Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

তোর আজ পরীক্ষা, তোকে এদের সবাইকে চিন্তে হবে। আমি কারুর সঙ্গে তোর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব না।
আমি হাসলাম।
তিনটি মেয়েই হাল্কা সাজে সুসজ্জিত। আধুনিক বুটিকের তৈরি শালোয়াড় পরেছে। একটুও মড লাগছে না। বেশ ঝক ঝকে। ওরা জুল জুল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝছি এরা দেবাশীষের খুব পেটোয়া। দেবাশীষ এদের লিড করছে। ছেলেটি দেবার মতোই কোট টাই পরা।
আমাকে একটু সময় দিতে হবে। আমি দশবছর আগের মুখটায়, দশবছর পরের ছবি আঁকব, বেশি না মিনিট পনেরো।
ঠিক আছে তাই হবে। কি খাবি বল।
আমি যা খেতে চাইবো, তোর এই তাজবেঙ্গলে পাওয়া যাবে না।
তুই যদি এখন ধেনো চাস তাও পাওয়া যাবে ?
মাথার মধ্যে খালি ওদের মুখ গুলো নিয়ে নাড়া চাড়া করছি। দশ বছর আগের ছবি গুলো প্রথমে আবঝা পরে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। দেবার কথাটা পুরো কানে ঢোকে নি। তবু যতটা শুনলাম একটু অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেললাম।
জানিস দেবা, ধেনো খেয়েই আমি ওদের মধ্যে ঢুকে পরি, তোরা সখ করে পৌষমেলায় গিয়ে ধেনো খাস। এনজয় করিস। তোরা বাবু। আমি ওদের নাগর। বাবুদের ওরা আলাদা ট্রিটমেন্ট করে। আর নাগরদের পাশে শোওয়ায়। আদর করে, সোহাগ করে....।
ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনছিল।
দেবাশীষের চোখ যেন ঠেলে বেরিয়ে আসবে।
আর একবার বল।
যাঃ, এক কথা বার বার বলা যায়।
মেয়েগুলো আমার কথায় অবাক। ওদের চোখ তাই বলছে।
খিদে পেয়েছে। খাবার বল।
সবাই চুপ চাপ। দেবাশীষ ওয়েটারকে ডেকে খাবার আনতে বললো।
অনি তুই কথাটা মার্ভেলাস বলেছিস। এভাবে কখনো ভাবি নি।
আচ্ছা দেবা তুই আমার পরীক্ষা নিবি, আমি তোকে যদি একটা ছোট্ট পরীক্ষা নিই তাতে তুই যদি ফেল করিস, তাহলে তুই এদের সঙ্গে আমায় পরিচয় করিয়ে দিবি।
না।
কেন।
আমি ফেল করবো তাই।
সবাই হেসে ফললো।
তুই প্রশ্ন শোনার আগেই বলছিস ফেল করবো। কেন ?
তোর সেই কথাটা আমার এখনো মনে আছে।
কোন কথাটা।
লনে বসিয়ে সেই রিগিং।
আমি হাসলাম।
মনে আছে মানে, যতদিন বাঁচব ততদিন মনে থাকবে। আমি এদের বলি সিনিয়াররা রিগিং করে শুনেছিস। আর অনি ওর ক্লাসমেটদের রিগিং করতো।
সবাই হেসে উঠলো।
তোর মনে আছে।
হাসলাম।
জানিস সেই রিগিং আমার জীবনটা বদলে দিল। আনস্মার্ট দেবাশীষ এখন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে একটা ফিগার।
সত্যি অনিদা তোমার ওই কথাটা আমরা দেবাদার কাছে অনেক পরে শুনেছি। যখন তোমার বেশ নাম ডাক হয়েছে, তখন। টিনা লজ্জা লজ্জা ভাবে বললো।
তাহলে তোর কেরিয়ারের মূলে আমি।
বলতে পারিস।
ওই বয়েসটা এখন নেই। তবে মাঝে মাঝে আমি ওই বয়সে ফিরে যাই।
কি করে যাস।
টিনা আমি কি ভুল বললাম।
টিনা আমার দিকে তাকিয়েছে, দেবাশীষ আমার মুখের দিকে তাকাল।
তুই কি করে জানলি ও টিনা।
ও নিজেই বললো।
কোথায়।
এই বুদ্ধি নিয়ে তুই কি করে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে ফিগার হলি কে জানে।
চাটলি।
হাসলাম।
নে খাবার এসে গেছে, খাওয়া শুরু কর।
সবাই খাওয়া শুরু করলো, এমনি গল্প গুজব হচ্ছে, আমি বললাম, জানিস দেবা আজ কলেজ লাইফের একটা কথা খুব মনে পরে যাচ্ছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে, টিনার দিকে তাকিয়ে বললাম, মাঝে মাঝে দু’একটা খারাপ কথা হয়তো মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে, তোমরা কিছু মনে করবে না ?
ওরা হাসতে হাসতে বললো না, তোমার কথা শুনতে ভীষন ভাল লাগছে।
তখন সেকেন্ড ইয়ারে পরি, টেন পাস করে ইলেভেনের মেয়ে গুলো সবে কো-এড কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওরা যেন উড়ে উড়ে বেরাচ্ছে কলেজের চারদিকে। আমি মিত্রা একদিন ১১ নম্বর থেকে ক্লাস করে হলঘর পেরিয়ে লবিতে এসে দাঁড়িয়েছি।
তখন জিনসের প্যান্টের সেরকম প্রচলন ছিল না, তার ওপর মেয়েরা পরবে, এটা ভাবতেই পারতাম না। দেখলাম একটা মেয়ে গেট দিয়ে জিনসের প্যান্ট আর টাইট গেঞ্জি পায়ে হিলতলা জুতো পরে গট গট করে ঢুকছে।
মিত্রাকে দেখিয়ে বললাম, দেখতো মালটা কেমন। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, চোখ পরে গেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তোর থেকেও বেশ ডাঁসা।
আমি ওদের দিকে তাকিয়ে ওদের মুখ লক্ষ করছি কার মুখে কি প্রতিক্রিয়া হয়।
মিত্রাকে নিয়ে এগিয়ে গেলাম, মেয়েটি শিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছে, আমি সামনে মিত্রা আমার ঠিক পেছনে....
অদিতি খেতে খেতে বিষম খেল। সবাই ওর দিকে দৃষ্টি ফেরাল। আমি মুখ নীচু করে হাসছি। অদিতি কাশতে কাশতে হাসতে হাসতে বললো, প্লীজ অনিদা আর নয়। এটা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানে না। প্লীজ তুমি বলো না।
কেন অদিতি, গল্পটা শুনবে না।
না।
কিরে দেবা, তোর বউ গল্পটা শুনতে চাইছে না কেন ?
দেবা আমার দিকে বিষ্ফরিত চোখে তাকিয়ে। তুই শালা।
ঠিক আছে অদিতি আমি আর বলবো না। তুমি বরং শেষ টুকু এদের বলে দাও।
না। আমি বলবো না।
কেন ?
আমি অদিতির দিকে তাকালাম।
দেখো দেবা ভাবছে আমার বউকে......।
না না ও কিছু ভাবছে না। তুমি থামো।
শালা, তুইতো বড় খলিফা!
তাহলে আর একটা গল্প বলি। এটা একটু অন্য ধরনের।
অদিতি বললো বলো।
এটা শেয়ালদা স্টেশনের ঘটনা। মেয়েটা মোস্ট প্রোবাবলি নৈহাটি কিংবা ওই অঞ্চলে থাকত, প্লীজ অনিদা ওই গল্পটাও তুমি বলো না।
কেন মিলি।
আচ্ছা তোমার কি সব কথা মনে আছে।
মনে ছিল কিন্তু মুখ গুলো স্যাডো হয়ে গেছিল। তোমাদের কাছে পেয়ে সেই মুখগুলো আবার মনে পরে গেল। তখন দেবা ভদ্র ছেলে ছিল, আমি মা-বাপ হারা অনাথ ছেলে, চালচুলো হীন, কলকাতায় হস্টেলে থাকি লোকের দয়ায় চলে। ও আমার এ ঘটনা গুলো জানে না। একমাত্র মিত্রাই আমার এইসব ঘটনার সাক্ষী। ওর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে এসব করতাম। বড়লোকের মেয়ে, পড়াশুনর খরচ চলে যেত।
নির্মাল্য তোমরটা কি বলবো। মুখ নীচু করে খেতে খেতেই কথা বলছিলাম।
তার মানে ওরও আছে। দেবাশীষ বললো।
হ্যাঁ তোরই মতো তব ওরটা একটু র।
শালা, তুই একটা জিনিষরে!
সেই জন্যই মিত্রা মনে হয় কর্মচারী থেকে মালিক বানিয়েছে।
সকলে চুপ করে গেল।
জানিষ দেবা নিজেকে নিয়ে আমি গর্ব করিনা। তবে একটা কথা বলি অন্যভাবে নিস না, আমার খুব খারাপ লাগবে।
বিনয় করিস না।
কনো কাগজ কোম্পানীর মালিক কোনদিন এইভাবে তোদের মতো কর্পরেট ওয়ার্ল্ডের লোক জনদের সঙ্গে বসে এক টেবিলে খেয়েছে।
একেবারেই না।
তোরা আমার কাছে যাস নি, আমি তোদের কাছে এসেছি। কেন জানিষ ?
কেন!
তোরা কেউ আমার বন্ধু কেউ আমার জুনিয়র। তোদের কাছ থেকে শিখবো, সাহায্য নেব বলে।
আমার ব্যাপারটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। ওদের ব্যাপরটা বলতে পারব না। তুই ওদের সঙ্গে কথা বল।
তুই পরিচয় করিয়ে দিলি না।
শালা এখানেও জুতোটা মারলি ?

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

কোথায়!
এরপর আর পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু রেখেছিস।
ওরা কে কোথায় আছে কি করে জানব।
ও সেই কথা বল, টিনা টাটাতে, অদিতি এয়ারটেল, মিলি ভদাফোনে....।
অনিদা আমি আছি ওগিলভিতে। নির্মাল্য বললো।
তোমাদের হাত তুলে নমস্কার করছি না।
খাওয়া শেষ হোক তারপর তোকে এর উত্তর দেব। দেবাশীষ বললো। তোদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারিস।
আমাদের আলাদা করে কিছু বলার নেই।
টিনা বললো, আমাদেরটা এখান থেকে কন্ট্রোল হয় না। তোমাকে আমার সঙ্গে একবার মুম্বাই অফিসে যেতে হবে।
আমি কিছু বুঝি না, তুমি নিয়ে চলো, আমি নিশ্চই যাব।
তোমাকে একটা কোটেসন করতে হবে।
তুমি নিজেই করে দাও, আমি অফিসের প্যাডে করিয়ে দেব।
সে কি করে হয়। তোমাদের একটা রেট চার্ট আছে।
সে তো তোমাদের কাছেই আছে। নিশ্চই অফিস থেকে পাঠিয়েছে।
তা আছে, সেই দেখে তোমরাই একটা করো। আশা রখবো তোমরা আমাকে ঠকাবে না।
এ কি বলছো অনিদা।
কাল একবার সবাই আয়না, মিত্রার ঘরে একটু আড্ডা মারব।
হ্যাঁরে মিত্রাকে দেখতে কেমন হয়েছে। দেবাশীষ বললো।
তোর পছন্দ হবে।
না এখন যাব না। আগে তোর কাজ হোক, তারপর মিত্রাকে বলবো একটা পার্টি দিতে।
দেবাশীষকে বললাম, আমার ডেবিটকার্ড আছে, এখানে ওইটা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।
দেবাশীষ আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন আমি ভস্ম হয়ে যাব।
তুই ওভাবে তাকাসনা।
তুই যে বললি তোর কাছে পয়সা নেই।
টিনা অদিতি আমার খুব কাছেই বসেছে, ওরা মুখ টিপে হেসে ফেললো।
পয়সা মানে ওই কার্ডটুকু সম্বল।
তুইকি জানিষ এখানে তোর একটা সইয়ের কতো দাম।
না জানা নেই।
চুপচাপ থাক, নাহলে সোর মাচাব।
ক্ষমা কর ভাই, আর বলবো না।
আলাদা করে আর কাউকেই বলতে হলো না। ওরা বললো এমাসে বাজেট আছে আমরা ফাইন্যাল করবো। তোমায় চিন্তা করতে হবে না। ড্রিলটা ডাইরেক্ট যখন তোমার সঙ্গে, কাজ করতে সুবিধে হবে।
আমি বললাম, ওদিককার রেসপনসিবিলিটি আমার। তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।
টিনাকে বললাম, তুমি প্রোগ্রাম করো, যদি আমার প্রয়োজন হয়, নিশ্চই যাব।
আমি আজই একটা ফ্যাক্স করে দেব, তোমায় কাল পরশু আশা করি জানাতে পারব। আমি এইটুকু সময়ের মধ্যে খুব ফেমিলিয়ার হয়ে গেলাম। বুঝতেই পারলামনা ওদের সঙ্গে এতদিন বাদে দেখা হল।
এখন কোথায় যাবি।
একটু গঙ্গার ধারে যাব।
কেন।
ইসলামভাই-এর কাছে।
সেটা আবার কে।
চরস, গাঁজা, কোকেন, বিক্রীকরে। ডাকসাইটে কলকাতার ডন। আমায় প্রচুর নিউজ দেয়। দেখি কিছু পাই কিনা।
ওরা সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
ভাবছিস মালিক হয়ে।
হ্যাঁ।
এটাই আমার জীবন, আমাকে বসিয়ে রাখলে অসুবিধে আছে। আমি নিজেকে নিজে কখনো ধরে রাখতে পারি নি।
দেবাশীষ বললো তোর কোন গাড়ি নেই!
আছে। অফিসে রেখে এসেছি। আমার গতি বিধি কাউকে জানতে দিই না। এটা আমার সিক্রেট ব্যাপার। এমনকি তুই যদি এখন আমার সঙ্গে যাস ইসলামভাই আমার কাছে আসবে না। ও জানে আমি সাংবাদিক, কিন্তু ওর চেলুয়ারা জানে না।
সত্যি অনি তোকে দেখে হিংসে হচ্ছে।
কেন ?
তুই কি সুন্দর সব কিছু মেনে নিস। মানিয়ে নিস। আমরা হলে পারতাম না।
পারবি পারবি সব পারবি, সময় হোক।
ক্রমশঃ

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

ওরা যে যার অফিসে চলে গেল।
আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। সবাইকে একটা কথা বললাম ভুলে যেওনা যেন। ওরা কথা দিয়েছে এক সপ্তাহের মধ্য সমস্ত ব্যাপারটা ফাইন্যাল করবে শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। অন্য কেউ হলে ওরা পরিষ্কার না বলে দিত।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, কাজটা হলে আমি তোমাদের কাছে ঋণী থাকব।
একি বলছো আনিদা। অদিতি বললো, তাহলে আমরা কেউ তোমার কাজ করবো না। তোমাকে আগে তোমার কথা উইথড্র করতে হবে। আমি অদিতির কাঁধটা ঝাঁকিয়ে বললাম, ওটা কথার কথা। তোমাদের অনিদার কনো পরিবর্তন হয় নি, দেখতে পেলে না।
ওখান থেকে বাসে করে এলাম গঙ্গার ধার। আমার পরিচিত জায়গা। ঠিক জায়গায় এসে বসলাম। চারিদিক শুনশান। আমি জানি কখন আমার দূত এসে আমার পাশে বসবে। একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছিল। খেলাম না। ইসলামভাই জানে আমার কনো নেশা নেই।
মাঝে সাঝে দু-একটা খাই।
ইসলামভই-এর সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল দামিনী মাসি। সোনাগাছিতে যার কাছে আমি একসময় কাটিয়েছি। এখনো গেলে মাসির হাতে এটা ওটা গুঁজে দিয়ে আসি। মাসি প্রথম প্রথম নিত না।
একদিন বললাম, তোমার তো নিজের কোন সন্তান নেই মাসি। একমাত্র ভজু ছাড়া। ভজুকে তুমি মানুষ করেছো। আমি যদি তোমার ছেলে হতাম তুমি কি নিতে না। মাসি কেঁদে ফেলেছিল। তারপর থেকে মাসি না বলেনা। প্রথম মোবাইল হাতে আসার পর মাসিকে নম্বর দিয়ে এসেছিলাম। যদি কখনো প্রয়োজন হয়, আমাকে ডেকে নেবে।
কেন জানিনা আজ সকাল বেলা অফিস থেকে বেরবার পর থেকেই মনে হচ্ছে আমাকে কেউ ফলো করছে। ইসলামভাইকে ব্যাপারটা বলতে হবে। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। কাউকে সেই ভাবে দেখতেও পাচ্ছি না। তবু কেন মনে হচ্ছে।
অনেক লোক আশপাশ দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে। কাউকেই সেইভাবে মনে পরছে না। বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবিদ এলো। এই ছেলেটি খুব ভাল। বাদাম বিক্রি করে। কিন্তু খদ্দের চেনে কারা ওর কাছ থেকে নেশার দ্রব্য কিনবে।
ওইযে কথায় আছে না রতনে রতন চেনে শুয়রে চেনে কদু। আমার কাছে এসে বললো, তুমি বসে বসে বাদাম খাও। দাদার আস্তে দেরি হবে।
কেনো।
দাদা একটা কাজে গেছে।
বলবি না।
তোমায় না বলার কি আছে। তুমি দাদার খাস লোক।
হাসলাম।
তোমার কি খুব জরুরি দরকার আছে।
না। অনেক দিন আসিনি। তাই এলাম।
তোমার নম্বরটা দাও, দাদা এলে ফোন করতে বলবো।
দাদার কাছে আছে।
আমি বাদাম খেতে খেতে হাঁটতে আরম্ভ করলাম।
সনাতনবাবুকে একটা ফোন করলাম। সনাতনবাবু প্রথমে ঠিক বুঝতে পারেন নি। না বোঝাই স্বাভাবিক। আমার নম্বর ওনার কাছে নেই। পরিচয় দিতেই বললেন, আরে অনিবাবু যে। ওঃ আজ মিটিং-এ যা দিলে না, আমার শরীর জুড়িয়ে গেলো।
কেনো ?
জানো এই কদিনে ব্যাটারা আমার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
এবার আপনি শান্তিতে কাজ করতে পারবেন।
আচ্ছা অনি তোমাকে যদি ছোটবাবু বলি খুব অন্যায় হবে।
আপনার ছেলেক যদি আপনি ছোটবাবু বলে খুশি হন, আমার আপত্তি নেই।
এইতো তুমি একটা ছোট্ট লেজুর জুড়ে দিলে।
ঠিক আছে যেজন্য ফোন করেছিলাম।
বলো।
আপনার হাতের কাছে কাগজ পেন আছে।
আছে।
লিখে নিন।
কামিং সিক্সমান্থের বাজেট, লাস্ট সিক্সমান্থের ইনকাম এ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার, বিশেষ করে এ্যাড কত টাকার এসেছে এবং এ্যাড ডিপার্টমেন্টর পেছনে আমাদের কত খরচ হয়েছে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের পেছনে আমাদের কি খরচ হচ্ছে আমাকে একটা লিস্ট বানিয়ে দিন।
ঠিক আছে।
এবার সার্কুলেসন। এর ডিটেলস।
নেক্সট।
আমাদের কতগুলো নিজস্ব গাড়ি আছে।
২৫টা।
কতগুলো ভাড়ার গাড়ি আছে।
প্রায় ২৫০ টা।
এদের ডিটেলস।
আচ্ছা।
প্রেসের স্ক্র্যাপ কারা কেনে। কত দামে কেনে। কত টাকার স্ক্র্যাপ বিক্রি হয় তার কোন বাজেট আছে কিনা। এমনকি প্রেসের পেছনে আমাদের কতো খরচ হয়।
ঠিক আছে।
এই কয়েকটা জিনিষ কাল ১২টার মধ্যে মিত্রার টেবিলে পৌঁছে দেবেন।
ম্যাডাম কাল কখন আসবেন।
বলতে পারবো না।
তাহলেকি ম্যাডাম এলেই দেবো।
তাই দিন।
ফোনটা কেটে দিলাম।
ময়দান পেরিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে আসতেই, দূর থেকে চম্পকদাকে প্রেস ক্লাবের লনে দেখলাম। একটা কম বয়েসি ছেলের সঙ্গে কথা বলছে। ছেলেটাকে দেখে মনে হলো না, এর সঙ্গে চম্পকদার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। আমি আড়ালে চলে গেলাম, একটু ফলো করলাম। চম্পকদা কিছু টাকা দিলেন। ফোনটা বেজে উঠলো। টিনার নামটা ভেসে উঠেছে। এরি মধ্যে টিনার ফোন। এইতো কয়েক ঘন্টা আগে দেখা হল।
হ্যালো।
বলো টিনা।
তুমি কোথায়।
মনুমেন্টের তলায়।
তাই এতো চেঁচামেচি। তুমি কি এখন ফ্রি আছ।
কেনো।
তাহলে আমার অফিসে আসতে পারবে একবার। যদিও তোমাকে বলা উচিত নয়।
প্রথমে বলো, বলা উচিত নয় কেনো।
তুমি একজন ওই রকম বিগ হাউসের ওয়ান অফ দেম ডিরেক্টর।
এই সংকোচ থাকলে তোমাদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
রাগ কোরো না। তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো ফোনই করতাম না।
এইতো ঠিক কথা বলেছো। আমার যে কতগুলো ছোটো খাটো কাজ আছে। তুমি কটা পর্যন্ত অফিসে থাক।
ছটা পর্যন্ত।
আমি যদি পাঁটচার পর যাই, অসুবিধে আছে।
একবারে না।
ঠিক আছে, আমি চলে আসবো। কিন্তু তোমার অফিসটা যে চিনি না।
শান্তিনিকেতন বিল্ডিং, থারটিনথ ফ্লোর, রুম নং ফোর।
ঠিক আছে।
রাস্তা পেরিয়ে ওয়াইএমসিএর গেটে এলাম। কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। আবার ফোনটা বেজে উঠলো। দেবাশীষ।
কি হলোরে।
গুরু তোমার গপ্প গুলো দারুন। তুমিযে এতটা তিলুয়া হারামী ছিলে জানতাম না। তুমি আমার বৌয়ের পাছা টিপে দিয়ে বলেছিলে, মা আমাদের কলেজে, অনেক বড় বড় মনিষীরা লেখা-পড়া করেছেন, তোমার এই পোষাক যদি তারা দেখতেন, লজ্জা পেয়ে যেতেন। তারপর থেকে ও কনো দিন আর অড লুকিং জামা কাপড় পরে কলেজে আসেনি।
হাসলাম।
আচ্ছা গুরু মুতে কখনো নিজের নাম লেখা যায়।
হো হো করে হেসে ফেললাম। কে বলেছে নির্মাল্য।
সত্যি গুরু তোমার জবাব নেই। তোমার কাছে গিয়ে ক্লাস করতে হবে।
চলে আয়।
মিলিরটা ক্লাসিক।
আমরা মালটাকে এখনো চুমু খেতে পারলাম না, আর তুমি ওই সময়, অতো লোকের সামনে আবার সাক্ষী রেখে। গুরু তোমার পায়ের ধুলো একটু দিও মাদুলী করব।
তোর সামনে কে আছে।
কেউ নেই। আমি একা। বাই দা বাই তোমার কাজ করে দিয়েছি। কবে আসবে।
হঠাৎ তুই থেকে তুমিতে চলে গেলি।
না গুরু এবার এটা মেইনটেন করবো। পারলে অনিদা বলবো।
হারামী।
দেবাশীষ হাসলো।
কালকে তোমার নামে অফিসে একটা চিঠি পাঠাব।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

না। আমি গিয়ে তোর কাছ থেকে কালেক্ট করবো।
কবে আসছো।
দেখি যদি পারি আগামী কাল যাব। তবে সেকেন্ড হাফে। যাওয়ার আগে একটা ফোন করে নেব।
আচ্ছা।
টুক করে সদর স্ট্রীটে ঢুকে পরলাম। সোজা চলে এলাম, মির্জা গালিব স্ট্রীট। এগুলো আমার পুরনো ঠেক। আমার উত্তরণ এখান থেকে।
আমাকে বছরের পর বছর এরা নিউজ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। রতনের চায়ের দোকানে এলাম। রতন ওর আসল নাম নয়। ওর আসল নাম সইদুল। আমি আমার জায়গায় গিয়ে বসলাম। রতন কাছে এসে গলা নামিয়ে বললো, গুরু গজব হয়ে গেছে।
ওর দিকে তাকালাম। ইশারায় আমাকে অপজিটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যেতে বললো। আমি গেলাম, রতন আমার আসার একটুক্ষণ পর এলো।
বল কি হয়েছে।
বান্টি।
কি হয়েছে বান্টির!
পুলিশ নিয়ে গেছে।
কেন।
রিজ হোটেলে চারজনকে এনে রেখেছিল, ইসলামভায়ের জন্য মাল নিয়ে। ওরা টিপ দিয়ে দিয়েছে। বান্টি সমেত ওদের তোলতাই করে নিয়ে গেছে।
ইসলামভাই কোথায় ?
থানায়।
রফা হয়েছে।
না।
অনেক চাইছে।
ওই চারটে গ্যারেজ হবে। ইসলামভাই, বান্টি ছাড়া পেয়ে যাবে।
এখানকার ওসিটা হারামী, বহুত খাঁই।
মাল।
আমার দোকানে।
ওরা পায়নি।
কিছু পেয়েছে।
ঠিক আছে যা। শোন। একবার ইসলামভাইকে খবর দে।
রতন চলে গেল। সন্দীপকে একটা ফোন করলাম।
বল।
খবর কি।
ফাইন।
আর কিছু।
মাঝে সুনিতদা কার একটা লেখা নিয়ে অমিতাভদার সঙ্গে ক্যাচাল বাধিয়েছিল। দাদা যেই বলেছে ওটা অনির ব্যাপার ওর সঙ্গে কথা বলে নাও। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে নয়। ব্যাশ চুপ।
শোন একটা ফোন কর লালবাজারে, নারকটিকস ডিপার্টমেন্টে, বল এখুনি একটা ঘটনা ঘটেছে, মির্জা গালিব স্ট্রীটের রিজ হোটেলে, ঘটনাটা কি ?
তারপর।
কি বলে শুনবি। ফিটব্যাকটা এখুনি দে।
তুই কোথায়।
যা বলছি কর।
আচ্ছা।
রতন এলো।
কি হলো।
ইসলামভাই আসছে।
ঠিক আছে।
সন্দীপের ফোন।
কি হলো।
না এরকম ঘটনা ঘটে নি।
চেপে যাচ্ছে। ঠিক আছে। ফোনটা বিজি রাখবি না।
আচ্ছা।
কিছুক্ষণের মধ্যে ইসলামভাই চলে এলো। আমাকে দেখেই একগাল হেসে বুকে জরিয়ে ধরলো। তুই কতদিন পরে এলি, প্রায় একমাস।
ছিলাম না। তোমার খবর।
সাল্টে দিয়েছি।
বান্টি ?
দুদিন ভেতরে থাকুক। বার করে নেব। অসুবিধে নেই। চল চা খাই।
রতনের দোকানে এসে বসলাম। রতন নিজে হাতে চা বানিয়ে দিল।
চা খেতে খেতে ইসলামভাই বললো, তোকে টেনসন নিতে হবেনা। এসব ছোটখাটো ব্যাপার, বড় ব্যাপার হলে তোকে জানাব। তুই একটা নিউজ মারতো।
কি হয়েছে বলো।
চা খেয়ে নে তোকে নিয়ে যাব। কিন্তু তোকে নিয়ে গিয়ে লাভ কি, তোর কোন ভালো ফোনও নেই যে তুই লুকিয়ে ছবি তুলবি।
আছে নতুন একটা কিনেছি।
তুই ঘাটে গেছিলি কেন ?
তোমার সঙ্গে দেখা করতে।
তোর পেছন পেছন কে গেছিল ?
জানিনা!
তোর অফিসে কনো গন্ডগোল হয়েছে ?
তা একটা হয়েছে।
কি হয়েছে ?
তোমায় পরে বলবো।
ইসলামভাই জানে।
হাসলাম। জিজ্ঞাসা করছো কেন।
তোর মুখ থেকে শুনতে চাই। কবে বিরিয়ানি খাওয়াবি।
যেদিন বলবে।
তোর পেছনে ওরা টেমি লাগিয়েছে। তুই কোথায় যাচ্ছিস কি করছিস, এইসব।
তুমি কি করে জানলে।
তুই যেমন সাংবাদিক, এটা আমার ব্যবসা। আবিদ ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ভুল খবর যাবে। কিছু টাকা কামিয়ে নিই তোর অফিসের।
হাসলাম।
নাহলে রফা করলাম কি করে।
তুমি ছেলেটার সাথে আলাপ করিয়ে দেবে।
দেব। এখন না।
কেন!
সবে লাইনে নতুন এসেছে। তোকে চেনে না।
ও।
তুই যেদিন লোকটাকে ছাঁটবি। ফোন করবি ওর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব। ও এখন থেকে সব ভুল নিউজ দেবে।
চুপকরে থাকলাম।
তুই মালিক হয়ে অনেক কাজ শুরু করে দিয়েছিস।
আমি ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম, ইসলামভাই জানে এই তাকাবার অর্থ কি।
তুই লোকটাকে ছাঁটতে চাস।
হ্যাঁ-না কিছুই বললাম না।
ছেঁটেদে।
একমাস সময় দিয়েছি।
দেখেছিস কি হারামী, তোর মতো একটা ছেলের পোঁদেও লোক লাগিয়েছে।
তোমার কাছে এইজন্য এসেছিলাম। জানিনা সকালবেলা অফিস থেকে যখন বেরচ্ছিলাম তখনি মনটা কু গাইছিল।
তাজে কেন গেছিলি।
আমার এ্যাডের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে।
ইসলাভাই যতদিন থাকবে তোর খতি কেউ কনোদিন করতে পারবে না। আল্লা কসম অনি। আজ দশ বছর তোকে দেখছি। তুই কনোদিন ইসলামভাই-এর কাছে হাত পেতে কিছু চাস নি। বরং তুই যা দিয়েছিস, জীবনে তোর ঋণ শোধ করতে পারব না।
সব শুয়োরের বাচ্চা ধান্দাবাজ। ধান্দা ছাড়া আমার কাছে কেউ আসে না। শুধু তুই আসিস নিউজ নিতে, ভালমন্দের খবর নিতে, সুবিধা-অসুবিধায় তুই এখনো আমার পাশে থাকিস।
একদিন আমি মাগী নিয়ে ফুর্তি করছি। কেউ ছিলনা সেদিন, দামিনীর কথায় তুই মালের বোতল এনেদিয়েছিস। মালের চার্ট এনেদিয়েছিস। সেইদিন তোকে প্রথম চিনেছিলাম। তারপর তুই আমাকে বাঁচিয়ে ছিলি।
আজ তুই মালিক হোস আর যাই হোস। তুই আমার কাছে পত্রকার অনি। আজ তোর সঙ্গে বসে কথা বলছি। কাল আমি নাও থাকতে পারি। আমাকে নিয়ে একটা লেখা লিখিস।
ইসলামভাই খুব ইমোসন্যাল হয়ে পরলো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলাম না, মাথা নীচু করে নিলাম। চায়ে চুমুক দিলাম।
চল যাই।
চলো।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

