Re: আমার দেশের একটুকরো

Amader deshe ...Amra(public)...mane jano sadharon sob theke baje...amrai ghush di ...amrai ghus khai..aar amrai ghush khor bole galagal kori...........hay re amar desh ...!!!!!!.. ei desh kono dino aar sonar bangla hobe na...ba no1 hobena......amrai jekhane...ghush khor..sekhane police ba proshashon k gali di ki kore?........aapni ekta form er lamba line dekhe vablen time koi?......paser cha er dokane 50 takate form ta paya jachye...aapni kine bari chole elen...aar je 2ghanta line diye danriye ache se hayto form ta pelo na...ei to aamra.......keu bina doshe masher por mash jele thake..keu abar rape ba khun kore dhora poreo jail er baire ghore....kono medhabi chatro boi er abhabe porte parena ..keu abar ek peg drink korte 1000 taka oray...eideshe 6ta state te garib loker persentage...africar doridro desher theke beshi..(42 lakh)..abar eidesher 6jon multi billioner ache jara prithibir sob theke dhni manush.........aro onek kichu ache ..bhalo laglo na tai likhlam na..

Last edited by newton007 (2010-07-15 09:58:22)

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

Aami Dubai thaki....eta khubi ekta choto desh U.A.E. .....choto city ..eder deshe oil ache ta khubi shimito...but ekta jinish dekhun eder city ta khub sajano gochano...karon janen?.eder desher police ..rule..amra eder deshe ..ese indian theke amra Dubai er hoye gechi..ekta tissu ba chocklet er paper felar age dust bin khunji..aar nijer deshe amra.......na bollei chole ...dewal dekhle hishi kore di........hahahaaa

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

newton007 wrote:

Aami Dubai thaki....eta khubi ekta choto desh U.A.E. .....choto city ..eder deshe oil ache ta khubi shimito...but ekta jinish dekhun eder city ta khub sajano gochano...karon janen?.eder desher police ..rule..amra eder deshe ..ese indian theke amra Dubai er hoye gechi..ekta tissu ba chocklet er paper felar age dust bin khunji..aar nijer deshe amra.......na bollei chole ...dewal dekhle hishi kore di........hahahaaa

এ দেশে পরিচ্ছন্নতার অভাবের প্রধান কারণ হল সামাজিক পরিবেশ। সোজা কথায়, আপনি যখন ছোটোবেলা থেকে দেখছেন যে সকলেই লেবু খেয়ে রাস্তায় খোসা ফেলে দেয় তখন আপনিও তাই করবেন। আরো কথা হল যে কেউ বারণ করার নেই।
প্রবাদ আছে মহাজনেরা যেদিকে যান সেটাই পথ। এখানে মহাজন মানে মহৎ সংখ্যক লোক (অনেক লোক)। অনেক লোক যে দিক দিয়ে যাতায়াত করে সেটাই রাস্তা হয়ে যায়। অনেক লোক যা করে সেটাকে বলে লোকাচার। আমরা ছোট থেকে এতেই অভ্যস্ত। আজ যদি দুবাই-এর কোনো বাসিন্দা এদেশে থাকতে আসেন, এক বছরের মধ্যে তিনিও তাই করবেন।

আর আইনের কথা যদি বলেন সে তো তামাশা মাত্র। যেখানে ট্রাফিক কনস্টেবল রাস্তায় মাঝে দাঁড়িয়ে পয়সা নেয়, যে দেশে CBI ফলস রিপোর্ট দেয়, যে দেশে একটা জমির মালিকানা স্থির করতে আদালত ১২ বছর সময় নেয় (জমির দামের চেয়ে উকিলের খরচ বেশি হয়ে যায়), যে দেশের ৮০ লক্ষ কোটি কালো টাকা সুইস ব্যাঙ্কে পড়ে আছে, সে দেশে আইন মেনে চলার মানেই হল নিজের মাথা মুড়িয়ে নিজের পয়সায় ঘোল কিনে ঢালা।
সবই একে একে আসবে। মাঝে বেশ কিছুদিন সময় পাই নি। ভিন রাজ্যে আমার এক কমরেড পরিবারের বন্ধু সম্প্রতি কংগ্রেস পরিবারের এক মেয়েকে বিয়ে করে ফেলায় সাঙ্ঘাতিক সমস্যায় পড়েছিলাম। অবস্থা প্রায় অনার কিলিং এর মত হতে বসেছিল। অনেক কষ্টে সামলানো গেছে। (তাদের রাজ্যের নাম আর বললাম না, চিনে ফেললে আবার মুস্কিল হবে)। কিন্তু মজার ব্যাপার হল দুই পরিবারেই কেউই গাধা না। মার্ক্স-এর বই, গান্ধীজীর বই ইত্যাদি তাঁরা নিয়মিত পড়েন। আরো মজার কান্ড হল, কেন্দ্রে জোট সরকার থাকার সময় ওনাদের মধ্যে মোটামুটি সখ্যতাই ছিল, যেই কেন্দ্রে তালাক হয়ে গেল অমনি লেগে গেল ঝামেলা।
দুই পরিবারের জাত, ধর্ম, social status ইত্যাদি কোনো কিছুতেই ফারাক নেই। কিন্তু পলিটিক্স কি জিনিস তা ঐ-কালকের ছেলেমেয়েরা কি করে জানবে বলুন!

