Topic: খুশি ও রকি_রমানাথ রায় (ছোটগল্প)_KHUSHI O ROKI_RAMANATH ROY

খুশি ও রকি
রমানাথ রায়

এক জনের নাম খুশি। আর এক জনের নাম রকি। এক দিন তাদের দেখা হল। ভালবাসা হল। তার পর তারা অনেক ঘোরাঘুরি করল। একসঙ্গে সিনেমা দেখল, ফুচকা খেল, আইসক্রিম খেল, চাউমিন খেল। মাঝে মাঝে চুমুও খেল। এই ভাবে সিনেমা দেখতে দেখতে, ফুচকা খেতে খেতে, আইসক্রিম খেতে খেতে, চুমু খেতে খেতে তারা অস্থির হয়ে পড়ল। ধৈর্য হারিয়ে ফেলল। এ বার তাদের একটা কিছু করা দরকার। এ ভাবে তো সারা জীবন চলে না। কিন্তু কী করবে তারা? সবাই বলল, তোরা এ বার বিয়ে কর। বিয়ে করে সুখী হ’। তারা তখন বিয়ে করল। বিয়ের পর খুশি এল শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে থাকে শ্বশুর- শাশুড়ি, আর থাকে রকি। শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে কোনও ঝামেলা নেই। তাঁরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। কোনও ঝামেলা করে না। কোনও ঝামেলায় থাকে না। রকিও তাই। সকালবেলা খেয়েদেয়ে অফিসে চলে যায়। ফিরে আসে সন্ধেবেলা। আর খুশি সারা দিন শুয়ে-বসে-ঘুমিয়ে, গল্প করে, টিভি দেখে সময় কাটায়। তাকে কিছু করতে হয় না। সংসারে রান্নার লোক আছে, বাসন মাজার লোক আছে, ঘর মোছার লোক আছে। আর কাপড় কাচার জন্যে আছে ওয়াশিং মেশিন। ফলে খুশির জীবন শান্তিতে কাটতে লাগল।

কিন্তু তিন মাস পরে অশান্তি শুরু হয়ে গেল। অশান্তি শুরু হল শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে নয়, রকিকে নিয়ে। অশান্তির কারণ অনেক। তবে মূল কারণ তিনটি। প্রথম কারণ, রকি রাত্রিবেলা জানলা খুলে শুতে ভালবাসে। খুশি জানলা বন্ধ করে শুতে ভালবাসে। দ্বিতীয় কারণ, রকি রাত্রিবেলা আলো নিভিয়ে শুতে ভালবাসে। খুশি ঘরে অল্প পাওয়ারের নীল আলো জ্বালিয়ে শুতে ভালবাসে। তৃতীয় কারণ, রকি শোবার আগে একটা সিগারেট খেয়ে শুতে ভালবাসে। খুশি সিগারেটের গন্ধ একেবারে সহ্য করতে পারে না। ফলে এক দিন একই ঘরের মধ্যে তাদের আলাদা বিছানা হল। এবং সেখানেই ব্যাপারটা শেষ হল না। তারা এক দিন আলাদা ঘরে শুতে লাগল। শুতে শুতে বিরক্ত হয়ে খুশি এক দিন বাপেরবাড়ি চলে যাবে ঠিক করল। যাবার আগে শ্বশুর-শাশুড়িকে প্রণাম করে বলল— আমি যাচ্ছি।

শাশুড়ি জিজ্ঞেস করল— কোথায়?
—বাপের বাড়ি।
—একা যাবে?
—হ্যাঁ।
—আবার কবে আসবে?
—ঠিক নেই।
—এ-কথা বলছ কেন?
—কেন বলছি তা আমি বলব না। আপনি আপনার ছেলেকে জিজ্ঞেস করুন। সব জানতে পারবেন।— বলে খুশি আর দাঁড়াল না। বাড়ি ছেড়ে চলে গেল।
শ্বশুর জিজ্ঞেস করল— কী ব্যাপার বলো তো?

