Topic: রাতের ট্রেনের যাত্রী

রাতের ট্রেনের যাত্রী
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জ্জী

আমি তখন কলকাতার একটা নামকরা মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য চান্স পেয়েছিলাম ।পরীক্ষা শেষ হয়েছে কাল, আজ বাড়ি যাব কিন্তু যাবার আগে দেখি ছুরি নিয়ে খেলা দেখাতে গিয়ে আমার এক বন্ধু হাত কা   টালো ,  আমাকে তার সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হল তাই সকালের ট্রেনটা ধরতে পারলাম না, রাতের ট্রেন টা ধরলা ম ।
শীতের দিন বলেই সাড়ে পাঁচটা বাজতেই সন্ধ্যা হয়েগেছে। আমার ট্রেন ৬ টা২০তে । ট্রেনটা সবে মানকর স্টেশেন পার হয়েছে ,অন্ধকারের বুক চিরে আমাদের ট্রেনটা এগিয়ে চলেছে ,চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার । শীতের রাত তাই কামরাটা বেশ ফাঁকাফাঁকাই ছিল, আমাদের কামরাতে আমি ছাড়াও পাঁচজন বসে ছিল । দুজন স্বামী স্ত্রী, আমার পাসে একটি ভদ্রলোক বোসে ছিল,বয়স প্রায় আঠান্ন কি ষাট হবে, রোগা পাতলা করে আর আমার মুখোমুখি দু জন ছেলে। তাদের মধ্যে একটি ছেলে ভুতের গল্পের বই পড়ছিল।
আমাদের কামরাতে সবাই চুপচাপই ছিল, আমিই প্রথম কথা বল্লাম"ভূতের গল্প পড়ছেন বুঝি ,এই বইটা আমি পড়েছি ,দারুন লিখেছে।"
ছেলেটি বলল" হ্যাঁ , ভূতের গল্প ছোটবেলা থেকেই আমার খুব ভাললাগে ।"
আমি বললাম "যারা ভূতের আস্তিত্তে বিস্বাসী তারাই কিন্তু বেশী ভূতের গল্প পড়ে। আপনিও কি তাদেরই দলে ? প্রশ্নটা ছুড়েদিলাম ছেলেটির দিকে।"
ছেলেটি "হ্যাঁ"
এই কথা শুনে তার পাশের ছেলেটি বলে উঠল "শালা কী বললি, হাসালি মাইরি, ওসব আবার আছে নাকি ?" তারপর হো হো করে হাসতে থাকলো ।
ছেলেটি হয়তো তার বন্ধু ছিলো , তার কথাবার্তাতে সেরকমই মনে হচ্ছিলো কিন্তু তার সে কথা শুনে আমার পাশের সেই রোগা মতন ভদ্রলোকটি বলে উঠলো "আপনি কি ভূতে বিশ্বাস করেননা ,না করলেও তার কিন্তু আস্তিত্ত আছে ।"
ছেলেটি বলল" কিকরে বিশ্বাস করবো, তার আস্তিত্তের কি কোনো প্রমান বা প্রত্যক্ষ দর্শী আছে?"
রোগা ভদ্রলোকটি বলল " হ্যাঁ আছে ।"
ছেলেটি বলল "তাহলে নিশ্চয় আপনার দাদু,জ্যেঠু,কাকু অথবা মাসিমা, দিদিমা, পিসিমা কেও দেখেছেন , এসব ছোটবাচ্চাদের ভোলানোর জন্য এসব কথা বলে থাকে।
আমার বাবা বনের পাস দিয়ে আসতে আসতে একবার ভূত দেখেছিলো, আমার দাদু বনের পাস দিয়ে আসতে আসতে একবার ভূত দেখেছিল, এই সব আর কি । তাছাড়া........................."
রোগা ভদ্রলোকটি তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলেউঠল "একথা আমার দাদু দিদিমার কাছে শোনা নয়, এ ঘটনা আমার নিজের জীবনেরই ঘটনা ।"
ছেলেটি বলল " কি করে বুঝবো আপনি সত্যি কথা বলছেন ।"
ভদ্রলোকটী বিরক্ত হয়ে বলল "সেটা আপনার বিশ্বাস করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।"
