Topic: এলেবেলে_সুচিত্রা ভট্টাচার্য_(ছোটগল্প)_ELEBELE_SUCHITRA BHATTACHARYA
এলেবেলে
সুচিত্রা ভট্টাচার্য
অ্যাই ছোটু, কী তখন থেকে রোডরেস খেলে যাচ্ছিস! কম্পিউটারটা এ বার বন্ধ কর না।
—আর পাঁচটা গেম দিদি। ওন্লি ফাইভ।
—না। আর এক বারও না। রাত কটা বাজে খেয়াল আছে?
—মাত্র তো টেন ফিফটিন। কাল তো স্কুল নেই। সানডে।
—তাই বুঝি রাতদুপুর অব্দি জ্বালাবি? আমার ভাল লাগছে না।
—তুই ঘুমিয়ে পড় না। মা বলেছে আজ আমি টেন থারটি অব্দি খেলতে পারি।
—মা তো বলবেই। মা’র তো এখন খুশিই খুশি।
—হ্যাঁ রে, দিদি। মা’র যেন কী একটা হয়েছে! এখন সব সময় খুশি থাকে। সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে আজ গানও গাইছিল। বিকেলে দুধ খাইনি বলে একটুও বকল না। এক বারও গোমড়া গলায় বলল না, ছোটু বি এ গুড বয়। অনেক ধাড়ি হয়েছ, দুধ নিয়ে আর হ্যাংকি-প্যাংকি কোরো না। রাত্তিরে আজ খাইয়েও দিল। হেসে হেসে।
—এখন ও রকম কত ঢং করবে! নাচবে, গাইবে, তোকে লাই দেবে, আমায় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে...
—কেন? কেন?
—উনি আবার বিয়ে করছেন যে।
—কী? কী করছে?
—আহ্, কম্পিউটারটা অফ করবি? সব কথা কি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলা যায়?
—তুই না...! এ বার শান্তি হয়েছে তো? হ্যাঁ, কী করছে মা?
—বিয়ে।
—যাহ্। মা বিয়ে করতে যাবে কেন?
—করছে।
—তা হয় নাকি? মা কেন বিয়ে করবে?
—হাঁদার মতো কথা বলিস না তো। ইচ্ছে হয়েছে তাই করছে। প্রাণে পুলক জেগেছে, তাই করছে।
—পুলকটা কী রে দিদি?
—ও একটা ব্যাপার আছে। তুই বুঝবি না।
—এঁএঁএঁহ্, তুই যেন সব বুঝে উল্টে গেছিস!
—ভুলে যাস না ছোটু, তোর থেকে আমি চার বছরের বড়। ফোর ইয়ার্স থ্রি মান্থস। আমি এখন ইলেভেন প্লাস।
—তো?
—তোর থেকে আমার বুদ্ধিও বেশি। বুঝিও বেশি। তোর মতো লেবদুশও নই, আমার চোখ কান অনেক বেশি খোলা থাকে।
—ব্যস, তাতেই তুই জেনে গেলি মা আবার বিয়ে করছে?
—ইয়েস। নেক্সট মান্থে। নিজের কানে শুনেছি দিদা ছোট্দিদাকে টেলিফোনে বলছিল...
—কী বলছিল?
—গায়ের ওপর লাফিয়ে এলি কেন? সরে বোস।...দিদা বলছিল, রুমুটা আর কদ্দিন একা একা থাকবে...সামনে গোটা জীবনটা পড়ে।
—মা একা কোথায় রে দিদি? আমরা তো আছি। তুই, আমি, দিদা...
—কী করা যাবে, মা নিজেকে একা মনে করে। বিয়ে করে দোকা না হলে তার যে সুখ হচ্ছে না। দিদা বলছিল, আমিই রুমুকে বলেছি, মনস্থির যদি করেই থাকিস, তা হলে আর দেরি করিস না। তোরও বয়স বাড়ছে, ছেলেমেয়ে দুটোও বড় হয়ে যাচ্ছে। দিদার সঙ্গে ডিসকাস করেই নেক্সট মান্থে বিয়ের ডেট ফেলেছে মা।
—ও। কাকে বিয়ে করছে?
