Topic: মুঠো কলের বিড়ম্বনা
সেই ২০০৬ এর ঘটনা। ঈদে বাড়ী গিয়েছি, রোজার ঈদ, তাই চাঁদ দেখার হুল্লোর চলছে। ঈদের চাঁদ দেখে ফোনবুকে যতো নাম্বার আছে, সবাইকে ফোন করতে শুরু করলাম। সব পরিচিত নাম্বারে ফোন করা শেষে একটা নাম্বারে গিয়ে আটকে গেলাম, আমার এক জুনিয়ার স্টুডেন্টের নাম্বার। আমার থিসিস এর কামলা ছিল। নাম্বারটা সচল না অচল জানিনা, তবু একটা মিসড কল দিলাম। আধ ঘন্টা পর মিসড কল ব্যাক, বুঝলাম নাম্বারটা সচল। কলব্যাক করলাম। অনেকক্ষন কথা হলো, এটা সেটা, ডিজাইনের অবস্থা ইত্যাদি।
এর পর থেকে মাঝে মাঝেই ফোন করতো, বিশেষ করে ডিজাইন ডিসকাসনের জন্য। আমিও করতাম, খবরাখবর নিতাম, কে ডিজাইন নিচ্ছে, টিচারকে ডিফেন্স দেয়া যায় কিভাবে, সেই শুরু। ফোনাফোনি শুধু ডিজাইন ডিসকাসনেই আটকে থাকলো না, বরং ফোনে কথা বলাটা আরো নিয়মিত হয়ে চললো। এর পর সময় বাড়তে লাগলো, আধ ঘন্টা, এক ঘন্টা করে বাড়তে বাড়তে সারারাত।
নিয়ম হয়ে গেল, রাতে ১২টার দিকে শুয়ে পরতাম, মিসডকল দিতাম, ফ্রী থাকলে কলব্যাক করতো। কলব্যাক করলে আমি কল দিয়ে ভোর সারে পাঁচটা ছটা পর্যন্ত। এরপর সাতটার দিকে অফিস। আর সারাদিন তো বিভিন্ন ছুতোয় কথা বলা আছেই। ফোনের বিল-ও বাড়তে লাগলো, তিন হাজার, চার হাজার . . . . . . . . !
এরমধ্যে একদিন বললো যে আমার বাসায় আসবে, ফোনে ডিজাইন ডিসকাসনে অনেক কিছু বোঝা যায় না, তখন ঢাকায় মিটিং মিছিল হরতাল চলছে, বিশাল রাজনৈতিক ক্যাচাল। এই অবস্থায় ধানমন্ডি থেকে মিরপুর যাওয়া চাট্টিখানি কথা না! তাই মানা করে দিলাম, তারিখটা ছিল ১০ই জানুয়ারি, ২০০৭। রাতে মানা করে দিলাম, এর পর থেকে ফোন অফ। আমি পরলাম টেনসনে, ফোন অফ কেনো? ফোন অন করলো ১১ তারিখ বিকেলে, ফোন অন পেয়ে যে কি ভালো লাগলো বোঝাতে পারব না। বাসায় আসতে মানা করাতে রাগ করে অফ করে রেখেছিল। বকা আর দিতে পারলাম না, তখনি বিড়ম্বনাটা টের পেলাম, এই মেয়েটাকে ছাড়া আমার আর গত্যন্তর নেই! অপর দিকে তার ও একই অবস্থা!
ভালোবাসি কথাটা অনুচ্চারিতই থেকে গেল!!!
আজ আড়াই বছরের ওপর হয়ে গেলো আমি এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাইনি, মেয়েটা এখন আমার স্ত্রী!
মানুষ বোঝ না!
....হেলাল হাফিজ