এবার আমিই মাঝে কথা বললাম "শুধুশুধু তর্ক না করে, এনার কথাটা একবার শোনাই জাক না।"
আমার সামনের প্রথম ছেলেটিও তাতেই সম্মতি জানালো। ছেলেটিও বললো ঠিক আছে
শোনাই যাক।
আমার পাসের ভদ্রলোকটি "ঠিক আছে আমি বলছি" বলে নড়েচড়ে বসলো ,তারপর বলতে শুরু করে দিল।
"প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা ,আমি তখন কলেজে পড়ি।একবার আমরা চার পাঁচ জন বন্ধু মিলে আমাদের এক বন্ধু রামের বাড়ি গিয়েছিলাম,তাদের বাড়ি ছিল বসীরহাটে।"
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বলতে শুরু করলো "সাধারন গ্রাম্য পরিবেশ,পরিবেশটা আমাদের বেস ভালই লাগছিল।এক দিন বিকেলে রামেদের গ্রামটা আমরা ঘুরে দেখছিলাম । গ্রামের শেষপ্রান্তে এসে আমরা একটা পোড়ো বাড়ি দেখলাম ,আমরা রামকে জিঞ্জাসা করতে জানাল সেটা কালুদের বাড়ি । পরে স্বন্ধে বেলা বাড়ীতে মুড়ি খেতে খেতে প্রশংগটা উঠল যে ঐ বাড়িতে নাকি ভূতের নিবাস আছে আর গ্রামের অনেকেই এই কথাটা বিশ্বাস না করে ঐ বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে ভয়ে পালিয়ে এসেছে। বারটার সময় নাকি একজন মেয়ের আত্মা আসে"
এতদূর একনাগারে বলে ভদ্রলোক চুপ করলেন । আমাদের দিকে ঠান্ডা চোখে একবার তাকালেন,সেই তাকনোর মধ্যে যে কি ছিল জানি না কিন্তু তারদিকে চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকতে পারলাম না, চোখ দুটো যেন কালো কুতকুত করছে চোখ নামিয়ে নিলাম। বাকিদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সবাই যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।
আমাদের ট্রেনটা নিজের মনেই অন্ধাকারে এগিয়ে চলেছে। ভদ্রলোক আবার বলতে শুরু করলেন "লোকের মুখ থেকে শুনেছে , অনেকেই সাহস দেখাতে গিয়ে নিশুতি রাতে একা একা সেই বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে এক ভয়ংকর ছায়া মূর্তির সম্মুখিন হতে হয়েছে । তার সেই ভয়াল রূপ দেখলে যে কারো পিলে চম্‌কে উঠতে পারে । যারা ঐ বাড়িতে রাত কাটিয়েছে তাদের দু একজন যারা বেঁচে তাদের মুখে শোনেছে ,সে রাতে সে যে দৃশ্য দেখেছে তা নাকি তাদের সারা জীবন মনে থাকবে । তাদের একজন বলেছিল- বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে সেই বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়েছিলো , রাত বারটা কাছাকাছি বাজতেই সেই পোড়ো বাড়ির রূপ যেন পাল্টাতে শুরু হয়েগেল, পোড়ো বাড়িতে কোথা থেকে ঢং ঢং করে বারোটা বাজার শব্দ হল। কিন্তু এই পোড়ো বাড়িতে ঘড়ি এলো কোথা থেকে ।