—গেস্ কর।
—আমরা তাকে চিনি?
—খুব চিনি। ভাল ভাবেই চিনি।
—আমাদের বাড়ি আসে?
—রেগুলার আসে।
—বিপ্লবমামা?
—এই তো, বুদ্ধি খুলেছে।
—কিন্তু বিপ্লবমামার সঙ্গে মার কী করে বিয়ে হবে? বিপ্লবমামা তো মামা!
—সো হোয়াট? হতেই পারে। মার ভাই তো নয়। মার অফিসকলিগ, মার বন্ধু, তাই আমরা মামা বলি। ওতে কি বিয়ে আটকায় নাকি?
—ও।...কী ভাবে বিয়েটা হবে? মা কনেবউ সাজবে? তুতুলমাসি যে রকম সেজেছিল?
—মনে হয় না। মেহেন্দি-টেহেন্দি, চন্দন-টন্দন বোধহয় লাগাবে না। ঘটা করে অনুষ্ঠান তো হচ্ছেই না। দিদা বলছিল, দু’জনে জাস্ট রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে বিয়েটা সেরে আসবে, তার পর ছোট করে একটা পার্টি দেবে।
—দিদা তোকে বলছিল?
—নাহ্। ছোট্দিদাকে।
—দিদাকে তুই তক্ষুনি জিজ্ঞেস করলি না কেন?
—চান্স পেলাম কোথায়! মা আজ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি চলে এল যে! জানিস ছোটু, এ রকম কিছু একটা যে হতে চলেছে এ আমি আগেই আন্দাজ করেছিলাম।
—হাউ?
—হাউ হাউ করিস না। বললাম তো, চোখ কান খুলে রাখলে অনেক কিছুই টের পাওয়া যায়। বিপ্লবমামার সঙ্গে মার যে রকম ইন্টিমেসি, দু’জনে যে ভাবে চোখে চোখে কথা হয়, রাতে যে রকম নীচু গলায় ফোন চলে দু’জনের, মা ব্লাশ করে, মানে লজ্জা পায়।
—হ্যাঁ রে দিদি, ঠিক বলেছিস। আমিও এক দিন দেখেছি। বিপ্লবমামা মার কাঁধ ধরে টানছিল। শোলডারের এই জায়গাটা। আমি যেই ঘরে ঢুকেছি, ওমনি ছেড়ে দিল। তার পর মা হাসতে হাসতে বিপ্লবমামাকে ঘুষি দেখাচ্ছিল।
—কবে?
—আমাকে বলিসনি তো!
—মনে ছিল না। এক্ষুনি মনে পড়ল। ওটা লাভসিন ছিল, না রে?
—তা ছাড়া আর কী। থারটিসিক্স ইয়ারসের একটা মা কী করে যে ওই সব সিলি সিন করে!
—করতে নেই, নারে দিদি?
—জানি না। বাথরুম করে এসে বড় আলোটা নিবিয়ে দে। চোখে লাগছে।
—দিদি?
—উঁ?
—বিপ্লবমামাকে কী বলে ডাকব রে? মানে মার সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেলে আর কি মামা বলে ডাকা যাবে?
—সে তোর যা খুশি তাই বলবি। বাবা বাপি ড্যাডি পাপা...
—অত রেগে রেগে কথা বলছিস কেন?
—আমার ভাল লাগছে না।
—তুই কী বলে ডাকবি?
—ভেবে দেখিনি। হয়তো ডাকবই না।
—যাহ্, একটা কিছু বলে তো ডাকতেই হবে। অ্যাই অ্যাই, মিস্টার মিস্টার তো বলতে পারবি না।
—সে তখন দেখা যাবে। আমাদের ক্লাসের বৈজয়ন্তী তো তার স্টেপফাদারকে আংকল বলে।
—আমরাও তাই ডাকতে পারি। বিপ্লবআংকল...বিপ্লবআংকল...