ও আমাকে মিউজিয়ামে নিয়ে এলো পেছনের দরজা দিয়ে। যেখানে ট্যাক্সিডার্মি সেকসন, অফিস তখন শুনসান। এই সেকসনে মৃত পশুদের চামড়া দিয়ে মডেল তৈরি হয়। তৈরির পর মিউজিয়ামে দর্শকদের জন্য সেখানে রাখা হয়। একজনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল। মনে হয় কেয়ার টেকার। ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম কিভাবে নষ্ট হচ্ছে নাম করা সব পশুদের চামড়া। যারা একসময় চিড়িয়াখানয় মারা গেছিল। আমরা তাদের নিউজ করেছিলাম। ছবি সব মোবাইলে তুললাম। কাকপক্ষী কেউ টের পেল না।
ইসলামভাই চলে গেল। ঘড়ির দিকে তাকালাম। অনেক বেজে গেছে। টিনার কাছে যাবার সময় চলে গেছে। আমি টিনাকে ফোন করলাম। টিনা ফোন ধরেই হেসে ফলল।
ভুলে গেছিলে নিশ্চই ?
না। একটা কাজে আটকে গেছিলাম।
এখন কোথায় আছ ?
মিউজিয়ামের সামনে।
তুমি এক কাজ করো, বিড়লার সামনে দাঁড়াও আমি তোমাকে গাড়িতে তুলে নেব।
ঠিক আছে।
আমি বাস ধরে তাড়াতাড়ি বিড়লা প্লেনেটোরিয়ামের সামনে চলে এলাম।
বেশ কিছুক্ষণ পর টিনা এলো। নিজেই ড্রাইভ করছে। ছোট্টগাড়ি অল্টো। আমি দরজা খুলে সামনের সিটে বসলাম।
আমার ফ্ল্যাটে চলো।
কোথায় তোমার ফ্ল্যাট ?
নিউটাউন।
বাবা অতদূরে।
অফিস দিয়েছে।
তুমি কি এখানে একা থাক নাকি।
দোকা পাব কোথায় ?
হাসলাম।
তুমি বললে কালকেই জোগাড় করে দিতে পারি।
তুমি কেন, আমি চাইলেই লাইন পরে যাবে।
তাহলে আর অসুবিধা কিসের।
আমার মতো কেলটি মেয়েকে কে পছন্দ করবে।
দেবাশীষের কথাটা মনে পরে গেল, তাহলে কি টিনা....।
কালো জগতের আলো।
ওটা তুমি বলছো, লোকে বলে না।
তুমি এতো বড়ো পোস্টে রয়েছো। ছেলের অভাব হবে না একটু চেষ্টা করো।
টিনা গাড়ি চালাচ্ছে।
বাবা মাকে বলছো না কেন।
বাবা মারা গেছেন, মা আছেন আর দাদা। ওরা দিল্লীতে থাকে। দাদা ওখানে সিফ্ট করেছে। মা দাদার কাছেই থাকে।
তুমি ট্রান্সফার নিয়ে চলে যাচ্ছনা কেন।
ছোট থেকে কলকাতায়। সব কিছু এখানে। যেতে ইচ্ছে করে না।
তারমানে রান্নাবান্না সবই তোমায় করতে হয়।
একজন কাজের মাসি আছে। ওই সব করে দেয়। রাতে আমি গরম করে নিই।
সময় কাটে কি করে।
অফিসে কাজের চাপ থাকে, রাতে ইন্টারনেটে চ্যাট।
তোমার কাছ থেকে নেটটা শিখতে হবে। শিখিয়ে দেবে ?
কেন দেব না। তোমাকে শেখাব এটা আমার সৌভাগ্য।
শেখাবার জন্য কত দিতে হবে।
টিনা আমার দিকে চেয়ে মুচকি হাসল। ওটা সময় মতো চেয়ে নেব।
কালকে থেকে ক্লাস নাও।
ঠিক আছে।
কথা বলতে বলতে কখন টিনার ফ্ল্যাটে চলে এলাম বুঝতে পারলাম না।
গাড়ি পার্কিং প্লেসে রেখে দুজনে হাঁটতে হাঁটতে আসছিলাম। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে টিনা আলাপ করিয়ে দিল। তাদের হাব ভাবে বুঝলাম তারা গদ গদ। লিফ্ট বক্সের সামনে এসে টিনা বোতামে হাত রাখল। আমরা লিফ্টে উঠলাম। টিনা সাত নম্বরটা টিপল। বুঝলাম আটতলা। বাবাঃ অনেক উঁচু। টিনা লক খুলে আলো জালল।
এসো আমার স্যুইট হোমে।
ভেতরে এলাম। ছোট্ট কিন্তু ভীষণ সাজানো-গোছানো। মেঝেতে নারকেল দড়ির কার্পেট। দেয়ালে পুরুলিয়ার ছৌনাচের মুখোশ। টিনার রুচি আছে। আমার ফ্ল্যাটের মতো। একটা বসার ঘর আর শোওয়ার ঘর। আমি বাইরে রাখা সোফায় গা এলিয়ে দিলাম, যাও তুমি চেঞ্জ করে নাও।
কি খাবে ?
কিচ্ছু না।
প্রথম দিন এসেছো তোমায় কিছু না খাইয়ে ছারছি না।
চা খাওয়াও।
ওটা আছেই, আর।
ভাল লাগছে না।
টিনা ভেতরের ঘরে চলে গেল। আমি বসে বসে সেন্টার টেবিলে রাখা ভোগ ম্যাগাজিনটা তুলে নিলাম। ব্যাক কভারে টিনাদের কোম্পানীর এ্যাড চোখে পরলো।
কনটেন্ট দেখে একটা আর্টিকেল পরছিলাম। সিটি অফ ক্যালকাটা বাই রঘু রাই। রঘু রাই-এর ছবির ওপর আর্টিকেলটা। পরা শেষ হতে দেখলাম, নিচে লেখা আছে অনুলিখন টিনা মজুমদার। দারুন টান টান লেখা।
বাবাঃ তোমার চোখ আছে।
কেন।
ঠিক ওই আর্টিকেলটা বেছে নিয়েছো।
হাসলাম।
এবার বলো, তুমি কবে থেকে এতো ভালো লিখতে শিখলে।
টিনা আমার দিকে তাকিয়ে চোরা চহুনি হানলো, তোমার থেকেও ভাল লিখি!
হাসলাম। অবশ্যই।
ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে, ওর ভেতরটা দেখার চেষ্টা করলাম।
কি দেখছো।
তোমায়।
টিনা টেবিলের বইগুলো একটা হাত দিয়ে সরিয়ে, প্লেটটা রাখলো। অনেক মিষ্টি।
এতো খাব না টিনা।
একটুও বেশি না, খেয়ে নাও। সেই দুপুরে আমাদের সঙ্গে খেয়েছ। তাইতো ?
আমি একটা নিয়ি নিচ্ছি, তুমি চা খাওয়াও।
না তোমাকে সব খেতে হবে।
খাওয়া কি পালিয়ে যাচ্ছে, আমি আবার আসব।
একটা মিষ্টি নিয়ে মুখে দিলাম, ভীষণ ঠান্ডা, বুঝলাম ফ্রিজ থেকে বার করা।
কি হলো খাও নি ?
টিনা চায়ের কাপ হাতে হাজির। টেবিলে রেখে আমার অপরজিট সোফায় বসলো। কিছুক্ষণ আগে দেখা টিনার সঙ্গে এখন দেখা টিনার অনেক পার্থক্য। একটা ঢলঢলে রাজস্থানী স্টাইলের ঘাঘরা পরেছে। বেশ জমকাল। কালার কম্বিনেশন এতো ভাল ওর কালো রংকে আরও উজ্জ্বল করেছে। টিনা নীপা-মিত্রার থেকে একটু ভারী। কিন্তু দেখলে বোঝা যায় না। দেবাশীষের কথাটা বারে বারে মনে পরে যাচ্ছে।
আর একটা খাও প্লিজ।
না। মিষ্টি বেশি খাই না। তুমিও কিছু খাও নি। তুমি বরং একটা খাও।
আমি ফিরে এসে কিছু খাই না একটু কমপ্লান বা হরলিকস খাই শুধু, এমনিতেই যা মোটা। আবার মিষ্টি খেতে বলছো।
কোথায় তুমি মোটা।
তুমিই প্রথম বললে আমি মোটা নয়।
চায়ের কাপটা তুলে ঠোঁটে ছোঁয়ালাম।
টিনা আমার দিকে তাকাল। মিষ্টি ঠিক আছে।
বুঝি না।
তার মানে!
ওই আর কি, আমি মনে করি গরম জল খাচ্ছি।
তুমি কিগো।
আমি আমার মতো।
তুমি জিজ্ঞেস করলে না, তোমায় কেন ডেকেছি।
কি করে জানব, তুমি ডাকলে দেখলাম আমার সময় আছে, চলে এলাম।
দেবাদা তোমায় পয়সার কথা বলেছে।
কেন।
বলো না।
তোমাদের প্রফেসনে ব্যাপারটা রয়েছে।
অস্বীকার করছি না।
তাহলে ? অন্যভাবে নিও না, তুমিও কনো ইতসতঃ করবে না।
একি বলছো অনিদা। তুমি ভুল বুঝো না।
কেন ভুল বুঝবো। তোমাদের যেটা প্রফেসন সেটাকে মানতে হবে।
আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা।
কিরকম। সঙ্কোচ করার কিছু নেই।
আমার ওপরে যিনি বস আছেন, তিনি টাকাও চান আবার এনটারটেনমেন্ট চান।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

অসুবিধে নেই। কিন্তু কি রকম এনটারটেনমেন্ট, সঙ্কোচ না করেই বলো।
আমি মেয়ে, কিন্তু কি করবো, চাকরি করি, কালো ধুমসি বলে বেঁচে গেছি।
হেসে ফেললাম।
তুমি হেস না। এরা এই রকম। কলকাতায় আমার বস একজন ছেলে। আমি তোমার ফাইলটা আজই পাঠিয়েছি। চব্বিশ কটির বাজেট দিয়ে, কামিং তিন মাসে। তোমার খরচ পরবে লাখ তিরিশেক।
এটা তোমাকে ফেস করতে হবে, না আমাকে।
তোমাকে ফেস করতে হবে। সেই জন্যই তোমায় মুম্বাই যেতে বলছিলাম।
বিপদে ফেললে, এ কাজ কোনদিন করিনি।
ঠিক আছে আমি দেখছি কি করা যায়।
তোমায় টেনসন নিতে হবে না, কাজটা করতে গেলে আমারও একটা নতুন জগত দেখা হবে।
না না আমি ব্যবস্থা করবো।
তুমি আমার জন্য আর কতো করবে।
আমার বসকে বলবো। দেখি না কি করে।
তোমার বন্ধুরা জানে।
না জানার কি আছে। দেবাশীষ ধোয়া তুলসী পাতা নাকি।
অদিতি, মিলি, নির্মাল্য ?
সব এক গোয়ালের গরু, আপার লেবেলে শরীরটা কিছু নয়, সেখানে টাকাটাই সব।
তার মানে আমাকেও সেই হতে হবে নাকি।
তোমার মধ্যে সেই প্রটেনসিয়ালিটি আছে, কিন্তু তুমি তা নও।
কি করে জানলে।
তোমার মুখের মধ্যে তার একটা ছাপ থাকত।
তুমি এতো বোঝো।
বুঝতে হয়েছে।
তুমি এগিয়ে যাও, আমি ঠিক সামলে দেব।
পারবে ?
দেখি না সামলাতে পারি কিনা। তুমি কবে খবর দেবে।
কামিং উইকে।
আমার নেট শেখার ব্যাপারটা।
তুমি এলেই হয়ে যাবে।
তোমায় ফোন করবো। রবিবার ফাঁকা আছ।
আছি।
দেখি বিকেলের পর আসব। অসুবিধে নেই।
না। একটা ফোন করে নিও।
ঠিক আছে।
টিনার কাছ থেকে উঠে চলে এলাম। টিনা নীচ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল। ভাগ্যভাল নিচে একটা ট্যাক্সি পেয়ে গেলাম। উঠে পরলাম। অমিতাভদার বাড়িতে যখন এলাম রাত দশটা বেজে গেছে। পা দিতেই দেখলাম, তিনজনে বসে গল্প করছে। আর হাসাহাসি করছে। আমি ঢুকতেই ছোটমা বললেন, আসুন স্যার, আপনার কথাই হচ্ছে।
আমি বড়মাকে ছোটমাকে প্রণাম করে বড়মার পাশে বসলাম। মিত্রা একটা সোফা দখল করে আছে। ছোটমাও একটা সোফা দখল করে আছে।
দাদারা আসেনি ?
সবে অফিস থেকে বেরিয়েছে। বড়মা বললো।
হ্যাঁরে তুই কিরে।
আমি মানুষ। খুব সাধারন মানুষ।
দাওনা দাও ওর কানটি মূলে। ছোটমা বললো।
মিত্রা চোখবন্ধ করে হাসছে।
তোর কীর্তি কলাপ শুনছিলাম মিত্রার মুখ থেকে।
মিত্রার দিকে তাকালাম। আমার! নতুন কি। আগেও অনেকের মুখে শুনে থাকবে।
একাট মেয়েকে নিয়ে গেছিস, থাকার জায়গা পর্যন্ত ঠিক করিস নি।
আমি নিয়ে যাবার আগে কন্ডিসন করে নিয়েছিলাম, জিজ্ঞেস করো।
মিথ্যুক একবারে বাজে কথা বলবি না। তুই আমায় বলেছিলি ওখানে বাথরুম নেই।
সেটা আবার বলতে হয় নাকি, গ্রামে আলাদা বাথরুম থাকে নাকি, পুরো গ্রামটাই বাথরুম।
সবাই হেসে উঠলো।
বাঁচা গেল, তোমরা আর বিরক্ত করবে না যাবার জন্য।
বিরক্ত করবো না মানে, এক মাসের মধ্যে বাথরুম ঠিক করবি অতো সুন্দর জায়গা, খালি একটা বাথরুমের জন্য যেতে পারব না। ছোটমা বললো।
একটু চা খাওয়াবে।
মিত্রা ফ্লাক্সটা নিয়ে আয়।
মিত্রা উঠে চলে গেল রান্নাঘরের দিকে। বুঝলাম মেয়ে কয়েক ঘন্টায় করিতকর্মা হয়ে উঠেছে।
অনি পীর সাহেবের গল্পটা একবার বলবি। বড়মা বললো।
কেন, শোনো নি ?
মিত্রা ঠিক মতো বলতে পারে নি।
যখন যাবে তখন দেখিয়ে দেব।
মিত্রা ফ্ল্যাক্স আর কাপ নিয়ে এলো।
টেবিলের ওপর তিনটে কাপ রেখে চা ঢাললো। বাইরে গাড়ির হর্ন বাজলো।
এইরে এলেন সব। ছোটমা বললো।
মিত্রা আরও দুটো কাপ নিয়ে এলো। আমি উঠে খাওয়ার টেবিলের ওখান থেকে দুটো চেয়ার নিয়ে এলাম।
মল্লিকদা ঢুকলো।
আসুন আপনার জন্য জায়গা খালি আছে এবং কাপে চাও রেডি। ছোটমা বললো।
মল্লিকদার সে কি হাসি, এতো সৌভাগ্য আমার।
বলতে বলতেই অমিতাভদা ঢুকলো, সুপার্ব নিউজ, তুই কোথা থেকে খবর পাস বলতো।
সবাই আমার দিকে চাইল। এমনকি মল্লিকদা পর্যন্ত।
তোর নিউজটা ফলো আপ করলো সন্দীপ, তারপর ওরা সত্যি সত্যি প্রেস রিলিজ করলো।
তুমি ওটা ছেপেছো!
কেন।
ওটা উইথড্র করো। ওই নিউজ কেউ ছাপে নাকি।
তুই কি করে বুঝলি।
আমি বলছি, পরে সব কথা বলবো, তুমি আগে তলো ওই নিউজটা।
কাগজ ছেপে বেরিয়ে গেল।
দাঁড়াও আসছি, বলে বাইরে এলাম।
ওরা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। ইসলামভাইকে ফোন করলাম। সব কথা বললাম। বললো ঠিক আছে। তুই বেটা সবেতেই ঘাবরে যাস। আমি নিজের ঘারে দোষ না নিয়ে অন্যের ঘারে চাপিয়ে দিয়েছি। বেশ করেছে ছাপুক। আমার বরং ভাল হবে।
আবার নিজের জায়গায় এলাম।
কি হয়েছিল।
কিছু না।
কিছু না বললে হবে, তুই উঠে চলে গেলি, কার সঙ্গে ফুসুর ফুসুর গল্প করলি। মল্লিকদা বললো।
আর একটা নিউজ আসার কথা ছিল তাই জানলাম এসেছে কিনা।
কি নিউজ।
এখানে বলতে হবে।
বল না।
বললে আপত্তি কোথায় আমরা কি নিউজের বাইরের লোক। অমিতাভদা বললেন।
মধুচক্রে মন্ত্রীপুত্র।
অমিতাভদা আমার দিকে তাকালেন। কোন মন্ত্রীরে।
তোমায় জানতে হবে না।
তুই নিউজ দিলেই আমি ছেপে দেব নাকি।
আজকেরটা ছেপেছ কেন ? নাও চা খাও।
দেখেছিস মল্লিক কেমন সাসপেন্স।
বড়মা মুচকি হেসে মাথা দোলাতে দোলাতে বললো, যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল।
সবাই মুখ নিচু করে হাসছে। আমি গম্ভীর।
তুমি চেয়ারে গিয়ে বসো। অনি এখানে বসুক। বড়মা ঠেলে অমিতাভদাকে উঠিয়ে দিল। আমি বড়মার পাশে গিয়ে বসলাম।
কি ঠিক বলিনি বলো, সব একদিনে হয়ে গেলে চলবে কি করে। বড়মার দিকে তাকিয়ে বললাম।
একবারে দিবি না। তুই আসার পর থেকেই তোকে অফিস থেকে ঠেলে বার করে দিয়েছে, না।
না।
না!
হ্যাঁ আজ আমি স্ব-ইচ্ছায় বেরিয়েছি, কিছু কাজ ছিল।
অমিতাভদা কাপটা রেখে হাততালি দিয়ে উঠলো। কি এবার বলো। খালি আমি, না।
এই দেখে মিত্রার কি হাসি, ফুলে ফুলে উঠছে।
ওরে থাম থাম, বিষম লেগে যাবে। ছোটমা বলে উঠলো।
নাও রেডি হয়ে নাও, খেতে বসে আবার সেকেন্ড ইনিংস শুরু করবো।
তার মানে।
আরে বাবা সবে টস করে ফার্স্ট ইনিংস খেললাম, এবার সেকেন্ড ইনিংসটা খেলতে হবে না।
আমি নিজের ঘরে চলে এলাম। জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে গেলাম। দেখলাম ঘরটা আজ বেশ পরিষ্কার। মনে হচ্ছে কনো মহিলার হাত পরেছে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে চলে এলাম।
দেখলাম সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
তুই মেয়েরও বেহদ্দ। ছোটমা বললো।
মিত্রা মুচকি হাসলো।
আমি কথাটা গায়েই মাখলাম না, এমন ভাব করে বড়মার পাশে এসে বসলাম।
ছোটমা খাবার পরিবেশন করছে।
আমি বললাম, একসঙ্গে নিয়ে চলে এসো।
তারপর বলবি আজকের খাওয়াটা ঠিক জমলো না।
মল্লিকদা শুরু করে দিয়েছে।
আমিও হাত লাগালাম।
তুই তাহলে নিউজটা দিবি না।
সন্দীপকে ফলোআপ করতে বলো।
মল্লিকদা জোরে হেসে উঠলো।
কি তেঁয়েটে দেখেছিস। ভালো নিউজ। যদি কেউ তোর আগে করে দেয়।
দেবে।
তাহলে আমাদের কাগজের ক্রেডেনসিয়াল কমে যাবে।
অনি, দিয়ে দে অতবার করে বলছে। বড়মা বললো।
হাসলাম।
সাতদিন পরে পাবে। ছবি হোক।
কাকে পাঠাবি।
কি!
ফটোগ্রাফিতে।
আমাদের হাউসের।
হ্যাঁ।
তুমি সত্যি। আমাকে জেলে পুরবে নাকি।
তুই সঠিক নিউজ করলে জেলে পুরবে কেন।
ঠিক আছে তোমায় ভাবতে হবে না। বড়মা যখন বলেছে, ঠিক সময়ে পেয়ে যাবে।
বড়মা একটা চিংড়িমাছ নিজের পাত থেকে আমার পাতে তুলে দিল।
আমি মিত্রার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম।
তোকেও দিচ্ছি দাঁড়া।
দিওনা পেট খারাপ করবে। অভ্যেস নেই।
বলেছে। তোর যেন কতো অভ্যেস আছে। খাসতো ওই চুনো মাছের টক আর পান্তা।
ওই খেয়ে কি বলেছিলি, বলবো সবার সামনে।
মিত্রা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
বোস বোস আমি তোর মতো অকৃতজ্ঞ নই।
ছোটমা মিত্রার কানের কাছে মুখ নিয়ে কি বললো মিত্রাও ফিস ফিস কের বললো, তারপর ছোটমার ফুলে ফুলে সে কি হাসি।
কেউ ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারল না, আমি বুঝেছি।
তুই কি বলবি বলেছিলি। মিত্রা বললো।
মিত্রার দিকে তাকালাম, অফিস সম্বন্ধে তুই কতটুকু জানিস।
এতদিন আমি দেখি নি, বকলমে সুনিতদা দেখতো। যেহেতু সম্পর্কে ওর ভাগ্নে হয়।
এখন যদি কাগজের স্বার্থে ওই লোকটাকে তাড়াই তোর কোন আপত্তি আছে।
কেন তাড়াবি। সুনিত কাজ জানে। অমিতাভদা বললো।
তোমার কাছে পরে আসছি, তবে এই উত্তরটা তোমায় দিচ্ছি।
বল।
তোমার পেটে যদি পাঁচশো গ্রাম সাইজের একটা টিউমার হয়, তুমি হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট করবে না অপারেশন করে কেটে বাদ দেবে।
অপারেশন করবো।
আমিও তাই চাইছি।
সবাই চুপ। মল্লিকদার হাত থেমে গেছে।
তুই কি করে বুঝলি।
আমি যদি প্রমাণ করে দিই। আর চম্পকবাবু ?
তুই ওদের একমাস সময় দিয়েছিস।
না জেনে অনেক বেশি সময় দিয়ে দিয়েছি।
তুই সনাতনবাবুকে ফোন করেছিলি। মিত্রা বললো।
হ্যাঁ।
ওই ডকুমেন্টস গুলো কালকের মধ্যে দিতে পারবে না।
জানি। তোকে ফোন করেছে কেন। আমাকে বলতে পারত।
তোকে বলতে পারছে না।
কেন। আমি বাঘ না ভাল্লুক।
তা জানি না।
জানবিনা মানে, তুই মালিক। তোর জানা উচিত। তুই এর জন্য পয়সা দিচ্ছিস মাসে মাসে।
এভাবে কখনো ভাবিনি।
তুই কি বলেছিস।
ঠিক আছে আমি অনিকে বলে দেবো।
ব্যাশ সাতখুন মাপ।
ওনাকে কাল সকালে ফোন করে বলেদিবি, আমি যা চেয়েছি সেটা কালকেই ওনাকে দিতে হবে। সব ঘুঘুর বাসা।
তুই ওকে বলছিস কেন, তুই নিজে বল। অমিতাভদা বললো।
ও নিজে দায়িত্ব নিয়েছে তাই ওকে বলতে বলছি। ঠিক আছে এরপর থেকে আমার কোন ব্যাপারে তুই ফোন রিসিভ করবি না। তুই হচ্ছিস ওদের সেল্টার। ওরা সব পেয়ে বসেছে।
অমিতাভদার দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমি মিত্রার বাবার আমল থেকে আছো। তুমি কতটুকু জানো হাউস সম্বন্ধে।
কিছু জানি না।
তার মানে! অফিসে গেছ, নিজের চেয়ারে বসেছ, কাজ করেছ, চলে এসেছ।
তা বলতে পারিস।
মরন। বড়মা বললো। আমাকে যে রাতে শুয়ে শুয়ে গল্প বলতে, এটা করেছি সেটা করেছি।
সবাই হাসল।
এখন ও যখন জিজ্ঞেস করছে বলতে পারছ না। ও নিশ্চই কনো কিছু বুঝতে পেরেছে।
তুমি ঠিক বলেছো। এটা আমার মাথায় আসেনি।
এই সব ঘটনা তোমার কাছ থেকে পরে নেব। এখন বলো চম্পকবাবুর সম্বন্ধে কি ডিসিসিন নিয়েছ।
আমরা চাইছি ওরা একটা মাস থাকুক। কি মা তুমি কি বলো।
মিত্রা মাথা দোলাল।
মল্লিক তুই বল।
মল্লিকদা মাথাও দোলায় না মুখও তোলে না। চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে।
একচুয়েলি তোমরা চাইছ ওদের রাখার জন্য, আর আমি দাবি করছি, না রাখার জন্য। চাওয়া আর দাবি করার মধ্যে অনেক পার্থক্য।
আমার কথা বলার মধ্যে এমন কিছু ব্যাপার ছিল, সবাই আমার মুখের দিকে তাকাল।
আমি আর বসলাম না। মুখ ধুয়ে ওপরে চলে এলাম।
নিজের ঘরে ঢুকে আলোটা জালতে ভাল লাগল না। রাস্তার নিওন আলোর মিহি আলো বাগানের আম গাছটার ফাঁক দিয়ে আমার ঘরে এসে পড়েছে। সেই মিহি আলোয় ঘরের অনেকটা অংশ আলোকিত। জানলার সামনে দাঁড়ালাম। হাজারো চিন্তা মাথার মধ্যে কিল বিল করছে। বিশেষ করে চম্পক, সুনিত এই দুটোকে যে করেই হোক ছেঁটে ফেলতে হবে।
চম্পক এতদূর এগিয়েছে সুনিতের সাহায্য ছাড়া নয়। এতদিন অনেক কিছু ভোগদখল করেছে। কিছুতেই ও সহজে ছেড়ে দেবে না। বিষধর সাপকে একটা আঘাতেই আধমরা করে দিতে হবে। তারপর মেরে পুরিয়ে দিতে হবে।
এই দুটোকে বেশিদিন রাখলে, আরও কয়েকটা জন্মে যেতে পারে। আবার তাদের পেছনে সময় নষ্ট করতে হবে। না কনো বাধা আমি মানব না। আগামী শুক্রবার মিটিং কল করতে হবে। তার আগে ইসলামভাই-এর কাছ থেকে লাস্ট আপডেট নিতে হবে। ও বলেছে ও সব জানে। মিত্রার কি সুনিতের ওপর কোন দুর্বলতা আছে ? থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। যতই হোক ওর হাজবেন্ডের ভাগ্না বলে কথা।
পিঠে নরম হাতের স্পর্শে ফিরে তাকালাম। মিত্রা আমার পেছনে।
তুই শুধু শুধু আমার ওপর রাগ করছিস। আমি জানি তুই সারাদিন অনেক খবর জোগাড় করেছিস। তাই তুই এই কথা বলতে পারছিস। কিন্তু তোকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে। তুই ভাবিস না আমরা তোর কাজে বাধা দিচ্ছি।
যা শুয়ে পর। আমাকে একটু একা থাকতে দে।
আমি এখানে থাকব। বড়মা বলেছে।
বড়মা বললেই সব হয় না, এটা আমার বাড়ি নয়। তাছাড়া অমিতাভদা মল্লিকদা আছেন।
ওরা সবাই নিচে বসে আছেন।
কেন।
তুই কথা শেষ করিস নি।
আজ আর কথা বলতে ভাল লাগছে না। যা বলার আগামী শুক্রবার বলবো।
আজ কেন নয়।
যা বলছি শুনে যা। শুক্রবার মিটিং কল করবি। জানাবি সোমবার। আমি তোকে কিছু হোম টাস্ক দেব। ভাল করে কাজ গুলো বোঝার চেষ্টা করবি। মাথায় রাখবি। তোর অফিস একটা ঘুঘুর বাসা। দাদা সহজ সরল। দাদার দ্বারা এ্যাডমিনিস্ট্রেসন চলবে না। তোকে তৈরি হতে হবে। যদি কাগজ বাঁচাতে চাস। আর এই কদিন আমাকে একবারে বিরক্ত করবি না।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

মিত্রা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই অনির সঙ্গে ওর পরিচয় নেই।
ব্যাঙ্কের সিগনেচার অথরিটি কে।
আগে ও ছিল মাস কয়েক হলো আমি করছি।
তোর কিংশুক, অরিন্দম ভাল ছেলে বলে মনে হয় ?
এটাও ওর রিক্রুটমেন্ট।
সবই ও ও ও, তুই কি শিখন্ডি। শেয়ারটা কার তোর না ওর।
তুই বৃথা রাগ করছিস।
চুপ করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
আমি কি করবো বল, সব বুঝে শুনে চুপ থাকতাম। তুই আসার পর একটু বল পেয়েছি।
আমাকে কেন জড়ালি এর মধ্যে। মনে হয় তোর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাবে।
কি বলছিস বুবুন!
আমি ঠিক বলছি। কাল থেকে টের পাবি।
সব শেষ হয়ে যাক। তুই আমাকে ছারিস না।
আমার টাকাটা কে দিয়েছে।
আমার একটা প্রপার্টি ছিল সেইটা ওদের দিয়ে দিয়েছি। তার বিনিময়ে ওরা ট্রান্সফার করেছে।
আমাকে জানিয়েছিলি।
সেই সময় তুই দিস নি।
ঠিক আছে।
ঘরের লাইটটা জলে উঠলো। পেছন ফিরে তাকালাম। সবাই ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে বাকি রইল না। ওরা সব শুনেছে।
দাদা কাছে এগিয়ে এলো। আমার কাঁধে হাত দিয়ে মুখটা তুলে বললো, আমাকে বল আমি তোকে সাহায্য করতে পারি।
তুমি পারবে না।
আচ্ছা তুই বলেই দেখ না।
আগামী শুক্রবারের পর সব দেখতে পাবে নিজের চোখে।
তোকে বলে রাখলাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কনো চেকে সই করবি না।
আচ্ছা।
বড়মা বললো বলনা তুই। কিছু একটা হয়েছে, যা তুই জানিস এরা কেউ জানে না।
তুমি ঠিক ধরেছো। আমি এখন কিছু বলবো না। এরা মাইন্ড গেম খেলবে। আমি খেলবো পাওয়ার গেম। তোমরা যাও আমাকে একটু ভাবতে দাও।
তোমরা তিনজনেই এই কয়টা দিন দশটার মধ্যে অফিসে যেও আর চোখ কান খোলা রেখো। প্রয়োজনে আমি তোমাদের ফোন করবো। তোমরা কেউ ফোন করবে না।
আচ্ছা। কাল আমি খুব ভোর ভোর বেরিয়ে যাব।
আমি উঠে পরবো, বল তুই কখন যাবি। বড়মা বললো।
আমার জন্য ব্যস্ত হবে না।
বড়মার মুখটা শুকিয়ে গেল। ওরা সবাই চলে গেল।
আমি অনেকক্ষণ জানলার ধারে দাঁড়িয়েছিলাম, ঘুম এলো না। মিত্রা অনেকক্ষণ আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল। আমি কনো পাত্তা দিলাম না। সকাল হতেই বেরিয়ে এলাম। আমাকে একমাত্র দোতলার বারান্দা থেকে মিত্রা দেখল। বুঝতে পারছি মিত্রা খুব কষ্ট পাচ্ছে। তবু আমি পেছন ফিরে তাকালাম না। সোজা গেট পেরিয়ে চলে এলাম। বড়মাকে দেখতে পেলাম না।

এই কদিন অফিসের সঙ্গে আমার কনো যোগাযগ রইলো না। সাতদিনে সাতঘন্টা গিয়েছি কিনা সন্দেহ। রবিবার অনাদিরা এসেছিল। ওদের সঙ্গে বসতে পারি নি। মিত্রার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। মিত্রা ওদের সঙ্গ দিয়েছে। আমার সঙ্গে ফোনে একবার কথা হয়েছে। সনাতনবাবু খেপে খেপে সমস্ত কাগজপত্র দিয়েছে। একবারে দিতে পারে নি।
হিমাংশুকে কাগজ দিয়ে বলেছি, এই বছরের পরিস্থিতি জানা। ও কাগজপত্র দেখে অবাক হয়ে গেছে। বলেছে অনি আমার পক্ষে একে রিকভার করা সম্ভব নয়। তবে চেষ্টা করবো।
অমিতাভদার বাড়িতে যাইনি বললেই চলে। আমি এই কদিন ইসলামভাই-এর সঙ্গে থেকে সমস্ত ডকুমেন্টস জোগাড় করলাম। সমস্ত খোঁজ খবর নিলাম। রাতে আমার ফ্ল্যাটে থেকেছি।
ইসলামভাইকে একদিন অভিমান করে বলেছিলাম, তুমি সব জানা সত্বেও এই কাজ করলে কেন। ইসলামভাই হাসতে হাসতে বলেছিল, তোর মালিক হওয়ার আগেই কাজ গুলো সাল্টেছি। তুই মালিক হওয়ার পর একটাও অন্যায় কাজ করিনি।
জানি তুই আমার কাছে আসবি, জিজ্ঞাসা করবি। আমি তোর চরিত্রটা জানি। তবে তোকে কথা দিচ্ছি ওরা এগুলো কনোদিন পাবে না। সব অরিজিন্যাল আমার কাছে এখনো আমার টাকা বাকি, দিলে পাবে। তুই যা ভালবুঝবি এবার কর। আমি তোর মতে মত দেব।
আমি তাজ্জব বনে গেলাম সুনিত-চম্পকবাবুর কান্ডে। মাঝে একদিন দামিনী মাসির কাছে গেছিলাম। আমার পৌঁছবার আগেই ইসলামভাই গিয়ে দামিনী মাসীকে সব বলে এসেছে। দামিনী মাসী বলেছে ও যদি তোর কাজ না করে আমাকে বলবি, আমি ঝাঁটামেরে ওকে কলকাতা থেকে বিদায় করবো। ওর মতো কত ইসলামকে আমি দেখলাম।
আমি মাসির কথায় হেসেছি। টিনা, অদিতি, দেবাশীষ, নির্মাল্য, মিলি আমায় কামিং ছয় মাসের জন্য ১২০ কোটির টাকার এ্যাডপ্যাকেজ জোগাড় করে দিল, ওদের বললাম, তোরা আমাকে অন্যান্য এ্যাডহাউসের ব্যাপারে সাহায্য কর। ওরা কথা দিয়েছে।
যত দিন এগিয়েছে আমাকে দেখে মিত্রার মুখ শুকিয়ে গেছে। আমার কান্ডকারখানা দেখে শেষে ও ভয় পেয়ে গেছে। একদিন রাতে ওর বাড়িতে আমাকে জড়িয়ে ধরে প্রচন্ড কাঁদল। আমি চলে এলাম।
মিত্রা আমার কথা মতো এইকদিন কাজ করেছে। এই কয়েক দিনে ও যেন পাঁচবছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেছে। মিত্রার কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সুনিতদা এবং চম্পকবাবু ইরেগুলার। আমি ওকে চুপচাপ থাকতে বলেছি।
শুক্রবার আমি মিটিং আরম্ভ হওয়ার এক ঘন্টা আগে অফিসে ঢুকলাম। বুঝতে পারলাম অফিসে একটা চাপা উত্তেজনা। চারিদিকে ফুসফুস গুজগুজ। নিউজরুমে গেলাম, মল্লিকদা কাছে এলো।
কিরে সব ঠিক আছে।
মল্লিকদার দিকে তাকালাম।
ওরা মলদের (মলরা আমাদের হাউসের ৫ পার্সেন্ট শেয়ার হোল্ডার) হাত করেছে। হাসলাম।
তুই হাসছিস কেন ?
তুমি হাসির কথা বললে তাই।
ওরাও শেয়ার হোল্ডার।
তো।
আমার মাথায় কিছু আসছে না।
সব আসবে এতদিন বহাল তবিয়েতে ছিলে। তাই কিছু বোঝার দরকার পরে নি।
তুই ঠিক থাকলেই সব ঠিক।
আমি বেঠিক কোথায়।
কিসব করেছিস, তোর ওপর সবাই খেপচুয়াস।
একচুয়েলি মউচাকে ঢিল পরেছে। একটু আধটু হুল ফুটবেই। তাই বলে কি মধু খাব না।
হেঁয়ালি রাখ। দাদার প্রেসার বেরে গেছে। কাল ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছিল।
আমাকে খবর দাওনি কেন।
দাদা বারন করলো।
তাহলে বলছো কেন।
তোর বড়মা, ছোটমা কাঁদছে ঠাকুর ঘরে গিয়ে বসে আছে।
আজকের পর আর বসতে হবে না।
ফোনটা বেজে উঠলো। দেখলাম মিত্রার ফোন।
কি হলো ?
তুই কি অফিসে এসেছিস।
হ্যাঁ।
একবার আসবি।
এখন না এগারটার সময়।
আমার কিছু কথা ছিল তোর সঙ্গে।
কি বিষয়ে।
আজকের মিটিং-এর বিষয়ে।
নিজে নিজে ঠিক কর সব।
মিত্রা চুপ করে গেল।
ফোনটা কেটে দিলাম। নিজের কয়েকটা কাজ করে নিলাম। সন্দীপ আমার ধারে কাছে এলো না। অন্যান্য ছেলেগুলোর কোন বালাইনেই। তারা জানে কাজ করছি, মাসে মাসে মাইনে পেলেই হলো।
হিমাংশুর ফোন।
তোদের অফিসে ঢুকছি।
মিত্রার ঘরে গিয়ে বোস।
তুই কখন আসছিস।
জাস্ট দশমিনিট পর।
সব রেডি।
হ্যাঁ।
ঠিক এগারটায় আমি মিত্রার ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম।
দেখলাম আমার জায়গাটা মিত্রার ঠিক পাশেই। আমার দিকে মল্লিকদা, আর মিত্রার দিকে অমিতাভদা। আমার ঠিক অপজিটে ঠিক মুখোমুখি মল, চম্পকদা, সুনিতদা আর সবাই এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। সবার চোখে মুখেই চাপা টেনসন।
প্রথেমে সনাতনবাবু কামিং ৬ মান্থের বাজেট কি হবে তা পরে শোনালেন।
তাতে এ্যাডের বাজেট দেখে চম্পকদার মুখ শুকিয়ে গেল।
পর পর সব ডিপার্টমেন্টের কি কি টাকা ঠিক করা হয়েছে। তা পরে শোনান হলো।
সবারই মুখ শুকিয়ে গেছে। মিত্রা প্রথমে মলকে বাজেটের ওপর বলতে বললেন।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