সেই ভয়ঙ্কর শ্মশানপুরিতে মোমবাতির আলোতে  চারিদিক থেকে অন্ধকার যেন আমাকে গিলে খেতে চাইছে। ঘড়ির শব্দ শুনেই আমার হৃদয় কেপেকেপে উঠছিলো মনে হচ্ছিল এখনই আমার পেছন থেকে কেও যেন আমাকে চেপে ধরলো। ভয় উত্তেজনাতে আমার বুকের ভিতর ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে গেছিলো, না যানি হার্টফেল করে না মারা যাই। তারপর দেখি আমার থেকে হাত দশেক দূরে মোমবাতির আবছায়া আলোতে এক মহিলার ছায়ামূর্তি,যার মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বার হচ্ছে , তার চোখে থেকে যেনো প্রতিহিংসার আগুন ঝরে পড়ছে। তার সেই চোখের আগুনে যেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবে , সেই চোখে চাহনি দেখলে প্রচন্ড সাহসি লোকেরও হৃদকম্প শুরু হয়ে যাবে। মাথা থেকে টপটপ করে রক্ত মাটিতে পড়ছে , ক্রুর দৃস্টি হেনে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সেই মহিলা । সে দৃশ্য দেখে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল, নড়াচড়া করার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছি , মনে হচ্ছিল এখনই আমার মৃত্যু হবে। মনে প্রাণের সব শক্তি জোড় করে পড়িমরি করে দৌড়ে লাগালাম দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে, যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দৌড়াই , কোন রকমে সেবার প্রান বাচিয়ে ফিরে ছিলাম । দুজন নাকি ঐ বাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে মারা গেছিলো,কিছু কিছু লোক বলে তাদের ভূতে মেরেছে আবার কিছু কিছু লোক বলে তারা নিজেরাই ভয়ে মারা গেছিলো , ভয়েই নাকি লোকে ভুলভাল দেখতে পায়।
রাম কথা গুলো বলছিলো ঠিক কিন্তু আমাদের বিশ্বাস যোগ্য করে তুলতে পারছিল না । কথার যাদুতেই মানুষকে অনেক কিছু বিশ্বাস করানো যায় , রামের মধ্যে সে যাদু ছিল না , কথা গুলো কেমন খাপছাড়া খাপছাড়া লাগছিল। রাম আরও জানালো যে অনেক দিন আগে ঐ বাড়ীটাতে দুজন স্বামী স্ত্রী বসবাস করতো কালু ও তার স্ত্রী , তাদের নিয়েও একটা গল্প আছে তাদের গ্রামে । গল্পটা এরকম - শোনা যায় আগে ঐ বাড়িতে কালু আর তার স্ত্রী জয়িতা বাস করতো । কালু পাশের গ্রামের এক জমিদারের লাঠিয়াল ছিল । ভালো লাঠি খেলতে পারতো বলে সে লাঠিয়ালদের সর্দার হয়ে গেছিলো ।
একবার সেই জমিদারের বাড়িতে লুঠ করতে গিয়েছিলো রঘু ডাকাত, সেবার অবশ্য রঘু ডাকাত লুঠ করতে পারেনি , কালু সর্দার আর তার দলবলের সঙ্গে রঘু এটে উঠতে পারেনি , লাঠিয়ালদের কাছে মার খেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল রঘু ডাকাত আর তার দলবলকে । ধরাশায়ি ডাকাত দল যখন পিছন হটতে শুরু করলো তখন লাঠিয়ালেরা ডাকাতদলের উপর তীরের বর্শা শুরু করে দিল , সেই আক্রমন তাদের অনেকেই আহত হয়ে ছিল , শোনা যায় নাকি দুজন ডাকাত মারও গিয়েছিল, সম্পুর্ন ডাকাতদল বিদ্ধস্ত হয়ে যায়। রঘু ডাকাত এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে একে একে প্রতি লাঠিয়ালদের বাড়ি আক্রমন করে, কালুদের বাড়িও আক্রমন করেছিল। কালু ওস্তাদ লাঠিয়াল হলেও অতোগুলো ডাকাতের কাছে নিতান্তই বাচ্চা, রঘু ডাকাত কালুর চোখের সামনেই তার স্ত্রীকে ধর্ষন করে , ফিরে যাওয়ার সময় দুজনকেই তলোয়ারের কোপে হত্যা করে। শোনা যায় নাকি তারপর থেকেই ঐ বাড়ীতে ভূতের উপদ্রবের কথা শোনা যায়।"
