Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (প্রথম খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi
তোর আজ পরীক্ষা, তোকে এদের সবাইকে চিন্তে হবে। আমি কারুর সঙ্গে তোর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব না।
আমি হাসলাম।
তিনটি মেয়েই হাল্কা সাজে সুসজ্জিত। আধুনিক বুটিকের তৈরি শালোয়াড় পরেছে। একটুও মড লাগছে না। বেশ ঝক ঝকে। ওরা জুল জুল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝছি এরা দেবাশীষের খুব পেটোয়া। দেবাশীষ এদের লিড করছে। ছেলেটি দেবার মতোই কোট টাই পরা।
আমাকে একটু সময় দিতে হবে। আমি দশবছর আগের মুখটায়, দশবছর পরের ছবি আঁকব, বেশি না মিনিট পনেরো।
ঠিক আছে তাই হবে। কি খাবি বল।
আমি যা খেতে চাইবো, তোর এই তাজবেঙ্গলে পাওয়া যাবে না।
তুই যদি এখন ধেনো চাস তাও পাওয়া যাবে ?
মাথার মধ্যে খালি ওদের মুখ গুলো নিয়ে নাড়া চাড়া করছি। দশ বছর আগের ছবি গুলো প্রথমে আবঝা পরে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। দেবার কথাটা পুরো কানে ঢোকে নি। তবু যতটা শুনলাম একটু অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেললাম।
জানিস দেবা, ধেনো খেয়েই আমি ওদের মধ্যে ঢুকে পরি, তোরা সখ করে পৌষমেলায় গিয়ে ধেনো খাস। এনজয় করিস। তোরা বাবু। আমি ওদের নাগর। বাবুদের ওরা আলাদা ট্রিটমেন্ট করে। আর নাগরদের পাশে শোওয়ায়। আদর করে, সোহাগ করে....।
ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনছিল।
দেবাশীষের চোখ যেন ঠেলে বেরিয়ে আসবে।
আর একবার বল।
যাঃ, এক কথা বার বার বলা যায়।
মেয়েগুলো আমার কথায় অবাক। ওদের চোখ তাই বলছে।
খিদে পেয়েছে। খাবার বল।
সবাই চুপ চাপ। দেবাশীষ ওয়েটারকে ডেকে খাবার আনতে বললো।
অনি তুই কথাটা মার্ভেলাস বলেছিস। এভাবে কখনো ভাবি নি।
আচ্ছা দেবা তুই আমার পরীক্ষা নিবি, আমি তোকে যদি একটা ছোট্ট পরীক্ষা নিই তাতে তুই যদি ফেল করিস, তাহলে তুই এদের সঙ্গে আমায় পরিচয় করিয়ে দিবি।
না।
কেন।
আমি ফেল করবো তাই।
সবাই হেসে ফললো।
তুই প্রশ্ন শোনার আগেই বলছিস ফেল করবো। কেন ?
তোর সেই কথাটা আমার এখনো মনে আছে।
কোন কথাটা।
লনে বসিয়ে সেই রিগিং।
আমি হাসলাম।
মনে আছে মানে, যতদিন বাঁচব ততদিন মনে থাকবে। আমি এদের বলি সিনিয়াররা রিগিং করে শুনেছিস। আর অনি ওর ক্লাসমেটদের রিগিং করতো।
সবাই হেসে উঠলো।
তোর মনে আছে।
হাসলাম।
জানিস সেই রিগিং আমার জীবনটা বদলে দিল। আনস্মার্ট দেবাশীষ এখন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে একটা ফিগার।
সত্যি অনিদা তোমার ওই কথাটা আমরা দেবাদার কাছে অনেক পরে শুনেছি। যখন তোমার বেশ নাম ডাক হয়েছে, তখন। টিনা লজ্জা লজ্জা ভাবে বললো।
তাহলে তোর কেরিয়ারের মূলে আমি।
বলতে পারিস।
ওই বয়েসটা এখন নেই। তবে মাঝে মাঝে আমি ওই বয়সে ফিরে যাই।
কি করে যাস।
টিনা আমি কি ভুল বললাম।
টিনা আমার দিকে তাকিয়েছে, দেবাশীষ আমার মুখের দিকে তাকাল।
তুই কি করে জানলি ও টিনা।
ও নিজেই বললো।
কোথায়।
এই বুদ্ধি নিয়ে তুই কি করে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে ফিগার হলি কে জানে।
চাটলি।
হাসলাম।
নে খাবার এসে গেছে, খাওয়া শুরু কর।
সবাই খাওয়া শুরু করলো, এমনি গল্প গুজব হচ্ছে, আমি বললাম, জানিস দেবা আজ কলেজ লাইফের একটা কথা খুব মনে পরে যাচ্ছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে, টিনার দিকে তাকিয়ে বললাম, মাঝে মাঝে দু’একটা খারাপ কথা হয়তো মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে, তোমরা কিছু মনে করবে না ?