মলবাবু বললেন, ম্যাডাম আমি মাত্র পাঁচভাগ শেয়ার হোল্ড করে আছি। আমার কোন কথা নেই। আপনি বরং বলুন আমরা মেনে নেব।
মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আপনার কিছু বলার আছে।
আমি শুরু করলাম।
আমি পনের দিন হলো কোম্পানীর মালিক হয়েছি। তাতে হিসাবে অনেক গরমিল দেখলাম, আপনারা দুজনে কেউ তা জানেন।
মল এবং মিত্রা দুজনেই অস্বীকার করলো।
সনাতানবাবু।
ইনটারন্যাল অডিটে কিছু ধরা পরেছে।
সেই ব্যাপারে কাউকে বলেছিলেন।
এই মিটিংটা হুট করে হবে জানতাম না। তাহলে আনিয়ে রাখতাম।
আপনি নিজে চোখে দেখেছেন।
মল বাবু অনেক বেশি টাকা তুলেছেন।
মল হৈ হৈ করে উঠলো।
আমি মলের দিকে তাকালাম।
আমার বরফঠান্ডা চোখের দিকে তাকিয়ে মল কেন জানিনা ঘাবড়ে গেল।
আপনি নতুন এসেছেন আপনি কিছু জানেন না। চিল্লিয়ে উঠলো।
মলকে পাত্তাই দিলাম না।
চম্পকবাবুর দিকে তাকালাম।
চম্পকবাবু গত ছয়মাসে আমাদের এ্যাডের যা বাজেট ছিল তার কত এসেছে।
টার্গেট ৯০ ছিলো ৫০ এসেছে।
কত কমিশন বাদ গেছে।
তের কোটি।
এনটারটেনমেন্টের পেছনে কত খরচ হয়েছে।
ছয়কোটি। তুমি কি এই জন্য মিটিং ডেকেছ নাকি।
আপনি এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন।
তুমি উত্তেজনার সৃষ্টি করছো।
এ্যাডডিপার্টমেন্ট গত ছয় মাসে ছয় কোটি টাকা এন্টারটেনমেন্টের পেছনে খরচ করেছে।
এই বিষয়ে আপনার কোন বক্তব্য আছে।
না।
আচ্ছা আগামী ছয় মাসের বাজেট ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি।
এই বিষয়ে আপনি কি বলবেন ?
এটা এ্যাবসার্ড।
আপনার রেসিও অনুযায়ী এই এ্যাড যদি পাওয়া যায় তাহলে একশো কোটি কমিশন এবং এনটারটেনমেন্টর পেছনে খরচ হবে। তাই তো ?
চুপচাপ।
চম্পকবাবু উত্তর দিন।
এব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। তোমরা আমাকে না জিজ্ঞেস করে বাজেট করেছ।
আপনি বাজেট করে যা এনেছেন তা কি ঠিক।
তুমি কি বলতে চাও।
গত সপ্তাহে আপনি এনটারটেনমেন্টের নামে, দেড় লাখটাকার একটা বিল জমা দিয়েছিলেন। খেপে খেপে সেই টাকা আপনি নিয়ে নিয়েছেন। টাকাটা আপনি কোথায় খরচ করলেন।
তোমাকে তার কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি।
মালিক হিসেবে আমি আপনার চাকরিটা খেতে পারি। শুধু তাই নয়। এই ঘর থেকে আপনাকে শ্রীঘরে ঢোকাতে পারি। জামিন অযোগ্য মামলায় আপনাকে ফাঁসাতে পারি। সাংবাদিক হিসাবে কালকে কাগজে সুন্দর করে একটা আর্টিকেল লিখতে পারি। উইথ ফটোগ্রাফ। যাতে আপনার সাধের সংসার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
আপনি কোন অপসন বেছে নেবেন।
সবাই দেখলাম একটু নরে চরে বসলেন। মল আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। সুনিতবাবুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। দাদা মল্লিকদার মাথা নীচু।
আমার হিসেব অনুযায়ী কোম্পানী আপনার কাছে ছ’কোটি টাকা পায়।
এটা অন্যায় ভাবে আমার ওপর প্রেসার করা হচ্ছে।
তারমানে আমি যা বলছি তার কিছুটা মেনে নিচ্ছেন। পুরোটা নয়।
চুপচাপ।
তাহলে আর একটা কথা বলি।
অনি থাক। মিত্রা বললো।
কেন। থাকবে কেন ? তুই বল, আমার শোনার দরকার আছে। অমিতাভদা বললেন।
উনি আমাদের হাউসের এ্যাড অন্যজায়গায় দিতেন। সেখান থেকে বেশি কমিশন পেতেন।
চম্পকবাবু চমকে আমার মুখের দিকে তাকাল।
আমার কাছে তার প্রমাণ আছে আমি কখনো ইয়লো জার্নালিজম করি না।
কি চম্পক অনি ঠিক কথা বলছে। অমিতাভদা বললো।
চম্পকদা অমিতাভদার কাছে ছুটে এসে পায়ে ধরে ফেললেন।
আমায় ক্ষমা করুন দাদা। আপনার ওপর অনেক অন্যায় করেছি। আমি সত্যি বলছি। মল আর সুনিতের পাল্লায় পরে এসব করেছি। ওরাও সব ভাগ পেয়েছে দাদা। আমি একা নিই নি।
আপনি অনির হাত থেকে আমাকে বাঁচান। আমি জানি ওর কাছে সব ডকুমেন্টস এসে গেছে। আপনি এই হাউসের সবচেয়ে সিনিয়র পার্সন আপনার কথা অনি ফেলতে পারবে না।
কিহে মল। চম্পক কি বলে। দাদার গলাটা গম গম করে উঠলো।
উনি প্রমান করতে পারবেন।
তাই নাকি মলবাবু। আমি বললাম।
আপনি কোন কথা বলবেন না। আমি চম্পকের সঙ্গে কথা বলছি।
আপনার বাড়িতো রাজস্থানে, চৌমহিনি, ট্যাঙ্করোড....। আপনার ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট এতোক্ষণে সিল হয়ে যাবার কথা। একটা ফোন করুন আপনার ব্যাঙ্কে। দেখুন এ্যাকাউন্টের পজিসন কি।
এটা আপনি কি করছেন অনিবাবু।
তাহলে সত্যি কথা বলুন।
কিছু দিয়েছে, যৎ সামান্য।
বাইপাসের প্রমোটিংয়ে কত ঢেলেছেন ?
ওটা আমার মাদার বিজনেস।
হিমাংশু জেরক্সটা মলের হাতে দে। অরিজিন্যাল আমার কাছে।
হিমাংশু জেরক্সটা এগিয়ে দিল।
মল উঠে এসে আমার হাত জড়িয়ে ধরলো। পারলে আমার পায়ে পরে যায়। আপনি আমার এতো বড় ক্ষতি করবেন না। আমি একেবারে মরে যাব। আমি বুঝে গেছি সব।
ব্যবসায়ী মানুষ, তাড়াতাড়ি আপনাকে বুঝতেই হবে।
অমিতাভদা, মল্লিকদা, মিত্রা সব মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে, ব্যাপারটা কি হলো। মল এরি মধ্যে একশো আশি ডিগ্রী ঘুরে গেছে। ঘরের অন্য ডিপার্টমেন্টর সকলের মুখ থমথমে।
আপনি যা বলবেন আমি করে দেব । এটা শো হলে আমার ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে যাবে।
আমার দুটো জিনিষ চাই। মির্জা গালিব স্ট্রীটের জায়গাটা। আর আপনার ৫ পার্সেন্ট শেয়ার।
সুনিতদা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আবার চেয়ারে ধপ করে বসে পরলো। সবাই দেখল ব্যাপারটা। কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। হিমাংশু চল লালাবাজার।
না না এটা কোন সমাধান হল। আপনি জোর জবরদস্তি করছেন।
কি সুনিতদা জোর জবরদস্তি না হকের জিনিষ। কোনটা ?
সুনিতদা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
আমি বেশি সময় দিতে পারব না। আমার কথা মানবেন, না তিনজনকেই ভেতরে পুরবো।
অমিতাভদা উঠে দাঁড়াল, তুই কি আরম্ভ করেছিস বলতো।
আমি কি, সঙ্গে কি নিয়ে ঘুরছি। গত বাহাত্তর ঘন্টায় এরা তা জোগাড় করে ফেলেছে।
সুনিতদা, চম্পকদা, মল আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
সেটার প্রমাণ তোমাকে নতুন করে দেখাতে হবে না।
আমি চাইলেও, এরা এই ঘর থেকে আমাকে বেরতে দেবে না। ওই দরজায় লম্বা হয়ে শুয়ে থাকবে তিনজনে। ওদের প্রাণের পাখি আমার কাছে। তোমরা বলতেই দিলে না আমাকে।
সুনিতদা এগিয়ে এলো, তুই যা বলবি তাই করবো। তুই বল কি করতে হবে।
খালি সই করতে হবে।
আজকেই করতে হবে।
হ্যাঁ। ডিড তৈরি আছে। পরেনাও সই করো।
ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
হিমাংশু ডিড ওদের হাতে দিয়ে দে।
হিমাংশু চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে দাদার পাশে রাখা এ্যাটাচি থেকে ডিড বার করে ওদের এগিয়ে দিল।
দাদা মল্লিকদা মিত্রা আমার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে।
আপনি এটা ঠিক কাজ করছেন না অনিবাবু।
আমি মলের দিকে তাকালাম।
মিঃ মল তোমার কাছে এখনো ৫০ কোটির হিসাব চাই নি।
সেটাও কি আমি একা লিয়েছি। সবাই লিয়েছে। মল এবার নিজের ফরমায় এলো বাংলা হিন্দী।
কারা কারা নিয়েছে ?
চম্পক আছে, সুনীত আছে, কিংশুক আছে, অরিন্দম আছে, ডঃ ব্যানার্জী আছে, ম্যায় সনাতন ভি আছে।
আমি আপনার থেকে বুঝে নেব, আপনি ওদের কাছ থেকে বুঝে নিন।
এটা কি বলছো অনি। সনাতনবাবু বললেন।
কেন ?

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

সনাতনবাবু কোন কথা বলতে পারছেন না।
নোওয়ার সময় অনির কথা মনে পরে নি।
সবাই মাথা নীচু করে বসে আছে।
সই না করলে সবকাটাকে তোলতাই করাবো। হিমাংশু দুটো ডিড আছে দেখে শুনে সই করাবি। রেজিস্টারার ম্যাডাম এসেছে।
হ্যাঁ।
এখানেই রেজিস্ট্রী করাবি। সাক্ষী, অমিতাভদা, মল্লিকদা, মিত্রা। আমি নিউজরুমে গিয়ে বসছি। আধাঘন্টা সময় দিলাম। তারপর আবার মিটিং স্টার্ট হবে।
মল আমার কাছে এসে দাঁড়ালো। তুমি ক্যাশ লাও।
আমার এক কথা।
তাহলে হামিও তোমায় বললাম, হামি ভি তোমাকে ছেড়ে দেব না।
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করলাম, ভয়েস অন করলাম।
কিরে অনি। মল নাকুর নুকুর করছে। ও শালা মেড়ো আছে। ও জানে না তোর বুদ্ধির কাছে ওরা বাচ্চা।
কারগলা শুনতে পাচ্ছ।
মল আমার দিকে ফ্যাকাসে চোখে তাকিয়ে আছে, ও যার ওপর নির্ভর করে এতোক্ষণ দাপাদাপি করছিল সেটা যে এই ব্যাক্তি সেটা ও বুঝে ফেলেছে।
তুমি কথা বলো।
মলের গালে, চম্পকদার গালে, সুনিতদার গালে কে যেন কোষে থাপ্পর মারল।
দে।....কি মল বাবু।
হ্যাঁ বলো ইসলামভাই।
অনি যা বলছে চুপচাপ করে নিন। আপনার ভাল হবে। অনিকে আপনার থেকে বেশি দিন দেখছি। ও খারাপ ছেলে নয়।
আর শোনেন চম্পক আর সুনিতকেও বলে দিন। আজ থেকে অনি যা বলবে ওরা যেন শোনে, না হলে ওদের ক্ষতি হবে।
আমি অনিকে রিকয়েস্ট করেছি। ওদের চাকরি যাবে না। অনিকে দিন।
হ্যাঁ বলো।
তুই কাল দামিনীর কাছে গেছিলি।
হ্যাঁ।
কেন ইসলামভাই-এর ওপর বিশ্বাস ছিল না।
মনটা ভালো লাগছিল না।
ইসলামভাই জোরে হেসে উঠলো।
আজ গিয়ে বলে আসবি।
ঠিক আছে।
ফোনটা বন্ধ করলাম। সবাই কথা শুনল। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
দামিনী মাসীর গল্পটা একমাত্র মিত্রা জানে। ও মাথা নীচু করে আছে।
আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।
ঘরের বাইরে দেখছি প্রচুর লোকের আনাগোনা। আমায় দেখতে পেয়ে, পরি কি মরি করে পালাচ্ছে। আমি সোজা ক্যান্টিনে চলে গেলাম। চায়ের কথা বলতেই বটাদা তুড়ন্ত চা নিয়ে চলে এলো।
আমি ফোনটা বার করে, বড়মাকে ফোন করলাম।
হাঁপাচ্ছ কেন।
ঠাকুর ঘর থেকে দৌড়ে এলাম। জানি তুই ফোন করবি।
তোমার ঠাকুর কি বললো।
তুই জিতবি।
তাই হয়েছে।
হ্যাঁরে অনি সত্যি তুই জিতেছিস।
হ্যাঁ।
তুই ছোটর সঙ্গে কথা বল।
দাও।
জানিস অনি এই কটা দিন মনটা ভীষণ খারাপ ছিল। তুই ভাল আছিস, মনটা খালি কু গাইত।
আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি।
জানি। কাল দাদার শরীরটা ভীষণ খারাপ ছিল।
জানি।
তুই জানিস।
হ্যাঁ।
তুই কি সাংঘাতিক ছেলেরে।
পরে ফোন করবো।
সন্দীপ কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারি নি। মিটি মিটি হাসছে। তুই সত্যি বস।
কেন।
বোড়ের চালে রাজা কিস্তি মাত।
হাসলাম।
ফোনটা বেজে উঠল।
হিমাংশুর ফোন।
সই কমপ্লিট।
হ্যাঁ।
তোকে সই করতে হবে।
যাচ্ছি।
তুই নিউজরুমে থাক। সেকেন্ড ইনিংসটা খেলে আসি।
সন্দীপ হাসলো।
ঘরে এসে দেখলাম একটা হুলুস্থূলুস কান্ড চলছে। আমি হিমাংশুকে বললাম, দে কোথায় সই করতে হবে। হিমাংশু দেখিয়ে দিল, সই করে দিলাম। রেজিস্টারার ম্যাডাম তার সাঙ্গপাঙ্গরা ঘরেই ছিলেন। সব কাজ ওখানেই হয়ে গেল।
সত্যি সব গল্পের মতই মনে হচ্ছে আমার কাছে।
ভাবিনি এত সহজে ওরা ব্যাপারটা মেনে নেবে।
না মানলে অবশ্য আমি মনতে বাধ্য করাতাম। সেই ডকুমেন্টসও আমি রেডি রেখেছিলাম।
নিজের জায়গায় বসলাম। মলের দিকে তাকিয়ে বললাম, মনে কিছু করবেন না মল সাহেব। গত পাঁচ বছরে ব-কলমে অনেক কামিয়েছেন। আমি তাতে হাত দিলাম না। খুব সামান্যই নিলাম আপনার কাছ থেকে। আমার ভাগটা এখানে এসে বুঝিয়ে দেবেন। আমি আপনার কাছে কোনদিন যাব না। যদি যাই করেকুরে নেব। আপনি এখন আসুন। আজ থেকে আপনি আমাদের হাউসের বন্ধু।
আমার কাগজপত্র।
যেখান থেকে নিয়ে এসেছি। সেখানেই পৌঁছে দেব।
মল আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
আমার প্রচুর লস হলো।
আমি কিন্তু লাস্ট ফাইভইয়ার্সের ক্লেম করিনি। যাদের কাছ থেকে শেয়ারটা আমার নামে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তারা কিছুই পায় নি।
আমি বুঝতে পারছি আপনি এখন অনেক কিছু করতে পারেন।
সবই যখন বোঝেন, তাহলে কাঁদুনি গেয়ে লাভ, আসুন আপনি, বাকিটা সেরে ফেলি।
মল গট গট করে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল।
আপনাদের টাকাটা ?
সনাতনবাবু, কিংশুকবাবু, অরিন্দমবাবুর মুখের দিকে তাকালাম।
স্যার কিছুটাকা খরচ করে ফেলেছি, যেটা আছে সেটা কালকে দিয়ে দেব।
আপনারা সব ভাল ঘরের ছেলে এসব ঘোটালাতে জড়ালেন কেন।
সবার মাথা নত।
সনাতনবাবু আপনি বয়স্কমানুষ এ কি করলেন।
সনাতনবাবু কিছু বললেন না। মাথা নীচু করে বসে আছেন।
সুনিতদা।
তুই আর কিছু বলিসনা অনি। এই কদিনে বাড়িতে, বাড়ির বাইরে, অফিসে অনেক কিছু শুনেছি আর বলিস না।
এইবার কাজটা কি ঠিক মতো হবে।
কথা দিচ্ছি। আমার এক্তিয়ারের বাইরে আমি কনোদিন যাব না।
তোমার আর চম্পকদার নতুন কাগজের তাহলে কি হবে।
সবাই চুপচাপ।
বলো। বলতে হবে তোমাদের এদের সকলের সামনে।
তুই তো মলের কাছ থেকে সব লিখিয়ে নিলি।
এই মেয়েটাকে ঠকাতে তোমাদের ইচ্ছে হলো। যে তোমাকে নিজের আত্মীয় ভেবে সমস্ত দায়িত্ব দিয়েছিল। তার সম্বন্ধে নোংরা রিউমাড় রটাতেও তোমাদের মুখে বাধে নি। চম্পকদা তুমি আমার পেছনে ফেউ লাগিয়েছিলে!
দু’জনেই চুপচাপ।
কতোটাকা দেনার বোঝা চাপিয়ে রেখেছ এই মেয়েটার সেটা খেয়াল করেছ।
আমার ভুল হয়েছে।
সাত খুন মাপ।
চম্পকদা এ্যাডের কমিসনটা কুড়ি কিংবা পঁচিশ নয় তের পার্সেন্ট এটা ঠিক।
হ্যাঁ।
আমার কিন্তু কামিং ছয় মাসে তিনশো কোটি চাই। কোথা থেকে আসবে আমি জানি না।
আমি পারব না।
না পরলে আপনার সম্পত্তি লিখে দিতে হবে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

চুপচাপ।
আমি তোমাদের কামিং থ্রি মান্থের জন্য একশো কুড়ি কোটি টাকার এ্যাড দেব। বাকি একশো আশি কোটি তোমরা জোগাড় করতে পারবে।
কেউ যেন চম্পকদার গালে একটা থাপ্পর মারল। মাথা তুললো চম্পকদা। ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে।
সনাতনবাবু চশমাটা চোখ থেকে খুলে আমার দিকে খালি চোখে তাকাল।
চেষ্টা করবো।
এই নাও একশো কুড়ি কোটির ড্রিল। কাগজটা চম্পকদার দিকে ছুঁড়ে দিলাম।
এটা জেরক্স অরিজিন্যাল আমার পকেটে।
মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
সবাই কেমন ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে। অমিতাভদা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না, চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে সবার সামনে আমার কপালে চুমু খেল।
এবার তোমরা আমায় শাস্তি দিতে পার।
আমি এই সাতদিনে অনেক অপরাধ করেছি। আজ স্বীকার করছি। এই সব কান্ড কারখানা করার জন্য, আমি এই হাউস থেকে দুটো জিনিষ চুরি করেছি। একটা প্যাড। আর একটা স্টাম্প। বাকি একটা ডিরেক্টরের স্ট্যাম্প আমি বানিয়ে নিয়েছিলাম। অন্যায় করেছি ?
সবাই চুপচাপ।
হিমাংশুর দিকে তাকিয়ে বললাম, কাগজগুলো গুছিয়ে নিয়ে দাদার বাড়িতে পৌঁছে দিবি, আমি রাতে ভাল করে একবার দেখে নেব।
আমি উঠে বেরিয়ে চলে এলাম।
দাদা, মিত্রা, মল্লিকদা তিনজনে একসঙ্গে অনি বলে ডেকে উঠলো।
আমি পেছন ফিরে তাকালাম না।
তড় তড় করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলাম।
বড় রাস্তায় এসে একটা ট্যাক্সি ধরলাম। সোজা চলে এলাম দামিনী মাসির কাছে।
ওপাড়ায় কম বেশি সবাই আমাকে চেনে। তাই কেউ বিরক্ত করে না। আমি ওপরের ঘরে এসে দেখলাম দামিনী মাসির ঘরে তালা। পাশের ঘর থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে এলো।
এপারার মেয়েদের যেমন দেখতে হয়। এই দুপুর বেলাতেও সেজেগুজে অপেক্ষা করছে। আমায় কাছে এসে বললো, দাদা তুমি আমার ঘরে চলো। মাসি কাছাকাছি কোথাও গেছে। এখুনি চলে আসবে।
একটু ইতস্ততঃ করছিলাম।
তুমি চলো না। এখন কেউ আসবে না আমার কাছে। এলে ভাগিয়ে দেব।
মেয়েটি আমার হাতটা ধরে টানা টানি করছিল। ওর গলা শুনে পাশের ঘর থেকে আরও কয়েকটা মেয়ে বেরিয়ে এলো।
অনিদা তুমি! এই সময়! নিশ্চই কিছু একটা হয়েছে।
নারে এমনি এসেছিলাম মাসির কাছে।
লক্ষী, মাসি না আসা পর্যন্ত তোর ঘরে নিয়ে গিয়ে বসা অনিদাকে। একজন বলে উঠলো।
কখন থেকে বলছি, কিছুতেই যাবে না। লক্ষী বলে মেয়েটা বলে উঠল।
ঠিক আছে চলো ।
আমি লক্ষীর পেছন পেছন ওর ঘরে ঢুকলাম।
এই ঘরটা আগের থেক অনেক বেশি ডেকরেটেড। তার মানে লক্ষীর খরিদ্দারদের মালকরি ভালই। দেখলাম এসিও লাগান আছে। এই ঘরটা একসময় মেরিনা বলে একটা মেয়ে থাকত।
লক্ষ্ণৌ থেকে এসেছিল।
ইসলামভাই এই মেয়েটির ঘরে প্রতিদিন আসত। সেখান থেকেই পরিচয়। তারপর মেয়েটি একদিন মার্ডার হয়ে গেল। কি করে হলো কেন হল, তা জানি না।
সেই কটা দিন ইসলামভাই পাগলের মতো হয়ে গেছিল।
মেয়েটি ইসলামভাইকে ভালবেসে ফেলেছিল। ইসলামভাইও মেরিনা ছাড়া কোন মেয়ের ঘরে ঢুকত না।
আমি সময়ে অসময়ে বয়ের কাজ করতাম। মদ এনে দিতাম।
তখন আমি সবে মাত্র সাংবাদিকতায় ঢুকেছি। ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজম নিয়ে পরছি। হস্টেল জোটে নি টাকার অভাবে।
কলকাতার রাস্তাঘাট সেইরকম বিশেষ একটা চিনতাম না।
একটু থাকার আশ্রয় খুঁজতে খুঁজতে একদিন এই পাড়ায় চলে এসেছিলাম।
একটি মেয়ে আমাকে হাত ধরে ঘরে ঢুকিয়েছিল। তারপর যা হয়।
আমি ভয় পেয়ে চেঁচামিচি করতে দামিনী মাসি এসেছিল।
আমার মুখটা দেখে দামিনী মাসির কি মনে হয়েছিল জানি না, আমাকে নিজের ঘরে নিয়ে গেল।
কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করলো কেন এসেছিলাম।
আমি মাসিকে মিথ্যে কথা বলিনি। সব সত্যি বলেছিলাম।
আমি পড়াশুন করছি।
কলেজের হস্টেল ছেড়ে দিতে হবে। মেয়েটিকে রাস্তায় দেখা হতে বললাম, আমায় একটা ঘর জোগাড় করে দিতে পারেন। ও নিয়ে এসে....।
সেইদিন থেকে দামিনীমাসি নিজের ঘরের এক কোনে থাকার জায়গা করে দিয়েছিল, প্রথম কয়মাস সেখানে ছিলাম। তারপর ছাদের ঘরে। যখন রোজগার করতে পারলাম। তখন দামিনী মাসিকে ভাড়া দিতাম। তাও সবটা নয়।
টিউসিনি করে নিজের পেট চালিয়েছি পড়শুনর খরচ চালিয়েছি। তাও কনোদিন খাবার জুটতো কনোদিন জুটতো না।
সেই সময় এই পাড়ার বহুমেয়ের ছেলে-মেয়েদের আমি পড়াতাম। একসময় মাস্টার মশাই উপাধিতেও ভূষিত হয়ে পরেছিলাম। মাস্টারের আড়ালে আমার সত্যি কারের নামটাই চাপা পরেগেছিল।
তারপর একদিন অমিতাভদা স্থান দিলেন তাঁর বাড়িতে। না আমার কোন অসুবিধে হয় নি। প্রথম প্রথম একটা সেকি ভাব ছিল, তারপর সব অভ্যাস হয়ে গেল।
সত্যি কথা বলতে কি এদের এখানে এলে আমার মধ্যে কনোদিন সেক্স ভাবটাই জাগত না। কেন জাগত না বলতে পারব না। আমি এপাড়ার গুড বয় হিসাবেই পরিচিত ছিলাম।
কিরে তুই এই সময়! দামিনী মাসি এলো।
তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলাম।
ও বুঝেছি, মক্কেলটা বলেছে বুঝি।
মাথা নাড়লাম।
লক্ষী কোথায় গেল।
কেন। একটি মেয়ে কাছে এগিয়ে এসে বললো।
ছেলেটাকে একা বসিয়ে দিয়ে কোথায় ঘষাতে গেছে।
ওই ঘরে আছে।
দেখলাম ছুটতে ছুটতে লক্ষী এলো।
খদ্দের এসেছিল।
না।
তাহলে।
মেয়েটি মাথা নীচু করে চুপচাপ।
ছেলটাকে একটু জলটল দিয়েছিস।
না। মানে!
ও খদ্দের নয় বলে।
দেখলে অনিদা দেখলে।
লক্ষী আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল।
আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করিনি বলো।
তুমি বৃথা রাগ করছো মাসি।
তুই থাম। সব সময় কুটকুটানি, দেব একদিন লঙ্কা ডলে বুঝবি। তোর বাবু এসেছিল।
না।
এলে আগে মুখ দিয়ে নোট নিবি। তারপর কাপর-চোপর খুলবি।
মাসি আমার দিকে তাকাল।
আয় অনি, এদের শেখাতে শেখাতে শেষ হয়ে গেলাম।
আমি লক্ষীর ঘর থেকে মাসির ঘরে এলাম। মাসিকে সব বললাম।
এবার তুই মালিক হলি। আমার ভীষণ ভাল লাগছে, তুই হচ্ছিস আসল হীরে।
ওই কয় মাসে তুই এপাড়ায় বয়ে যেতে পারতিস। যাসনি। তোর লক্ষে অবিচল ছিলি। তোকে সেই সময় আমি অনেক ভাবে বাজিয়েছি। তুই বাজিস নি। এবার আমার ছেলেটার একটু ব্যবস্থা করে দে।
বলো কি করতে হবে।
আর কতদিন মদ আনবে, যে কোন একটা কাজ। কতো কাজ আছে তোর অফিসে।
তুমি ভজুকে ডাক।
এখুনি!
হ্যাঁ। ওর জন্য কিছু করতে পারলে, আমারও ভাল লাগবে।
দামিনীমাসি গলা হাঁকরে লক্ষীকে একবার ডাকল। লক্ষী ছুটে চলে এলো। আঁচলের গিঁট খুলে লক্ষীকে একটা পাঁচশ টাকার নোট দিল।
মিষ্টি নিয়ে আয়। আমি আমার বাবুকে খাওয়াব। আমার বাবুকে দেখেছিস। তোদের মতো নয়।
লক্ষী হাসছে, আমিও হাসলাম।
মাসি কম করে নিয়ে আসতে বলো।
কেনরে, তোর কি চিনি হয়েছে।
আমি হাসছি। তোমার সঙ্গে পারা যাবে না।
পারবি কি করে। ষোলো বছরে এসেছিলাম। এখন ছেচল্লিশ। দুদিন পর মরে যাব। তিরিশ বছর এই এঁদো গলিতে কাটিয়ে দিলাম।
লক্ষী ভজুকে দেখলে একবার পাঠিয়ে দিস।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

লক্ষী কোমড় দোলাতে দোলাতে চলেগেল।
তুই বোস, একবার রাউন্ড মেরে আসি।
দামিনী মাসি কার ঘরে কে আছে দেখতে গেল। না হলে পয়সা মার যাবে।
ভজু, দামিনী মাসির ছেলে নয় এখানে কে বাচ্চা বিয়তে গিয়ে মারা গেছিল। দামিনী মাসি মানুষ করেছে। ভজু একটু এ্যাবনর্মাল বলে দামিনী মাসি নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। শুনেছিলাম দামিনী মাসির নাকি গোটা পনেরো ছেলে মেয়ে, কিন্তু একটাকেও আমি আজ পর্যন্ত চোখের দেখা দেখি নি।
দামিনী মাসিকেও সাহস করে কনোদিন জিজ্ঞাসা করিনি। তখন সেই ভাবে প্রোটেকসন ছিল না বলে এতো ছেলে মেয়ে। এখন কত প্রটেকসন।
ঘরে ঢুকে ভজু আমাকে দেখে নাচানাচি শুরু করে দিল।
পয়সা দাও।
দেব তুই আমার কাছে থাকবি।
ভজুর সে কি আনন্দ।
আমায় নিয়ে যাবে! আমি যাব। মা মারে জান। খেতে দেয় না।
ভজু আমার থেকে বছর তিনেকের ছোট, ব্রেনটা ঠিক মতো ডেভালপ করেনি। কিন্তু ও সব বোঝে, এতল্লাটে তুমি খাটতে পারলে খাবার পাবে। নাহলে তোমায় ক্রিমিকিটের মতো মরে পরে থাকতে হবে। এখানে কেউ কারুর নয়। আমার কপাল ভাল। আমি এখানে টিঁকে গেছিলাম।
লক্ষী প্লেটে করে খাবার সাজিয়ে নিয়ে এল। প্রায় দশ রকমের মিষ্টি। পেছন পেছন মাসি ঢুকল, এই তো নাংয়ের মতো সাজিয়ে দিয়েছিস। এবার ঠিক আছে।
অনিদার সামনে একটু ভাল করে কথা বলতে পার না। লক্ষী ঝাঁজিয়ে উঠলো।
মাসি হেসে লক্ষীর গাল টিপে দিল।
মাসি এতো খেতে পারব না। লক্ষী তুমি কাছে এসো।
লক্ষী কিছুতেই আসবে না।
আমি বলছি, মাসি তোমায় কিছু বলবে না। আমি লক্ষীকে দুটো ভজুকে দুটো মাসিকে দুটো দিয়ে নিজে খেলাম। আসার সময় মাসির হাতে তিনটে হাজার টাকার নোট গুঁজে দিলাম।
মাসির চোখ চকচক করে উঠল। লক্ষীকে দেখিয়ে বললো, দেখ গতর না দিয়ে ইনকাম, পারবি।
আমি মাসির দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমি থামবে।
ভজুর কি করলি।
ভজু আমার কাছে থাকবে।
কবে নিয়ে যাবি।
তুমি আমাকে দিন পনের সময় দাও। ধরে নাও ভজু আজ থেকে আমার কাছে কাজ করছে।
সে কি রকম বাপু।
তুমি এটা নিয়ে ভাবছ কেন। আমি আগামী সপ্তাহে একবার আসবো। ফোন নম্বর রইলো।
ওরে ও লক্ষী, অনি শিবঠাকুর রে শিবঠাকুর। একটা পেন্নাম ঠোক অন্ততঃ।
মেয়াটা ঠক করে আমাকে পেন্নাম করলো।
আমি ভজুকে বললাম চল।
এখন।
না এখন না, আগামী সপ্তাহে।
তুমি মাকে বলে যাও, আমাকে যেন না মারে।
মাসি ভজুকে কাঁচা খিস্তি দিল। তোমায় পূজ করবে।
ওঃ মাসি।
নিচে চলে এলাম।
সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখলাম, অন্ততঃ কুড়ি জোড়া চোখ আমার দিকে জুল জুল করে চেয়ে আছে।
নিচে এসে টিনাকে ফোন করলাম।
হ্যালো।
বলো অনিদা।
তুমি কোথায় ?
বাড়িতে।
অফিসে যাও নি ?
না।
শরীর খারাপ ?
সব দিন অফিস যেতে ভাল লাগে না।
আসব নাকি ?
সত্যি।
সত্যি না তো কি মিথ্যে ?
চলে এসো।
আজ থেকে ক্লাস করাবে ?
অবশ্যই।
ঠিক আছে যাচ্ছি।
হলি থেকে রাজপথে এসে উঠলাম। একটা ট্যাক্সি ধরলাম।
ঘন্টা খানেক সময় লাগবে টিনার ওখানে যেতে। ট্যাক্সিতে উঠে প্রথমে বড়মাকে ফোনে ধরলাম, ফোন ধরেই বড়মা বললো, কিরে অনি! কি হয়েছে ?
কি করছো ?
খেতে বসবো।
এতো বেলায়!
আমায় কে বেড়ে দেবে বল। নিজেরটা নিজে বেড়ে নিতে হয়।
তোমার আমার একই অবস্থা।
তুই খেয়েছিস ?
না এখনো জোটে নি।
চলে আয় একসঙ্গে খাব।
তুমি অনিকে এতো ভালবাস কেন বলোতো ?
অনি যে আমার পেটের ছেলে নয়।
জান অনেক দিন পর আজ নিজেকে বেশ হাল্কা লাগছে।
জানি। তোর দাদা ফোন করে সব বললো।
কি বললো।
শুনতে ইচ্ছে করছে।
হুঁ।
চলে আয়।
এখন না রাতে যাব।
তুই এখন কোথায় ?
ট্যাক্সিতে, একটা কাজে যাচ্ছি।
খালি কাজ কাজ কাজ। তোর আর তোর দাদার কাজ একটা ম্যানিয়া।
মিত্রা ফোন করেছিল।
হ্যাঁ।
চুপচাপ।
কথা বোলছনা কেন ?
তুই ওকে বাঁচিয়ে দিলি।
শুধু ওকে নয়। সমস্ত কাগজের স্টাফকে। এইবার বলো, এই সাতদিন তোমার সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলিনি বলে তুমি এখন কষ্ট পাচ্ছ ?
একবারে না।
তাহলে সাতখুন মাপ।
ওরে শয়তান। তুই ঘুরিয়ে কথা আদায় করছিস।
তোমার কাছ থেকে কথা আদায় করবো নাতো কার কাছ থেকে করবো।
চলে আয় না।
না, অনেক ঋণ করেছি একে একে শোধ করতে হবে। রাতে যাব।
তখন তুই তোর দাদার সঙ্গে কথা বলিস নি।
ভাল লাগছিল না। বিশ্বাস করো, কারুর সঙ্গে কথা বলতে ভাল লাগছিল না।
তোর দাদা কষ্ট পেয়েছে।
রাতে গিয়ে সব ঠিক করে দেব।
রাতে কি খাবি।
তোমায় কিছু করতে হবে না। আমি কিনে নিয়ে যাব।
না কেনা কিনির দরকার নেই, আমি রান্না করবো।
ছোট কোথায় ?
ব্যাঙ্কে গেছে।
আচ্ছা।
ফোনটা কেটে দিলাম, হিমাংশুকে একটা ফোন করলাম। ও বললো সব ঠিক আছে। মল তোর ওপর একটা রিভেঞ্জ নিতে পারে।
হাসতে হাসতে বললাম, ওর আর একটা ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে, সেটা যদি শো করাই ওকে ভারতের পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যেতে হবে। খবরটা ওর কানে পৌঁছে দিস।
কি বলছিস!
আমার দয়া মায়া একটু কম। ছোট থেকে একা একা বড় হয়েছি।
যাক শোন, তুই এবার এ্যাকাউন্টসে হাত দে।
কাজগুলো গুছিয়ে নিই, আগামী সপ্তাহ থেকে হাত দেব।
আচ্ছা।
সন্দীপকে ফোন করলাম।
গুরু এত স্মুথ কাজ অনেক দিন পর দেখছি।
কেন।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

কি বলবো বস, সবাই অমিতাভদার পার্মিসন ছাড়া কনো কাজই করছে না।
তাই নাকি।
তুই বুড়োটাকে মেরে দিবি।
কেন।
এখনো দেখছি, চম্পকদা সুনিতদা ম্যানেজমেন্টের সব ঘিরে বসে আছে।
গম্ভীর সব।
নারে হাসাহাসি করছে। সেই আগের অবস্থা।
এনজয়কর।
সন্দীপ হেসে উঠলো। তুই কোথায় ?
সোনাগাছিতে।
ভ্যাট।
একটু খোঁজ-খবর নে জানতে পারবি।
আমার এই বুদ্ধিতে কুলবে না।
হাসলাম। তোর চাকরি পাকা।
হ্যাঁ গুরু তোমার দয়ায় টেনসন মুক্ত হলাম।
ঠিক আছে। রাখছি।
মিত্রাকে একটা ছোট্ট ম্যাসেজ করলাম, আমি রাত আটটার মধ্যে অমিতাভদার বাড়ি ঢুকছি, অবশ্যই চলে আসবি।
ফোনটা স্যুইচ অফ করলাম।
ক্রমশঃ