—মন্ত্র জপছিস নাকি?
—না না, প্র্যাকটিস করছি।
—থাম তো এখন। কোথাকার কে একটা লোক, উড়ে এসে জুড়ে বসছে, তাকে নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনও দরকার নেই।
—যা বলেছিস। বিপ্লবমামাটা কেন যে মার অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল! আর এল তো এল, মারই বা কী দরকার ছিল তার সঙ্গে এত ভাব জমানোর!
—বড়দের কী কোনও সেন্স আছে! ওদের ও রকম ভাব-টাব হয়েই যায়। যখন-তখন। বাবাও তো ভাব করেছিল। পিয়ালিআন্টির সঙ্গে।
—হুঁউউ।
—মার তাও বিপ্লবমামার সঙ্গে অ্যাফেয়ার হয়েছে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার অনেক পরে। বাবা তো মার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার আগেই...
—তাই বুঝি?
—তুই আর জানবি কী করে! তুই তো তখন অ্যাত্তটুকুন। পুচকে। সবে হামা টানছিস। পিয়ালিআন্টিকে নিয়ে মার সঙ্গে বাবার রোজ ঝগড়া হত তখন। রোজ। কী চেঁচান চেঁচাত দু’জনে। মা বলত, তুমি একটা ডিবচ, আমার জীবনটাকে তুমি নষ্ট করে দিয়েছ। বলতে বলতে মা রেগে গিয়ে আঁচড়ে দিত বাবাকে, কামড়ে দিত। আর বাবা তখন বলত, বিচ, বিচ, ইউ আর আ বিচ্।
—বিচ মানে তো ফিমেল ডগ, ডিবচ মানেটা কী রে?
—খুব খারাপ গালাগাল। তোকে জানতে হবে না।
—বড়রা রেগে গেলে খারাপ খারাপ গালাগাল দেয়, তাই না দিদি?
—হুঁ। রাগলে বড়রা মানুষ থাকে না, অ্যানিম্যাল হয়ে যায়।
—মা কাউকে খারাপ কথা বলতে পারে ভাবাই যায় না, তাই না রে?
—বাবাকে দেখেও কি মনে হয়? হি ইজ সো জেন্টল, সো লাভিং...। দেখেছিস তো, বাবা যখন আমাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়, কী নরম ভাবে কথা বলে আমাদের সঙ্গে।
—নেক্সট দিন বাবা আমাকে একটা মেটাল বে-ব্লেড কিনে দেবে বলেছে।
—মেটাল বে-ব্লেড? নিশ্চয়ই তুই চেয়েছিলি?
—না, বিলিভ মি। বাবা নিজে থেকেই...।
—মা জানে? মাকে এসে বলেছিলি?
—না।
—দেখিস, মা না চটে যায়! একে মেটাল বে-ব্লেড মা দু’চক্ষে দেখতে পারে না, তার ওপর সেটা দিচ্ছে বাবা! এমনিতেই তো বাবা কোনও গিফ্ট দিলে মার ভুরু কুঁচকে যায়।
—কী হবে তা হলে? নেব না?
—নিতে পারিস। এখন বোধহয় মা প্রবলেম করবে না। একে আনন্দে ভাসছে, তার ওপর বিয়ে করছে বলে মনে মনে একটু চাপেও আছে। মনে হয় চুপচাপ হজম করে নেবে।
—হিহি। হিহি।
—হাসিস না। হেংলু কোথাকার।
—আহা, বাবা মার থেকে কিচ্ছু নেওয়া হ্যাংলামি নাকি? আর এটা তো বাবা যেচে আমায় দিচ্ছে। ভালবেসে।
—কচু। বড়দের অ্যাক্টিং তুই চিনিস না। দুঃখ পাবি বলে এত দিন বলিনি..., ডিভোর্সের সময়ে এই বাবাই বলেছিল ছেলেকে আমার দরকার নেই, শুধু মেয়েটাকে চাই।
—তাই?