শাশুড়ি বলল— জানি না। তবে বেশ কিছুদিন দু’জনের মধ্যে গোলমাল চলছিল।
—সে তো আমিও জানি।
—কী করে জানলে?
—দু’জনে আলাদা ঘরে শুচ্ছিল।
—তুমি এ নিয়ে রকিকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলে?
—না। তুমি কিছু জিজ্ঞেস করেছিলে?
—না। আমিও কিছু জিজ্ঞেস করিনি।
—ভাল করেছ। স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলার মধ্যে থাকতে নেই।

এর পর তাদের মধ্যে বিশেষ কোনও কথা হল না। তারা জানে দু’দিন পরে এই ঝামেলা মিটে যাবে। চিন্তার কিছু নেই। রকি এই সময় বাড়িতে ছিল না। সে ছিল অফিসে। সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে সব শুনল। শুনে ভীষণ খুশি হল। বলল, যাক, বাঁচলাম। এ বার শান্তিতে থাকতে পারব। কিন্তু দু’দিন পরে খুশির জন্যে রকির মন খারাপ করতে লাগল। এক দিন থাকতে না পেরে রকি ফোন করে বসল।

রকি বলল— তোমার জন্যে মন খারাপ করছে। তুমি কবে ফিরে আসবে?
খুশি বলল— ফিরে আসতে পারি, তবে কয়েকটা শর্ত আছে।
—কী কী?
—তোমাকে আমার ঘরে জানলা বন্ধ করে শুতে হবে। আলো জ্বালিয়ে শুতে হবে। আর শোবার আগে সিগারেট খাওয়া চলবে না।
—আমার পক্ষে তা করা সম্ভব নয়।
—তা হলে আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।— বলে খুশি ফোন নামিয়ে রাখল।

রকি এতে ক্ষুব্ধ হল। মনে মনে ঠিক করল, সে আর কোনও দিন খুশির খোঁজ নেবে না।

দিন যায়, মাস যায়। রকি আর খুশির খোঁজ-খবর নেয় না। খুশি এতে ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে উঠল। রকির ওপর ভীষণ রেগে গেল। মনে মনে রকিকে গালাগাল দিতে লাগল— তুমি একটা অসভ্য ছেলে। একটা পাজি ছেলে। একটা বাঁদর ছেলে। একটা ফোন করতে পারো না! আমি তোমার স্ত্রী। আমি যা খুশি তাই করতে পারি। যা খুশি তাই বলতে পারি। কিন্তু তুমি আমার স্বামী। তুমি যা খুশি তা-ই করতে পারো না। যা খুশি তা-ই বলতে পারো না। তোমার একটা দায়িত্ব থাকা উচিত।

এক দিন এক জন এসে খুশিকে বলল, তুই একটা কাজ কর।
খুশি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল— কী কাজ?
—তুই রকির নামে, রকির বাবা-মার নামে বধূ-নির্যাতনের মামলা কর। করে ওদের হাজতে ভরে দে। দেখবি সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।

খুশি এই কথায় উত্তেজিত হয়ে তার গালে টেনে একটা চড় কষিয়ে দিল। বলল— তুই একটা নচ্ছার মেয়ে। তুই এই সব করেছিস বলে, আমিও এই সব করব! তুই কী ভাবিস আমাকে? বেরিয়ে যা এখান থেকে।

আর এক দিন আর এক জন এসে খুশিকে জিজ্ঞেস করল— রকি তোকে ফোন করে?
খুশি বলল— না।
—মাসে মাসে টাকা পাঠায়?
—না।
—তা হলে তুই খোরপোশের মামলা কর।
খুশি এই কথা শুনে রেগে গিয়ে বলল— আপনার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির ঘর করার যোগ্যতা নেই। সে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। চাকরি-বাকরিও করে না। আবার তাকে খাওয়ানোর ক্ষমতাও আপনার নেই। তাই আপনার মেয়ে খোরপোশের মামলা করেছে। আমার সে অবস্থা নয়। আপনি আমাকে আপনাদের মতো ভিখিরি ভাবলেন কী করে? আপনি এখন আসুন। আর একটা কথা, আপনি আর কোনও দিন এ বাড়িতে আসবেন না।

আর এক দিন আর এক জন এসে জিজ্ঞেস করল, তুই শ্বশুরবাড়ি যাবি না?