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

টিনার হাউসিং-এর সামনে এসে ট্যাক্সিটাকে ছেড়ে দিলাম। ধীর পায়ে লিফ্ট বক্সের সামনে এলাম। লিফ্ট নিচেই ছিল আমি যথাস্থানে বোতাম টিপলাম। হুস করে ওপরে চলে এলাম।
শরীরটা কেমন যেন ছেড়ে দিয়েছে। এই সাতটাদিন আমার ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গেছে। ঝড়ে ডালপালা অক্ষত থাকলেও, তার একটা রেশ সারা শরীরে। এটা আমি বুঝতে পারছি।
টিনা দরজা খুলে আমার সামনে দাঁড়াল। একঝলক মুক্ত বাতাস আমার চোখে মুখে ছড়িয়ে পরলো। টিনাকে আজ কালো লাগছেনা। বরং ওর চোখে মুখে রং ছড়িয়ে পরেছে। আমাকে দেখে ও একটু অবাক হলো। ওর চোখ তাই বলে। ভেতরে এসো।
আমি ভেতরে গেলাম। সোফার ওপর নিজেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম।
তোমার কি শরীর খারাপ অনিদা!
না।
তাহলে এরকম দেখতে লাগছে তোমায়! অফিসের কনো সমস্যা ?
ছিল, মিটিয়ে দিয়েছি।
দাঁড়াও বলেই টিনা ভেতরের ঘরে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর একগ্লাস এ্যাপেলজুস নিয়ে এল।
এখন এসব রেডিমেড পাওয়া যায় ?
টিনা হাসছে।
আগে এটা খাও।
আমি দ্বিধা করলাম না। ঘট ঘট করে সব খেয়ে নিলাম। আমার খাওয়া দেখে টিনা আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইল। খাওয়া শেষ হতে টিনা গ্লাসটা আমার হাত থেকে নিল। সেন্টার টেবিলে রাখল। আমার মুখো মুখি সোফায় বসলো।
কি হয়েছে অনিদা, আমায় বলো।
কিছু হয় নি।
তোমার চোখ-মুখ বলছে, তুমি বহুরাত ঘুমোও নি।
তা বলতে পার। একটা বড় কাজ ছিল। জীবনে প্রথম মালিক হলাম কিনা।
হেঁয়ালি রাখ।
হাসলাম। তোমার বাথরুমটা ব্যাবহার করতে পারব।
অবশ্যই।
আমি স্নান করবো।
ঠিক আছে আমি সমস্ত ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
টিনা বাথরুমে গিয়ে ব্যবস্থা করে এলো।
কি খাবে বলো।
হাল্কা কিছু খাব।
লাইট করে নুডলস তৈরি করে দিই।
দাও।
আমি বাথরুমে গেলাম। গেঞ্জি পেন্ট খুলে নেংটো হয়ে ভাল করে স্নান করলাম।
টিনার বাথরুমটা বেশ গোছান। ছোট কিন্তু দারুন।
চারিদিকে সাদা। একটু দাগ পরলেই চোখে পরে যাবে। গায়ে জল ঢালতেই একটু শীত শীত করে উঠলো। বুঝলাম ভতরটার রসদ কমে এসেছে।
দরজা খুলে বেরিয়ে এলাম।
একি এটা পরলে কেন।
কেন।
তোমার জন্য একটা কাপর বার করে রেখেছি।
থাক।
মেয়েদের বলে পরবে না।
কাপরটা দেখলাম কোথায় ?
ভেতরের ঘরে।
চিরুনিটা দাও, অনেক দিন দেওয়া হয় নি। মনে হয় চুলগুলো জট পরে যাবে।
কতো দিন কাট নি ?
মাস ছয়েক ?
কেটো না।
কেন।
তোমাকে এই অবস্থায় বেশ ভাল লাগছে। কাটলে মুখটা ছোট ছোট লাগবে।
ভাবছি পনিটেল করবো।
এমা না না। একেবারে না। টিনা মুখ ভেটকাল।
খাবার নিয়ে আসি।
নিয়ে এসো।
টিনা প্লেটে করে সাজিয়ে নিয়ে এলো। আমি অবাক হলাম। নুডুলসের সঙ্গে ডিম ভেজেছে ছোট ছোট পাঁপড় ভেজেছে।
এতো খাব না। তুমি একটা প্লেট নিয়ে এসো।
না তোমাকে খেতে হবে।
একটা প্লেট নিয়ে এসো না। আমার কথার মধ্যে মনে হয় ওজন ছিল, টিনা সোফা থেকে উঠে গিয়ে রান্নাঘর থেকে একটা প্লেট নিয়ে এলো।
দুটো ভাগ করো, সমান মাপে, যদি কম বেশি হয় কমটা আমি খাব।
উঃ তুমি পারও বটে।
টিনা আমার মুখো মুখি সোফায় বসে। খাবার ভাগ করলো। দুজনে একসঙ্গে খেলাম। টিনার সঙ্গে অনেক কথা হলো, সেই কলেজ লাইফ থেকে। ও শুনেত চাইল সেই দিনকার তাজ হোটেলের অসমাপ্ত কথা। আমি গল্প গুলো ওকে বোললাম। ও হাসতে হাসতে সোফায় গড়িয়ে পরে।
তুমি এরকম দুষ্টু ছিলে।
দুষ্টু ঠিক নয়, বলতে পার ওটা বয়সের একটা ধর্ম। তখন নতুন করে জগত সংসারকে চিনতে শিখছি। একটা লিডারশিপ পাওয়ার ইচ্ছে মনের মধ্যে সব সময় বাসা বেঁধে থাকত।
তাই বলে এরকম হ্যারাসমেন্ট। যাক আমার ভাগ্যভাল, কাল বলে তোমার হাত থেকে রেহাই পেয়ে গেছি।
তুমি কাল বলে নিজেকে ছোট করছো কেন।
নাগো অনিদা ঠিক বলছি।
কথা ঘোরানর চেষ্টা করলাম। আচ্ছা টিনা তুমি যে পোষাকটা পরে আছো এটার নাম কি।
কেন।
এমনি ইচ্ছে হলো জিজ্ঞাসা করলাম।
তোমার সব জিজ্ঞাসার মধ্যে একটা কারন থাকে। খুব অড লুকিং লাগছে।
না বাড়িতে পরার ক্ষেত্রে ঠিক আছে।
সত্যি করে বলো না। এখন কিন্তু মেয়েরা এই পোষাক পরে বাইরেও বেরয়।
তোমার কথা হয়তো ঠিক, কিন্তু আমার চোখে পরে না।
ওপরেরটা সাধারণ টপ, নিচেরটাকে বলে হারেম প্যান্ট।
সেটা আবার কি ?
বলতে পারব না, বাদশাহী আমলে হারেমে বাঁদীরা হয়তো এরকম পোষাক পরতো।
হাসলাম।
হাসলে কেন।
ওর দিকে মিট মিট করে তাকালাম।
উঃ তোমার মাথা বটে, কি ইঙ্গিত করছো বুঝতে পেরেছি। আমি এখুনি ছেড়ে ফেলছি।
না না, আমার কথায় ছেড়ো না। সবার পছন্দ সমান নয়।
খাওয়া শেষ হলো। টিনা প্লেটগুলো তুলে নিয়ে গেল। শরীরটা এবার ছেড়ে দিয়েছে। ঘুমতে পারলে ভাল হতো। গোটা পাঁচেক বড় বড় হাই উঠলো। একবার ভাবলাম, টিনাকে বলি তোমার ভেতর ঘরের খাটটা একটু ছেড়ে দাও। একটু ঘুমোই।
তারপর ভাবলাম না বেশি বিরক্ত করা হয়ে যাবে। তার থেকে বরং এই সোফাটাই বেশ।
কিগো তোমার চোখটা এরকম লাল কেন।
ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।
চলো আমার খাটে শোবে চলো।
আমি টিনার দিকে একদৃষ্টে তাকালাম। ওকে দেখে খুব খুশি মনে হচ্ছে। দেবাশীষ ঠিক কথা বলেছে। মেয়েটা তোকে ভীষণ ভালবাসে। হয়তো ঠিক, কিন্তু সব ভালবাসার পরিসমাপ্তি হয় না।
আমি দেবাশীষের মুখ থেকে প্রথম শুনেছিলাম, টিনা আমাকে কলেজ লাইফে ভালবেসে ছিল। এখনো কি ও ভালবাসে ?
কি ভাবছো।
তোমাকে খেতে চাইলাম, তুমি খেতে দিলে। আবার শুতে চাইব হয়তো শুতেও দেবে। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। ভুল করে যদি আর কিছু চেয়ে বসি, তখন কি করবে ?
চেয়েই দেখনা দিতে পারি কিনা। টিনা মুখটা নীচু করে নিল।
চলো, তোমার খাটটা কয়েক ঘন্টার জন্য একটু দখল করি।
উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মাথাটা কেমন ঘুরেগেল। টাল খেয়ে আবার সোফায় বসে পরলাম। টিনা আমার হাতটা ধরে ফেলল। অনিদা শরীর খারাপ লাগছে। ওর চোখে মুখে ভয়ের ছাপ।
না। ঠিক আছি।
আমি ওর পেছন পেছন, ওর বেডরুমে ঢুকলাম। খুব ছিমছাম ডবল বেডের একটা খাট। মাথার শিয়রে ছোট টেবিলে কম্পিউটার। একটা চেয়ার একটা আলমাড়ি।
পায়ের দিকে একটা ওয়ার্ডোব। একটা দেয়াল আলমাড়ি। অবাক হলাম এইটুকু ফ্ল্যাটে দুটো বাথরুম। একটা এই ঘরের সঙ্গে আর একটা বসার ঘরের সঙ্গে। ডানদিকে ছোট একটা ব্যালকনি। শরীর আর বইছে না। শুতে পারলে বাঁচি। টিনা খুব তাড়াতারি বিছানাটা গুছিয়ে দিয়ে একটা বালিস বার করে দিল।
প্যান্ট গেঞ্জিটা খুলে নেবে, আমার একটা কাপর দিই। অনেকটা ফ্রি লাগবে।
টিনার মুখের দিকে তাকালাম। হাসলাম।
লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমার কথা শোন।
টিনা আমার মনের কথা মনে হয় বুঝতে পারল। আমি গেঞ্জি প্যান্ট খুলে ওর একটা কাপর পরলাম, খালি জাঙ্গিয়াটা খুললাম না। টিনা পাখাটা হাল্কা ভাবে খুললো।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

তুমি শোও আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
টিনার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে হেসেফেললাম। সত্যি টিনা কি করে আমার মনের কথা পট পট করে বলে দিচ্ছে।
আমি দেরি করলাম না, বিছানায় শুয়ে পরলাম। টিনা আমার মাথার শিয়রে বসে ওর শরু শরু নরম আঙুল আমার মাথায় রাখল। যেন পায়রার গায়ে আলতো করে কেউ হাত বোলাচ্ছে।
টিনার গা থেকে একটা হাল্কা গন্ধ ভেসে আসছে। এটা কনো সেন্টের গন্ধ নয়। এটা টিনার শরীরের নিজস্ব গন্ধ। আমায় মাতাল করে দিচ্ছে। আমার চোখে সারা রাজ্যের ঘুম মিহি কুয়াশার মতো ঝড়ে পরছে। এরপর জানিনা কি হয়েছে।
হঠাৎ একটা বিশ্রী স্বপ্নে ঘুমটা ভেঙে গেল। কিছুতেই মনে করতে পারছিনা। কার যেন শ্মশান যাত্রা হচ্ছে। সারা শরীর অবশ। নড়া চড়া করতে পারছি না। মাথা ঘুরিয়ে চারদিক চাইলাম। ঘরে আমি একা। বারান্দার দরজাটা হাট করে খোলা।
বিকেলের নরম রোদ বিছানায় এসে পরেছে। আমার গায়ে ধব ধবে সাদা একটা বিছানার চাদর। প্রথম সেন্স আসতেই নিজের কাপরটা দেখলাম। ঠিক ঠাক পরা আছে কিনা। যা ভেবেছি ঠিক তাই, গিঁট খুলে সে বিছানায় লোটাচ্ছে। ভাগ্যিস জাঙ্গিয়াটা পরা ছিল। তা না হলে কি কেলোর কীর্তিটাই না হতো।
কিন্তু টিনা গেল কোথায়! শুয়ে শুয়ে চাদর ঢাকা অবস্থাতেই আগে কোমরে কাপরটা বাঁধলাম। তারপর চাদর সরিয়ে বিছানায় উঠে বসলাম। টিনা টিনা বলে তিন-চারবার ডাকলাম। না কেউ কোথাও নেই। এইবার একটু ঘাবরে গেলাম। উঠে বসে রান্নাঘর বাথরুম সব দেখলাম। না টিনা কোথাও নেই। তাহলে কি টিনা কোথাও গেল ?
বাথরুমে গিয়ে মুখ হাত ধুলাম। টিনার ঘরের ঘরিটার দিকে তাকালাম। শোয়া পাঁচটা বাজে। বেলটা বেজে উঠল। গিয়ে দেখলাম লক করা। আবার ঘরে এসে বসলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর দেখলাম বাইরের দরজার লক খোলার শব্দ। বরিয়ে এলাম। দেখলাম টিনা একটা ব্যাগ হাতে ঢুকছে। সেই ঘাঘরাটা পরা, দারুন উজ্জ্বল রং, ভীষণ সুন্দর দেখতে।
কি হলো ঘুম ভেঙেগেল।
কাপর খোলা অবস্থার কথাটা মনে পরে গেল। লজ্জায় আমার মাথা প্রায় পায়ে ঠেকে যাবার অবস্থা।
আমি তো ভাবলাম, তুমি রাত এগারটা বাজাবে। তাই এই ফাঁকে একটু বাজার সেরে নিলাম।
আমি টিনার দিকে তাকিয়ে হাসছি।
টিনা সেন্টার টেবিলে ব্যাগটা নামিয়ে রেখে বসলো।
সত্যি করে বলোতো অনিদা, তোমার কি হয়েছে ?
আমি সোফায় বোসলাম। টিনা আমার মুখো-মুখি।
কেন।
মিত্রাদির নাম করে ওরকম চেঁচাচ্ছিলে কেন। অফিসে কি কোন গন্ডগোল ?
না সেরকম কিছু না।
ঘুমের ঘোরে জড়িয়ে জড়িয়ে তুমি যা বলছিলে তাতে তাই মনে হচ্ছিল।
আমি টিনার দিকে তাকিয়ে আছি।
মল কে ? কেন তাকে ছাড়বে না।
বুঝলাম আমার অবচেতন মন ঘুমের ঘোরে অনেক কিছু বকেছে।
তারপর জিতে গেছো। ব্যাপারটা কি ?
আমি টিনার কোন কথার উত্তর দিলাম না।
সোফা থেকে উঠে এসে ভেতরের ঘরের খাটে শুয়ে পরলাম।
টিনা আমার মাথার শিয়রে এসে বসলো। আমার মাথায় হাত রেখে বললো, তুমি কাউকে তোমার কথা বলতে পারো না। তাই না ?
আমি টিনার মুখের দিকে তাকালাম। ও একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
বলো না, বললে একটু হাল্কা হবে।
না টিনা সব বলা যায় না।
জানি।
তবু যদি তোমায় কনো হেল্প করতে পারি, ভাল লাগবে।
তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে শুধু নিয়ে গেলাম।
যখন চাইবো শুদে আসলে মিটিয়ে দিও।
আমার সে ক্ষমতা নেই।
তোমার কতো ক্ষমতা আছে তা তুমি নিজেই জান না। দাঁড়াও তোমার জন্য একটু চা বানাই।
টিনা উঠে চলে গেল।
পাখাটা ধীর লয়ে মাথার ওপর ঘুরছে। আমি চোখটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্লেডটা দেখার চেষ্টা করলাম। খাট থেকে রোদটা বারান্দার এককোনে সরে গেছে। সূর্যটা এখন কমলারংয়ের থালার মতো। বোঝা যাচ্ছে বয়স হয়েছে। এবার ঝুপ করে ওই দিগন্তে মুখ ঢাকা দেবে।
এত কি ভাবো ?
টিনার দিকে তাকিয়ে হাসলাম।
কিছু জিজ্ঞাসা করলেই হাসিতে মুখ ভরিয়ে দাও। ওঠো।
আমি বালিসটা নিয়ে একটু ভেতর দিকে সরে শুলাম। টিনা ট্রেটা বিছানার ওপর রাখল। চা তার সঙ্গে কাঠিভাজা। খুব ভাল লাগলো খেতে। টিনা বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জানতে চাইল আমার কথা। আমিও খুব সন্তর্পনে এরিয়ে গেলাম। একথা সেকথা বলে।
কখনো টিনা অভিমান ভরে আমার দিকে তাকিয়েছে। কখনো খিল খিল করে হেসে উঠেছে। চা পর্ব শেষ হতেই টিনা ট্রেটা রেখে এলো। আমি আবার বিছানায় এলিয়ে পরলাম। টিনা বারান্দার দরজাটা বন্ধ করলো।
এখানে প্রচুর মশা। বন্ধ না করলে রাতে শোয়া যায় না।
এতো উঁচুতে।
মশার আবার উঁচু নীচু।
টিনা আমার মাথার শিয়রে এসে বসলো।
আমার দিকে ঝুঁকে পরে বললো, বললে না।
আমি ওর দিকে তাকালাম, তুমি আমার কাছে কি চাইবে বললে, চাইলে না।
টিনা মুচকি মুচকি হাসছে। তোমার কাছে চাইবার সাহস নেই আমার।
কেন ? পাস ফিরে টিনার হাতটা ধোরলাম।
অনিদা মেয়েরা মুখ ফুটে সব জিনিষ চাইতে পারে না।
আমি টিনার চোখে চোখ রাখলাম। দেবাশীষের কথাটা মনে পরে গেল।
আমি চাইতে পারি, তুমি চাইতে পার না।
টিনা আমার মুখ থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
আমি ওর থুতনিটা ধরে মুখটা তুললাম, বলো তুমি চাইলে আমি না করবো না।
টিনা আমার বুকের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পরে মুখ লুকলো। আমি ওর খোলা চুলে হাত রাখলাম। বুকটা ভিঁজে ভিঁজে ঠেকছে। আমার বুকে মুখ লুকিয়ে টিনা ফিস ফিস করে বললো, চাইতে তো ইচ্ছে করে। কিন্তু পরের জিনিষ নিই কি করে।
আমি বুকভরে নিঃশ্বাস নিলাম।

টিনার বাড়ি থেকে যখন বেরলাম, তখন সাতটা বাজে, টিনা নীচ পর্যন্ত এলো। আমি ট্যাক্সি ধরলাম। ফোনটা অন করতেই ম্যাসেজ মিসকলের ছড়াছড়ি। ম্যাসেজ গুলো পরলাম।
কয়েকটা ম্যাসেজ বাদ দিলে সবই ম্যাসেজ সেন্টার থেকে পাঠান। মিত্রার ম্যাসেজটা খুললাম। খুব ছোটো লেখা, “আমি কি তোর কেপ্ট, যখন ডাকবি চলে যেতে হবে’’।
একবার দুবার তিনবার পরলাম। বুঝলাম কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। মিত্রা এই ধরনের কনো ম্যাসেজ আমায় লিখতে পারে এটা ধারনা ছিল না।
অনেকক্ষণ ভাবলাম কেন মিত্রা এটা লিখলো ? কনো উত্তর পেলাম না। হয়তো প্রচন্ড রাগ, কিংবা অভিমান। এইদুটো হওয়া স্বাভাবিক। সমস্ত ঘটনা ও এখনো পুরোপুরি জানে না। এটা আমার একটা স্বভাব। আমি কাউকে কনো কথা না বলে কাজ করি, আমার টেনসন আমার নিজের কাছে। কারুর ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না।
টিনার বাড়ি থেকে যে মন নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম, সেই মনে কিছুটা হলেও দাগ লাগল। মল্লিকদাকে ফোনে ধরলাম।
কি বাপ, কোথায় হাওয়া খাচ্ছ।
বাইপাসে আছি, বাড়ির দিকে যাচ্ছি।
বলো কি অভিপ্রায়।
একটা সঠিক খবর দিতে পারবে।
বলো।
মিত্রা কোথায় জান।
ফোন করো, পয়ে যাবে।
এর জন্য তোমায় ফোন করতে যাব কেন।
ঠিক। এতটা তলিয়ে দেখিনি। দাঁড়া দাদাকে জিজ্ঞাসা করি।
আমি ফোন করে জানতে চাইছি, এটা বলার দরকার নেই, সেটা কি বলে দিতে হবে ?
একেবারেই না।
কিছুক্ষণ ফোন ধরে রইলাম।
শোন তুই বেরিয়ে যাবার আধ ঘন্টার মধ্যেই মিত্র বেরিয়ে গেছে, দাদাকে বলে গেছে আজ রাতে আমাদের বাড়িতে যাবে না। কোথায় গেছে দাদা জিজ্ঞাসা করে নি।
কার গাড়ি নিয়ে গেছে। ইসমাইল না রবীন।
ইসমাইল অফিসে রয়েছে, রবীনকে নিয়েগেছে।
আচ্ছা।
মিত্রাকে ফোনে ধরার চেষ্টা করলাম, দেখলাম স্যুইচ অফ।
বড়মাকে ফোন করলাম।
বলুন ছোটসাহেব। বুঝলাম ছোটমা ধরেছে।
এই সম্বোধনে কবে থেকে ভূষিত হলাম।
কেন মিত্রা বললো।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

কখন।
তিনটে সাড়ে তিনটে হবে।
কি বললো।
সেটা ওর কাছথেকে জেনে নাও। তুই কখন আসছিস ?
ও কি আজ রাতে আসার কথা কিছু বলেছে।
আজ ওর অনেক কাজ, আসতে পারবে না।
বুঝেছি।
কি।
তুমি বুঝতে পারবে না। বড়মাকে একবার দাও।
ধর।
কিরে অনি!
শোনো, চেঁচামিচি করবে না। আমার অনেক জ্বালা বুঝেছ।
আবার কিহলো!
সে অনেক কথা। কাল সকালে তোমায় গিয়ে বলবো।
আসবি না।
সুযোগ পাচ্ছি কোথায় ?
কি হয়েছে বল।
বললাম তো কাল সকালে গিয়ে বলবো।
সেকিরে আমি যে গাদা খানেক রান্না করছি।
করো না। কাল সকালে ঠিক পৌঁছে যাব।
তোকে নিয়ে মহা মুস্কিল।
তোমরা নিজেরাই তো আমায় মুস্কিলে ফেললে।
কেন।
আমাকে এসবের মধ্যে জড়ালে কেন।
চুপচাপ।
খাচ্ছিল তাঁতী তাঁত বুনে কাল হলো তার হেলে গরু কিনে।
হেলে গরু কে ?
তুমিও জিজ্ঞাসা করছো ?
তুই উপমা দিলি আমি জিজ্ঞাসা করলেই দোষ।
মিত্রা।
তার আবার কি হলো ?
সে অনেক কথা।
আমি তোদের ব্যাপার স্যাপার কিছু বুঝিনা বাপু।
কাল বুঝবে। ট্রেনটার অনেক বগি বুঝলে, ডি-রেলড হয়ে গেছে। লাইনে তুলতে একটু সময় লাগবে।
তোর হেঁয়ালি আমার বোঝার সাধ্য নেই।
কাল সকালে গিয়ে বোঝাব।
আচ্ছা।
ফোনটা কেটে দিলাম। রবীনের ফোন নম্বর খুঁজলাম। আমার কাছে নেই। ইসমাইলের ফোন নম্বরও নেই।
মল্লিকদাকে আবার ফোন করলাম। বললাম দেখতো ধারে কাছে ইসমাইল আছে কিনা, থাকলে আমার ফোন নম্বরে ওকে একবার ফোন করতে বলো।
আচ্ছা।
কিছুক্ষণের মধ্যে ইসমাইল ফোন করলো, বললাম তুমি রবীনের ফোন নম্বর জান ?
হ্যাঁ দাদা জানি।
দাও।
ও রবীনের ফোন নম্বর দিল।
রবীনকে ফোনে ধরলাম। প্রথমে ও চিনতে পারে নি। তারপর পরিচয় দিতেই বললো হ্যাঁ দাদা।
তুই কোথায় ?
পার্ক র্স্ট্রীটে।
ম্যাডাম কোথায় ?
ক্লাবের ভেতরে।
কখন এসেছিস ?
ঘন্টা খানেক আগে।
ঘরির দিকে তাকালাম। আটটা বেজে গেছে।
দুপুরে বেরিয়ে কোথায় গেছিলি ?
চুপচাপ।
কথা বলছিসনা কেন ?
ম্যাডাম বারন করেছে।
ঠিক আছে।
না না বলছি।
বল।
প্রথমে গেলাম নিউ মার্কেট, ওখান থেকে পেয়ারলেস ইন, তারপর এখানে।
সত্যি কথা বলছিস ?
হ্যাঁ অনিদা।
ভেবে বল।
মাঝে সাহেবের কাছে গেছিলাম।
কে সাহেব।
ম্যাডামের হাজবেন্ড ?
ও।
পেয়ারলেস ইনে কে কে ছিল ?
ম্যাডাম আর সাহেব ছিল।
মিথ্যে কথা বলছিস ?
মল সাহেব ছিল।
সাহেব কি কলকাতায় ?
উনি কলকাতাতেই থাকেন। আর কোথায় থাকবেন ?
কোথায় থাকে ?
কেন আপনি জানেন না!
আমি তোর মতো। গ্রামের ছেলে, এতো খবর রেখে কাজ কি বলতো।
না অনিদা আপনি গ্রামের ছেলে হলে কি হবে, গিয়ে তো দেখলাম।
কোথায় থাকে বললিনা ?
সিঁথির ওখানে।
তুই চিনিস ?
অনেকদিন আগে একবার গেছিলাম।
কোথায় বলতো ?
গোপাললাল ঠাকুর রোডে, একটা মন্দিরের পাশে।
সাহেবের এখানের চেম্বারটা কোথায় ?
রক্সি সিনেমার পাশে।
নার্সিংহোমটা ?
ওটা সাহেবের না।
তাহলে ?
ওটা ম্যাডামের, আর একজন আছেন, চিনিনা।
আজ কি সাহেব ম্যাডামের বাড়িতে যাবেন ?
না না।
কেন ?
ম্যাডামের সঙ্গেতো সাহেবের ডিভোর্স হয়েগেছে।
কবে!
গত সপ্তাহে।
তাহলে ম্যাডাম গেছিলেন ?
বলতে পারব না।
আজ ম্যাডাম অনেকদিন পর ক্লাবে এলেন তাই না ?
হ্যাঁ, প্রায় দেড়মাস।
কি করেরে ক্লাবে ?
কি আর বলবো অনিদা, তুমি তো সব জান।
এইদেখো, আমি জানলে তোকে জিজ্ঞাসা করবো কেন।
তুমি ম্যাডামকে একটু বাঁচাও।
আমি বাঁচাবার কে। আমি তোর ম্যাডামের কাছে কাজ করি, এই যা।
তুমি ম্যাডামের সঙ্গে কলেজে পরেছো।
সে তো বহুদিন হয়ে গেছে। একটু দাঁড়া।
ট্যাক্সিটাকে রুবির কাছে ছেড়ে দিলাম।
হ্যাঁ বল।
ম্যাডাম আজ বেহুঁস হয়ে ফিরবে।
কেন।
তুমি জানোনা, এখানে আসে কেন মানুষ।
খালি মদ খেতে ?
তা নয়তো কি। আজ আমার কপালে দুঃখ আছে।
কেন।
ম্যাডাম বেহুঁস হয়ে ফিরবে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

তুই কি করবি ?
আমি মাসিকে বলেছি থাকার জন্য।
কেন মাসি কি রাতে থাকে না।
না। ওরা সব রাতে চলে যায়।
ম্যাডাম একা থাকে ?
হ্যাঁ।
অতো বড় বাড়িতে একা!
তুমি জানতে না।
না। তুই ?
আমি বাইরের বাগানে মালিদের কোয়ার্টারে থাকি।
রাতে আর কে থাকে ?
দুজন মালি, দারোয়ান, আর আমি।
এই ভাবে কতদিন আছিস ?
যেদিন থেকে আমি এলাম সেদিন থেকে।
তুই কতবছর আছিস ?
ছ’বছর।
তোর ম্যাডামকে গাড়িতে কে তুলবে ?
এখানে বারের মেয়েরা আছে ওরা তুলে দেবে ধরে ধরে, বাড়িতে মাসি।
ও।
আজকে অফিসে কোন গন্ডগোল হয়েছে ?
কি মিটিং ছিল। তুমি ছিলে তো।
দুর ওই মিটিংয়ে থাকে নাকি কেউ। আমি রাগ করে চলে এসেছি।
সেইজন্য ম্যাডাম তোমায় খুঁজছিলেন। আমাকেও বললেন তুই দেখেছিস। তুমি কোথায় অনিদা।
আমি বাইপাসে, বাস ধরবো বলে দাঁড়িয়ে আছি।
তোমায় ম্যাডাম খুব ভালবাসে।
এটা আবার তোকে কে বললে ?
আমি জানি। না হলে তোমার কথায় আমাদের গ্রামে যায়।
ঠিক আছে সাবধানে ম্যাডামকে বাড়ি নিয়ে যাস।
আচ্ছা।
মাথাটা কোন কাজ করছে না। সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে।
মিত্রা আমার খুব ক্লোজ। কিন্তু আমি অনেক কিছু এখনো জানি না। মিত্রা আমার কাছে কি চায়। শুধু শরীর, না আরও কিছু। মায়ের চেনটা ওকে পরাতে গেছিলাম। ও ফিরিয়ে দিয়েছিল।
ওকে সেদিন বুঝতে দিইনি। তবে খটকা একটা আমার মনে লেগেছিল। সত্যি যদি মিত্রা আমাকে ভালবাসে, তাহলে সেদিন ওটা ও নিল না কেন ?
ও বলেছিলো মিঃ ব্যানার্জী একটা বাস্টার্ড। ওর জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছে।
তাহলে আজ মিঃ ব্যানার্জীর কাছে ও গেল কেন ? কিসের তাগিদে ?
মিত্রা বলেছিল, মিঃ ব্যানার্জী এখানে থাকেন না।
রবীন যা বললো, তাতে মিঃ ব্যানার্জী কলকাতায় থাকেন।
নার্সিংহোমের মালিক কে ?
মিত্রা বলেছিলো, মিঃ ব্যানার্জী পঞ্চাশ শতাংশের মালিক ও পঞ্চাশ শতাংশের। কিন্তু রবিন উল্টো কথা বলছে। একাকিত্ব মিত্রার বিগড়ে যাওয়ার একটা মূল কারণ। এছাড়া আর কোন কারণ ?
কলেজ লাইফে মিত্রাদের বাড়ি গেছি। ওদের পয়সা ছিল, কিন্তু কত পয়সা ছিল, যাতে মিত্রা এরকম একটা কাগজের পঁচাত্তর শতাংশের মালিক হয়ে যেতে পারে।
সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে।
এখন কি করবো। মিত্রার বাড়ি যাব, না বাড়ি ফিরে যাব। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম।
একটা উত্তরই আমার কাছে ভেসে আসছে। ও আমাকে এতো কটি টাকার মালিক বানিয়েছে। অনেকে চেয়ে পায় না, আমি অনাহূতের মতো তা পেয়েছি।
হয়তো এর মধ্যে দিয়ে ওর কিছু উদ্দেশ্য সিদ্ধ হতে পারে, তবু আমার কাছে এটা অনেক। এই কারনেই ওর পাশে আমার দাঁড়ান উচিত।
আমার ভেতর আমি বলে উঠলো, কি হে অনি তুমি কি শুধু টাকার জন্য আজ মিত্রার বাড়িতে যাওয়া মনস্থির করলে। নিজে নিজে হেসে ফেললাম।
আমি ওকে ভালবাসি এটা ঠিক। কিন্তু মিত্রা ভালবাসার জন্যই যে আমাকে মালিক বানিয়েছে তা নয়। ওরও কিছু উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে। ও জানে অনি খুব হার্ডি ছেলে। ওকে দিয়ে আমার বৈতরণী পার হয়ে যাওয়া যাবে।
আজ যেমন একটা বৈতরণী ও পার হয়ে গেল।
কি অনিবাবু তোমার এতে কিছু লাভ হয় নি।
হেসেফেললাম। ধ্যুস নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করছি।
একটা ট্যাক্সি ধরলাম, সোজা চলে এলাম মিত্রার বাড়িতে। গেট দিয়ে ঢুকতেই দারোয়ান এগিয়ে এলো।
অনিবাবু, মা ফেরেন নি।
ভেতরে কে আছে ?
বুড়িমাসি আছে।
গট গট করে ভেতরে চলে এলাম।
শুনশান। ভুতুরে বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। চারিদিকে লাইট জলে আছে, তবু কেমন অন্ধকার অন্ধকার। পোর্টিকোর নীচে এসে দাঁড়াতেই বুড়িমাসি এগিয়ে এলো।
তুমি কখন এলে ?
এইতো এখুনি। মিত্রা কোথায় ?
কোথায় আবার। যেখানে যাবার সেখানে গেছে।
বুড়ীমাসি গজ গজ করছে।
মেয়েটা এই করতে করতে একদিন শেষ হয়ে যাবে।
মাথা নীচু করলাম।
তুমি ওর বন্ধু একটু শোধরাতে পারনা। বড়লোকের যত সব....।
আমি মাথা নীচু করে আছি।
ছোটো থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি, তাই ছেড়ে যেতে পারছি না।
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছি।
চা খাবে।
দাও।
বুড়িমাসি চলে গেল। আমি নিচের হলঘরে সেন্টার টেবিলের চারধারে রাখা সোফার একটা দখল করে বসলাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম দশটা বাজে।
বুড়িমাসি চা নিয়ে এলো।
মিত্রা কখন ফিরবে।
ঠিক আছে নাকি। একটা, দেড়টা, দুটো কখন ফেরে।
চায়ে চুমুক দিলাম।
এই মেয়েটা কতো ভাল ছিল। কত হাসিখুসি। এখন দেখ। মায়া পরে গেছে। আর কত্তাবাবুর জন্য রয়েছি, না হলে কবে ছেড়ে চলে যেতাম, ঝাঁটা মারো ওরকম কাজে।
তুমি রাগ করছো কেন। ওর হয়তো কনো কাজ থাকতে পারে।
ছাই কাজ আছে, মদ গিলতে গেছে, আমাদের বস্তির গুলো ধেনো খায়, ওরা একটু দামি খায়।
তোমায় কে বললো।
ওইতো মর্কট রবীন। ওটাও একটা তেঁয়েটে।
কেন।
আর বলো কেন, ওপর থেকে মায়ের বোতোল চুরি করে এনে খায়।
তুমি কিছু বলো না।
অনেক আছে একটু আধটু নিলে খতি নেই। কি করবে।
আমি বুড়ী মাসির দিকে তাকিয়ে।
বউটা মরে গেল। বাচ্চাটা দাদু দিদার কাছে থাকে।
আবার বিয়ে করলো না কেন।
বিয়ে করলে এখানে ঝি গুলোর সঙ্গে ফস্টি নস্টি করবে কি করে।
মিত্রা জানে না।
মা আমার সাক্ষাত দেবী। ওই একটু খারাপ রোগে ধরেছে, মদ খাওয়া।
হাসলাম।
তুমি ওর বন্ধু, পারো না এই রোগটা ছাড়াতে ?
তুমি বললে, ছোট থেকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছ। তুমিও তো বলতে পার।
বলে বলে থুতুতে আঁটা জম্মেছে, বরটাই ওকে সব্বনাশের পথে নিয়ে গেল।
সেটা আবার কে।
ওই যে গো ডাক্তার।
যাঃ, তুমি বাজে কথা বলছো, ডাক্তার ভাল মানুষ। মিত্রা আমাকে আলাপ করিয়ে দিয়েছে।
ভাল মানুষ। নষ্ট চরিত্রি। একটা বউ থাকতে আর একটা বিয়ে করে। মা আমার লক্ষী প্রতিমে। তাও কদিন ঘর করেছিল। তারপর সব নিয়ে, দিলে তাড়িয়ে।
আমি চুপচাপ। বুড়ীমাসির দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
চায়ের কাপ কখন নিঃশেষ হয়েগেছে বুঝি নি।
সে অবস্থা তুমি দেখনি। মা ঠাকরনের জন্য সব হয়েছে।
কেন।
মাঠাকরনের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। বড় ডাক্তার। বিদেশে থাকত। অনেক পয়সা। তাই বিয়ে দিয়েছিল। কত্তাবাবু কত বারন করেছিল। কে জানত দোজ বরে। ওর একটা মেম বউ আছে। যখন জানা জানি হলো। তখন ডাক্তার গুছিয়ে নিয়েছে। মা আমার একবার বিদেশ গেছলো, সেখানে সব নিজের চোখে দেখে এসেছে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

