কজনের আমরা উপকার করতে পারি বল।
তবু তুমি কনিষ্কদা সবাই একটা মিসন নিয়ে চলছো। আমাকে একটা সুযোগ দাও না।
চলে আয়, আমি কি বারন করেছি।
আমি তোমায় কথা দিচ্ছি। আমার আন্তরিকতার শেষ বিন্দু দিয়ে আমি লড়ে যাব।
চল নিচে চল।
পায়ে পায়ে নিচে নেমে এলাম। নামতে নামতে নিজেক বোঝালাম। এবার সব ভুলে যা অনি। সামনে অনেক কাজ, এতো ইমোসোন্যাল হলে জগত সংসারটা চলবে না। তোকে তোর কাজ করে যেতে হবে। সেখানে দুর্বলতার কোন স্থান নেই। দুর্বলতা দেখিয়েছিস কি মরেছিস।
অর্ক নিউজরুমে গেল। আমি মিত্রার ঘরে ঢুকলাম। ওরা নিজেদের মধ্যে চাপা স্বরে কথা বলছিল। আমায় দেখে থেমে গেল। মিত্রা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
আমি একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলাম।
তুইতো ভগবান রে। তোর আর কতো কীর্তি আছে, একটু বলবি।
হাসলাম।
তোমার পাঞ্জাবীটা দারুণ সুন্দর। আমি একবার পরে নিয়েছি। মিলি বললো।
ভালো করেছো।
কি খাবি বল।
তোরা যা খাবি।
হরিদার ছেলেকে বাইরে দেখলি।
চোখে পরলো না।
কিরে মিলি।
ছাড়ো, অনিদাকে বলতে গেলে কেন। এখুনি বলবে আমি তোদের মতো কর্পোরেট নয়।
টিনা আওয়াজ করে হেসে উঠলো।
দাও তোমাদের ফাইল গুলো, কাজগুলো শেষ করি। মিলি তোমার চিঠিটা রেডি হয়ে গেছে।
মিত্রাদি সাইন করে দিয়েছে। আমি সনাতনবাবুর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।
আজ কোন প্রোগ্রাম আছে নাকি।
ছিলো ক্যানসেল করে দিয়েছি।
ব্যাচারা শুধু শুধু কষ্ট পাবে, আমাকে দোষারোপ করবে।
করুক।
দেখলাম মিত্রার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যাচ্ছে।
কিরে মিলি! তুই বলছিস ও বুঝছে ও বলছে তুই বুঝছিস ব্যাপারটা কি ?
আছে আছে, ইন্টু মিন্টু চলছে। টিনা বললো।
কেন আমি একা, তোর স্বার্থ নেই। মিলি ঝামটে উঠলো।
অদিতি হো হো করে হাসছে। টিনার মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলো।
ব্যাপার কি রে অদিতি। মিত্রা চোখ পাকিয়ে বললো।
তোমাকে অনিদা বলবে।
ও জানে!
জানে কিনা বলতে পারবো না। না জানলে বলছে কি করে।
কিরে বুবুন।
মিত্রার দিকে তাকালাম।
অদিতি কি বলছে।
আমি কি করে বলবো।
তাহলে।
ওদের জিজ্ঞাসা কর।
সময় হলে বলবো, এতো ঝামেলা করছো কেন। মিলি বললো।
মিত্রা বেল বাজাল।
হরিদার ছেলে মুখ বারাল। হিমাংশু হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকলো।
আরি বাবা সব এক ঘরে। খুব জোর মিটিং চলছে নাকি।
তুমি কি খাবে হিমাংশু ?
এখনো খাওয়া হয় নি!
তোমার বন্ধুকে বলো।
না ম্যাডাম এই সময় অনিয়ম করা উচিত নয়।
আমি কনটিনিউ মুখ চালিয়ে যাচ্ছি।
মিলি ফিক করে হেসে ফেললো।
তুই হাসছিস কেনরে ?