—ইয়েস। সেটা হলে তুই একটা ফ্যামিলিতে, আমি আর একটা ফ্যামিলিতে।
—গেলেই পারতিস।
—এমা, কেঁদে ফেললি কেন? আমি কি সত্যি সত্যি গেছি নাকি? পিয়ালিআন্টির ব্যাপারটা তো আমি জানতামই। তার পরেও তোকে ছেড়ে, মাকে ছেড়ে আমি স্টেপমাদারের সঙ্গে থাকতে যাব? লইয়ার আমাকে যখন জিজ্ঞেস করেছিল, আমি ষ্ট্রেট নো বলে দিয়েছি।
—আই লাভ ইউ দিদি।
—হয়েছে, হয়েছে। ঝগড়া করার সময়ে কথাটা যেন মাথায় থাকে। নে, এ বার চোখ বোজ। ও ঘরে টিভি-র আওয়াজ বন্ধ হল, মা এক্ষুনি রাউণ্ডে আসবে।
—ছোটু? ছোটু, ঘুমিয়ে পড়লি?
—না। ঘুম আসছে না রে দিদি।
—আমারও। খালি হিজিবিজি চিন্তা আসছে মাথায়।
—মার বিয়ের কথা ভাবছিস?
—সঙ্গে আমাদের কথাও ভাবছি রে। তোর কথা। আমার কথা। দিদার কথা। কী হবে আমাদের, কোথায় যাব, কী ভাবে থাকব।
—কোথায় আবার যাব? এখানেই থাকব।
—কিন্তু মা কি বিয়ের পরে আর এ বাড়িতে থাকবে?
—কেন থাকবে না? বিপ্লবমামা, থুড়ি, বিপ্লবআংকল, না না, এখনও তো বিপ্লবমামা, এখানেই তো চলে আসতে পারে। এখন আমরা চার জন আছি, তখন পাঁচ জন হব।
—দুর বুদ্ধু, মার বর মার বাপের বাড়িতে থাকতে রাজি হবে কেন? তার নিজের ঘরবাড়ি আছে, মা বাবা আছে, সে চাইবে তার বউও সেখানেই গিয়ে থাকুক। বিয়ের পর বউদের তো শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়াটাই নিয়ম।
—আর আমরা? আমরা তখন কোথায় যাব?
—মা যদি নিয়ে যায়, তো মার সঙ্গে।
—নিয়ে যায় মানে? নাও নিয়ে যেতে পারে?
—কিছুই ইমপসিবল্ নয়।
—যাহ্, এ রকম আবার হয় নাকি? মা এক জায়গায়, আর আমরা অন্য জায়গায়?
—হতেই পারে। মা হয়তো বলল, তোরা দিদার কাছে থাক, তোদের নিয়ে গেলে দিদা একা হয়ে যাবে। আমি রোজই এক বার করে তোদের দেখে যাব।
—অ্যাই দিদি, তুই সত্যি বলছিস? আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস না তো?
—না রে, কথাটা মনে পাক খাচ্ছে তো, তাই বলে ফেললাম।
—কী হবে তা হলে?
—সহ্য করতে হবে। হজম করতে হবে। বড়রা যা ডিসিশান নেয়, তাই তো আমাদের মানতে হয়।
—আচ্ছা দিদি, আর একটা কাজও তো করা যায়!
—কী?
—দিদাকেও যদি মা সঙ্গে নিয়ে যায়, তা হলে তো আর দিদাকে একা থাকতে হয় না। আমরা সবাই বিপ্লবমামাদের বাড়িতে গিয়ে থাকব।
—হাসালি ছোটু। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দিদা থাকবে? মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে? হয় কখনও?