ডাক্তারের বয়স ওর থেকে একটু বেশি।
হবে না। লোভ, সম্পত্তি পাবে না। বাবুর একমাত্র মেয়ে অগাধ সম্পত্তি। সেই জন্য বুড়ো বয়েসে বউ থাকতে এখানে এসে একটা বিয়ে করলে।
এখন থাকে কোথায়।
সিঁথিতে।
মেমকে নিয়ে।
না না ওটাকে ছেড়ে দিয়েছে।
তাহলে মিত্রার সঙ্গে থাকতে পারে।
থাকবে কি করে। সেতো জজসাহেবের কাছে লিখে দিয়ে এসেছে। থাকবে না বলে।
মিত্রা যে মাথায় সিঁদুর দেয়।
মা এখনো বিশ্বাস করে ডাক্তার তার স্বামী। প্রথম বিয়ে। ভুলতে পারে না। তাছাড়া কি জান, গায়ে একবার হলুদ মাখলে আর কুমীরে ধরে না।
আমি চুপ।
তুমি দেখো ওকে একটু ভালো করতে পারো কিনা।
আমি কি ভগবান।
তোমার দেশের বাড়িতে গেছিল। এসে কত গল্প করলো। সেই আগের মাকে যেন ফিরে পাচ্ছিলাম। আমাকে বললো তোমায় একবার নিয়ে যাবো বুড়ীমাসি। তা আমি বললুম বেশ নিয়ে যাস, যাব খোন। বেশ কয়েক দিন ভাল ছিল। আবার শুরু করলে।
খুব ইচ্ছে করছিল বুড়ী মাসিকে নার্সিংহোমের কথাটা জিজ্ঞাসা করতে, কিন্তু বুড়ীমাসি যদি সন্দেহ করে। আমার মন মানে না। এই সুযোগ আর আসবে না। আমার ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠলো অনি এই সুযোগ তুই হাতছাড়া করিস না।
বুড়ীমাসি কাঁদছিল, কাপরের খুঁট দিয়ে চোখের কোল মুছছে।
আমি সোফা থেকে নীচে বুড়ীমাসির কাছে গিয়ে বসলাম, তুমি কাঁদছ কেন।
জানো মা আমার সাতদিন ঠিকমতো খেতে পারেনা, শুতে পারেনা। অফিসে নাকি গন্ডগোল কাকে নিয়ে।
অফিসে গন্ডগোল, কই জানিনা!
তুমি জানবে কি করে। ওই মিনসের একটা ভাগ্নে ওখানে আছে। সেই গন্ডগোল করেছে। মা আমার বার বার তার কাছে গেছিল, বলেছে আমার দ্বারা কিছু হবে না।
তোমাকে অফিসের কথা সব বলে ?
বলে। যখন মন ভাল থাকে।
তুমি ওর কাছে রাতে থাকতে পারো।
থাকি তো, আমার সংসার আছে। সেখানে সাতটা পোষ্য।
ডাক্তারের নার্সিংহোম আছে, আরও টাকার কি দরকার।
রাখো তোমার নার্সিংহোম। ওটা ডাক্তারের ছেলের নামে, সে বিদেশে থাকে ডাক্তার দেখাশোনা করে। সে বলেছে মাকে বিয়ে করবে।
ডাক্তারের ছেলে!
হ্যাঁগো প্রথম পক্ষের সেই মেমসাহেবের ছেলে।
মিত্রা কি বলে।
আমরা মেয়ে মানুষেরা তা পারি, সম্পর্কে ছেলের সঙ্গে বিয়ে করতে। যতই ছাড়াছাড়ি হোক।
ডাক্তার কি বলে।
তার তো ভারি মজা, সম্পত্তি পাবে। সম্পত্তি নয়তো বিষ।
এই বাড়িটা কাদের ? এটা মিত্রাদের নয়, আমি তো ওই বাড়িতে গেছিলাম।
আনন্দ চ্যাটার্জী লেনে।
হ্যাঁ।
ওটা বড়বাবু নিয়েছেন, বাবুকে কাগজের ভাগ দিয়েছেন, আর এটা মা ঠাকরনের বাপের বাড়ির ভাগ। সেই নিয়েই তো মাঠাকরনের এত দেমাক।
তোমার বাড়িটা যেন এখানে কোথায়।
মদনমোহনতলা, হেঁটেগেলে দশ মিনিট।
তুমি বাড়ি যাও না।
যাইতো। সকাল সকাল আসি, মার দেখাশোনা করি। তারপর মা বেরিয়েগেলে চলেযাই আবার বৈকালের দিকে আসি। রাত পর্যন্ত থেকে চলে যাই।
আমার সম্বন্ধে মিত্রা তোমায় কিছু বলে নি।
খারাপ কিছু বললে, তোমায় এতো কথা বলি।
বাইরের গেটে হর্ন বেজে উঠলো। বুড়ীমাসি উঠে দাঁড়াল।
এলেন রাজ্য জয় করে।
ঘড়ির দিকে তাকালাম, সাড়ে বারোটা বাজে।
আমি সোফায় বসলাম।
বুড়ীমাসি পোর্টিকোর দিকে এগিয়ে গেল। গাড়ি এসে দাঁড়াল। মুখ বারিয়ে দেখলাম পেছনের সিটে মিত্রা হেলে পরে আছে। নিঃসার দেহ। রবীন দরজা খুলে দিল।
এসো ধরে নিয়ে যেতে হবে।
আজকে দেখি একেবারে ঘুমিয়ে পরেছে। বুড়ীমাসি বললো।
তুমি এসো তো।
তুই ঠেলা মারিস কেনরে মুখপোড়া।
বুড়িমাসি ঘরের দিকে আসছে, আসতে আসতেই বললো ও অনি এসো তো বাবা।
আমি উঠে দাঁড়ালাম, রবীন আমাকে দেখে চমকে গেল।
ও বুঝতে পারেনি আমি এইসময় এখানে থাকতে পারি। আমি বুড়ীমাসিকে বললাম, তুমি ওপরে গিয়ে মিত্রার ঘরের দরজাটা খোলো। আমি নিয়ে যাচ্ছি। কারুর দরকার পরবে না। হয়তো আমার কন্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল বুড়ীমাসি আমার দিকে একবার তাকাল, তারপর শুর শুর করে ওপরে উঠে গেল।
আমি আসতে রবীন সরে দাঁড়াল। ওর মুখ থম থমে। মাথা নীচু করে আছে।
রবীনকে বললাম, তুই ওপাশের দরজাটা খোল।
রবীন খুলে দাঁড়াল।
আমি মিত্রার বগলের তলা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে টেনে বারকরে পাঁজাকোলা করে তুলে নিলাম। আমার বুকের কাছে ওর মুখ। ভক ভক করে গন্ধ বেরচ্ছে। ওকে আঁকুড় করে ধরে ওপরে নিয়ে এসে বিছানায় শোয়ালাম। পায়ের জুতো খুললাম। বুকের কাপর ঠিক ঠাক করে বুড়ীমাসির দিকে তাকালাম।
একটা কাজ করতে পারবে।
বলো।
রান্নাঘরে তেঁতুল আছে।
আছে। অনেক পুরনো। কি করবে ?
নিয়ে এসো। একটা চামচে নিয়ে আসবে একটু বড় দেখে, আর একটা বাটি।
বুড়ীমাসি চলেগেল। আমি বাথরুমে গেলাম। বালতি মগ আর টাওয়েল নিয়ে এলাম। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বারকরলাম।
মিত্রার হাতে চিমটি কাটলাম। না কোন সাড় নেই।
ওর গালে আস্তে আস্তে থাপ্পর মারলাম। মরার মতো পরে আছে।
হাতদুটো দু’পাশে ছড়ানো। কাপরটা হাঁটুর ওপর উঠে গেছিল আমি টেনে নামালাম। বুড়ীমাসি ঘরে ঢুকলো। আমি বাটিতে তেঁতুল রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ভাল করে চটকে নিলাম। জলটা বাটিতে রেখে, তেঁতুলটা বুড়ীমাসির হাতে দিয়ে বললাম ধরো। আমাকে চামচেটা দাও। বুড়ীমাসি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চামচেটা আমার দিকে এগিয়ে দিল।
আমি বালতিটা এগিয়ে নিলাম। মগটা বালতি থেকে নামিয়ে রাখলাম। মিত্রার মাথার শিয়রে বসে ওর মাথাকে আল গোছে কোলে তুলে নিলাম।
গালে চাপ দিতেই মিত্রা হাঁ করলো।
আমি বুড়ীমাসির দিকে তাকিয়ে বললাম, বাটিটা এগিয়ে দাও, বুড়ীমাসি আমার দিকে এক ভাবে তাকিয়ে আছে। বাটিটা এগিয়ে দিল। আমি চামচে করে জিভটা টেনে ধরে ওকে তেঁতুল জল খাওয়ালাম।
মিনিট-খানেকের মধ্যে রি-এ্যাকসন শুরু হলো। হর হর করে বমি করতে শুরু করলো। বুড়ীমাসি নাকে কাপর চাপা দিয়েছে। আমি বালতিটা ওর মুখের কাছে ধরে আছি। কিছুক্ষণ পর বমি বন্ধ হলো। আমার প্যান্টেও ছিটকে পরেছে। কিছুটা মাটিতেও ছিটকে পরলো।
আবার একটু তেঁতুল জল গুললাম। খাওয়ালাম। আবার বমি।
বাথরুমে গিয়ে বালতি পরিষ্কার করে, ঠান্ডা গরম জল মিশিয়ে নিয়ে এলাম।
বুড়ীমাসিকে বললাম, ওর কাপর খুলে একটু গাটা মুছিয়ে দেবে আমি বাইরে দাঁড়াচ্ছি।
বুড়ীমাসি আমার দিকে অবাক চোখে তাকাল।
তুমি দাও, তুমি রুগীর সেবা করছো। এতে পাপ হয় না।
আমাকে ওর রাতের পোষাকটা এনে দাও।
বুড়ীমাসি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি যতটা সম্ভব ঢাকা ঢুকি দিয়ে ওর সারা শরীর স্পঞ্জ করে দিলাম, কাপর খুলিয়ে ওকে নাইট গাউন পরিয়ে দিলাম। ঠিক ভাবে শুইয়ে দিয়ে গায়ে একটা পাতলা চাদর টেনে দিলাম। ঘরটা ভাল করে মুছে, বাথরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ঘরে এলাম। বুড়ীমাসি মিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আমি যাই মাসি।
এত রাতে কোথায় যাবে।
কাজ আছে।
তোমাকে যেতে হবে না।
না মাসি। আমাকে যেতে হবে। তুমি এক কাজ করো, ঘন্টা খানেক বাদে ও উঠে পরবে, কিছু খেতে চাইলে গরম দুধ দিও কয়েকটা বিস্কুট, আর কিছু দিও না।
চলে যাবে ? বুড়ীমাসির চোখে করুণ মিনতি।
হ্যাঁ।
নিচে নেমে এলাম। রবিন বসে আছে।
আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

আমাকে একটা ট্যাক্সি ডেকে দিতে পারবি।
এত রাতে কোথায় যাবে দাদা ?
দেখি।
চলো আমি তোমায় ছেড়ে দিয়ে আসি।
অনেক রাত হলো খাওয়া-দাওয়া করে শুয়ে পর।
এরকম রাত অনেক হয় দাদা।
চল তাহলে। বুড়ীমাসিকে বলে আয়।
দরকার লাগবে না।
আমি গাড়িতে এসে বসলাম। দারোয়ানের মনে হয় নাইট ডিউটি থাকে, ও দরজা খুলে দিল। রাস্তা ঘাট শুনশান, কেউ কোথাও নেই।
কোথায় যাব দাদা।
অফিসে চল।
এখন।
হ্যাঁ।
রবিন কোন কথা বললো না। মিনিট পনেরোর মধ্যে অফিসে চলে এলাম।
আমি ওকে গলির ভেতরে ঢুকতে বারন করলাম, বললাম আমায় রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যা।
রবীন আমার কথা মতো তাই করলো। হাঁটতে হাঁটতে গেটে এলাম, আমাকে দেখে সিকিউরিটি গার্ডের ছেলেটা এগিয়ে এলো।
কোথায় যাবেন ?
নতুন ছেলে আমাকে চিনতে পারেনি। খুব ক্লান্তি লাগছে। মনটা ভীষণ ভারি ভারি লাগছে। ওর সঙ্গে কথা বলতে ভাল লাগছিল না। বাধ্য হয়ে প্রেস কার্ডটা বার করলাম।
ও দরজা খুলে দিল। আমি সোজা প্রেস রুমে চলে এলাম। ছেলেটি আমায় বাধা দিচ্ছিল। আমি বললাম তুমি সঙ্গে এসো। কি বুঝলো জানি না, ও আমার পেছন পেছন এলো।
লাস্ট নাইট এডিসন বেরচ্ছে।
সকালে মিটিংয়ে দেখা সার্কুলেসনের সেই ছেলেটি দেখেই ছুটে এলো।
স্যার।
সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে, সিকিউরিটি গার্ডের ছেলেটি মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আজ কতো সার্কুলেসন।
উনি বললেন।
এখন কি লেট নাইট এডিসন চলছে।
হ্যাঁ।
একটা কাগজ টেনে নিয়ে দেখলাম, অমিতাভদা আমার একটা পুরনো ফিচার ছেপেছে।
ট্রেনের কাগজ চলে গেছে।
হ্যাঁ, কলকাতারও কিছু বিটের কাগজ চলে গেছে।
অতীশবাবু এগিয়ে এলেন।
বললাম, সব ঠিক চলছে ?
অতীশবাবু একেবারে গদো গদো। হ্যাঁ ছোটবাবু।
আজ থেক মনে হয় আমি অনি থেকে ছোটবাবু হয়ে গেছি।
এদের রকম সকম দেখে তাই মনে হচ্ছে।
সব ঠিক আছে, দেখবেন আর কনো সমস্যা হবে না। অতীশবাবু বললেন।
আমি প্রেসরুম থেকে নিউজরুমে চলে এলাম। নিউজরুমে তিনচারজন ইতি উতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে গল্প করছে। টেলেক্স মেসিনটা গঢ় গঢ় করে চলছে। আমাকে দেখে ছেলেগুলো কেমন নড়ে চড়ে বসলো।
আমি আমার টেবিলে গেলাম। এই ছেলেগুলোকে আমি ঠিক চিনি না। তবে এরা আমায় চেনে। আমার সারকিটটা এই হাউসে খুব ছোটো। একজনকে ডেকে বললাম, লাইটটা একটু জেলে দেবে ভাই।
হ্যাঁ অনিদা, বলে ছুটে গিয়ে লাইটটা জেলে দিল।
আমি ড্রয়ার থেকে নিউজপ্রিন্টের প্যাডটা নিয়ে বললাম, ক্যান্টিন খোলা আছে।
আছে।
আশেপাশে কাউকে দেখছি না।
বলো না কি আনতে হবে এনে দিচ্ছি।
ডিম টোস্ট পাওয়া যাবে এত রাতে। আর একটু চা।
একটি ছেলে জলের বোতল এগিয়ে দিল। আমি ছিপিটা খুলে ঘট ঘট করে জল খেলাম। ওরা চা নিয়ে এলো, ডিম টোস্ট বানিয়ে নিয়ে এলো।
একজনকে বললাম, দেখতো আর্ট ডিপার্টমেন্টে কেউ আছে কিনা। আমার কথা শেষ হলো না, একজন ছুটে বেরিয়ে গেল। ফিরে এসে বললো, দ্বীপায়নদা আছে।
আমি ডিমটোস্ট খেতে খেত বললাম।
এই যা, দেখ আমি একলা খাচ্ছি, তোদের জন্য নিয়ে আয়।
না না তুমি খাও আমরা একটু আগে খেলাম।
তা হয় না, তখন একজন দৌড়ে গিয়ে ক্যান্টিনে বলে এলো।
কিছুক্ষণ পর ক্যান্টিন থেকে একটা ছেলে এসে খাবার দিয়ে গেল। আমি পয়সা মিটিয়ে দিলাম, দ্বীপায়ন এসে হাজির। আমায় দেখ একগাল হেসে বললো, কনগ্রাচুলেসন, অনিদা।
কেন দ্বীপায়ন।
তুমি আমাদের বস হলে।
আমায় দেখে কি তাই মনে হচ্ছে।
তোমায় দেখে কারুর কোন দিন সেরকম মনে হবে না।
তাহলে।
তবু।
জীবনে অব্যয় গুলো বাদ দাও। যদি, তবে, কিন্তু, বটে এসব কথা বলবে না। বোল্ড হও। সবার শেষ কথা কাজ। তোমাকে কেউ মনে রাখবে না। তোমার কাজটাকে সবাই মনে রাখবে। কাজের মধ্যে দিয়ে তুমি।
দ্বীপায়ন মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
শোনো আমার মোবাইলে কতকগুলো ছবি আছে। একটু প্রিন্ট করে দিতে পারবে।
অবশ্যই।
চলো তোমার ঘরে যাচ্ছি।
তুমি এসো। আমি রেডি হচ্ছি।
দ্বীপায়ন চলে গেল।
ট্যাক্সিডার্মির আর্টিকেলটা লিখলাম। লেখা শেষ হতে বাথরুমে গেলাম।
ছেলেগুলোকে বললাম, তোরা পড়তো কোথাও কনো সমস্যা আছে কিনা।
দ্বীপায়নের ঘরে গেলাম। ছবি গুলো প্রিন্ট করালাম। দ্বীপায়ন অবাক। ছবি গুলো দেখে, দাদা তুমি তো প্রফেসনাল ফটোগ্রাফারকে হার মানাবে।
নারে আমার গুণ নয়, এই মোবাইলটার গুণ।
তুমি যাও, আমি ছবিগুলো কারেকসন করে আবার প্রিন্ট নিয়ে যাচ্ছি।
আচ্ছা।
আমি আবার নিউজ রুমে চলে এলাম। ছেলেগুল আমায় দেখেই বললো, অনিদা সুপার্ব হয়েছে। তুমি এরকম ভাবে লেখ কি করে বলোতো, একটা নিরস সাবজেক্ট তুমি কি সুন্দর গল্প লিখেছ।
হাসলাম। ওদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলাম।
আমার গল্পকরার বিষয় কাগজ। কাগজের লেখা। জীবনের কিছু কিছু অভিজ্ঞতা ওদের সঙ্গে শেয়ার করে নিলাম। ওরা আমার গল্প যত শোনে তত অবাক হয়ে যায়।
তুমি কিছু সাবজেক্ট দাও না অনিদা লিখি।
আমি ইনস্ট্যান্ট কয়েকটা সাবজেক্ট ওদের দিলাম। কিভাবে লিখতে হবে, কোন এ্যাঙ্গেলে লেখাটাকে টুইস্ট করে দাঁড় করাতে হবে, তা বললাম, ওদের চোখেমুখে বিস্ময়।
ওদের চোখমুখ দেখে বুঝলাম আমাদের অফিসের সিনিয়াররা ওদের সঙ্গে এই ভাবে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে না।
একটি ছেলে বলে উঠলো অনিদা আমরা লিখলে তুমি কারেকসন করে দেবে।
কেন দেবনা, তোরা লিখিস, আমি সময় মতো কারেকসন করে দেব।
কালকে থেকেই শুরু করছি, বিশ্বাস করো প্রত্যেকদিন এই নিউজ লিখতে লিখতে একেবারে হেজে গেছি।
হাসলাম।
নিউজটাকে নিরস সাবজেক্ট ভাবছিস কেন, নিউজ তথ্য, তথ্য কেউ পরে, তোকে নিউজটাকেই একটা ফিচারের আকারে প্রেজেন্ট করতে হবে, দেখবি নিউজটা অনেক বেশি গ্রহণ যোগ্য হবে।
তোমাকে মাঝে মাঝে বিরক্ত করবো।
দুর অনিদাকে পেলে তো বিরক্ত করবি। আমিই অনিদাকে ছয়মাস আগে দেখেছিলাম।
তারপর আবার অনিদার আরও দায়িত্ব বারল। আর একজন বললো।
আমি হেসে বললাম, নারে এবার থেকে অফিসে আসবো, সময় দেব।
দ্বীপায়ন এলো ছবি নিয়ে। আমার হাতে পৌঁছবার আগেই ওরা কারাকাড়ি করে দেখে নিল।
ছবি ঠিক ঠাক দাঁড়িয়েছে ?
কি বলছো অনিদা এর থেকে ভাল ছবি হয় না।
গ্যাস খাওয়াচ্ছ।
তোমায়।
একটি ছেলে আমার হাতে ছবিগুলো দিল, দেখলাম। আমি যা তুলেছিলাম, তার থেকেও অনেক বেশি পরিষ্কার এবং সুন্দর দেখাচ্ছে।
কিরে ওই লেখার সঙ্গে এই ছবিগুলো যাবে।
যাবে মানে, দৌড়বে।
হাসলাম। একটা খাম নিয়ে আয়।
ওরা দৌড়ে গিয়ে মল্লিকদার টেবিল থেকে একটা খাম নিয়ে এলো। আমি খামের মধ্যে ছবি এবং লেখাটা ঢুকিয়ে খামটা স্টেপেল করলাম, ওপরে লিখে দিলাম, টু দ্য এডিটর ইন চিফ।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

খামটা অমিতাভদার টেবিলে রেখে আসবি ?
দাদার ঘর বন্ধ।
তুমি আমায় দাও, সকালে যারা আসবে তাদের বলে দেব। দাদার টেবিলে রেখে দেব। আর একজন বললো।
রাখ তাহলে খামটা।
লেখাটা কবে বেরবে ?
এটা এডিটর মহাশয়ের মর্জি।
ওরা সবাই হাসছে।
তোমার লেখা....!
ভুল কথা। এখানে আমি সাংবাদিক, উনি সম্পাদক। উনি যদি মনে করেন কাগজের স্বার্থে এটা যাওয়া উচিত, তাহলে যাবে, না হলে যাবে না।
তুমি এই ভাবে ভাব।
না ভাবলে এগনো যাবে না।
ওরা চুপ চাপ।
সার্কুলেশন থেকে নিউজ রুমে কাগজ এলো। হুড়ো হুরি পড়ে গেল।
নিজেদের লেখাটা বেরিয়েছে কিনা দেখার জন্য। প্রথম প্রথম আমারও এরকম হতো। আমাকে ওরা একটা কাগজ এনে দিল। ভালো করে উল্টে পাল্টে দেখলাম। কাগজটা আবার স্ব-মহিমায় ফিরে আসছে।
কাগজটাকে আরও ভাল করা যায়। একটু গেটআপ আর আধুনিকিকরণ। মনে মনে হাসলাম, মিত্রার ঘারে যা লোনের বোঝা এখন বছর খানেক এইসব চিন্তা ভাবনা করা যাবে না। তারপর ঋণ শোধ হলে, ভেবে দেখা যাবে।
কটা বাজেরে ?
পৌনে পাঁচটা।
না এবার যেতে হবে।
আমি উঠে দাঁড়ালাম, চলিরে।
আবার কবে দেখা হবে অনিদা। একটা ছেলে এগিয়ে এল।
পাগলা, আমি রেগুলার আসি। তোর ইচ্ছে থাকলেই দেখা হয়ে যাবে।
নিউজরুম থেকে বেরিয়ে এলাম।
সেই ছেলেটি নিচে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই স্যালুট করলো।
হাসলাম।
স্যার ভুল হয়ে গেছে।
কেন।
আপনাকে তখন।
তুমি ঠিক কাজ করেছো। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তুমি কি করতে ?
ছেলেটি মাথা নীচু করে আছে।
তোমার ডিউটি তুমি করেছ। আমার ডিউটি আমি করেছি। এই ভাবে কাজ করবে।
ছেলেটি মাথা নীচু করে ঘার দোলাল।
মাথা তুলে বললো, স্যার আপনার গাড়ি রেডি আছে।
আমার! কেন।
সার্কুলেসন বাবু বলে গেছেন।
না না আমি চলে যেতে পারব। তোমরা গাড়িকে অন্য কাজে লাগাও।
বেরিয়ে এলাম।
একটা ট্যাক্সি ধরলাম। পকেট থেকে সিগারেট বার করে ধরালাম। মোবাইলটা বার করে, দেবীশীষদের গ্রুপটাকে একটা ম্যাসেজ করলাম, “সুপ্রভাত তোমাদের দিনটা ভাল কাটুক”।
কলকাতার সকাল আস্তে আস্তে জেগে উঠছে।
সকালের মর্নিং ওয়াকারদের সৌজন্যে চায়ের দোকানে ভিড়, রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা, মোড়ে মোড়ে কাগজের হকারদের ভিড়। কাড়াকাড়ি মারামারি।
আবার মিত্রা, মিঃ ব্যানার্জীর কথা মনে পরে গেল। বুড়ীমাসি রবিনের কথা মনে পরে গেল। কিছুতেই আমি মেলাতে পারছি না।
মেমসাহেব বউ। তার ছেলে। মিত্রাকে বিয়ে করার প্রস্তাব।
সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে।
কেনই বা মিত্রা কাল গেল মিঃ ব্যানার্জীর কাছে।
কেনই বা মিত্রা মিঃ ব্যানার্জীকে আড়াল করতে চাইছে।
আমার কাছে সব কেমন যেন ঘন কুয়াশার মতো লাগছে।
এবার এই জটটা খুলতে হবে আমাকে। অনেক কিছু আমার অজানা।
বুড়ীমাসি জানে। ওইই সব বলতে পারবে।
অমিতাভদার বাড়ির গেটে যখন পৌঁছলাম, পৌনে-ছটা বাজে। ট্যাক্সি থেকে নামতেই, গেট খুলে অমিতাভদা বেরিয়ে এলেন। দাদা নিয়ম করে বাড়ির বাগানে এই সময়টা হাঁটেন। কেউ ওঠে না। বাগানে হাঁটার ফাঁকেই যতটা সম্ভব বাগানটা পরিষ্কার করেন।
আমাকে দেখেই বললো কিরে কোথা থেকে। এত সকালে।
গেছিলাম একটু।
সে তো দেখতেই পাচ্ছি। তুই কোথাও গেছিলি।
তুমি হাঁটোনা, হাঁটার সময় কথা বলতে নেই। সবাই উঠেছে ?
না।
ঠিক আছে। আমি গট গট করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গেলাম। ঘর খুলে প্রথমে জামা প্যান্ট খুললাম। বিছানার ওপরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গামছা নিয়ে দৌড়ে বাথরুমে ঢুকলাম।
দাঁত মেজে ভাল করে স্নান করে ফ্রেস হলাম। শরীরটা অনেক হাল্কা লাগছে। বাথরুম থেকে বেড়তেই দেখলাম, বড়মা ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।
মর্নিং ম্যাডাম। কথা রেখেছি।
দেখতে পাচ্ছি।
তাহলে, অনি যা বলে তা করে। আলনা থেকে পাজামা পাঞ্জাবীটা টেনে বার করলাম।
সারারাত কোথায় থাকা হয়েছিল শুনি।
বাবা, এ তো মাস্টারনীর মতো কথা।
তোর কোনো মাস্টারও নেই মাস্টারনীও নেই। আজ থেকে আমিই মাস্টারনী হবো।
তা ভাল, তা ভাল।
চুপচাপ।
আমি পাজামা পাঞ্জাবী গলালাম।
বড়সাহেব বুঝি ঠেলে তুলে দিলেন, যাও তোমার ছেলে পৌঁছে গেছে।
বড়মা উঠে এলো, আমাকে জড়িয়ে ধরলো, আমার মাথা খা বল তুই কোথায় ছিলি সারারাত।
এইতো, সাতসকালে এইসব দিব্যি টিব্বি দিলে অনি ফুরুত হয়ে যাবে।
ঠিক আছে দিব্যি দেব না। বল তুই কোথায় ছিলি।
আরে বাবা অনির কিছু কাজ আছে।
বুঝলাম, আবার কিছু গন্ডগোল পেকেছে ?
একবারে না।
ছোটমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকলো।
আসুন আসুন….।
খুব খুশি খুশি মনে হচ্ছে।
স্বাভাবিক। ছোটমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম।
কাল রাতে শুয়ে শুয়ে সমস্ত নিউজ পরে ফেলেছ।
তোর নিউজ। বয়েই গেছে।
তাহলে।
ধর। আমার এখন অনেক কাজ। তোর সঙ্গে গল্প করার সময় নেই।
ছোটমার চোখে চোখ রাখলাম। শেয়ানে শেয়ান চেনে।
ছোটমা আমার চোখে চোখ রাখতে পারল না। ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বড়মা বড় সাধা-সিধে। কিছু বোঝালে বোঝে, ছোটমা বুদ্ধি রেখে কাজ করে।
যাই, তুই যখন বলবি না, ছোটকে জিজ্ঞাসা করি।
যাও।
চায়ের কাপটা হাতে করে জানলার সামনে এসে দাঁড়ালাম।
সেই আমগাছ, মাথায় ঝাঁকরা চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই পেয়ারা গাছ। দুটো টিয় পাখি পাকা পেয়ারা খাচ্ছে, ঠোঁট দুটো অসম্ভব লাল। মাঝে মাঝে টেঁ টেঁ আওয়াজ করছে। সারারাত জাগলাম। একবারে ঘুম পাচ্ছে না। শরীরটা বেশ সতেজ লাগছে। কোথাথেকে একটা কাক উড়ে এসে টিয়াটার সঙ্গে ঝগড়া করতে শুরু করলো। দুজনের সেকি ঝগড়া, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দখছিলাম। ভীষণ মজা লাগছে। শেষে কাকটা উড়ে চলে গেল। বোধ হয় দলবল ডাকতে গেল।
টিয়াটাও খাওয়া শেষ হতে উড়ে চলে গেল। মাঝে মাঝে যখন সময় পাই, আমি এই জানলাটার সামনে এসে দাঁড়াই। এই পক্ষী কুলের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি দেখে দেখে শেখার চেষ্টা করি। লোকে এসব কথা শুনলে পাগল বলবে।
ঘুরে ফির সেই এককথা বার বার মনে পরে যাচ্ছে। মিত্রা, মিঃ ব্যানার্জী। অদ্ভূত সাইকলজি। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, তবু মিত্রা মাথায় ডগ ডগে সিঁদুর মেখে ঘুরে বেরায়। বুড়ীমাসি দারুন কথা বলেছে, গায়ে হলুদ মাখলে কুমিরে ধরার ভয় নেই।
কথাটা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের। কথামৃতে পরেছিলাম। বিনদিনী দাসীকে বলেছিলেন রামকৃষ্ণ, কিন্তু বিনদিনী গনিকার কন্যা ছিলেন, তাহলে কি মিত্রা।
দুর কি সব চিন্তা করছি। কথার পৃষ্ঠে কথা সাজিয়ে নিজেই নিজের জালে ফেঁসে যাচ্ছি।
বুবুন।
চমকে তাকালাম। মিত্রা।
ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চোখটা যেন গনগনে কাঠকয়লার টুকরো।
এত সকালে মিত্রা! এই বাড়িতে! ধীর পায়ে এগিয়ে এলো আমার কাছে।
ওই নাম ধরে ডাকার অধিকার তোর নেই।
কেন গেছিলি ?