ভদ্রলোক কিছুক্ষনের জন্য চুপ করলেন,আমাদের পুরা কামরাটা নিস্তব্ধ , যে ছেলেটি কথায় কথায় ভদ্রলোকটিকে বিদ্রুপ করছিলো সেও দেখি হাঁ করে শুনে যাচ্ছে। লোকটি চুপকরেই রইলেন - সবাই চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে আছে , এটাই যে গল্পের শেষ নয় সেটা সবাই বুঝতে পারছে , কিন্তু মুখে কেও কিছু বলছে না কেবল তার দিকে তাকিয়ে আছে । লোকটি চারদিকে একবার তাকিয়ে একটু মুচকি হাঁসলেন এযেন ছেলেটির দিকেই ব্যঙ্গের হাঁসি , চোখের ভাষা যেন বলতে চায় কিহল এতোক্ষন তো বেশ আমার কথাগুলোকে উড়িয়ে দিচ্ছিলে এবার কেন হাঁ করে তাকিয়ে আছো।
তিনি আবার বলতে লাগলেন " রাম আমাদের গল্পটা বলল , স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের বন্ধুদের মধ্যে দুদলে ভাগ হয়ে গেল , একদল বলে রামের এসব গল্প বুজরুকি ছাড়া কিছুই নয়, আরেক দল বলে না, এটা বুজরুকি মনে করার কোন কারন নেই । পৃথিবীতে আনেক কিছুই আছে যা আমাদের সাধারন বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিচার করা যায় না ,তাই বলে তা সবই কি বুজরুকি। আমরা প্রথম দলে যারা ছিলাম তারা বলি রাম যে গল্পটা বলল তা এ গ্রামে মিথের মতো হয়ে গেছে তাই রাম আমাদের এভাবেগল্পটা বলল । কেও হয় তো কথাটা মজা করার জন্য রটিয়ে ছিল বা কোন সার্থসিদ্ধি করার জন্য রটিয়ে ছিল , গ্রামের সহজ সরল মানুষ সহজে বিশ্বাস করে, পরে সেটাই মিথে পরিনত হয় । রাম যদিও এর চুড়ান্ত বিরোধিতা করলো কিন্তু ধোপে টিকলো না । তারা যুক্তি দিলএই যে ম্যজিসিয়ানেরা তাদের ম্যজিকে বিভিন্ন অবাস্ত অবাস্ত খেলা দেখায় তাহলে সেগুলোও কি সব বুজরুকি? আমরা বললাম, দেখ ম্যজিসিয়ানেরা যে ম্যজিক দেখায় সেটা সবটাই সায়েন্সের উপর নির্ভর করে দেখায়, আমরা সেই পেছনের বিঞ্জানটা জানি না, কিন্তু তোদের এই ভূতুড়ে কান্ডের পেছনে কোন বৈঞ্জানিক যুক্তি নেই, তাই তোদের এই গল্প আমরা মানবো না ।
অভয় ছিলো আমাদের মধ্যে একরোখা , সে একবার কিছু বললে সেটাকেই গিট দিয়ে ধরে বসে থাকে ,অভয় বলেছে রামের গল্পটাতে বিশ্বাস যোগ্যতা আছে , সে যখন একবার বলেছে রামের গল্পটাতে বিশ্বাস যোগ্যতা আছে তখন তাকে কোন যুক্তি দিয়েই বোঝানো যাবে না ,তা আমরা সকলেই জানি । অভয় আমাদের চেলেঞ্জ করে বসলো "তোরা যদি এই ঘটনাটাকে গল্প বলিস তাহলে তোরা ঐ বাড়িতে গিয়ে রাত কাটিয়ে দেখা তাহলে মানবো সেটা সুধু মাত্র গল্প ।"
আমরা মুখে যাই বলি সত্যি কারের রাতের বেলা কোন পোড়ো বাড়িতে কাটানোর মতো সাহস আমাদের ছিলো না ,কিন্তু অভয়ের কথাগুলোও চুপচাপ হজম করতে কষ্ট হচ্ছিল , এবার যদি বলে বসে "কিরে এবার কিহল , মুখেনং মারিতং যগৎ , যত আস্ফালন বুঝি মুখেই।" তাহলে মুখ দেখাবার যায়গা থাকবে না ।