খুশি বলল— না।
—কেন? শ্বশুর-শাশুড়ি খুব খারাপ লোক?
—না।
—তা হলে? রকি খুব খারাপ ছেলে?
—খুব।
—তোর ওপর খুব নির্যাতন করেছে?
—খুব।
—শারীরিক না মানসিক?
—মানসিক। এখনও আমাকে শান্তি দিচ্ছে না। এখনও আমার ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
—কী ভাবে?
—সে নির্যাতনের কথা মুখে বলে বোঝাতে পারব না।
—তা হলে এক কাজ কর।
—কী?
—তুই ডিভোর্সের মামলা কর।
—আমি রকিকে ভালবাসি। ডিভোর্স করব বলে আমি রকিকে বিয়ে করিনি। আপনি আর কোনও দিন এ ধরনের পরামর্শ আমাকে দেবেন না। খুশির বাবা-মা কিন্তু মেয়েকে কোনও পরামর্শ দিতে যায় না। তারা সব সময় চুপ করে থাকে। আর মেয়ের কাণ্ড দেখে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করে।

বেশ কিছুদিন রকি রেগে ছিল। ঠিক করেছিল খুশির মুখ আর জীবনে দেখবে না। কিন্তু আস্তে আস্তে রাগ পড়ে এল। খুশির জন্য মন খারাপ করতে লাগল। ভাবতে লাগল কী করা যায়। এক বার ভাবল শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খুশিকে নিয়ে আসে। তবে খুশি যদি না আসে? না এলে খুব খারাপ হবে। সে অপমানিত বোধ করবে। অতএব এ পথে না যাওয়াই ভাল। তা হলে কী করা যায়? উকিলের চিঠি দিলে কেমন হয়? উকিলের চিঠি! সে খুব খারাপ হবে। উকিলের চিঠি পেলে খুশি ভীষণ রেগে যাবে। ভাববে, এত বড় সাহস! উকিলের চিঠি দিয়ে আমাকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে! আমি যাবই না। রকি সমস্যায় পড়ে গেল। শেষে তার মাথায় একটা ভাবনা এল। কলকাতা শহরে যেমন নারীকল্যাণ সমিতি আছে, তেমনই পুরুষকল্যাণ সমিতিও আছে। রকি এক দিন পুরুষকল্যাণ সমিতিতে গিয়ে হাজির হল। সমিতির সভাপতির নাম অমল হালদার। তিনি এক জন আইনজীবী। রকি তাঁকে তার সমস্যার কথা খুলে বলল।

অমলবাবু সব শুনে জিজ্ঞেস করলেন— আপনি কী চান? ডিভোর্স?
রকি বলল— আমি ডিভোর্স চাই না।
—তা হলে?
—আমি আমার স্ত্রীকে একটা শিক্ষা দিতে চাই।
—কী শিক্ষা দেবেন?
—এমন শিক্ষা দিতে চাই যাতে আমার স্ত্রী ভয় পেয়ে ছুটতে ছুটতে আমার কাছে চলে আসে।
অমলবাবু রকির কথা শুনে একটু চুপ করে থাকলেন। তার পর বললেন— একটা উপায় আছে।
রকি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল— কী উপায়?
—আপনার শ্বশুরবাড়িতে আপনার স্ত্রীর ঘরে আরশোলা ছেড়ে দিতে হবে। দেখবেন আরশোলার ভয়ে আপনার স্ত্রী আপনার কাছে ছুটতে ছুটতে চলে আসবে।
রকি উৎসাহী হয়ে জিজ্ঞেস করল— সত্যি এ রকম হবে?
—সত্যি এ রকম হবে। তবে তার আগে আদালত থেকে আপনার স্ত্রীর ঘরে আরশোলা ছাড়ার রায়টা নিয়ে আসতে হবে। তার জন্যে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে।
রকি বলল— আপনি ও নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি কাল এসে আপনাকে টাকাটা দিয়ে যাব।
অমলবাবু বললেন— দিয়ে যাবেন কিন্তু। নইলে কোনও কাজ হবে না।
—ওই টাকা নিয়ে ভাববেন না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।— বলে রকি চলে এল। এবং পর দিন পাঁচ হাজার টাকা অমলবাবুর হাতে তুলে দিল।