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। একটা কিছু বলার দরকার আছে। কাল থেক অনেক কিছু শুনেছি। এই সুবর্ন সুযোগ, ওকে আঘাত করার। আসল সত্য আমাকে জানতেই হবে। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, নিজের কেপ্টের কাছে গেছিলাম। দেখলাম শরীর খারাপ, ফিরে এলাম।
সপাটে আমার গালে একটা থাপ্পর মারল মিত্রা। ঘরের গেটের মুখে তখন বড়মা ছোটমা। মিত্রা আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। আমার পাঞ্জাবীটা মুঠো করে ধরেছে মিত্রা। বুকে মাথা ঘোষছে। ওরা অবাক।
এরকম ঘটনা কখনো ঘটতে পারে ওরা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারে নি। আমি নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বড় হওয়ার পর জীবনে প্রথম কেউ আমার গালে থাপ্পর মারলো। তাও আবার যে সে কেউ নয় মিত্রা। যার জন্য আমি রাতকে দিন, দিনকে রাত করেছি। গেটের মুখে ওরা চারজন স্থানুর মত দাঁড়িয়ে আছে। ওরা ঠিক মেলাতে পারছে না ব্যাপারটা। সকলে স্তম্ভিত। তাকিয়ে দেখলাম মিত্রার চোখ বন্ধ।
মিত্রা....মিত্রা....মিত্রা।
মিত্রা আমাকে জড়িয়ে ধরে আস্তে আস্তে মাটিতে লুটিয়ে পরছে। আমি ওকে জাপ্টে ধরলাম। মিত্রার চোখ বন্ধ। চোখের কোলে জল।
আমি ওকে জাপ্টে ধরে ওর গালে আস্তে আস্তে থাপ্পর মারলাম। না কোন সেন্স নেই। মাথাটা বুক থেকে হেলে পরল। মল্লিকদা বুঝতে পারল ব্যাপারটা। ছুটে এসে ধরে ফেললো। মিত্রা আমার পাঞ্জাবীটা মুঠো করে ধরে আছে। কিছুতেই মুঠো খুলতে পারলাম না। চড় চড় করে পাঞ্জাবীটা ছিঁড়ে গেল।
আমি ওকে আঁকুড় করে ধরে এনে আমার বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
ছোটমাকে বললাম, তাড়াতাড়ি ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা জল কিংবা বরফ নিয়ে এসো।
মল্লিকদাকে বললাম, দেখোতো আমার টেবিলে কনো চামচে আছে কিনা।
ছোটমা ছুটে বেরিয়ে গেল।
অমিতাভদার দিকে তাকিয়ে বললাম, দেখোতো একজন ডাক্তারকে পাও কিনা।
মুহূর্তের মধ্যে ঘরের মধ্যে যেন হুর হুরি পরে গেছে। বড়মা স্থানুর মতো একধারে দাঁড়িয়ে আছে। কাপরের খুঁট দিয়ে চোখ মুছছে।
মল্লিকদা বাথরুম থেকে মগে করে জল আনলো। আমি ওর চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলাম।
না কোন সেন্স নেই। মল্লিকদা চামচেটা এগিয়ে দিল। আমি মিত্রার গালটা টিপে ধরে, চামচেটা ঢোকাবার চেষ্টা করলাম। দাঁতে দাঁত লেগে আছে। ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কাপরটা কোমর থেকে ঢিলে করে ওর শায়ার দরিটা খুলে দিলাম। বুকের কাপরটা ঢেকে টপ টপ করে ব্লাউজের বোতাম গুলো খুলে দিলাম। আঁকুড় করে বুকের সঙ্গে ধরে, ওর ব্রার হুকটা আলগা করে দিলাম।
টাওয়েলটা একটু ভিজিয়ে এনে দাওতো।
মল্লিকদা ছুটে টাওয়েলটা ভিজিয়ে এনে দিল। আমি খুব সন্তর্পনে মিত্রার শারা শরীর ভালো করে মুছিয়ে দিলাম। ছোটমা ঠান্ডা জলের বোতল আর বরফ নিয়ে এসেছে। আমি আলনা থেকে আমার একটা গেঞ্জি টেনে নিয়ে ওর মধ্যে বরফের টুকরো দিয়ে ওর ঘারের তলায় দিয়ে দিলাম। বাড়িতে কনো এন্টাসিড আছে। থাকলে দাও তো।
মল্লিকদা বললো, তোর ছোটমা খায়।
আমার কথা মুখ থেকে বেরলো না, ছোটমা ছুটে চলে গেল, কার্মোজাইনের বোতলটা নিয়ে এলো। আমি মিত্রাকে বুকের সঙ্গে জাপ্টে ধরে, জোর করে চামচে ঢুকিয়ে ওর দাঁতের পাটি খুললাম। জিভটা টেনে বের করে, চামচে দিয়ে দু’চামচ কার্মোজাইম খাওয়ালাম।
ওরা সবাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয় দেখছে। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম, এক মিনিটের জন্য একটু বেরওতো তোমরা। ওরা বেরিয়ে গেল। আমি মিত্রার কাপরের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেন্টিটা টেনে খুলে আমার আলনায় একটা জামার তলায় রাখলাম। ওদের বললাম এবার এসো। ওরা ঘরে এলো। মিত্রা চোখ বন্ধ করে মরার মতো পরে আছে। অমিতাভদা ডাক্তার নিয়ে এলেন। ভদ্রলোককে আগে দেখেছি, দাদারি বন্ধু। পাশের বাড়িতে থাকেন।
উনি ভাল করে দেখলেন। প্রসার মাপলেন। প্রেসার হাই।
বাঃ ট্রিটমেন্ট ভালই করেছ দেখছি। বরফটা খুব কাজ দিয়েছে বুঝলে অমিতাভ, নাহলে একটা অঘটন ঘটতো। ওরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখ চাওয়া চাওয়ি করছে।
একটা কাগজ পেন দাও। দুটো ইঞ্জেকসন লিখে দিচ্ছি নিয়ে এসো এখুনি। দিয়ে যাই। খুব স্টেইন পরেছে বুঝলে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। তাই ফেন্ট হয়ে গেছে। বিশ্রাম দরকার, ডোন্ট মুভ। সাতদিন। তারপর কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, হাওয়া বদল চাই।
উনি ইঞ্জেকসন লিখে দিলেন, আমি বেরিয়ে গেলাম কাগজটা নিয়ে। নিচে রবিন ছিল ওকেই নিয়ে গেলাম। ইঞ্জেকসন নিয়ে এলাম। রবীন ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ব্যাপারটা কি হলো। ম্যাডাম ওপরে গেলেন। একটা হৈ হৈ তারপর ডাক্তার এলো। বেচারা জিজ্ঞাসাও করতে পারছে না। ডাক্তারবাবু ইঞ্জেকসন দিলেন মিত্রার দুহাতে দুটো।
এখন ঘুমবে। ওর ঘুমের দরকার বুঝলে অমিতাভ। আর একজন সর্বক্ষণের পাহারাদার দরকার। আমি বৈকালে একবার আসব।
বড়মা এগিয়ে এলো, ও সামন্ত ঠিক বলছো, ভয়ের কিছু নেই।
না সেরকম কিছু বুঝলাম না, স্টেইনটা কেউ নিয়ে হজম করতে পারে, কেউ পারে না, তখন উল্টো একসন, সেনস্লেস। মেয়েটি কে ?
অমিতাভদা বললেন, আর বলো কেন, আমার কাগজের মালকিন।
বলো কি! ইন্টারেস্টিং। তোমার বাড়িতে এসে সাত সকালে অজ্ঞান।
এর মধ্যেও ছোটমা ফিক করে হাসল।
সে অনেক কথা, তোমায় পরে একদিন গল্প করবো।
আগে তাও সময় পেতে, এখন দেখি তুমি আমার থেকেও বিজি।
অমিতাভদা আমায় দেখিয়ে বললেন, যত নষ্টের গোড়া হচ্ছে এই অনি।
না। এ বললে শুনবো না। গুড প্রিকয়েসন নিয়েছে, না হলে এসব কেস যখন তখন অঘটন ঘটাতে পারে।
আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম।
একেবারে এপাশে মল্লিকদার ঘরের সামনে। ওরা আমার ঘর দখল করে রাখল বেশ কিছুক্ষণ। বুঝতে পারছি আমি বেড়িয়ে আসার পর বেশ জমিয়ে গল্প হচ্ছে। হাসাহাসি হচ্ছে। ছোটমা একবার বেরল। চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে ঘরে ঢুকল। আমাকে এককাপ চা দিয়ে গেল।
আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চলে গেল। যাওয়ার সময় বলে গেল, তোলা থাকল।
বাগানে এখন রোদের ঝলকানি। রবীন গাড়ির একটা পাল্লা খুলে তেড়ে ঘুমচ্ছে। কিই বা করবে। কালকে শুতে শুতে রাত হয়েছে। আবার সাত সকালে মালকিনের তাড়ায় বেড়িয়ে এসেছে।
ওই কথাটা বলতে মিত্রা আমাকে তেড়ে একটা চর মারলো!
কথাটা ও সহ্য করতে পারে নি। তাহলে ম্যাসেজটা লিখতে গেল কেন। আমি মোবাইলটা খুলে কালকের ম্যাসেজটা দেখলাম। একবার দুবার তিনবার পরলাম।
নিচের টাইমটা দেখলাম। এটা তো খেয়াল ছিল না!
যে টাইমে ম্যাসেজ করেছে মিত্রা সেই টাইমটা বলছে ও তখন মিঃ ব্যানার্জীর চেম্বার থেকে সবে বেরিয়েছে। ইস খুব ভুল করেছি। এই বোকামি করলাম কেন।
আমার আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কালকে এমন কিছু ওখানে ঘটেছে যা মিত্রা মেনে নিতে পারে নি। আমাকেও বলতে পারছে না।
তার জন্য কালকে ক্লাবে গিয়ে আকন্ঠ মদ গিলেছে।
মনটা ভারি হয়ে উঠলো। একটা ছোট্ট ভুলে কি থেকে কি হয়ে গেল।
কেন বলতে গেলাম ওই কথা। না বললে এ ঘটনা ঘটতই না। নিজেকে নিজে দোষী সাব্যস্ত করলাম। অনি আজ এই ঘটনার জন্য তুমি দায়ী। এর দায় তুমি অস্বীকার করতে পার না। এর শাস্তি তেমাকে পেতে হবে।
এই ছোকরা, শোনো এদিকে।
ফিরে তাকালাম।
ডাক্তারবাবু আমাকে ডাকছেন।
আমি এগিয়ে এলাম।
তোমার কথা সব শুনলাম অমিতাভর মুখে। গুড। তোমার বান্ধবীর এখন রেস্টের দরকার। আর ওকে সঙ্গ দিতে হবে। এটা এই বুড়ো-বুড়িরা পারবে না। এর দায়িত্ব তোমার।
ছোটমা মুচকি মুচকি হাসছে।
ভাল হয়েছে। ও বলেছিল আমার কাছে কয়েকদিন থাকবে। ওর দাদা ওকে খাটিয়ে মারলে। বড়মা বললো।
দেখলে, দেখলে ডাক্তার কি বলি বলো, সরষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে।
তুমি এসব বুঝবে না। শোনো আমি বৈকালে একবার আসবো। আজ বিছানা ছেড়ে একেবারে উঠবে না। বুঝলে। আর একটা কথা, যখন সেন্স আসবে তখন একটা জার্ক হতে পারে। আমি পাশেই থাকি, একবার খবর দেবে। আর যদি সে রকম না হয় তাহলে যেমন চলছে তেমন চলবে। আমি ডিউ টাইমে আসব।
আমি মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম।
তুমি লেগে পরো তোমার কাজে।
জমাটা খোল। ছোটোমা হাসতে হাসতে বললো।
আমি একবার ছোটমার মুখের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে মাথা দোলালাম। খুলছি।
ওরা নিচে চলে গেল। আমি আমার ঘরে গেলাম। মিত্রার নিথর দেহটা বিছানার সঙ্গে মিশে আছে। হাত দুটো দুপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। আমি হাত দুটো আস্তে করে জড়ো করে ওর পেটের ওপর রাখলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। কাপরের তলা দিয়ে বুকটায় একটু হাত বুলিয়ে দিলাম।
এই খাঁচাটায় কতো কষ্ট আত্মগোপন করে আছে। মিত্রা চোখ খুলছে না। মাথার চুল গুলো ছড়িয়ে রয়েছে, বরফের টুকরো গুলো আর ঘারের তলায় নেই। ছোটমা মনে হয় সব ঠিক করে দিয়েছে। আমি মিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। বুকের ভেতরটা ষন্ত্রণা করছে। একটা নিষ্পাপ মেয়র জীবন কি ভাবে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছিল। ভাবতেই শিউরে উঠছি।
ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠায় বসে রইলাম।
ছোটমা এলো খাবার নিয়ে, বললাম খেতে ভাল লাগছে না।
খেয়েনে। না খেলে যুদ্ধ করবি কি করে, তোর সব সময় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।
তুমিও বলবে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

কেন, আমি ছাড়া কি আর কেউ বলেছে।
চুপ করে গেলাম।
একটু খা, এত কষ্ট করে বানালাম।
তুমি রেখে দাও। পারলে একটু চা বানিয়ে দাও।
ছোটমা খাবারটা টেবিলে রেখে, আমার কাছে এগিয়ে এলো। মাথাটা বুকে চেপে ধরে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, মন খারাপ করিস না, ঠিক হয়ে যাবে ।
আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। ছোটমার বুকে মুখ গুঁজে ঝড় ঝড় করে কেঁদে ফেললাম।
আমি কোন অন্যায় করি নি।
কে বলেছে তুই অন্যায় করেছিস। পাগল।
তোমরা সকলে আমাকে দোষ দাও।
কে তোকে দোষ দেয়, বল তুই।
কিছুক্ষণ আমাকে জড়িয়ে ধরে চুপচাপ থাকলো।
তুই তোর মতো নিজের খায়ালে কাজ করিস। কত বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করিস। কাউকে না জানিয়ে নিজের মাথায় সব ঢুকিয়ে নিস। কাউকে কিছু বলিস না। আমরাও তোকে ভালবাসি। আমাদেরও ভয় করে। রাতের বেলা ঘুমতে পারি না। আমাদেরও হারাবার ভয় আছে অনি। তোকে সেটা বুঝতে হবে। কাঁদিস না।
আমি ছোটমার আঁচলে মুখ মুছে, মাথা নীচু করে বসে রইলাম।
নে খেয়ে নে।
না ছোটমা ভাল লাগছে না। তুমি একটু চা দাও।
ঠিক আছে আমি ঢেকে রেখে যাচ্ছি, তোর ইচ্ছে হলে খাস।
ছোটমা অনিচ্ছা সত্বেও ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি মিত্রার মুখের দিকে তাকালাম।
চোখের পাতা একটুও নড়ছে না। স্থির।
ওর নাকের কাছে আঙুল নিয়ে গিয়ে রাখলাম। না নিঃশ্বাস পরছে। বুকে কান দিয়ে শুনলাম। ধক ধক করছে। পায়ের তলায় হাত দিলাম। না এখনো গরম আছে। কত চিন্তা মাথার মধ্যে বাসা বাঁধছে। সবই কু-চিন্তা কোনটাই ভাল নয়।
দাদা এলেন, অফিসে বেরবে। তুই তাহলে থাক। কি আর করবি। তোর কাগজ পত্র সব দেখলাম। রাতে ফিরি কথা বলবো। আমারও অনেক জানা বাকি আছে তোর কাছ থেকে। তুইতো কালকে সব ম্যাজিক দেখালি। কিছু বুঝলাম, কিছু বুঝলাম না।
আমি মল্লিক বেরচ্ছি। রাতে তাড়াতাড়ি ফিরবো। সেরকম হলে ফোন করবি।
মাথাটা নীচে নামিয়ে রাখলাম, দাদার দিকে তাকাতে পারছি না।
কিছু ভাবিস না, যা বুঝলাম এই কদিন একটু টেনসন গেছে তোদের দু’জনেরি। তুই নিতে পেরেছিস ও নিতে পারে নি। বড় কাজ করতে গেলে, এরকম একটু আধটু হয়।
ঠিক আছে আসি। আর শোন রবিনকে নিয়ে যাচ্ছি, গিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেব।
অফিসে কাউকে আবার বলতে যেও না।
না না বলবো না।
সনাতানবাবুকে জিজ্ঞাসা করবে ওরা চেক জমা দিয়েছে কিনা, আমাকে ফোন করতে বলবে।
তাহলে আমি আর জিজ্ঞাসা করবো কেন, কিছু বললে তোকে ফোন করতে বলবো।
আচ্ছা।
মল্লিকদা হাত নাড়ল দাদার পেছনে দাঁড়িয়ে।
আমি হাত নাড়লাম।
ওরা চলে গেল।
মনে হলো মিত্রার ঠোঁট দুটো যেন সামান্য নড়ে উঠলো। মুখটা ওর ঠোঁটের কাছে নিয়ে গেলাম। না আমি ভুল দেখেছি। আমার চোখের ভুল। আবার ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
ঠায় ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছি। কতক্ষণ বসে ছিলাম জানি না। ছোটমা ঘরে ঢুকে বললো, এবার তুই একটু বাইরে যা আমি বসি।
আমি টেবিলের ওপর থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে বারান্দার এক কোনে চলে এলাম। কটা বাজে। সূযর্টা ঠিক মাথার ওপর। একটা সিগারেট ধরালাম। কিছুতেই ভাল চিন্তা মাথায় আসছে না। যতো ভুলে থাকার চেষ্টা করি, ততই যেন আমার মাথায় কুচিন্তা চেপে বসছে।
পায়ে পায়ে ছোটমার ঘরে ঢুকলাম। এঘরে আমি খুব একটা আসি না।
মনে করতে পারছি না শেষ কবে এসেছি। ছোটমার ঘরটা বেশ সাজান গোছান। খাটে টান টান করে চাদর পাতা। খুব শুতে ইচ্ছে করছিল। নিজের মনকে বললাম, না। খাটের পাশে ছোট্ট একটা টেবিল। ওখানে চোখ আটকে গেল। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম। আমার মায়ের ছবি। মিত্রা নিয়ে এসেছিল।
ছোটমা একদিন কথায় কথায় বলেছিল, আমাকে তোর মায়ের একটা ছবি দিস।
তার মানে মিত্রা সেই ছবি কপি করে ছোটমাকে প্রিন্ট করে দিয়েছে। মনটা ভারি হয়ে উঠলো। আমি টেবিলটার সামনে গিয়ে মাটিতে বাবু হয়ে বসলাম। কিছুতেই চোখ বন্ধ করে মায়ের মুখটা মনে করতে পারছি না। যতোসব আজেবাজে মুখের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
ভেতর ভেতর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। মনে মনে বলে ফেললাম, মা আমি কি অপরাধ করেছি বলতে পার, যার জন্য আমাকে এত কষ্ট পেতে হয়। কোন সাড়া মিললো না। ছবি ছবিই থেকে গেল।
কতোক্ষণ ওইখানে ওইভাবে বসেছিলাম মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে জানি না। নরম হাতের স্পর্শে ফিরে তাকালাম। ছোটমা দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পাতা ভারি ভারি।
চল মিত্রা উঠেছে। আমি এর আগে দুবার এসেছিলাম, তোকে বিরক্ত করি নি।
আমি উঠে দাঁড়ালাম।
এই ছোট্ট বুকটায় এতো কষ্ট হাসি মুখে ধরে রাখিস কি করে।
আমি ছোটমার বুকে মুখ লোকালাম।
পাগল। কালরাতে তুই এতোকান্ড করেছিস, সেটা বললেই সব মিটে যেত। তুইও কষ্ট পেলি মেয়েটাকেও কষ্ট দিলি। সাথে সাথে বড়মাকে কষ্ট দিলি, ছোটমাকে কষ্ট দিলি। নিচে গিয়ে বড়মাকে একবার দেখ, সে কি করছে।
সে মুখে কিছু বলতে পারে না। তোর মায়ের মুখটা দেখেছিস, ঠিক তার মতো। তোর বড়মার মনটা বুঝিস না। কাল তুই আসিসি নি, তোর বড়মাও খায় নি।
নিজেও খেলি না, কাউকে খেতেও দিলি না। তোদের দুটো পাগল-পাগলীকে নিয়ে বড়ো সমস্যা।
আমি ছোটমাকে জাপ্টে ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
যা নিজেরা নিজেদের সমস্যা মেটা। আমি নিচে গিয়ে বড়কে সামলাই। সে অতিষ্ঠ করে মারছে। আমার যত জ্বালা। সকাল থেকে এককাপ চাও তাকে খাওয়াতে পারি নি। যা ও ঘরে যা। কথা শেষ হলে বলবি একসঙ্গে খাব।
আমি ছোটমার ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ছোটমা শিঁড়িদিয়ে নিচে নেমে গেল।
আমি আমার ঘরের গেটের সামনে এসে দাঁড়ালাম। মিত্রা দু’হাঁটু জড়ো করে, মাথা নীচু করে বসে আছে। অগোছাল কাপর। খোলা ব্রেসিয়ারের ফিতে পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে। আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম। ওর মাথায় হাত রাখলাম।
ও আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পরলো। কনো কথা নেই, খালি কাঁদছে। ঝর ঝর করে কাঁদছে। আমি ওর মাথায় হাত বোলাচ্ছি, মনে মনে বললাম তুই যত পারিস কাঁদ, যদি কিছুটা হাল্কা হোস। আমার বুক ভিঁজে গেছে।
মিত্রা মুখ তোল। আর কাঁদিস না।
মিত্রা কিছুতেই মুখ তুলছে না। আমি জোর করে ওর মুখ তুললাম, ও চোখ বন্ধ করে রয়েছে।
চোখ খুলবি না।
আমি ওর ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে নিজেও কেঁদে ফেললাম। কতোক্ষণ দুজনে জাপ্টা জাপ্টি করে বসেছিলাম জানি না।
ছোটমা কখন ঘরে এসেছে, তাও জানি না। এবার ওঠো অনেক হয়েছে।
আমরা দুজনে দুজনকে ছেড়ে দিলাম।
দুজনেই দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। ছোটমা মুচকি মুচকি হাসছে।
খিদে পেয়েছে। তাড়াতাড়ি রেডি হও। মিত্রা তুই স্নান করেছিস।
মিত্রা মাথা নীচু করে ঘাড় দুলিয়ে বললো, না।
যা উঠে পর। স্নান সেরে নে। কোথায় করবি নিচে না এঘরে।
এখানেই করে নিচ্ছি।
ঠিক আছে।
তোর যে ব্যাগ এখানে আছে, সাখান থেকে কাপর বার করে দেব, না আমার একটা পরে নিবি।
তোমার একটা দাও।
ছোটমা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমি মিত্রার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। মিত্রাও আমার মুখের দিকে তাকাতে পারছে না। মাথা নীচু করে রয়েছে।
যা ওঠ। আমি এগিয়ে গিয়ে ওকে ধরলাম, ও আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল। অগোছাল কাপরটা ঠিক করার চেষ্টা করলো।
থাক আর কাপর গোছাতে হবে না, যা খেল দেখাচ্ছিস।
মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে একবার হাসার চেষ্টা করলো।
ছোটমা, ঘরে ঢুকলো, আমি ওকে ছেড়ে দিলাম।
ছোটমা বলে উঠল ধর ধর ওকে ছেড়ে দিলি কেন। ছোটমার কাছে লজ্জার আর কি রাখলি।
দু’জনেই মুচকি হাসলাম।
ছোটমা কাপর-শায়া-ব্লাউজ রেখে বেরিয়ে গেল।
আমি ফিস ফিস করে বললাম, কিরে আমায় স্নান করিয়ে দিতে হবে নাকি।
মিত্রা আমার মুখের দিকে তাকাল। নাও বলছে না, হ্যাঁও বলছে না।
বুঝলাম আমায় যেতে হবে।
ওকে টেবিলটা ধরে দাঁড়াতে বললাম, আমি বাইরের দরজাটা বন্ধ করলাম। ফিরে এসে, ওকে আবার ধরলাম।
বাথরুম করবি।
হ্যাঁ, আমার তলপেটটা ভীষন টন টন করছে সোজা হতে পারছি না।
আমি ওকে ধরে বাথরুমের ভেতর নিয়ে গেলাম।
কমডে বোস। আমি বাইরে দাঁড়াচ্ছি।
আচ্ছা।
কিছুক্ষণ পর ও ডাকল, ভেতরে আয়।
কেন।
আমার ভীষণ শীত করছে।
গিজারটা চালিয়ে নে।
আমি স্নান করবো না, তুই গাটা মুছিয়ে দিবি আয়।
দাঁড়া যাচ্ছি।
টাওয়েলটা জড়িয়ে নিয়ে বাথরুমের ভেতরে গেলাম।
মিত্রা শায়া পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
কিরে এভাবে দাঁড়িয়ে কি করছিস!
পটি করলাম।
ধুয়েছিস ভাল করে।
তোর মতো নাকি।
সে তো দেখতেই পাচ্ছি।
গা মুছব টাওয়েল কোথায়।
আমার দিকে তাকিয়ে।
তুইতো পরে আছিস।
তাহলে খুলে দাঁড়াই।
দাঁড়া।
ক্রমশঃ

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
ওরকম ভাবে তাকিয়ে আছিস কেন ?
আমার প্যান্টি কোথায় ?
জিভ বার করে ফেললাম।
কিরে কোথায়!
আমার আলনায়।
তুই কি সবার সামনে আমার প্যান্টিটাও খুলেছিলি।
না ওদের ঘর থেকে বার করে দিয়েছিলাম।
তুই সত্যি আমার আর কিছু বাকি রাখলি না।
তুই বা কি বাকি রাখলি ? ছোটমা সব জেনে ফেলেছে।
জানুক। আজ না হয় কাল জানতো।
দাদাকে কি জবাবদিহি করবো।
বড়মাকে দিয়ে ম্যানেজ করবো।
তুই করবি। আমি পারব না। এটা মনে রাখিস।
দাঁড়া আর একটা টাওয়েল নিয়ে আসি।
না এটা খোল।
পাগলামো করিস না।
আমি ঘরের থেকে আর একটা টাওয়েল নিয়ে এলাম।
ঠিক হয়ে দাঁড়া। আমি গিজার অন করলাম, কিছুক্ষণের মধ্যেই জল গরম হয়ে গেল। ভালো করে ওর গা মোছালাম।
উঃ কি গরমরে বাবা। গা পুরে যাবে একটু ঠান্ডা জল দে না।
বক বক করিস না।
মিত্রা হাসছে।
অনেক সুখ উপভোগ করছিস। কাল থেকে আমাকে খাটিয়ে মারছিস, এর শোধ আমি তুলবো।
যখন সময় আসবে তুলিস।
হাত তোল।
মিত্রা বাধ্য মেয়ের মতো হাত তুললো। দুষ্টুমি করছে, আমি গম্ভীর হয়ে গেলাম, আচ্ছা আচ্ছা তুই এখন নার্স আমি পেসেন্ট।
গা মুছিয়ে টাওয়েলটা জড়িয়ে দিলাম, বেরিয়ে এসে কাপর পর। ছোটোমা এরি মধ্যে বার তিনেক রাউন্ড দিয়ে গেছে।
তুই কি করে জানলি।
ও যে কি সাংঘাতিক জানিস না।
আমি কি এই অবস্থায় বেরব।
বেরনা কে দেখবে। বাইরের দরজা বন্ধ আছে।
তোরটা খুলে দে।
আরও লাগবে!
লাগবে।
ঘরে এসে পাজামাটা পরে ওকে টাওয়েলটা দিলাম।
ও বাইরে বেরল।
আমার প্যান্টিটা দে।
দাঁড়া বলে পাজামার গিঁটটা বেঁধে আমার আলনার তলা থেকে বার করে দিলাম।
ওদিকে ফিরে তাকা।
এ্যাঃ লজ্জাবতী লতা।
আমি পেছন ফিরে দাঁড়ালাম।
কিরে আমার ব্রেসিয়ার।
পরতে হবে না। খালি গায় ছোটমার ব্লাউজ পর।
যাঃ।
আর জালাস না। তোকে কেউ এসময় দেখতে আসবে না। সাতদিন তুই এখানে গ্যারেজ।
কি আনন্দ।
ওর দিকে কট কট করে তাকালাম।
আচ্ছা বাবা পরে নিচ্ছি।
ও কাপর পরে নিল।
দরজা ঘট ঘট করে উঠলো। আমি গিয়ে দরজা খুললাম।
কিরে, তুই কি ওর কাপরও পরিয়ে দিলি! ছোটমা চোখ বড় বড় করে বললো।
দু’জনেই মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছি।
খিদেয় পেট জ্বালা করছে। তাড়াতাড়ি আয়।
ছোটমা চলে গেল।
তোর জন্য আজ কেসের পর কেস খাচ্ছি।
হ্যাঁরে পাউডার নেই।
আমার কি বউ আছে। না আমি মাখি। দাঁড়া দেখি।
আমি আমার দেওয়াল আলমারি থেকে একটা পাউডার কৌট বার করে দিয়ে বললাম, এইনে।
ও কৌটটা খুলে দুবার ঝাঁকাল, পরলোনা। তারপর মুখটায় হাত দিয়ে আমার দিকে ঘুরে বললো। এটা কনো দিন ব্যাবহার করেছিস।
কি জানি, মনে পরে না।
কবে কিনেছিস।
মনে করতে পারছিনা।
এখনো খোলা হয় নি।
দে ফুটো করে দিচ্ছি।
আমি টেবিলের ওপর থেকে একটা আল পিন দিয়ে ফুটো করার চেষ্টা করলাম, কিছুতেই ফুটো হয় না। শেষে ফুটো হলো বটে, কিন্তু পিনটা হাতে ফুটে রক্ত পাত ঘটলো। মিত্রা ছুটে এসে, আমার আঙুলটা মুখে দিয়ে চুষতে শুরু করলো।
এটা কি করছিস।
ও আঙুলটা মুখে নিয়ে গঁ গঁ করে কিছু বললো।
ছার না। এটুকুতে আমার কিছু হয় না।
মিত্রা আঙুলটা ভাল করে দেখে ছেরে দিল, গায়ে পাউডার দিল।
যেতে পারবি, না কোলে করে নিয়ে যেতে হবে।
যেতে পারব।
চল।
নিচে এলাম।
বড়মার মুখটা বিভৎস গম্ভীর। বুঝলাম ভীষণ অভিমান বুকে পোষণ করে রেখেছে। মনে মনে চিন্তা করলাম, আজ আমাকে নিজেকে কনফেস করতে হবে। এ ছাড়া কনো উপায় নেই। আমি বড়মার পাশে বসলাম। ছোটমার পাশে মিত্রা।
খাওয়া শুরু করলাম।
খেতে খেতেই বললাম সেদিন তুমি পীর সাহেবের গল্পটা শুনতে চেয়েছিলে না।
বড়মা আমার দিকে তাকাল, হ্যাঁ। তোর মনে আছে!
নিশ্চই।
মিত্রা সেদিন বলতে পারল না।
আমি বলতে শুরু করলাম। সবার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। হাত গুটিয়ে বসে থাকল। শেষে বললাম, এর ঠিক মাস দশেকের মাথায় আমার জন্ম, বার্থডেটটা বললাম।
সেই ফিস্টের দিন তোর জন্মদিন ছিল! তুই আমার থেকে ছমাসের বড়! মিত্রা বললো।
আজ থেকে দাদাবলে ডাকবি। নাম ধরে ডাকবি না।
হুঁ বয়েই গেছে। মিত্রা মুখ বেঁকাল।
ছোটমা মুচকি হাসলো।
না না থাক, ওর মুখে তোর নামটা শুনতে ভাল লাগে। বড়মা বললো।
কি এবার বল। মিত্রা চোখ নাচাচ্ছে।
আমি চুপচাপ।
তার ঠিক চারবছরের মাথায় মা-বাবা দুজনেই কলেরায় মারা যায়, দুজনকে গ্রামের লোকেরা পাশাপাশি চিতায় পুড়িয়েছিল। তারপর থেক মনাকাকার আশ্রয়ে। টিল টু ডে।
বড়মা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
তাকিয়ে আছো কেন।
তুই এই সময় বললি।
কেন!
একটু প্রণাম করতাম।
কোথায়।
বাগানে গিয়ে ওই অশ্বথ গাছটাকে মনে করে।
ঠিক আছে তোমায় নিয়ে যাব। অশ্বত্থ গাছটা এখনো আছে।
আমরা যাব না।
আমাদের দুজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে, তোমরা ইন্টারফেয়ার করবে না।
হুঁ।
গত সাত দিনের ঘটনা তুমি জানতে চেয়েছিলে।
বললি কোথায় ? বড়মা অভিমান ভরা গলায় আমায় বললো।
খাওয়া শুরু করো। থামলে চলেবে না। আমায় একটু ভাত দাও। গত সাতদিনে ভাত জোটে নি।
ও ছোট দে দে। দেখ ছেলের কান্ড। আমায় ফোন করে বললে কিনা এই বিরিয়ানি খেয়েছি, এই পোলাও খেয়েছি।
তোমায় তবু বলেছে। আমার সাথে কথা বলেছে কিনা জিজ্ঞাসা করো। আমায় মানুষ বলেই মনে করে না। মিত্রা বললো।
একবারে চুপ থাকবি।
সেকিরে! তোর মালকিন বলে কথা। ছোটমা বললো।
থামো তুমি।
ছোটমা আমার পাতে ভাত দিল। তোর মল্লিকদা পাবদা মাছ এনেছে খাবি।
দাও। একটা নয় দুটো।
বাবাঃ সাতদিনের খাওয়া তুই একবারে খাবি নাকি।
গ্রামের ছেলে, আমাদের পাতে বিড়াল ডিঙতে পারে না।
মিত্রা মুচকি হাসল, বড়মা বলে উঠল থাম।
আমি আবার খেতে শুরু করলাম।
সমস্ত ঘটনা একে একে খুলে বললাম। এমনকি কাল রাতে কোথায় ছিলাম কি করেছি সব। কনো কথা গোপন করলাম না। বড়মা ছোটমা মিত্রার চোখ কপালে উঠে গেছে। ওদের চোখে সব যেন হাজার পাওয়ারের বাল্ব জ্বলছে।
বড়মা আমার মাথায় হাত রাখল। এঁটো হাতে এঁটো মুখে আমায় জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেল।
অনি আমি বলছি তোকে কেউ কোন দিন হারাতে পারবে না।
মিত্রার মুখ থালার সঙ্গে মিশে গেছে। ছোটমা মুখ নীচু করে আছে।
বাকিটা মিত্রার কাছ থেকে তোমরা জান, আমার আর কিছু বলার নেই। এরপর তোমরা যদি বলো আমি অন্যায় করেছি, তাহলে আমাকে শাস্তি দাও, আমি মাথা পেতে নেব।
মিত্রার ফোনটা বেজে উঠলো। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, দাদার ফোন।
ধর।
মিত্রা ফোনটা ধরলো।
বুঝলাম দাদা ওর শরীরের খোঁজ খবর নিল।
ও হ্যাঁ-হুঁ করে ফোনটা বড়মার দিকে এগিয়ে দিল।
বড়মা ফোন ধরেই বললো, এই সময় ফোন না করলে হতো না।
কেন।
আমরা এখন অনির গল্প শুনছি।
ও কি করে গেছে জান।
কেন তোমায় বাঁশ দিয়েছে।
না। কাল আর্টিকেলটা বেরলে, সরকারে একটা হৈ হৈ পরে যাবে।
জানি।
তুমি জান!
ও আমার ছেলে আমাকে সব বলেছে, কনো কথা গোপন করে নি।
বুঝলাম অমিতাভদা হতাশ হল।
নে ধর। ফোনটা মিত্রার দিকে এগিয়ে দিল।
মরন, ফোনের আর সময় পেল না।
বড়মা ফোনটা কেটে দিল।
আমার দিকে ঘুরে বললো, হ্যাঁরে ওই তিনটেকে শাস্তি দিবি না।
না। দাদা মিত্রা মল্লিকদার কথায় ওদের রেখেছি। পরে দেখা যাবে। তোমাদের সেদিন বলেছিলাম, পাওয়ার গেম খেলব, খেলেছি।
ওগুলোকে তাড়া।
ওটা মিত্রার ডিসিসান।
ও কি বলবে। মেয়ে মানুষ। তোর মতো কি ও চালাতে পারবে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

চালাতে হবে। মালিক হব। আমি কিছু করবনা তা বললে হয়, খালি পরের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে ট্রিগার টিপব। লোকের ওপর ওরকম বিশ্বাস করলে কটি কটি টাকার লোন হবে। যা হয়ে আছে।
মিত্রা আমার দিকে ফ্যাকাশে দৃষ্টি নিয়ে তাকাল।
তোর ইসলামভাইকে একটু দেখাবি। বড়মা বললো।
ওরা লোক চক্ষুর অন্তরালে থাকে। সামনে আসে না।
তাহলে তোর সঙ্গে ওর দেখা হয় কি করে।
ফোন আছে। ফোন করি। সময় এবং জায়গা বলে দেয় চলে যাই। তাছাড়া ওর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়। এখন আমি জানি ও কখন কোথায় থাকে। ওর সার্কিটের অনেকেই আমাকে নামে চেনে।
তুই এসব করছিস, তোর যদি কোন বিপদ হয়।
হলে হবে, তার মোকাবেলা করতে হবে। তবে কি জান এদের ছাড়া জগত সংসার চলবে না।
যাঃ যতসব মনগড়া কথা।
তুমি যতোসব মন্ত্রী আমলা দেখছো, ম্যায় পুলিস পর্যন্ত এদের তেল দেয়। ইসলামভাই আমাকে সত্যি ভালবাসে।
কিছুক্ষণ চুপচাপ। চারিদিক নিস্তব্ধ। যে যার মতো খেয়ে চলেছে।
মিত্রা।
উঁ।
তুই তোর জায়গাটা কাকে রেজিস্ট্রি করেছিলি জানিস।
না।
তোর জমি কাকে দিচ্ছিস তা জানবি না।
ও বললো সই করে দাও, তাহলে শেয়ারটা অনির নামে ট্রান্সফার হয়ে যাবে, সই করে দিলাম।
বেশ গদ গদ হয়ে সই করে দিলি বল।
থাম তুই, বক বক করিস না, মেয়ারা একা চলতে পারে কখনো। বড়মা আবার ধমকে উঠল।
তোমাকে বোঝা মুস্কিল, তুমি একবার এদিকে ঝোল টানছো, একবার ওদিকে ঝোল টানছো।
দেব কান মুলে, আবার কথা।
বড়মা বাঁহাত তুললো। মিত্রা মুচকি হেসে কিল তুলে বলছে দাও না দাও, মুখে বোলোনা।
ছোটো তুমি কি বলো।
সত্যিতো তুই এই কদিন হলো ওর কাছে এসেছিস, এতদিন ওর বুদ্ধিতে যতটুকু কুলিয়েছে ততটুকু করেছে।
কিছুক্ষণ চুপচাপ।
ওর কনো দোষ নেই। মিত্রার ওই দোষটা দোষ নয়। তোর মতো ওরও কনো আশ্রয় নেই। আমরা সবাই এই পৃথিবীতে আশ্রয় খুঁজি। কেউ পাই কেউ পাই না। তখনই হতাশা আমাদের গ্রাস করে। আমরা দিশেহারা হয়ে দৃষ্টি কটু কাজ করি।
আমি উঠে দাঁড়ালাম, ছোটোর কাছে গিয়ে নীচু হয়ে একটা পেন্নাম ঠুকলাম।
এটা কি করলি।
তোমার কাছ থেকে একটা নতুন জিনিস শিখলাম তাই।
পাগল।
আজকের খেওয়াটা ম্যারাথন দৌড়ের মতো। ঘড়ির দিকে তাকালাম, দেখছো, চা খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।
সত্যিতো, ও ছোট দেখেছিস, কথা বলতে বলতে কত বেলা হয়ে গেল বলতো।
শান্তি।
জিজ্ঞাসা করলে কথা বলিস না, আর সাতদিনেরটা এক দিনে দবললে হজম করা যায়। এবার থেকে প্রত্যেক দিন বলবি। বড়মা বললো।
আচ্ছা।
উঠে পরে বেসিনের কাছে চলে গেলাম, ছোটমা টেবিল পরিষ্কার করছে। আমি মুখ ধুলাম, মিত্রা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। ও আমার দিকে কেমন ভাবে যেন তাকিয়ে আছে। আমি ছোটমার আঁচলে মুখটা মুছে ওপরের দিকে হাঁটা লাগালাম, ছোটমা রে রে করে উঠলো।
রান্না ঘর থেকে বড়মা চেঁচিয়ে উঠলো, কি হলোরে ছোট।
দেখনা, অনি আমার কাপরে মুখ মুছে চলে গেল।
মুখপোড়া।
যেতে যেতে দরজা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম, মিত্রা মুখ ধুতে ধুতে মুচকি মুচকি হাসছে।