Thumbs up

2

Re: রাতের ট্রেনের যাত্রী

dada baki ta den

Re: রাতের ট্রেনের যাত্রী

কিন্তু ভগবান আমাদের উপর সদয় ছিলেন ,রাম বলে উঠলো "না না তোদের কারোকে যেতে হবেনা , আমার বাড়িতে এসে কোন অঘটন ঘটলে তোদের বাবা মায়েরা আমাকে ছাড়বে না , আর আমার বাড়ির লোকেরা যানলে আমার কপালেও দুঃখ আছে। "
অভয়েরা বলল" না যাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না , এরা সব ভীতুর দল ,এদের কারো যাওয়ার সাহস নেই কেবল মুখেই বড় বড় বাত।"
" না না, তোদের সাহস থাকুক বা না থাকুক আমি কারোকে ঐ পোড়ো বাড়িতে যেতে দেবো না , এই আমার শেষ কথা।" রাম বলেই গট গট করে চলে গেল। আমরা দেখলাম রাম আমাদের কিছুতেই যেতে দেবে না , আমাদেরও ভালোই হলো। আমি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সাহস দেখিয়ে বুক ফুলিয়ে বলে দিলাম " জানাজানি হলে নেহাত রামকে বাড়ির লোকে বকাবকি কোরবে না হলে আমিই আজ রাতে ঐ বাড়িতে রাত কাটাতে পারি । ঐ বাড়িতে রাত কাটানো কোনও বড় ব্যপার নাকি। ছ্যঃ। সাধে কি পাড়াগায়ের লোকেদের গেঁয়ো ভূত বলে।" কথা বলে মনে হলো কথাটা বলা ঠিক হয়নি, আমি আর বিভূতি ছাড়া সকলেই পাড়া গাঁয়ের, তাও বিভূতি অভয়দের দলে ।
কেও কিছু বলল না , সবাই চুপচাপ হয়ে গেল ,অভয় উঠে চলে গেল, একটু চুপচাপ  তারপর প্রসঙ্গটা পালটে গেল । এতো সহজে সবাই কথাটা হজম করে গেল, এমন কি অভয়ও,  মনে একটা খট্‌কা রয়ে গেল।একটু পরে অভয় হাসিহাসি মুখে ফিরে এলো তারসাথে রাম , আমার বুঝতে বাকি রইল না যে আমার পেছনে বাঁশ দেবার ব্যবস্থা করে ফিরে আসছে। রামকে ভুজুঙ ভাজুঙ দিয়ে কি বোঝালো জানি না , রাম ফিরে এসে বলল "ঠিক আছে তুই যখন যেতে চাইছিস যা ,অভি আমাকে বুঝিয়ে বলল। যানিস আমারও ব্যপারটা ঠিক বিশ্বাস হয় না কিন্তু রাতে ঐ বাড়িতে একা যাওয়ার সাহস আমার নেই , আজ রাতে তোর যাওয়া সব ব্যবস্থা করছি।" আমি বললাম" তোর বাড়ি লোক যদি জানতে পেরে যায় তাহলে কি হবে।" মুখে বাড়ির লোকের কথা বললেও মনে মনে রামকে গাল দিচ্ছিলাম শালা কি গ্যঁড়াকলে আমায় ফেললি। মুখে এতো বড় বড় কথা বলার পর আর বলতে পারি না আমি যেতে পারবো না, তাহলে এরা আর আমাকে আস্ত রাখবে না ঘরে বাইরে কলেজে সব জায়গায় অতৃষ্ঠ করে তুলবে , কি আর করার আছে নিজের খোড়া খালে নিজেই পড়েছি। আজ আমাকে ঐ পোড়ো বাড়িতে যেতেই হবে , কপালে কি যে আছে ,ভয়ে আবার ততলিয়ে উঠলাম "বাড়িররররররর লোক।" রাম জানালো " তোকে চিন্তা করতে হবে না, একটু রাত করে বার হলেই হবে আর তোর রাস্তা তো জানায় আছে , আজ বিকেলেই তোদের বাড়িটা দেখিয়ে এলাম , আমি বরং তোর জন্য একটা টর্চের ব্যবস্থা করে রাখবো ।" রাম কি করে যে একশো আশি ডিগ্রী ঘুরে গেলো তা আজো বুঝতে পারিনি কিন্তু সেই সময় মনে মনে রামকে এয়সা গালাগালি দিচ্ছিলাম যে শুনতে পেলে রামের চোদ্দ গুষ্টি সর্গ থেকে নেমে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তো।
আমাকে একা একা যেতে হবে ভেবেই হাত পা গুটিয়ে পেটের মধ্যে ঢুকে যেতে চাইছিল। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই রুমে বোসে আছি কখন বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়ে। ভয়ে আমার বুক দূর দূর করছে কিন্তু মুখেতো কিছু বলতে পারছি না আর বাকি সবার দিকে তাকিয়ে দেখি সবাই বেশ মজা লুঠছে , যারা আমার দলে ছিল তারাও দেখি ওদের সঙ্গে তালে তাল মেলাচ্ছে - শালা এমন বন্ধুর থেকে শত্রুও ভালো।
তারপর এলো সেই মহেন্দ্রক্ষন আমি ,রাম ,অভয় আর বিভূতি চুপিচুপি বাড়ি থেকে বার হয়ে এলাম,রাম আমাকে বলল " এবার তোকে একাই যেতে হবে , দেখ ভাই ভয় লাগছে তো যাস না। " আমি বললাম " না না ভয় লাগার কি আছে ।" মুখে বলি এক, মন বলে আরেক। সেই যখন বললি ভাই ,আগে কেন বললি না । তারপর আমি একাই এগিয়ে চললাম । একটু এগিয়ে পেছন ফিরে তাকাই আরও একটু গিয়ে পেছন ফিরে তাকাই। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার জোনাকি ঝিঝি শব্দ করছে , টর্চের আলোতে চারিদিকের অন্ধকারটা আরও যেন বাড়িয়ে তুলেছে ,বাড়িটার দিকে যত এগিয়ে চলেছি ভয় আমার বুকে আরো চেপে বসছে। না না খারাপ চিন্তা মনে আসছিল , এক সময় বাড়িটার সামনে এসে দাড়ালাম।"
ট্রেনটা বেড়ো স্টেশেনে ঢুকলো, আমাকে এখানেই আমাকে নামতে হবে, গল্পটা এরকম একটা ইন্টারেস্টিং জায়গাতে এসে পৌচেছে বাকিটা শোনার খুব ইচ্ছে থাকলেও আমাকে নামতে হল।

Thumbs up