Topic: বাবুদের দুর্গোৎসব_সুরজিৎ ধর_BABUDER DURGOTSAV_SUROJIT DHAR
বাবুদের দুর্গোৎসব
সুরজিৎ ধর
সেকালে একটি প্রবাদ চালু ছিল, মা কলকাতায় এসে গয়না পরেন, জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ-র বাড়ি, ভোজন করেন কুমারটুলির অভয়চরণ মিত্তির বাড়ি, আর নাচ দেখেন শোভাবাজার রাজবাড়িতে। তা শোভাবাজারে নাচের একটু বাড়াবাড়ি ব্যবস্থা ছিল বইকী। বেনারস থেকে বিখ্যাত কোন কোন বাইজি আসবে, আগেভাগে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানিয়ে দেওয়া হত সকলকে। অভয়চরণ মিত্রর পুজোতে মায়ের মিষ্টান্ন সাজানো ছিল এক দেখবার মতো জিনিস। ১৮৬৪ সালেও অমৃতলাল বসু সে বাড়িতে দেখেছিলেন, গরুর গাড়ির চাকার সাইজের এক একটা জিলিপি, বারকোশ আকারের গজা আর কামানের গোলার সাইজের মতিচুর। দালানে মায়ের দু’পাশে রাখা এসব মেঠাই কড়িকাঠ ছুঁয়ে ফেলত।

বাগবাজার সার্বজনীন 2011
জোড়াসাঁকোর শিবকৃষ্ণ দাঁ মা দুর্গাকে গয়না দিয়ে সাজাবার ব্যাপারে কোনও খুঁত রাখতেন না। সোনা রুপো দিয়ে সেসব গয়না তো হতই, অনেকে আবার প্যারিস থেকে হিরে মুক্তোর গয়নাও নিয়ে আসতেন। বিসর্জনের সময় অনেক বাবু তা খুলে রাখার মতো ছোট নজর দেখাননি। কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর হুতোম প্যাঁচার নকশায় সে কালে বাবুদের দুর্গোৎসব নিয়ে এই বাড়াবাড়ির জন্য যথেষ্ট ব্যঙ্গ করলেও, তাঁর নিজের বাড়িতে কিন্তু দারুণ ধুমধাম করে এই পুজো করতেন। এ ছাড়া কৃষ্ণচন্দ্র মিত্র, রামহরি ঠাকুর, বারানসী ঘোষ, দর্পনারায়ণ ঠাকুর, সুখময় রায়, মতিলাল শীল, রামদুলাল সরকার, নারায়ণ মিত্র প্রমুখের বাড়িতে ফি বছরেই জাঁকিয়ে দুর্গোৎসব হত। এসব ধনীদের মধ্যে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে, ঐশ্বর্য প্রদর্শনের লড়াই ছিল এক দেখবার জিনিস।
সাহেবদের তোয়াজ করার জন্য ঘটা করে আমন্ত্রণ জানিয়ে নাচগান সহ খানাপিনার ব্যবস্থা হত; আর তার বিবরণ সে কালের পত্রপত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হত। নেটিভদের সঙ্গে শাসনকর্তা ইংরেজদের দুর্গাপুজো উপলক্ষে এই মাখামাখি বন্ধ করার জন্য ১৮৪০ সালে দশ নম্বরি আইন করে, যোগদান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আর এই ফূর্তির খরচ জোগাতে গিয়ে, অনেক বাবুই সর্বস্বান্ত হয়ে যান।
আনন্দবাজার পত্রিকা, ১২ আশ্বিন ১৪০৯ রবিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০২
But one good friend is equal to a LIBRARY