নিজের ঘরে এলাম, সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে না। বড়মাকে সব কথা বমি করার পর বেশ হাল্কা হাল্কা বোধ হচ্ছে। মিত্রা ঘরে এলো, একটা কাজ করবি।
বল।
বড়মার কাছ থেকে গোটা পাঁচেক লবঙ্গ নিয়ে আয়।
সিগারেট খা।
ভাল লাগছে না।
দাঁড়া। মিত্রা বেরিয়ে গেল।
আমি জানলাটার সামনে এসে দাঁড়ালাম, পশ্চিম আকাশ গাড় কমলা রংয়ের, ভদ্রলোককে আর দেখা যাচ্ছে না।
এইনে।
মিত্রা কাছে এগিয়ে এলো। আমি ওর হাত থেকে একটা লবঙ্গ তুলে নিয়ে মুখে দিলাম। ওর মুখেও একটা গুঁজে দিলাম। ও আমার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
কি দেখছিস।
মিত্রা আমার গালে হাত দিল।
হেসে ফেললাম।
আমাকে জাপ্টে ধরে আমার বুকে মুখ গুঁজলো। আবার কি হলো।
তুই আমাকে মার।
পাগলাম করিস না। তোকে নিয়ে আমার বড় জ্বালা।
কি করবো বল, তোর কাছে যখন আশ্রয় চাই তুই দিচ্ছিসনা কেন।
আমি ভগবান নই যে চাইলেই পাবি।
আমি তোকে আমার ভগবান বলে মানি।
ঠিক আছে চল, একটু বাগানে ঘুরে আসি। বাড়িতে একটা ফোন করে বলেদে তুই যাবি না। না হলে ওরা আবার চিন্তা করবে।
বুড়ীমাসির সঙ্গে কালকে ঝগড়া করেছি।
তোরকি মাথা খারাপ হয়েছে।
কাল হয়েছিল।
ঠিক আছে চল নিচে যাই।
দুজনে মিলে নিচে এলাম। দেখলাম, রবীন গাড়ির ভেতর বসে বসে চা খাচ্ছে। আমায় দেখে বললো, দাদা তোমার জন্য আজকে ফুল রেস্ট পেলাম।
ভাল করেছিস। চা খেয়ে নিয়ে একটা কাজ কর।
বলো।
বুড়ামিসাকে গিয়ে বলবি। মিত্রা সাতদিন এখানে থাকবে। ওর শরীরটা খারাপ। সকালে ডাক্তার এসেছিল।
রবিন আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।
আমি সারা দিন এখানে থাকলাম কিছু জানতে পারলাম না।
কেন তোকে নিয়েই তো সকালে ইঞ্জেকসন কিনতে গেছিলাম।
সেটা ম্যাডামের জন্য।
তাহলে কার জন্য। গাধা।
রবিন মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর শোন বুড়ীমাসি যদি আসতে চায়, কাল সকালে নিয়ে আসিস। গাড়ির দরকার হলে আমি ফোন করে দেব। ঠিক ঠাক ভাবে থাকিস। বেচাল হলে আমি কিন্তু খবর পেয়ে যাব।
না দাদা, আর হবে না।
রবিন চা খেয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।
এসে দেখলাম মিত্রা পেয়ারা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে, একটা ভাঙা বেঁকারি দিয়ে পেয়ারা পারার চেষ্টা করছে।
কি করছিস তুই! আবার একটা বিপদ ডাকবি নাকি। এরা সকলে তাহলে আমাকে ফাঁসি কাঠে ঝোলাবে।
আমাকে একটা পেয়ারা পেরে দে।
বাধ্য হয়ে গাছে উঠে গোটা সাতেক পেয়ারা পেরে দিলাম।
কয়েকটা কাপরে জড়িয়ে রাখলো, একটা নিজে খেতে শুরু করলো। তুই একটা খা।
ওর হাত থেকে পেয়ারা নিয়ে কামড় দিলাম।
অনেকক্ষণ বাগানের এপাশ থেকে ওপাশে ঘুরলাম, অনেক কথা বললাম। সন্ধ্যে হয়ে এলো। ফোনটা বেজে উঠলো। টিনার ফোন।
বলো টিনা।
তুমি কোথায়।
বাড়িতে।
বাড়িতে! এখন।
তোমাদের মিত্রাদির শরীর খারাপ, পাহারা দিচ্ছি।
কি হয়েছে।
সংক্ষেপে বললাম। টিনা দাদার বাড়ির এ্যাড্রেস চাইল। আমি দিলাম। লোকেসন বলতে বললো, বললাম। ও ফোনটা রেখে দিল।
ওপরে চলে এলাম, আসার সময় নিচে আওয়াজ দিয়ে এলাম, ওপরে যাচ্ছি। ছোটমা বড়মা দুজনে বসে গল্প করছিল।
ঘোরা হলো ?
মিত্রা মুখটা দেখিয়ে একগাল হাসলো।
আয়।
মিত্রা ভেতরে গেল। আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি, কোঁচর থেকে পেয়ারা বার করে একটা ছোটমার হাতে দিল, একটা বড়মার হাতে দিল, আর দুটো বড়মাকে দিয়ে বললো, একটা দাদার জন্য একটা মল্লিকদার জন্য।
ওই পাগলটা গাছে উঠেছিল। ছোটমা বললো।
আমি উঠি নি, উঠতে বাধ্য হয়েছি।
গাল ভরা কথা বলিস না। এখনো হনুমান হওয়ার সখ জাগে। বড়মা বললো।
মিত্রা হসলো, আমি আর দাঁড়ালাম না, এরপর আরও চোখা চোখা ডায়লগ বেরতে পারে। ওপরে উঠে এলাম, সারাদিন শুইনি, ঘুমও পায়নি। কিন্তু এখন কেমন কেমন যেন লাগছে।
শরীরটা ঠিক বইছেনা, ইজি চেয়ারে বসে শরীরটা ছেড়ে দিলাম, একথা ওকথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি, জানি না।
হঠাত হৈ হৈ শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।
কইরে মর্কটটা ? বললো তোকে পাহারা দিচ্ছে। ঘরের মধ্যে হুড়মুড় করে ওরা ঢুকে পরলো। দেবাশীষ, টিনা, অদিতি, মিলি, নির্মাল্য।
শালা বসে বসে ঘুমচ্ছে বলে কিনা পাহারা দিচ্ছে।
আমি আড়মোড়া ভাঙলাম, ওরা কেউ খাটে কেউ চায়ার দখল করে বসলো।
জানিস অনি, আমার একটাই দুঃখ মিত্রা আমাকে চিনতে পারল না।
শুধু তোকে, না ওদের সবাইকে।
সবাইকে। তবে যাই বল মিত্রাকে আগের থেকে অনেক সেক্সি লাগছে।
একটু চেটে দে।
শালা।
মিত্রা মুখ টিপে হাসল।
দেখলাম ওরা ফুলের বুকে নিয়ে এসেছে, সঙ্গে ফল, মিষ্টি।
এগুলো কিরে।
কিছুনা। টিনা বললো।
এগুলো এঘরে ঢোকালে কেন।
কেন!
এঘরটা নোংরা।
বেশতো পরিষ্কার দেখছি। দেবাশীষ বললো।
দেবাশীষ চেয়ারটা এগিয়ে নিয়ে এলো। আমি মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম, তুই এদের চিনতে পারিস নি ?
তুই বলনা সম্ভব। সেই দশ বছর আগে দেখেছি। তোর সঙ্গে এদের যোগাযোগ ছিল তাই....।
দাঁড়া চিনিয়ে দিচ্ছি।
অনিদা খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিচ্ছি। অদিতি চেঁচিয়ে উঠলো।
মিত্রার চোখে বিস্ময়।
কেন!
এমনিতেই দেবাশীষ তোমার গল্প বলে আমাদের ওয়ার্লডে পপুলার হয়ে গেছে, সবাই তোমাকে দেখতে চাইছে।
ভালো কথা। একদিন কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া যাবে। পার্টি দাও। কিন্তু মিত্রাকে মনে করাতে গেলে ওই ব্যাপার গুলো এসেন্সিয়াল। নাহলে মনে পরবে না।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

তুমি অদিতিরটা বলতে পার আমারটা বলতে পারবে না। মিলি বললো।
তোমরা এরকম করলে, মিত্রাকে চেনাব কি করে।
তুই বলনা শুনি।
এই দেখো মালকিন তার কর্মচারীকে হুকুম করছে শোনাবার জন্য, আমি না বলে পারি কি করে।
খুব খারাপ হয়ে যাবে বলছি। মিত্রা বললো।
আমি মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম, মনে পরে সেই সিঁড়ি দিয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে উঠছে, পায়ে হিল তলা জুতো, ঠক ঠক আওয়াজ, একটা জিনসের প্যান্ট পরা, টাইট গেঞ্জি, আমি তোকে বললাম....।
পাছুতে হাত। মিত্রা খিল খিল করে উঠে বিছানায় গড়াগড়ি খায়।
অনিদা প্লিজ, আর না। তুমি সব কেলো করে দেবে।
তারপর সেই প্রেমপত্র, হেঁদুয়াতে....দেবাশীষের দিকে তাকিয়ে বললাম, তোকে দেখিয়েছিলাম।
দেবাশীষ হ্যাঁ বললো।
এই সেই অদিতি, দেবাশীষের সহধর্মিনী।
বাবা এত হাসা হাসি, নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে। ছোটমা সবার জন্য লাইম জুসের গ্লাস নিয়ে ঢুকল।
মিত্রা হাসতে হাসতে বললো, তুমি বসো গল্পগুলো শুনে যাও একবার। ও অদিতির ব্যাপারটা রিপিড করলো। ছোটমা হেসে খান খান।
কি দুর্বুদ্ধিরে বাবা।
নেক্সট বল। মিত্রা বললো।
দেখলাম বড়মা এসে হাজির হয়েছে, বাবা তোদের হাসির চোটে নিচে টেকা দায়।
ছোটমা গিয়ে বড়মাকে হির হির করে টেনে আনল, শোনো তোমার ছেলের কলেজ লাইফের কীর্তি।
আমি বড়মাকে ইজি চেয়ার ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম।
বড়মা ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো।
এবার আমি দেবাশীষকে কি ভাবে মাথায় বুদ্ধি নেই পাছায় আছে তার গল্প বললাম।
বড়মা বললেন, তোর পেটে পেটে এত বুদ্ধি।
আমি চোখ পাকিয়ে বললাম পেটে নয়....।
সবাই হেসে উঠলো।
এবার মিলির দিকে তাকালাম।
প্লীজ অনিদা, বড়মা, ছোটমার সামনে আমার প্রেসটিজটা ডাউন করে দিও না।
এই দেখ মিত্রাকে চেনাতে হবে। তবে কি জানো মিলি, সেদিন যদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দৌড়বীর আমার সঙ্গে দৌড়তো আমি তাকে হারিয়ে দিয়ে সোনার মেডেল পেতাম। স্রেফ পেঁদানি খাওয়ার ভয়ে।
তারপর মিলিকে চুমু খাওয়ার ব্যাপারটা ডিটেলসে বললাম, এও বললাম, সেজন্য পারিশ্রমিক হিসাবে পেয়েছি একটা মোগলাই পরোটা, সাক্ষী মিত্রা। কেননা ওর ওপরেই আমার মোগলাই পরোটা নির্ভর করছিল। আবার সারা ঘরে হাসির রোল। বড়মার হাসতে হাসতে চোখে জল এসে গেল, বললো তুই থাম। আমার পেট ব্যাথা করছে।
আমি মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললাম, নে জল খা অনেক হেসেছিস।
অদিতি বললো, বাঃ এরকম সর্টিয়ালি করলে চলবে না, তুমি নির্মাল্যরটা বলো।
এটারও সাক্ষী মিত্রাদি। মিলি বললো।
হ্যাঁ। তুমি যা বললে ঠিক বলেছো। নির্মাল্যর দিকে তাকালাম, কিরে।
নির্মাল্য মাথা নীচু করে মুচকি মুচকি হাসছে।
ওরও কি সেম ব্যাপার। ছোটমা বললো।
না ওরটা একটু অন্যরকম, দেবাশীষকে যেমন মাথা আর পাছু বুঝিয়েছিলাম, ওকে মুতে নাম লিখতে বলেছিলাম।
আবার হাসি, আমি ক্যারিকেচার করে দেখাচ্ছি আর ওরা হাসছে।
বড়মা হাসতে হাসতে বললো, ও ছোট আমাকে ধরে তোল, হাসতে হাসতে আমার পেট ব্যাথা হয়ে গেল।
কি মালকিন এবার চিনতে পারলেন সবাইকে।
তুই আবার মালকিন মালকিন করছিস। মিত্রা খেঁকিয়ে উঠলো।
যা বাবা।
ছোটমার দিকে তাকিয়ে বললাম, খিদে পেয়ে গেছে।
সেকিরে! এইতো খেলি দু’ঘন্টা হয় নি।
এতোটা হাসালাম যে, বড়মা তুমি বলো তোমার খিদে পায়নি ?
খিদে পায় নি, তবে অবেলায় খেয়ে উঠলাম, বদহজম হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেল।
সবাই হাসলো।
টিনারটা বললি না। মিত্রা বললো।
ওরটা তোকে পার্সনালি বলবো।
হাসির হাট ভাঙলো। বড়মা ছোটমা বেরিয়ে গেল।
দেবাশীষ বললো, কি হয়েছে মিত্রার।
আমি এডিট করে সংক্ষেপে সমস্ত ব্যাপারটা বললাম।
দেবাশীষ বললো কি বলছিস তুই। ওদের চোখ কপালে উঠেছে।
মিত্রা মাথা নীচু করে বসে আছে।
আর বলিসনা। এবার সাতদিন গ্যারেজ। এই ডাক্তারবাবু এলেন বলে।
নাম কি।
পাশেই থাকেন দাদার বন্ধু ডাক্তার সামন্ত।
ডাক্তার সামন্ত! তুই চিনিস না।
চিনব কি করে, পেসেন্ট হয়ে কখনো যাইনি তো।
নিওরোর টপ। এশিয়ায় দশজনের মধ্যে একজন।
বলিস কিরে, ভদ্রলোককে দেখে একবারে বোঝা যায় না।
বলতে বলতেই ডাক্তারবাবুর গলা পেলাম। কই আমার পেসেন্ট কোথায় ?
আমি দরজার সামনে এগিয়ে গেলাম।
বাবা, বেশ বড় গল্পের আসর দেখছি।
কই মা, কেমন আছো।
ভালো।
তোমার চোখমুখ ভাল বলছে না।
বড়মা ঘরে এসেছে, সামন্ত ডাক্তারের পেছন পেছন।
ডাক্তারবাবু দেখলেন। ওর পায়ে কিসব দিয়ে ঠোকাঠুকি করলেন।
অনি, বাবা একটা কাগজ পেন দে।
আমি টেবিলের ওপর থেকে কাগজ পেন এনে দিলাম। উনি ওষুধের নাম লিখলেন। নিচে নিজের ফোন নম্বরটা দিলেন।
শোন এই ওষুধটা তোকে হয়তো দেবে না, তবে তুই ফোন করতে বলবি আমায়, কোথা থেকে নিবি।
সকালে যে দোকান থেকে ইঞ্জেকসন নিয়ে এলাম সেই দোকান থেকে।
কোথায় বলতো দোকানটা।
ট্রাংগুলার পার্কের কাছে। এখুনি নিয়ে আসি।
যা। নিয়ে আয়।
মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললেন, মা তোমার সাতদিন রেস্ট, এবাড়ি থেকে একেবারে বেরন যাবে না। খালি খাওয়া দাওয়া আর ঘুম।
মিত্রা মাথা নীচু করে বসে আছে।
আমি দেবাশীষকে বললাম, চল দেবা।
দেবাশীষ উঠে এলো। ওর গাড়ি নিয়ে চটকরে ওষুধটা নিয়ে এলাম। ডাক্তারবাবু ওদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। আমায় দেখে বললেন, তোকে দিয়েছে।
হ্যাঁ। আপনার সইটা চিন্তে পেরেছে।
দেখি।
আমি ওঁর হাতে ওষুধটা দিলাম।
ঠিক ওষুধ দিয়েছে।
উনি কি ভাবে খেতে হবে বলেদিলেন। সাতদিন পর বাড়ির বাইরে বেরবার পার্মিসন দেবেন।
আমি মিত্রার দিকে তাকালাম, শুনে নে, ঘ্যানর ঘ্যানর করবি না।
অনি ঠিক বলেছে মা। তুমি এই বাড়ির মধ্যে থাকবে, খুব বেশি হলে নিচের বাগানে ঘুরতে যাবে। আজ রাত থেকে ওষুধ চালু করে দাও। আমি যাই, নিচে গিয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে একটু আড্ডা মারি।
আমরা সবাই হাসছি।
ডাক্তারবাবুকে নিচে পৌঁছে দিলাম, ছোটমা বললো অনি দাঁড়া এগুলো একটু ধর।
আমি একবুক নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম, কি দারুন গন্ধ।
দেব কান মূলে।
ছোটমার সঙ্গে ট্রে ভাগাভাগি করে ওপরে নিয়ে এলাম, আমায় দেখে মিত্রা নামতে চাইছিল, টিনা বললো, তোমায় যেতে হবে না মিত্রাদি, আমি যাচ্ছি। টিনা আমার হাত থেকে একটা ট্রে নিয়ে বিছানার ওপর রাখলো। আমি ছোটমার হাত থেকে ট্রে নামিয়ে রাখলাম।
এবার একরাউন্ড চা। আমি বললাম।
ওটা গেল আগে, তারপর দিচ্ছি। ছোটমা বললো।
তথাস্তু।
টিনা, মিলি, অদিতি হাসছে।
ছোটমা চলে গেল। আমরা খেতে খেতে কথা বললাম, কলেজ লাইফের কথা কর্মজগতের কথা।
দেবাশীষ বলে উঠল। কালকের ঘটনাটা তুই দারুন দিয়েছিস।
তুই কার কাছ থেকে শুনলি।
আবার কে চম্পক।
তোকে ফোন করে বললো!
হ্যাঁ। আক্ষেপ করছিল, আমাকে দিলে না। দিয়েছি কাঁচা কাঁচা খিস্তি। তারপর বললো সব ঘটনা। আমিও বললাম, অনি বলে আপনার চাকরিটা গেল না, না হলে কি হতো বুঝতে পারছেন, ওই হাউস থেকে কেউ বেরোয় না, তাড়ান হয়। আপনি আর কোথাও চাকরি পেতেন। চুপ করে গেল। তারপরের ব্যাপরগুলো বল।
সে অনেক কথা, তোকে একদিন গিয়ে বলবো।
আমি কিছু কিছু জানি। তবে মলটাকে তুই দারুন টাইট দিয়েছিস। তোকে আমার প্রয়োজন হবে।
যখন প্রয়োজন হবে বলিস, অবশ্যই সাহায্য করবো।
আমি টিনার মুখ থেকে শুনলাম খবরটা। মিত্রার শরীর খারাপ, সঙ্গে সঙ্গে ডিসিসান।
আমারই জানান উচিত ছিল।
তোর সকালের ম্যাসেজটা পড়লাম, ১১টার পর। ওই কানা রাতে কি করছিলি।
ফিরছিলাম।
কোথা থেকে।
বিশ্বযুদ্ধ করে।
মিত্রা মাথা নীচু করে মুচকি মুচকি হাসছে।
দেবাশীষ ইশারায় একটা ইঙ্গিত করছিল, আমি ইশারাতেই ওকে বললাম না।
ও হাসছে কেনরে।
তুই জিজ্ঞাসা কর।
আমি ভাবলাম, কাল রাতেই কিছু একটা হয়েছে।
ঠিকই ধরেছিস, কাল থেকেই চলছিল। আজ বাস্ট আউট হল। সকালের সেই দৃশ্য দেখলে তুই ঘাবড়ে যেতিস।
মিত্রা তোর ফোন নম্বরটা দে।
মিত্রা ওদের ফোন নম্বর দিল। প্রত্যেকে মোবাইলে ফোন নম্বরটা সেভ করে নিল। দেখতে দেখতে নটা বেজে গেল। ওরা উঠলো। আমি মিত্রা নিচ পর্যন্ত ওদের এগিয়ে দিলাম। গুডনাইট বলে সবাই চলে গেল।
আমরা দুজনে নীচে এসে বসলাম। বড়মা রান্নাঘরে। ছোটমা টিভি দেখছে। সিরিয়াল। কিছুক্ষণ বসে দেখলাম, ছোটমা কথার ফাঁকে বললো, হ্যাঁরে অনি তুই যে কলেজ লাইফে এই তেঁদড়াম করতিস কে শেখাত তোকে ? মিত্রা।
আমি মিত্রার দিকে তাকালাম, মিত্রা মুচকি মুচকি হাসছে, মিথ্যে বলবো না। আমার মাথায় তখন নিত্য নতুন বুদ্ধি আসত। ইনস্ট্যান্ট। একচুয়েলি গ্রামের ছেলে শহরে এসে দাদা হতে হবে। তাই এসব।
তোর কি ছোট থেকেই দাদা হবার সখ।
কেন।
মিত্রার মুখ থেকে ওখানকার গল্প শুনছিলাম, ওখানে তোকে সবাই দেবতা হিসাবে মানে।
ঠিক তা নয়। একটা সময় ছিল, যখন যে কেউ দায়ে অদায়ে ডাকলেই আমাকে পেত। তাছাড়া আমার একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল আমি মা-বাপ মরা ছেলে। যেখানে খুশি চলে যেতাম। বাধা দেবার কেউ নেই।
বাজে বকিস না।
এইদেখ সত্যি কথা বললেই বাজে বকা হয়ে গেল।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

ছোট, কি বক বক করছেরে অনি।
বড়মা রান্নাঘর থেকে চেঁচাল।
দেখনা যা জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর না দিয়ে উল্টে গল্প ফাঁদছে।
ওটা ওর দাদার থেকে পেয়েছে। কিছু তো পেতে হবে, সোজা কথা কনোদিন সোজা করে বলে না।
আমি উঠে রান্না ঘরে চলে গেলাম।
ছোটমা মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললো, চললেন তেল মারতে।
আমি হাসলাম।
রান্নাঘরে গিয়ে বড়মাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম।
ওরে ছার ছার পুরে মরবো।
কি ভাজছো।
মাছের ডিমের বড়া। খাবি ?
দেখলাম, মিত্রাও আমার পেছন পেছন উঠে এসেছে।
ওকে একা নয়, আমিও পেছনে আছি।
ছোটরে, ওদের একটা প্লেটে করে দে।
ছোটমা উঠে এলো।
দুর তোমার প্লেট, আমি থালা থেকে দুটো বড়া তুলে নিয়ে চলে এলাম।
আমাকে দে।
তোর জন্য প্লেট।
বড়মা ফিরে তাকাল, তোকে দেয় নি।
না।
কি বদমাশ ছেলেরে বাবা। স্বার্থপর একের নম্বরের।
ছোটমা দাঁত কিড়মিড় করছে।
আমি বড়া খাচ্ছিলাম। মিত্রা আমার পাশে এসে বসলো। দেখলাম ওর প্লেটে চারটে। দিলাম একটা খাবলা। মিত্রা না না করে উঠলো। বড়মা চেঁচিয়ে উঠল, কি হলরে আবার।
দেখনা, আমার প্লেট থেকে দুটো তুলে নিল।
অনি।
নাগো বড়মা মিথ্যে কথা বলছে।
মিত্রা, তুই আয় আমি দিচ্ছি।
মিত্রা রান্নাঘরে গেল।
বাইরে হর্ন বেজে উঠলো, বুঝলাম সাহেবরা ঢুকলেন।
আমি হাত মুখ মুছে সোফার এককোনে বসলাম। মিত্রা বড়মার সঙ্গে রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ফুসুর ফুসুর গুজুর গুজুর করছে।
মল্লিকদা ঘরে ঢুকল, কি অনিবাবু স্যার আজ সারাদিন গ্যারেজ।
কোন কথা বললাম না।
ছোটমা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
জীবনে প্রথম। বুঝলে ছোট।
সারাদিন ওর কীর্তিকলাপ শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে।
তাই। রাতে দু-ঘন্টা সময় দিও।
ছোটমা ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না।
বাবা, অনিবাবুর দেখি রাগও আছে। মল্লিকদা বললো।
থাকবে না। যতই হোক রক্তমাংসের শরীর বলে কথা। ছোটমা বললো।
কইগো শুনছো। ঢুকতে ঢুকতে অমিতাভদা চেঁচিয়ে উঠলো।
দেখছিস মিত্রা দেখছিস, কেমন শাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছে, যেন বিশ্বজয় করে এলো।
এদিকে এসো আগে।
আমি অমিতাভদার দিকে তাকালাম, মল্লিকদা সোফায় হেলান দিয়েছে, ছোটমা, ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জলের বোতল বার করে গ্লাসে ঢালছে। বড়মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো, পেছন পেছন মিত্রা।
বড়মার দিকে তাকিয়ে বললো, আজ অনি ফাটা ফাটি করে দিয়েছে। আমার দিকে ঘুরে, তুই কাল সারারাত অফিসে ছিলি কই বলিসনি।
আরও অনেক জায়গায় ছিলেন। ছোটমা বললো, জুরিবেঞ্চে গোপন জবানবন্দী দিয়েছে।
তাই নাকি, কি করে জানব।
ন্যাকা জানেনা যেন কিছু।
বড়মা দাদার দিকে তাকিয়ে খেঁকিয়ে উঠল।
কালকে যেগুলো ফুস ফুস করছিলে, আজ পুরপুরি বললো। মনটা শান্তি হলো।
বলেছে বুঝি। তা ভাল, তা ভাল।
মিত্রা মুখে কাপর চাপা দিল।
তুই তো মল্লিকের কাজ বারিয়ে দিলি।
দাদার দিকে তাকালাম।
কাল সারারাত যে ছেলেগুলকে বুদ্ধি দিয়েছিলি, তারা আজ ১টার থেকে হাজির। আমাকে জালিয়ে পুরিয়ে মারলে। তোর কথা বলে, শেষে আমি বললাম, ও হঠাৎ আজ সকাল বেলা কলকাতার বাইরে চলে গেছে। এক সপ্তাহ বাদে আসবে।
ব্যাস মল্লিকের টেবিলে চলে গেল। তুই বেশ ভাল ভাল সাবজেক্ট দিয়েছিস ওদের। লিখেছেও বেশ। আমি মল্লিককে বলেছি, একটু কারেকসন করে দে। কাউকে বল ছবিটবি তুলে আনতে। সুনিত এসব দেখে থম মেরে গেছে, তুই কাল ওই কানা রাতে অফিস গেছিস শুনে।
ওর লেখাটা বলো।
মার্ভেলাস নামিয়েছিস। আমি সার্কুলেসনের ছেলেটাকে ডেকে বললাম যদি পারিস একটু বেশি ছাপিস।
কেন বললে। রিটার্ন হলে তুমি কিনবে। আমি বললাম।
আচ্ছা আচ্ছা আর বলবো না।
বড়মা আমার আর মিত্রার মাঝখানে বসেছে, আমার দিকে তাকিয়ে বললো, যেটা তুই বললি, ওই মিউজিয়াম না কি।
হ্যাঁ।
তার জন্য এতো চেঁচামিচি।
তুমি নিউজের কিছু বোঝ।
কথা শোন, সাতকান্ড রামায়ন পরে শীতা কার বাপ, আজ পঁচিশ বছর তোমার সঙ্গে ঘর করছি, আমি বুঝবনা কি তুমি বুঝবে।
বড়মা এমন ভাবে কথা বললো হেসে ফললাম।
এই বলে রাখি শোনো, মেয়েটা অসুস্থ সামন্ত ডাক্তার বলে গেছে, সাতদিন বেরনো বন্ধ। অনিকে একেবারে বিরক্ত করবে না। যদি করো অনর্থ হয়ে যাবে।
ঠিক কথা একেবারে মনে ছিল না, কেমন আছিসরে। দাদা মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললো।
মিত্রা মাথা দুলিয়ে বললো, ভালো।
এখন উঠে পরোতো দেখি, তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পরতে হবে।
অমিতাভদা ছোটমার দিকে তাকাল।
দিচ্ছি দাঁড়ান।
একেবারে দিবি না।
ছোটমা আমার জন্য একটু। আমি বললাম।
ছোটমা মিত্রার দিকে তাকাল, কিরে তোরও লাগবে।
মিত্রা হেসে ফেললো।
বড়মা মুখ ভেটকে বসে রইল।
বড়মা অমিতাভদা যখন কথা বলে বেশ মজা লাগে। মাঝ মাঝে বড়মার কথা জানতে ইচ্ছে করে। কখনো তা প্রকাশ করি নি। এদের মধ্যেও একটা সুইট রিলেসন আছে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে, ছোটমা মল্লিকদা অনেক রিজার্ভ। আমি বশে বশে নিউজ চ্যানেল দেখছি, মল্লিকদা দাদা কথা বলছে, মিত্রা বড়মা কথা বলছে।
ছোটমা চা নিয়ে এলো।
বুঝলে কাগজের অফিসে যারা কাজ করে তাদের চা খেতেই হবে। সেখানে কোন লিমিট নেই। তাইনা অনি ?
তুমি এক কাজ করলে পার। আমি দাদার দিকে তাকিয়ে বললাম।
বল।
তুমি কিছু দিন অফিসে না গিয়ে বড়মাকে তোমার টেবিলে পাঠিয়ে দাও। বড়মার চা খাওয়া অভ্যাস হয়ে যাবে। তাহলে আর তোমার কোন অসুবিধে হবে না।
বড়মা আমার কানটা ধরতে যাচ্ছিল আমি মাথা সরিয়ে নিয়ে বললাম, গায়ে চা পরে যাবে।
মিত্রা মুখ টিপে হাসতে গিয়ে কাপরে চা ফেলল।
দিলি তো। তুই হাসতে গেলি কেন, ওদের মা বেটায় যুদ্ধ হচ্ছে হতে দে। দাঁড়া রাতে তোর মল্লিকদাকে তোর কীর্তি কলাপ বলবো। ছোটমা বললো।
দারুন নিউজ না। মল্লিকদা বললো।
দারুন মানে। তুমি স্কুপ হিসাবে ট্রিট করতে পার। আবার সাক্ষীকে মিত্রা।
আমি লিখে দিতে পারি। মিত্রা বললো।
আমি মিত্রার দিকে তাকালাম। কালকের থেকে একলা থাকবি। আমি বেরব।
না না এরকম করিস না।
উইথড্র কর।
আচ্ছা উইথড্র।
চায়ের আসর ভাঙল। তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পরলাম, আমার আর মিত্রার বিছানা আমার ওপরের ঘরে। আমি আগে ভাগে ঘরে চলে গেলাম। মিত্রা এলো একটু দেরি করে।
এসেই দরজা বন্ধ করলো।
সবাই শুয়ে পরেছে ?
কোন কথা না বলে পটা পট ব্লাউজ কাপর খুলে বাথরুমের দিকে দৌড়ল।
কি হলোরে ?
তুই টাওয়েলটা দে।
আমি এগিয়ে দিলাম।
মিত্রা বাথরুমে ঢুকলো। কিছুক্ষণ পরে চেঁচিয়ে ডাকলো। বুবুন।
আমি বাথরুমের গেটের কাছে গেলাম।
বল।
শীত করছে।
তার মানে!
জানি না।
বেরো তাড়াতাড়ি।
তুই আয়। দরজা খোলা।
আমি দরজা খুলে দেখি, মিত্রা শায়া পরে দাঁড়িয়ে।
কি করছিলি।
পটি।
ধুয়েছিস।
ধুতে গিয়েই শীত লাগল।
হাত পা মুছেনে। ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে।
শায়া পরে বেরিয়ে এলো। কাপরটা কোন প্রকারে জড়িয়ে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।
ওষুধটা কে খাবে।
দে।
আমি একটা ট্যাবলেট আর জলের গ্লাস এগিয়ে দিলাম।
ও ট্যাবলেটটা মুখে দিয়ে জল খেল।
নে এবার শুয়ে পর, আমি চাপা দিয়ে দিচ্ছি।
তুই শুবি না।
শোব।
মিত্রার গায়ে একটা কম্বল চাপা দিলাম। ও বললো তুই চলে আয় তোকে জাপ্টে ধরে শুই, তাহলে শীতটা কমবে।
দাঁড়া লাইটটা নেবাই আগে।
আমি লাইটা অফ করে ছোট লাইট জালালাম। ওর কম্বলের তলায় গিয়ে শুয়ে পরলাম।
কিরে শরীর খারাপ লাগছে নাকি।
না। মাথাটা একটু যন্ত্রণা করছে।
দাঁড়া টিপে দিই।
উঠে বসলাম। ওর মাথাটা টিপে দিলাম। উপুর হয়ে শুয়ে বললো কোমরটা টিপে দে। তাও দিলাম। তারপর বললো পা দুটো একটু টিপে দে, তাও দিলাম। কখন যে ও ঘুমিয়ে পরেছে বুঝতে পারলাম না। আমার গরম লাগছে, তবু আমি পাখাটা একটু কমিয়ে দিয়ে মিত্রার পাশে শুয়ে পরলাম ওর মাথায় হাত রেখে।
কখন ঘুমিয়ে পরেছি জানি না। হঠাত প্রচন্ড গরম লাগল। ঘুম ভেঙে গেল। মিত্রার মাথায় হাত দিয়ে দেখি, গা পুরে যাচ্ছে। বড় লাইটটা জাললাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম, দেড়টা বাজে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

