Topic: খর বায়ু বয় বেগে_পথিক গুহ_KAL BOISAKHI
খর বায়ু বয় বেগে
পথিক গুহ
বৈকালের দিকটা হঠাৎ চারিদিক অন্ধকার করিয়া কালবৈশাখীর ঝড় উঠিল। ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ওই বাক্যে। ‘অনেকক্ষণ হইতে মেঘ করিতেছিল, তবু ঝড়টা যেন খুব শীঘ্র আসিয়া পড়িল। অপুদের বাড়ীর সামনে বাঁশঝাড়ের বাঁশগুলো পাঁচিলের উপর হইতে ঝড়ের বেগে হটিয়া ওধারে পড়াতে বাড়ীটা যেন ফাঁকা ফাঁকা দেখাইতে লাগিল— ধূলা বাঁশপাতা, কাঁঠালপাতা, খড় চারিধার হইতে উড়িয়া তাহাদের উঠান ভরাইয়া ফেলিল। দুর্গা বাটীর বাহির হইয়া আম কুড়াইবার জন্য দৌড়িল— অপুও দিদির পিছু পিছু ছুটিল।’

কালবৈশাখীর ঝড়ে আম কুড়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন? বিভূতিভূষণ লিখেছেন, ‘ধূলায় চারিদিক ভরিয়া গিয়াছে— বড় বড় গাছের ডাল ঝড়ে বাঁকিয়া গাছ নেড়া-নেড়া দেখাইতেছে। গাছেগাছে সোঁ সোঁ, বোঁ বোঁ শব্দে বাতাস বাধিতেছে— বাগানে শুক্না ডাল, কুটা, বাঁশের খোলা উড়িয়া পড়িতেছে— শুক্না বাঁশপাতা ছুঁচালো আগাটা উচুদিকে তুলিয়া ঘুরিতে ঘুরিতে আকাশে উঠিতেছে— কুক্শিমা গাছের শুঁয়ার মত পালকওয়ালা সাদা সাদা ফুল ঝড়ের মুখে কোথা হইতে অজস্র উড়িয়া আসিতেছে— বাতাসের শব্দে কান পাতা যায় না!... ঝড় ঘোর রবে বাড়িয়া চলিয়াছে। ঝড়ের শব্দে আম পড়ার শব্দ শুনিতে পাওয়া যায় না, যদি বা শোনা যায়, ঠিক কোন জায়গা বরাবর শব্দটা হইল— তাহা ধরিতে পারা যায় না। দুর্গা আট-নয়টা আম কুড়াইয়া ফেলিল, অপু এতক্ষণের ছুটোছুটিতে মোটে পাইল দুইটা।’
But one good friend is equal to a LIBRARY