ওরা হাসতে হাসতে বললো না, তোমার কথা শুনতে ভীষন ভাল লাগছে।
তখন সেকেন্ড ইয়ারে পরি, টেন পাস করে ইলেভেনের মেয়ে গুলো সবে কো-এড কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওরা যেন উড়ে উড়ে বেরাচ্ছে কলেজের চারদিকে। আমি মিত্রা একদিন ১১ নম্বর থেকে ক্লাস করে হলঘর পেরিয়ে লবিতে এসে দাঁড়িয়েছি।
তখন জিনসের প্যান্টের সেরকম প্রচলন ছিল না, তার ওপর মেয়েরা পরবে, এটা ভাবতেই পারতাম না। দেখলাম একটা মেয়ে গেট দিয়ে জিনসের প্যান্ট আর টাইট গেঞ্জি পায়ে হিলতলা জুতো পরে গট গট করে ঢুকছে।
মিত্রাকে দেখিয়ে বললাম, দেখতো মালটা কেমন। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, চোখ পরে গেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তোর থেকেও বেশ ডাঁসা।
আমি ওদের দিকে তাকিয়ে ওদের মুখ লক্ষ করছি কার মুখে কি প্রতিক্রিয়া হয়।
মিত্রাকে নিয়ে এগিয়ে গেলাম, মেয়েটি শিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছে, আমি সামনে মিত্রা আমার ঠিক পেছনে....
অদিতি খেতে খেতে বিষম খেল। সবাই ওর দিকে দৃষ্টি ফেরাল। আমি মুখ নীচু করে হাসছি। অদিতি কাশতে কাশতে হাসতে হাসতে বললো, প্লীজ অনিদা আর নয়। এটা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানে না। প্লীজ তুমি বলো না।
কেন অদিতি, গল্পটা শুনবে না।
না।
কিরে দেবা, তোর বউ গল্পটা শুনতে চাইছে না কেন ?
দেবা আমার দিকে বিষ্ফরিত চোখে তাকিয়ে। তুই শালা।
ঠিক আছে অদিতি আমি আর বলবো না। তুমি বরং শেষ টুকু এদের বলে দাও।
না। আমি বলবো না।
কেন ?
আমি অদিতির দিকে তাকালাম।
দেখো দেবা ভাবছে আমার বউকে......।
না না ও কিছু ভাবছে না। তুমি থামো।
শালা, তুইতো বড় খলিফা!
তাহলে আর একটা গল্প বলি। এটা একটু অন্য ধরনের।
অদিতি বললো বলো।
এটা শেয়ালদা স্টেশনের ঘটনা। মেয়েটা মোস্ট প্রোবাবলি নৈহাটি কিংবা ওই অঞ্চলে থাকত, প্লীজ অনিদা ওই গল্পটাও তুমি বলো না।
কেন মিলি।
আচ্ছা তোমার কি সব কথা মনে আছে।
মনে ছিল কিন্তু মুখ গুলো স্যাডো হয়ে গেছিল। তোমাদের কাছে পেয়ে সেই মুখগুলো আবার মনে পরে গেল। তখন দেবা ভদ্র ছেলে ছিল, আমি মা-বাপ হারা অনাথ ছেলে, চালচুলো হীন, কলকাতায় হস্টেলে থাকি লোকের দয়ায় চলে। ও আমার এ ঘটনা গুলো জানে না। একমাত্র মিত্রাই আমার এইসব ঘটনার সাক্ষী। ওর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে এসব করতাম। বড়লোকের মেয়ে, পড়াশুনর খরচ চলে যেত।
নির্মাল্য তোমরটা কি বলবো। মুখ নীচু করে খেতে খেতেই কথা বলছিলাম।
তার মানে ওরও আছে। দেবাশীষ বললো।
হ্যাঁ তোরই মতো তব ওরটা একটু র।
শালা, তুই একটা জিনিষরে!
সেই জন্যই মিত্রা মনে হয় কর্মচারী থেকে মালিক বানিয়েছে।
সকলে চুপ করে গেল।
জানিষ দেবা নিজেকে নিয়ে আমি গর্ব করিনা। তবে একটা কথা বলি অন্যভাবে নিস না, আমার খুব খারাপ লাগবে।
বিনয় করিস না।
কনো কাগজ কোম্পানীর মালিক কোনদিন এইভাবে তোদের মতো কর্পরেট ওয়ার্ল্ডের লোক জনদের সঙ্গে বসে এক টেবিলে খেয়েছে।
একেবারেই না।
তোরা আমার কাছে যাস নি, আমি তোদের কাছে এসেছি। কেন জানিষ ?
কেন!
তোরা কেউ আমার বন্ধু কেউ আমার জুনিয়র। তোদের কাছ থেকে শিখবো, সাহায্য নেব বলে।
আমার ব্যাপারটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। ওদের ব্যাপরটা বলতে পারব না। তুই ওদের সঙ্গে কথা বল।
তুই পরিচয় করিয়ে দিলি না।
শালা এখানেও জুতোটা মারলি ?
But one good friend is equal to a LIBRARY