মাথাটা বন বন করে ঘুরেগেল, টেবিলে একটা থার্মোমিটার ছিল। কাগজের ডাঁই থেকে তাকে খুঁজে বার করলাম। মিত্রাকে ডাকলাম, ও গঁ গঁ করছে। বাধ্য হয়ে ওর বুকের কাপর সরিয়ে ব্লাউজের বোতাম খুলে বগলে থার্মোমিটার গুঁজলাম, সাড়েতিন জ্বর।
এতরাতে কাকে ডাকি। মিত্রাকে কনো প্রকারে জাগালাম, বললাম, জ্বর এসেছে, আমাকে একটু হেল্প কর। চোখ জবা ফুলের মতো লাল।
আমার শীত করছে।
ঠিক আছে।
মানিপার্টসের ভেতর সব সময় ক্যালপোল নিয়ে ঘুরি। ভাবলাম একটা দিয়ে দিই। তারপর ভাবলাম না আগে মাথায় জল ঢালি। আর জল পট্টি দিই। মিত্রা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
কি ভাবছিস ?
কিছু না। তুই মাথাটা এদিকে নিয়ে এসে শো। মাথাটা একটু ধুইয়ে দিই।
শীত করবে।
করলে কি করবো বল, জ্বরটা নামাতে হবে।
ওকে ধরে ধরে খাটের এপাশে শোয়ালাম। একটা পলিব্যাগ জোগার করে তাকে কেটে দুটুকরো করে ওর মাথার তলায় দিলাম। চুলগুলো যাতে না ভেঁজে তার ব্যবস্থা করলাম। তারপর বাথরুম থেকে বালতি করে জল এনে ওর মাথায় ঢাললাম। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে ঢালার পর ও বললো, বুবুন এবার তুই বন্ধ কর।
কেন! কি হয়েছে বল, অশ্বস্তি হচ্ছে।
না শীত করছে। ওর দাঁত ঠক ঠক করে কাঁপছে।
চোখের লালাভাবটা কিছুটা কম, ছল ছল করছে। আমি ওর মাথা শুকনো করে মুছিয়ে দিলাম, মুখটা ভিঁজে টাওয়েল দিয়ে মুছিয়ে দিলাম।
আর দিসনা, শীত।
বাধ্য হয়ে মানিপার্টস থেকে ক্যালপোল বার করলাম। নে এই ট্যাবলেটটা খেয়েনে।
ওকে মুখের মধ্যে ট্যাবলেটটা দিয়ে জল ঢেলে দিলাম এক ঢোক খেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
আর না।
এই জন্যই তোদের এত রোগ, জলখাবি না, বাথরুম করবি না।
মিত্রা ফিক করে হেসে ফেলল।
হাসিসনা গা জ্বলে যায়।
মিত্রা দু’চারবার হাঁচি মারল।
বুঝলাম ঠান্ডা লেগিয়েছে।
মগে করে জল এনে যে পাঞ্জাবীটা সকালে ছিঁড়েছিল তার থেকে দুটুকরো ছিঁড়ে নিলাম। খুঁজে খুঁজে একটা পিচবোর্ড বার করলাম।
কি করবি।
হাত পাখা পাব কোথায় এই কানা রাতে। হাওয়া দিতে হবে।
ওর মাথার শিয়রে বসে জল পট্টি দেওয়া শুরু করলাম।
মিত্রা ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
তোকে খুব কষ্ট দিচ্ছি না।
একবারে না। কথা বলিস না।
দেখিস আমার কিছু হবে না। কই মাছের জান।
জ্ঞান দিস না। জ্বরটা আগে নামাই তারপর তোর কথা শুনব। এখন ঘুমবার চেষ্টা কর।
ঘুম আসছে না।
আসবে।
দেখতে দেখতে এক ঘন্টা হয়ে গেল। আবার থার্মোমিটার বগলে গুঁজলাম।
কিরে আমার ব্লাউজের বোতাম খোলা কেন।
চুষছিলাম।
একবার ডাকবি তো। আমিও একটু ....।
থামবি।
টেনসন করছিস কেন। দেখবি কিচ্ছু হবে না।
জ্বর এখন আড়াই।
আবার জলপট্টি দেওয়া শুরু।
আবার এক ঘন্টা পর দিলাম, দেখলাম জ্বরটা নিরানব্বই। জলপট্টি দেওয়া থামালাম।
বুবুন গরম লাগছে।
লাগুক কম্বল খোলা যাবে না।
ঠিক আছে তুই একটা পাতলা চাদর গায়ে দে।
ওর কথা মতো তাই করলাম।
একবারে উঠবি না আমি একটু নীচ থেকে আসছি।
কেন।
তোমার সেবা করার জন্য।
নীচে গিয়ে রান্নাঘর থকে সরষের তেল বার করলাম, গ্যাস জালালাম, তেলটা গরম করে সাঁড়াসি দিয়ে ধরে ওপরে নিয়ে এলাম।
বুবুন বাথরুমে যাব।
এর মধ্যে তোর আবার বাথরুম পেল! যেতে হবেনা, আমি মগ এনে দিচ্ছি।
মিত্রা আমার কথা শুনে হাসল।
তুই আমাকে একটু ধর, আমি যেতে পারব।
আবার ওকে ধরলাম। ও আমার কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল, বাথরুমের সামনে গিয়ে বললাম ভেতরে যেতে হবে না, এখানে বোস।
ঠিক আছে তুই চোখ বন্ধ কর।
ন্যাকামো করিস না। সব দিয়ে থুয়ে এখন বলে চোখ বন্ধ কর।
আমার হবে না।
ঠিক আছে বন্ধ করলাম।
একটু মগে করে জল এনেদে।
কেন।
উঃ।
আবার মগে করে জল দিলাম। ধরে ধরে খাটে এনে শুইয়ে দিলাম। দাঁড়া থার্মোমিটারটা দিই।
কতবার দিতে লাগে।
তোর জানার দরকার আছে।
এবার জরটা দেখলাম, সারে আটানব্বই।
কত।
সামান্য আছে। পাখাটা বন্ধ করলাম।
পাখা বন্ধ করছিস কেন, সেবা করব।
মিত্রা হেসে ফেললো।
কাপর খোল।
ও কাপর খুললো।
ব্লাউজ খোল।
করবি।
হ্যাঁ করবো। তোকে দেখে আমারটা....।
দেখি দেখি হাত বাড়াল....।
আর জালাস না।
টেবিলের ওপর থেকে তেলের বাটিটা নিয়ে এলাম। এখনো গরম আছে। আমি ফুটিয়ে নিয়ে এসে ছিলাম, প্রথমে ওর কোমর পিঠটা মালিশ করে দিলাম, তারপর বুকটা দিলাম, ও বদমাইশি করছে, মাঝে মাঝে খুনসুটি করছে, শায়াটা একটু তোল।
তেল লাগাবি!
হ্যাঁ। না হলে....।
তোরটা দে একটু।
কট কট করে ওর দিকে তাকালাম।
ভাল করে দুটো পা পায়ের চেটো তেল মালিশ করলাম এবার বললাম ব্লাউজ পর।
এই তেল গায়ে।
যা বলছি কর।
তুই কিন্তু দারুন ম্যাসেজ করতে পারিস।
কেন অন্যকিছু করতে পারি না।
ওতে তুই মাস্টার।
মিত্রা কাপর ব্লাউজ পরলো।
নে এবার শুয়ে পর।
ও শুয়ে পরলো, আমি ওর পাশে শুয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম, ও আমাকে জাপ্টে ধরেছে।
বুবুন।
উঁ।
তোকে অনেক কষ্ট দিচ্ছি না।
ঘুমবার চেষ্টা কর।
জানিস বাবার কথা মনে পরে যাচ্ছে।
কেন।
অসুস্থ হলে বাবাও ঠিক তোর মতো রসুন তেল দিয়ে সারা শরীর মালিশ করে দিত। বড়ো হওয়ার পর খালি পা দুটো মালিশ করে দিত।
ও।
আজ তোর মালিশ করা দেখে, বাবার কথা মনে পরে গেল।
বুঝলাম মিত্রা কাঁদছে।
আবার কাঁদে।
জানিস আজ সারা দিন কেঁদেছি। ছোটমার কাছে আমি কনফেস করেছি।
ভাল করেছিস।
তুই আমাকে ভীষণ ভালবাসিস না।
একবারে না।
ভালো না বসলে কেউ এই ভাবে করতে পারে না।
সম্পত্তি দিয়েছিস, করতে হবে।
মিত্রা চুপচাপ।
পাখাটা একটু চালিয়ে দিবি।
না। আমি হাওয়া দিচ্ছি।
আমি পিচবোর্ডটা নিয়ে হাওয়া দিতে আরম্ভ করলাম।
বুবুন।
উঁ।
আমাকে এখান থেকে কোথাও দূরে নিয়ে যাবি।
যাব।
কোথায় বল।
একটু ভাল হয়ে ওঠ নিয়ে যাব।
সেখানে তুই আর আমি, আর কেউ থাকবে না।
সেতো সমুদ্রের মাঝখানে যেতে হয়, কিংবা কোন নির্জন দ্বীপে।
তাই যাব।
আচ্ছা।
কোথায় নিয়ে যাবি।
ভেবে দেখি।
ও আমার হাতটা টেনে বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে নিল। চোখ বন্ধ। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। কথা বলতে বলতে কখন ঘুমিয়ে পরলো বুঝতে পারলাম না। আমি ওর গায়ে একটা পাতলা চাদর চাপা দিয়ে ওর মুখের দিকে চেয়ে রইলাম।
ওর পাশ থেকে সরে এসে ইজিচেয়ারে বসলাম।
সাড়ে চারটে বাজে। জ্বর দেখলাম, না এখন নেই।
একটু তন্দ্রা মতে এসেছিল।
দরজা ঘট ঘট করতে ঘড়ির দিকে তাকালাম। সোয়া পাঁচটা, পূব আকাশ সবে ফর্সা হয়েছে।
দরজা খুললাম। ছোটমা। চায়ের কাপ হাতে।
লাইট জেলে ঘুমচ্ছিস!
ছোটমা ঘরের ভেতর এলো।
কিরে এসব কি! বালতি মগ তেলের বাটি শাঁড়াসি, জলপট্টি।
ছোটমাকে ইসারায় চুপ করতে বললাম।
তারপর চা খেতে খেতে সব বললাম, চারটে নাগাদ ঘুম পারিয়েছি। ছোটমা আমাকে বুকে জরিয়ে ধরল, কাপরের খুঁট দিয়ে চোখ মুছল। ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বড়মা, ছোটমা, মল্লিকদা, দাদা এসে হাজির। সবাই চুপচাপ। থম থমে মুখ। ছোটমা বললো, যা আমার ঘরে গিয়ে একটু শুয়ে পর। দুরাত তোর ঘুম হল না, শরীর খারাপ করবে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

দাদার দিকে তাকিয়ে বললাম, ডাক্তারবাবুকে একবার ডাকো।
দাঁড়া। আলো ফুটুক, ডাকছি।
ছোটমার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমাকে একটু চা খাওয়াবে।
চা কেন ? ছোট ওকে একটু হরলিক্স করে দে। বড়মা বললো।
ছোটমা বেরিয়ে গেল। দাদা ইজি চেয়ারে, আমি দাদার পাশে মাটিতে, বড়মা মিত্রার মাথার শিয়রে। মল্লিকদা চেয়ারে।
মল্লিক আমার সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে আয়।
মল্লিকদা বেরিয়ে গেল। সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে এসে দাদাকে দিল। দাদা একটা সিগারেট ধরাল।
বুঝেছ।
বলো।
তোমরা কয়েকদিনের জন্য কোথাও ঘুরে এসো। আমি মল্লিক ঠিক ম্যানেজ করে নেব।
সেই ভালো।
কিরে মল্লিক পারব না।
খুব পারব।
কোথায় যাই বলো।
অনির বাড়ি চলে যাও। মিত্রা ওখানে গিয়ে কয়েকদিন বেশ ফুরফুরে ছিল, লক্ষ করেছিলাম।
কিরে অনি যাবি।
যাওয়া যায় তবে আগে ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞাসা করো উনি কি বলেন।
মেয়েটার নার্ভের ওপর খুব চাপ পরে গেছে। সহ্য করতে পারেনি। মল্লিকদা বললো।
সামন্ত তাই বলছিল। বিকেলে এসেছিল। দেখে বললো, মা তোমার চোখটা ভাল ঠেকছে না। ওষুধ লিখে দিল। আমার দিকে তাকিয়ে বড়মা বললো, হ্যাঁরে ওষুধটা খাইয়েছিস।
আমি মাথা দোলালাম।
জ্বরটা কখন এলো।
দেড়টা।
ডাকলিনা কেন।
শুতে গেলে বারোটা, ডাকি কি করে।
পাকাম করিস না। একা একা সব করলি।
কি করবো।
মল্লিক তোরাও কিছু জানতে পারিস নি।
হ্যাঁ, বাথরুমে আওয়াজ হচ্ছিল, ভাবলাম কেউ বাথরুম ইউজ করছে। প্রায় দুটো পর্যন্ত জেগেছি, ছোট অনি আর মিত্রার সম্বন্ধে গল্প করছিল।
ছোটমা চা হরলিক্স নিয়ে এলো। সবাইকে চা দিল আমাকে হরলিক্সের গ্লাসটা এগিয়ে দিল। এখান থেকে দুটো বিস্কুট নে।
নিলাম।
তোমায় বলছিলাম, দেখো বাখরুমে ঘট ঘট শব্দ হচ্ছে।
হ্যাঁ।
তখন অনি মিত্রার মাথায় জল ঢালছিল, সাড়ে তিন জ্বর উঠেছিল।
সব্বনাশ।
তুই কি করলি সেই সময়। দাদা বললো।
প্রথমে জল ঢাললাম মাথায়, তারপর আমার কাছে ক্যালপল ছিল দিলাম, সারারাত জলপট্টি দিলাম, রান্নাঘর থেকে তেল গরম করে এনে মুখে কপালে, পায়ে পায়ের চেটো, আর হাতে মালিশ করলাম। ঘন্টা খানেক হলো ঘুমিয়েছে।
তুইতো ট্রেন্ড নার্স। দাদা বললো।
ছোটমা মুখ টিপে হাসল।
বড়মা দাদার দিকে তাকিয়ে বললো, মস্করা হচ্ছে।
তুমিই বলো বড়, ওই সময় মাথা ঠিক রেখে অনি ঠিক ঠিক কাজ করেছে কিনা।
তোমার মতো নাকি কিছু হলেই দশবার বাথরুমে দৌড়বে। ও ছোট আর আমার ছেলে।
মিত্রা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।
বড়মা মিত্রার দিকে তাকাল।
দাদার দিকে তাকিয়ে বললো, মেয়েটা জেগে গেলে, ঘার মটকাব।
যাই ডাক্তারকে ধরে নিয়ে আসি।
দাদা চলে গেল। ছোটমা ইজি চেয়ারে বসলো। আমি ছোটমার কোলে মাথা রাখলাম, কপালের দুপাশটা ভীষণ টিপ টিপ করছে। ছোটমা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
যা না অনি, আমরা আছি, ছোটর ঘরে গিয়ে একটু শুয়েনে। বড়মা বললো।
ঘুম পাচ্ছে না।
থাক। ছোটমা বললো।
কি বিপদে ফেললে বলতো মেয়েটা। বড়মা ছোটর দিকে তাকিয়ে বললো।
সব ওপর ওলার ইচ্ছে, নাহলে আমাদের কাছেই বা আসবে কেন। মল্লিকদা বললো।
ঠিক বলেছিস, এই কদিন যেন একটা ঝড় চলছে।
অমিতাভদা ডাক্তারবাবুর গলা পেলাম।
ডাক্তারবাবু ঘরে ঢুকলেন।
কি অনিবাবু ধূম জ্বর এসেছিল।
আমি উঠে দাঁড়ালাম, ছোটমা ইজিচেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। ডাক্তারবাবু ইজি চেয়ারে বসলো। মল্লিকদা চেয়ারটা দাদার দিকে এগিয়ে দিল। ওরা দুজনে মিত্রার পায়ের দিকে বসলো।
বলো কি কি হয়েছিল, আমি একটু মিলিয়ে নিই আমার সঙ্গে।
আমি পঙ্খানুপুঙ্খরূপে যা হয়েছিল, তাই বললাম।
তুমি কি ওর বুকে পিঠে তেল মালিশ করেছিলে ?
মাথা নীচু করলাম।
লজ্জার কিছু নেই, তখন তুমি নার্স।
মাথা দোলালাম।
দ্যাটস গুড।
এমনি তেল না গরম তেল।
বললাম তেল গরম করে মালিশ করেছি।
ওঃ ওয়ান্ডারফুল। ঝড়টা কাটল। বুঝলে এডিটর।
মস্করা রেখে আসল ব্যাপারটা বলোতো সামন্ত। বড়মা ঝমটা মেরে বলে উঠলো।
কি হয়েছিল জান। ওর নার্ভগুলো হঠাত ক্র্যাম ধরে গেছিল, তাই ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছিল। ওটা কিন্তু ও করেনি, ওর নার্ভ করিয়েছিল। কাল আমি একটা ইঞ্জেকসন দিলাম, নার্ভগুলকে জাগাবার জন্য আর একটা দিলাম ঘুমবার জন্য। তাহলে নার্ভগুলো তাড়াতাড়ি সতেজ হবে।
বিকেলে যে ট্যাবলেটটা দিলাম, সেটা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু নার্ভগুলো ঘুমিয়েছিল, যখন জাগতে আরম্ভ করলো, তখন আড়মোড়া ভাঙলো, জ্বর এলো, ধুম জ্বর। সেই সময় যা যা করার দরকার অনিবাবু তা করেছে। আজ দেখবে ও অনেক সতেজ থাকবে।
কিন্তু একটা কথা এখান থেকে নড়ান যাবে না। সাতদিন। তারপর তোমরা যেখানে যাবার যাও। তখন ঝড় একেবারে কেটে যাবে। ভবিষ্যতে ওকে একেবারে বেশি স্টেইন দেওয়া যাবে না। একবার ব্রেক ডাউন করলেই, পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা। ছোট এবার একটু চা হোক। তারপর মাকে দেখছি। ছোটমা বেরিয়ে গেল।
তুমি আগে একবার দেখ, তারপর চা খাবে। বড়মা বললো।
আর একটা ব্যাপার এর মধ্যে ঘটেছে। আমি বললাম।
বলো।
কালকে ও ক্লাবে গেছিল....।
তোমার ছোটমা আমাকে বৈকালে ঘটনাটা বলেছে। ওটাও তুমি ভাল কাজ করেছ। সবই ফাসট্রেসন বুঝলে অনিবাবু। কখনো হতাশায় ভুগবে না, ভুগলেই বিপদ। কি থেকে কি হয় বলা মুস্কিল। আমরা পযর্বেক্ষণ করে যতটা পারি ওষুধ দিই।
ছোটমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকল। আমার দিকে তাকিয়ে বললো, তোকে কম করে দিলাম, দু’রাত তোর জাগা হয়ে গেল।
তাতে কিছু হবে না। ও খুব স্ট্রং ম্যান।
ক্রমশঃ

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

থামো তুমি। ছেলেটাকে পিষে মেরে দিলে এরা। বড়মা বললো।
বুবুন। মিত্রা চোখ চাইল।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। মিত্রা আমার দিকে তাকাল।
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে চারদিক দেখছে।
বড়মা মিত্রার মাথায় হাত রাখল।
তুই কিছু ভাবিস না, আমরা সবাই আছি।
ডাক্তারবাবু চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, বুবুন কে ?
বড়মা বললেন, অনির আর এক নাম। মিত্রা ওকে বুবুন বলে ডাকে।
বাঃ বেশ মিষ্টি নামটা, অনি এনামটা তোমার কে রেখেছিল।
আমার মা।
ও।
মিত্রার চোখ দুটো ছল ছলে।
কাঁদছিস কেন। বড়মা ওর কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।
তোমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছি।
মেলা বকিসনা। একবার পাঁঠাটাকে জোর করে ডাকতে বলতে পারতিস। তাহলে এতোটা কষ্ট হতো না।
মিত্রা হেসে ফেলল।
কি কষ্ট হচ্ছে মা। সামন্ত ডাক্তার বললো।
মিত্রা শুয়ে শুয়ে কপালের দিকে চোখ তুলে, ডাক্তারবাবুর দিকে তাকাল।
কষ্ট হচ্ছে না।
ডাক্তারবাবু এগিয়ে গেলেন।
স্টেথো দিয়ে বুকটা দেখলেন। একটু কফ হয়েছে বুকে, আমি একটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি। হাত পায় যন্ত্রনা করছে।
করছিল কাল রাতে।
এখন করছে না ?
মিত্রা মাথা দোলাল না।
ঠিক আছে, স্নানের আগে ভাল করে তেল মেখে স্নান করবে, গরমজল ঠান্ডাজল মিশিয়ে। নর্মাল ডায়েট। পারলে একটু দুধ খাওয়াতে পারবে।
এখানে গোয়াল ঘর পাই কোথায় বলো।
সেও ঠিক। আমাদের বাজারে যে দুধ পাওয়া যায় তাই দাও।
অমিতাভদার ফোনটা বেজে উঠল।
আরে আপনি আর ফোন করার সময় পেলেন না, এই সাত সকালে। ধরুন যে লিখেছে তার সঙ্গে কথা বলুন।
কে ?
বন মন্ত্রী।
অমিতাভদা ফোনটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।
হ্যালো।
শোনো তোমার মতো দু’পয়সার সাংবাদিককে উড়িয়ে দেবার ক্ষমতা আমি রাখি, আজই লেখাটার সম্বন্ধে একটা অবজেকসন পাঠাচ্ছি, অমিতাভকে বলে ছেপে দেবে।
মাথাটা দপ করে গরম হয়ে গেল। ঘরের সবার দিকে একবার তাকালাম। চোয়ালদুটো শক্ত হয়েগেল।
শোনেন আপনার মতো গোটা দশেক মন্ত্রীকে আমি নিত্য নতুন জন্ম দিই।
কি বললে ?
যা বললাম ঠিক বলছি।
তোমার এতোবড়ো আহস।
সাহসের এখনো কিছু দেখেন নি। আপনার নামে কাল থেকে সিরিয়াল লিখব। দেখি আপনার চেয়ারটা কি করে ধরে রাখেন। সাতদিনের মধ্যে আপনাকে রিজাইন দিতে বাধ্য করাব। তখন লালাবাতি নিয়ে ঘোরা বেরিয়ে যাবে। আরাম করে এসিতে কাটান, দেখছি।
ওরা আমার দিকে সবাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে। মিত্রা উঠে বসলো।
বড়মা চেঁচিয়ে উঠলো উঠিস না, উঠিস না।
কালকের সকালের কাগজে আপনার ছেলের মধুচক্রের ব্যাপারটা ছাপবো উইথ ফটো। যেটা আপনি পার্কস্ট্রীট থানাকে দিয়ে চেপে রেখেছেন। দেখি আপনার কেমন ক্ষমতা।
আপনার দম থাকলে আমাকে আটকান।
আর একটা কথা শুনে রাখুন যার কাছে নাম লিখিয়ে আপনি মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। ওই লিস্টে সবার প্রথম আমার নামটা আছে। একটু ভাল করে খোঁজনেবেন। ফোনটা কেটে দিলাম।
সবাই আমার কথা শুনে থ। মল্লিকদা আমার চোখ মুখ দেখে ভয় পেয়ে গেছে। বুঝতে পারছে, অনি এবার একটা কেলোর কীর্তি করবে। এটা মল্লিকদা অনেকবার টের পেয়েছে।
আমি মিটসেফের কাছে এসে আমার ফোনটা তুলে নিলাম।
রিং করলাম।
রতন।
হ্যাঁ অনিদা।
তুই ভিডিও রেকর্ডিংটা বার করে রাখ। আজকেই আমার চাই।
আমি ওখান থেকে ফটো বার করে নেব।
মন্ত্রীর নখরামি আজকেই ভাঙব। আর ইসলামভাইকে বলে দিবি আমাকে যেন এই ব্যাপারে কোন রিকয়েস্ট না করে। তাহলে একটা অনর্থ হয়ে যাবে।
অমিতাভদা, ডাক্তার সামন্ত, ছোটমা, বড়মা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। মিত্রা আমার চেঁচামিচিতে উঠে বসেছে। ডাক্তার সামন্ত ওকে শুতে বলছেন।
মিত্রা আমাকে ডাকল, বুবুন।
আমি ওর কাছে গেলাম। আমার চোখ মুখের চেহারা ও চেনে। ও আমার হাতটা ধরে ফেলল।
তুই রাগ করিস না। আমি জানি তোর মনের অবস্থা। তুই একটু ঠান্ডা হ।
কি বলছিস তুই, ও আমাকে ধমকাচ্ছে। ওর এত বড় বুকের পাটা। ওর মন্ত্রীত্ব আজই ঘোঁচাব।
না তুই এরকম করিস না। আমায় কথা দে।
মিত্রা আমার হাতটা কিছুতেই ছাড়তে চাইল না।
আবার ফোনটা বেজে উঠলো। দাদা ধরলো।
হ্যাঁ বলো।
এ্যাঁ।....হ্যাঁ ও আমাদের নতুন মালিক।....নিজেই লিখেছে।....আমি কি বলবো বলো,....আমি একজন সম্পাদক, ও লেখা দিলে আমাকে ছাপতে হবে,....মালিক বলে কথা।....একটা কাজে কাল এসেছিল।....আমি কোন রিকয়েস্ট করতে পারব না। ....ধরো, দিচ্ছি।
দাদা আমার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিল।
কি হয়েছে বলুন।
আরে ভাই তুমি মাথা গরম করছো কেন।
কি হলো এরি মধ্যে আপনার ক্ষমতা শুকিয়ে গেল। খবর নিয়ে দেখলেন বুঝি, আমি ঠিক কথা বলেছি কিনা। বুঝলেন এবার দু’পয়সার সাংবাদিকের দম।
না। মানে।
নিগোশিয়েসনে আসুন।
বলো।
এ মাসে আপনার দপ্তর থেকে ৩ কোটি টাকার এ্যাড বেরচ্ছে।
কে বললো।
রাখলাম। অফিসে এসে কথা বলবেন।
না না তুমি বলো।
২ কোটি আমার কাগজের নামে পাঠিয়ে দেবেন, আজকের মধ্যে।
সেটা কি করে সম্ভব।
ওটা কি আমি আপনাকে বলে দেব।
একটা রিজিন থাকবে তো।
রিজিনটা কাল সকাল থেকে টের পেয়ে যাবেন। তারপর মোমবাতি নিয়ে আমাকে খুঁজবেন।
এটা কেমন কথা হল।
কনো যার কাছে ফোন করে খোঁজ নিলেন সে বলতে পারল না।
ভদ্রলোক চুপ করে রইলেন।
শুনুন অনি ব্যানার্জী এক কথার মানুষ। আপনার চেয়ারটা পাওয়ার জন্য যিনি ওঁত পেতে বসে আছেন, তার নামে কাল থেকে ভাল ভাল আর্টিকেল লিখব।
ঠিক আছে, ঠিক আছে তুমি যা বললে তাই হবে।
কোন ফোনটন যেন করতে না হয়। ধরুন।
আমি অমিতাভদার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে বাথরুমে গেলাম।
অমিতাভদা ওনার সঙ্গে কথা বলছে।
মিত্রা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
আমি বাথরুম থেকে শুনতে পাচ্ছি অমিতাভদার কথা।
মন্ত্রীমহাশয় পারলে এখুনি এসে অমিতাভদার কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু আমি যেন আর না লিখি ওনার সম্বন্ধে। এটা অমিতাভদাকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি যা বলেছি উনি মেনে নেবেন।
অমিতাভদা হাসছে। কি ছেলে বলো।
এডিটর কি বুঝলে। ডাক্তার সামন্ত বললেন।
ওর ক্ষমতা আছে ডাক্তার, ওর সোর্সও দারুণ, আমি তিরিশ বছরে এই সোর্স তৈরি করতে পারি নি। দুদিন আগেই ও যা করেছে, তা হিন্দী ফিল্মে দেখা যায়।
যার জন্য এই মেয়াটা হঠাত ব্রেক ডাউন করল। ডাক্তার সামন্ত বললো।
ওর কনো ভ্রুক্ষেপ দেখেছ। আমরা একটা কাজ করতে গেলে দশবার ভাবি। ও ভাবে না। ওর কথা হচ্ছে এটা করতে হবে, তারজন্য যা যা দরকার আমাকে জোগাড় করে নিতে হবে।
এডিটর, ছেলেটা খাঁটী ইস্পাত, খুব সাবধানে ব্যাবহার করো, না হলে হাত কেটে ফালাফালা হয়ে যাবে। কি আগুন দেখেছ। একটা মন্ত্রীকে পর্যন্ত ঠুসে দিলে।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi

বলোনা বলো, এবার সামন্তর কথার উত্তর দাও। বোবার মতো বসে আছ কেন। বোবার শত্রু নেই কি বলো।
কি বলবো মিনু তুমি বলো।
কি বলবো মানে! মনে রাখবে ও আমার ছেলে একটাও ভুল কাজ করবে না। প্রয়োজনে ভুল কাজ করবে, আবার স্বীকারও করে নেবে। এতদিন হলো এই ভাবে কনোদিন কোন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছো। কি বল মিত্রা।
মিত্রা কি বললো, শুনতে পেলাম না। বাথরুম থেকে চোখেমুখে জল দিয়ে বেরলাম।
আমাকে বেরতে দেখে সবাই চুপচাপ হয়ে গেল।
বাবা। তুই সকাল সকাল বেশ ভাল সওদা করলি। মল্লিকদা এমন ভাবে বলে উঠল, আমিও না হেসে পারলাম না।
যাই বল মল্লিক, অনির কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
দাদা আমার দিকে তাকাল।
কিরে অনি মন্ত্রীপুত্রের কেলাঙ্কারিটা দে, ছেপে দিই।
মরন। বড়মা এমন ভাবে বললো, সকলে হাসে।
অফিসে যাও, আজই যদি এ্যাডের ব্যাপারটা কনফার্ম না করে কাল দেব। আমার অনেক টাকার দরকার।
একটা নিউজের দাম দু’কোটি, তুই তো চম্পকের চাকরি খেয়ে নিবি।
তোমরাই বাঁচিয়েছ চাকরিটা।
শুধু আমায় একা দোষ দিস না। দাদা বললো।
লক্ষণও বুঝি দোসর ছিল। বড়মা বললো।
ছোটমা হেসে ফেলল। মল্লিকদার মাথা নীচু।
চলো আমরা বুড়ো-বুড়িরা এখন নিচে যাই। ডাক্তারবাবু বললো।
ওকে এখন কি দেব। বড়মা বললো।
ডিমটোস্ট বা বাটার টোস্ট, ভাল করে সেঁকে, আর দুধ না হলে হরলিক্স বা বোর্নভিটা।
অনি ওকে হাতমুখ ধুইয়েদে খাবার নিয়ে আসছি। ছোটমা বললো।
কিছুক্ষণ পর ছোটমা ফিরে এল। হাতে মিত্রার কাপর শায়া ব্লাউজ। মিত্রার দিকে তাকিয়ে বললো।
ওগুলো ছেড়ে রাখিস, লন্ড্রীর ছেলেটা আসবে দিয়ে দেব।
মিত্রা ছোটমার দিকে তাকাল।
আর তাকাসনি ওই ভাবে, খালি একা একা মজা নিয়ে যাচ্ছিস, আমরা ফাঁকে পরে যাচ্ছি।
ছোটমা বেরিয়ে গেল।
আমি মিত্রার দিকে তাকালাম। কিরে ছোটমা কি বলে ?
শুনলি তো।
তার মানে, আমার প্রেসটিজে পুরো গ্যামাকসিন।
বেশ করেছি।
ভালো। ওঠ।
দরজাটা বন্ধ কর।
কেন ?
কাপরটা কাল পরিয়েছিস। না খালি জড়িয়ে দিয়েছিলি।
ও।
বাইরের দরজাটা বন্ধ করলাম।
ধর একটু।
কেন!
সব কেনর উত্তর দেওয়া যায়।
এগিয়ে আয়।
ও বিছানা থেকে বসে বসে এগিয়ে এলো। আমি ওর হাতদুটো ধরে দাঁড় করালাম।
মিত্রা আমার বুকে ঢলে পরলো। আমি ওকে শক্ত করে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলাম।
মিত্রা!
উঁ।
কি হলো।
মাথাটা কেমন ঘুরে গেল।
একটু খেয়ে নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পর।
মিত্রা বুক থেকে মাথা তুলছে না, কিরে বাথরুমে যেতে পারবি, না এখানে এনে দেব।
না যাব।
দাঁড়া।
আমি ওকে কোলে তুলে নিয়ে বাথরুমের দরজার সামনে নিয়ে গেলাম, এখানে বোস।
না, কমে গেছে। আমি ভেতরে যাই, তুই দরজাটা ভেজিয়ে দে।
আমি দরজাটা ভেজিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষণ চুপচাপ।
কিরে হলো।
হ্যাঁ।
দেখলাম ও বসে আছে। দাঁড়া।
উঠতে পারছি না।
উঃ কি ভাড়িরে বাবা।
আমি ওকে তুলে ধরলাম।
মিত্রা হেসে ফললো।
নে দাঁত মাজ। আমি ডাক্তারবাবুকে তোর নতুন উপসর্গটা বলি।
বলতে হবে না।
দাঁত মাজল। মুখ ধুলো। আমি ওর পেছনে দাঁড়িয়ে আছি।
তোর এতো রাগ।
তুই বল, মানসিক পরিস্থিতি এরকম, সাত সকালে ফোন, মাথাটা গরম হবে না।
ভালই হলো। দেবে।
ওর বাপ দেবে, অমিতাভদা অফিসে পৌঁছবার আগে ওর সচিবকে পাঠিয়ে দেবে।
তাই বলে দু’কোটি!
ওটা তোর।
শুধু আমার একার।
এসব আলোচনা এখন থাক।
কাল নীপা ফোন করেছিল।
কখন।
যখন পেয়ারা পারছিলাম, তুই রবীনের সঙ্গে কথা বলছিলি, তখন।
কি বললি।
বললাম, তোর শরীর খারাপ। জিজ্ঞাসা করলো সব বললাম।
তোরটা আমার ঘারে চাপিয়ে দিলি।
কি মজা বলতো, আজ ওরা চলে আসবে।
ঠিক আছে, তাড়াতারি কর। ছোটমা এসে দরজায় দাঁরিয়ে আছে।
থাকুক।
থাকুক কিরে। তুই তো আমাকে ফুল ঢিলে করে দিচ্ছিস।
বেশ করছি।
ওকে ঘরে নিয়ে এলাম।
ওদিকে মুখ করে দাঁড়া।
আমি ফিরে দাঁড়ালাম।
ও শায়া ব্লাউজ পরে নিল। দরজা খুললাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছোটমা এলো দুজনের জন্য খাবার নিয়ে।
তুই মুখ ধুয়েছিস।
আমি! কেন!
মুখ ধুবি না।
কাল রাতে ঘুমিয়েছি ?
না ঘুমলে মুখ ধুতে নেই। পিচাস। বের আগে।
মিত্রা হাসছে।
ছোটমার ধমকানিতে ব্রাস নিয়ে বাথরুমে গেলাম।
তুমি মুখে বললে কেন, পিঠে দু’চারঘা দিতে পারলে না।
ছোটমাকে বল, ডাক্তারবাবু এখনো যান নি।
আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম, ছোটমা নেই।
কিরে ছোটমা গেল কোথায়।
তুই বলতে বললি, আমি বললাম, ছোটমা দৌড়ে নিচে চলে গেল।
ও।
ঘড়ির দিকে তাকালাম, আটটা বাজে।
খেয়েনে।
নিচে আওয়াজ পেলাম, অনি আমার সাক্ষাত দেবতাগো এ যাত্রায় মেয়েটা বেঁচে গেল। কাল আমায় কি গালাগালটাই না দিলে।
আমি মিত্রার দিকে তাকালাম।
বুড়ীমাসি।
তুই গালাগাল করেছিস।
না।
ওই যে বলছে।
দাঁড়া আসুক।
কোন কথা বলবি না। তোর প্রতি ওরও একটা অধিকার আছে।
মিত্রা মাথা নীচু করলো।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up