খুশিও নিশ্চিন্ত হয়ে বসে রইল না। তাকেও একটা কিছু করতে হবে। এমন একটা কিছু, যাতে রকি উপযুক্ত শিক্ষা পায়। কিন্তু কী করবে সে? ভাবতে ভাবতে খুশির হঠাৎ নারীকল্যাণ সমিতির কথা মনে পড়ল। পড়তেই খুশি আর এক মুহূর্ত দেরি করল না, নারীকল্যাণ সমিতির অফিসে গিয়ে হাজির হল। নারীকল্যাণ সমিতির সভানেত্রী বেলা সরকার। তিনি এক জন আইনজীবী। খুশি তাঁকে সব কথা খুলে বলল। তিনি সব কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন— আপনি কী চান? ডিভোর্স?

খুশি বলল, না।
—তা হলে কী চান? খোরপোশ?
—আমি ও সব কিছু চাই না।
—তা হলে কী চান স্পষ্ট করে বলুন।
খুশি তখন স্পষ্ট করে বলল— আমি আমার স্বামীকে এমন শিক্ষা দিতে চাই যাতে ও নিশ্চিন্তে রাত্রিবেলা ঘুমোতে না পারে। বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে করতে নিজের ভুল বুঝতে পারে। বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে আমাকে এসে নিয়ে যায়।
বেলাদেবী খুশির কথা শুনে একটু চুপ করে থাকলেন। তার পর বললেন— একটা উপায় আছে।
খুশি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল— কী উপায়?
—আপনার শ্বশুরবাড়িতে আপনার স্বামীর বিছানায় অসংখ্য ছারপোকা ছেড়ে দিতে হবে। দিলে আপনার স্বামী ছারপোকার কামড়ে ঘুমোতে না পেরে ছটফট করতে করতে আপনার কাছে ছুটে আসবে। এসে আপনাকে নিয়ে যাবে।
—কিন্তু ওই ছারপোকা ভর্তি বিছানায় আমি শোব কী করে?
—ও নিয়ে ভাববেন না। ছারপোকা ছাড়ার কাজ যেমন আমাদের, তেমনই ছারপোকা মারার কাজও আমাদের।
খুশি উৎসাহী হয়ে জিজ্ঞেস করল— সত্যি এ রকম হবে?
—সত্যি এ রকম হবে। তবে তার আগে আদালত থেকে আপনার স্বামীর বিছানায় ছারপোকা ছাড়ার রায়টা নিয়ে আসতে হবে। তার জন্য পাঁচ হাজার টাকা লাগবে।
খুশি বলল— আপনি ও নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি কাল এসে আপনাকে টাকাটা দিয়ে যাব।
বেলাদেবী বললেন— দিয়ে যাবেন কিন্তু। নইলে কোনও কাজ হবে না।
—ওই টাকা নিয়ে ভাববেন না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।— বলে খুশি চলে এল। এবং পর দিন পাঁচ হাজার টাকা বেলাদেবীর হাতে তুলে দিল।

দু’দিন পরে এক জন খুশির সঙ্গে দেখা করতে এল। খুশি তাকে দেখে জিজ্ঞেস করল— আপনি কে? কোত্থেকে আসছেন?
লোকটা ঠাণ্ডা গলায় বলল— আমার নাম রুদ্র বসাক। আমি পুরুষকল্যাণ সমিতি থেকে আসছি।
—কেন? কী দরকার?
—আপনার বিরুদ্ধে স্বামী নির্যাতনের অভিযোগ আছে।
—কে অভিযোগ করেছে? রকি?
—হ্যাঁ।
—করুক। আমাদের দেশের আইন মেয়েদের দিকে। আগে আমরা উইকার সেক্স ছিলাম। এখন ছেলেরা উইকার সেক্স। রকি কিচ্ছু করতে পারবে না।

লোকটা দৃঢ়তার সঙ্গে বলল— পারবে। নতুন আইন হয়েছে। এ বার পারবে। আপনি আজ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে যদি রকির কাছে ফিরে না যান, আমরা পুলিশ নিয়ে এসে আপনার শোবার ঘরে অসংখ্য আরশোলা ছেড়ে দেব। সেই সব আরশোলা আপনার সারা গায় ঘুরে বেড়াবে। এখন বলুন, আপনি কী করবেন?