যা বাবা, হাসি পেল তাই হাসছি।
দাঁড়া তোর হচ্ছে।
মিলি আমার দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে।
হিমাংশু পাশে এসে বসলো।
মিত্রা খাবার আনতে দিল।
বল।
আমি হিমাংশুর দিকে তাকালাম।
কাজতো আমার বাড়িয়ে দিয়েছিস।
কেন।
ব্যাঙ্কের নাইনটি পার্সেন্ট মেরে দিয়েছিস।
হ্যাঁ। বড়ো হ্যেডেক ছিল। এবার মান্থলিতে চলে যা।
সেতো গেলাম, আমার কিছু লোন লাগবে।
মিত্রার এ্যাকাউন্ট থেকে দেখিয়ে দে।
তোর এ্যাকাউন্ট থেকে কিছু দেখাই।
আমার শূন্য।
মিত্রার থেকে তোর বেশি আছে।
তাহলে নিয়ে নে। এইট্টি এইট জি করে ফেলেছিস।
হ্যাঁ।
তাহলে কিছু ডোনেট করে দে। আবার ফিরিয়ে দেব।
তুই এই জন্য এনজিও বানিয়েছিস।
রথ দেখা হবে কলা বেচা হবে। নিজের পয়সায় কেউ দেশোদ্ধার করে নাকি।
হিমাংশু মুচকি মুচকি হাসছে। ওরা হাঁ করে আমার কথা শুনছে।
তুইতো আমার ভাত মারবি।
তাহলে চার্টারটা পাশ করতে হবে।
পরীক্ষায় বসে যা।
হাসলাম।
ওই ঘটনার পর কি কি উদ্ধার হয়েছে, কি কি উদ্ধার হয়নি তার একটা লিস্ট দে। আবার খোঁচা খুঁচি করি।
এক কাজ কর।
বল।
এইভাবে না করে মান্থলি মাইনে থেকে কেটে নে।
অনেক আগে ব্যাপারটা ভেবেছি। তবে আমার পিএফের দিকে নজর বেশি। তাছাড়া ভালো জায়গায় ফ্ল্যাটটা বাগিয়েছে লিখিয়ে নেব ভাবছি।
তারপর নিজের ফ্ল্যাটে নিজে ভাড়া দিয়ে থাক।
মাথা দোলালাম।
হিমাংশু হাসছে।
খাবার এলো।
হিমাংশুর ফাইলপত্র বার করলো। খেতে খেতে হিমাংশুর সঙ্গে বসে এ্যাকাউন্টসটা একটা জায়গায় নিয়ে এসে দাঁড় করালাম। মিত্রা পাশে বসে সব লক্ষ করলো।
কি ম্যাডাম কিছু বুঝছেন।
মাইনেটা বাড়িয়ে দিতে হবে।
এখনো আগের মাইনেতে কাজ করছে!
খোঁজ খবর নিই নি। সনাতনবাবুকে একবার জিজ্ঞাসা করতে হবে।
আপনার মেশিনটা একটু দেখি।
মিলি কি বোর্ডটা এগিয়ে দিল।
হিমাংশু লগ করে ভেতরে ঢুকে আমার নাম সার্চ করে এ্যাকাউন্টটা বার করলো।
ওরে তোর তো প্রচুর টাকা পরে রয়েছে।
কতো টাকা আছে রে।
দশলাখ পঁয়ত্রিশ হাজার ছয়শো সাতচ্চলিশ টাকা পঁয়ত্রিশ পয়সা।
চোর কোম্পানী। কালই রিজাইন দেব। খালি বসে বসে আমার টাকার ইন্টারেস্ট খেয়ে যাচ্ছে।
পারবি।
হিমাংশু এমনভাবে বলে উঠলো, ওরা হেসে ফেললো।
হিমাংশু আমি এখানে বসে এগুলো ট্র্যাক করতে পারব। মিত্রা বললো।
আপনি একটা মাস্টার পাসওয়ার্ড বানিয়ে নিন।
দাঁড়াও আজই বরুণদাকে বলছি।
এই একটা কাজের লোক পেয়েছিস। যে ভাবে চাইছি সেই ভাবে পাচ্ছি। তোর ওই দিগন্তবাবুটা একেবারে মাল।
বরুণদার পরিচয় জেনেছিস।
দাদার মুখ থেকে শুনলাম। উনিও আমার কাছে নিজেকে খুললেন না। আমিও সেরকম কিছু বললাম না।
ব্যবহার কর, আমার আর একটা ওয়েপনস।
সেটা বুঝেছি।
চা খাবি।
এটা কেমন কথা বললি।
সরি জিজ্ঞাসা করাটা অন্যায় হয়ে গেছে।
But one good friend is equal to a LIBRARY