—কেন হয় না? বুড়োবুড়িরা একসঙ্গে থাকাই তো ভাল।
—দিদা যাবেই না। দিদার একটা প্রেস্টিজ আছে।
—আর একটাও করা যায়। বিপ্লবমামা একটা আলাদা বাড়ি নিক, সেখানে মা, বিপ্লবমামা, তুই আর আমি থাকব। দিদা এ বাড়িতে যেমন আছে থাকুক, ও বাড়ির দাদু দিদাও থাকুক নিজেদের বাড়িতে। বিপ্লবমামা আর মা তাদের দেখাশুনো করলেই তো হল।
—দিদাকে একলা ফেলে চলে যাবি? কষ্ট হবে না?
—তা হলে আমরা কী করব? কোথায় যাব?
—দ্যাখ, মা আর বিপ্লবমামা কী ঠিক করে।
—বিপ্লবমামা তো খুব ভাল লোক, না রে দিদি?
—তাই তো মনে হয়। বেশ অ্যাফেকশনেট, কেয়ারিং...
—তা হলে নিশ্চয়ই আমাদের কথাটাও ভাববে?
—কী জানি, বড়দের মতিগতি বোঝা ভার। এই যে পিয়ালিআন্টি, আমাদের সঙ্গে কী সুন্দর ব্যবহার করে, আমি ওদের ফ্যামিলিতে গিয়ে থাকলেও কি ঠিক এ রকমটাই করত? প্রথম প্রথম আদরযত্ন করত হয়তো, কিন্তু তার পর ট্রিটমেন্টটা কি একটুও বদলে যেত না? অন্তত গাবলু হওয়ার পর? বিপ্লবমামাদের সংসারেও ও রকম একটা গাবলু-টাবলু এসে গেলে আমাদের ওপর কার কত টান থাকবে সন্দেহ আছে। হয়তো সেই হাফব্রাদার, কি হাফসিস্টারকে নিয়েই একটা কোনও প্রবলেম শুরু হয়ে গেল।
—মার আবার বাচ্চা হবে কী রে?
—না হওয়ার তো কিছু নেই। বৈজয়ন্তীরই তো একটা হাফসিস্টার আছে।
—হাফ কেন? পুরো কেন নয়?
—ওরে বুদ্ধুরাম, বাবা আলাদা হলে ভাইবোনরা পুরো ভাইবোন হয় না। অর্ধেক বনে যায়। সেটাই নিয়ম।
—আমাদের হাফ ভাইবোন দরকার নেই। চাই না।
—ফের হাঁদাগঙ্গারামের কথা! ওরে স্টুপিড, আমাদের চাওয়ার কী দাম আছে? নাথিং। থাকলে মা কি আবার বিয়ের কথা ভাবত? নাকি আমরা না চাইলে বিয়েটা ক্যানসেল হয়ে যাবে? আমাদের সুবিধে অসুবিধের কথা মা বাবারা থোড়াই ভাবে!
—হুম্।
—এই যে তুই এখনও রাত্তিরবেলা মাঝে মাঝেই মার বিছানায় দৌড়ে চলে যাস, আর তো সেটাও পারবি না। প্রবলেমটা কি মা মাথায় রেখেছে?
—রাখেনি, না?
—প্রশ্নই আসে না। মা এখন বরের চিন্তায় মশগুল।
—বলিস না রে দিদি, আমার বড্ড ভয় করছে।
—ওফ্, তোকে নিয়ে আর পারা যায় না। স্টেডি হ বুদ্ধু, স্টেডি হ। ভয়টাকে পুরো গিলে নে। আমরা যে কষ্ট পাচ্ছি, নার্ভাস হয়েছি, বড়রা যেন একদম টের না পায়। যেখানেই থাক, যে ভাবেই থাক, খাবি দাবি, হাসবি খেলবি, স্কুলে যাবি। পুরো নর্মাল থাকার অ্যাক্টিং করে যা। বড়দের মতো।
—পারব কি?
—পারতেই হবে রে ছোটু। এই পারাটাই তো বড় হওয়া।
সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৩ রবিবার ২৮ মে ২০০৬
But one good friend is equal to a LIBRARY