খুশি এ কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। বলল— আমাকে একটু ভাবতে দিন। তবে আপনাকে আর আসতে হবে না। আমি যা বলার রকিকে বলব।
—তা হলে আমি আসি।— বলে লোকটা চলে গেল।

খুশি আপাতত হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু একটা আতঙ্কের মধ্যে থেকে গেল। ভাবতে লাগল, সে এখন কী করবে। ভাবতে লাগল, সে এখন কাকে বেছে নেবে? তার কাছে কোনটা ভাল? আরশোলা না রকি? রকি, অবশ্যই রকি।

দু’দিন পরে রকির সঙ্গেও এক মহিলা দেখা করতে এলেন। রকি তাকে দেখে যথারীতি জিজ্ঞেস করল— আপনি কে? কোত্থেকে আসছেন?
মহিলা গম্ভীর গলায় বললেন— আমার নাম শিপ্রা মাইতি। আমি নারীকল্যাণ সমিতি থেকে আসছি।
—কেন? কী দরকার?
—আপনার বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আছে।
—এ অভিযোগ নিশ্চয় খুশি করেছে?
—হ্যাঁ।
—জেনে রাখুন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
—সত্যি-মিথ্যে জানি না। আপনাকে আমরা এক সপ্তাহ সময় দিলাম। এর মধ্যে আপনি নিজে গিয়ে খুশিকে এই বাড়িতে নিয়ে আসবেন। যদি না আনেন, তা হলে আমরা আপনার বিছানায় অসংখ্য ছারপোকা ছেড়ে দেব। আপনি জীবনে আর কোনও দিন নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোতে পারবেন না। এখন আপনি কী চান বলুন?

এ কথায় রকি আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। বলল— আমাকে একটু ভাবতে দিন। তবে আপনাকে আর আসতে হবে না। আমি যা বলার খুশিকে বলব।
—তা হলে আমি আসি।— বলে মহিলা চলে গেলেন।

রকি আপাতত হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যে থেকে গেল। ভাবতে লাগল, সে এখন কী করবে? খুশির ওপর মানসিক চাপ দিতে গিয়ে সে নিজেই এখন চাপের মধ্যে পড়ে গেল। সে এখন কাকে বেছে নেবে? তার কাছে কোনটা ভাল? ছারপোকা না খুশি? খুশি, অবশ্যই খুশি।

আর রাগ নেই। আর অভিমান নেই। সকালে খুশি ফোন করল রকিকে। বিকেলে রকি ফোন করল খুশিকে। তার পর এক রবিবারের সকালে রকি খুশিকে নিয়ে এল। এতে খুশির বাবা-মা খুশি হল। রকির বাবা-মা খুশি হল। সবাই ভাবল, যাক, সমস্যা মিটে গেল।

কিন্তু সমস্যা মিটল না। সমস্যা দেখা দিল রাত্রিবেলা। শোবার ঘরে ঢুকে রকি রেগে গেল। ঘরের মধ্যে আগের মতো জানলা বন্ধ করা হয়েছে। ঘরে সেই নীল আলো জ্বলছে। রকি জানলা বন্ধ করে শুতে পারে না। ঘরে নীল আলো জ্বালা থাকলে ঘুম আসে না। ঘুমের জন্যে তার চাই খোলা জানলা। অন্ধকার ঘর। আর একটা সিগারেট। রকি এখন কী করবে বুঝে পেল না। চুপ করে কিছুক্ষণ একটা চেয়ারে বসে রইল।

একটু পরে খুশি জিজ্ঞেস করল— শোবে না?
রকি এর উত্তরে হ্যাঁ কিংবা না বলল না। না বলে জিজ্ঞেস করল— জানলা দুটো খুলে দেব?
খুশি হেসে বলল— দাও।
রকি এতে সাহস পেয়ে জিজ্ঞেস করল— নীল আলো নিভিয়ে দেব?
খুশি আবার হেসে বলল— দাও।
রকি এতে আরও সাহস পেয়ে জিজ্ঞেস করল— একটা সিগারেট খাব?
খুশি এ বার গম্ভীর গলায় বলল— না।
রকি জিজ্ঞেস করল— কেন?
খুশি বলল— সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা ৩০ আশ্বিন ১৪১২ রবিবার ১৬ অক্টোবর ২০০৫

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up