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1284435888.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1284436991.gif

ছবি গুলো হারিয়ে ফেলেছিলাম, কেমন লাগছে বলবেন।

Last edited by Jibangmail.com (2010-09-14 09:37:25)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

যা দেখলাম, ছবি তোলাতে ওদের বেজায় আপত্তি। কোনো রকমে দুটো তুলে ফেলেছি, তাতেই পারলে বস্তায় পুরে বেচে দেয়। এ ব্যাপারে এরা নেহাত ছোটোলোক। ভদ্রলোক হলে ক্যামেরা দেখেই জিরাফের মত গলা বাড়িয়ে দিত।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

জায়গাটা খুব ভাল ধরেছো জীবন কিন্তু বোঝে কে বলো ? তোমার কাজ তোমায় করে যেতে হবে নিরলস ভাবে। আজ না হোক কাল ফল পাবেই।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

দাদু হয়তো ভাবলেন আমি ঠাট্টা করছি। সিরিয়াস ভাবে এক কথায় উত্তর দিলেন, "তুমি এসব বুঝবে না। এসব বোঝা বোকাদের কাজ নয়।"
আমার মজা লাগল। বললাম "আমি বোকা তা কি করে বুঝলেন দাদু?"
দাদু একই রকম সিরিয়াস ভাবে বললেন "বোকা না হলে এইসব আবোল তাবোল কথা নিয়ে মাথা ঘামাতে না। বরং যে কাগজটা নাতনীকে ধার দিলে সেটা ভালো করে পড়তে। আর না হলে ওটার বদলে তুমিও ওর কাছে একটা বই টই কিছু পড়ার জন্যে ধার চাইতে।"
এই বলে তিনি নাতনীর পায়ের কাছে পড়ে থাকা ক্রনিকল-খানা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমিও নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করার কাজে লেগে পড়লাম।
**************
**************

আমাদের দেশে নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করা বেজায় কঠিন। বিশেষ করে যদি আইন কানুন মেনে চলতে হয়। স্বাধীনতার অনেক আগে রবীন্দ্রনাথ রামকানাই সম্পর্কে লিখেছিলেন "এমনতরো আস্ত নির্বোধ সমস্ত শহর খুঁজিলে মিলে না।" (যদি কেউ না পড়ে থাকেন তাহলে এখানে পড়ে নিন http://www.tagoreweb.in/Render/ShowCont … 0C8B1532CC) আজও সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে। তবে এখনকার মানুষকে বোকা বানাবার আজব চেষ্টা দেখে হাসি পায়। যেমন এই আজমল কাসভকে ফাঁসির হুকুম দিয়ে আমাদের মন্ত্রীরা এমন সব লেকচার ঝাড়তে লেগেছেন যে মনে হতে পারে পাকিস্তান বুঝি এবার ভয়ে গর্ত ছেড়ে বেরোবেই না। এইসব নেতারাই এর আগে আফজল গুরু নামক আর এক সন্ত্রাসবাদীর ফাঁসি আটকাবার জন্যে রাষ্ট্রপতির কাছে কান্নাকাটি করেছিলেন। এখানে যেহেতু কাসভ এক গরীব রুটিওয়ালার ছেলে, তাই তার বেলায় অন্যরকম হল।

আমার এই বোকা মাথায় এটাও ভালো করে ঢোকেনি যে কাসভের ফাঁসিতে কি উপকার হবে। আর এতে আমাদের এত গর্বিত হবার কি আছে। যে লোক মরার জন্যেই এসেছিল, তাকে মেরে কি এমন আকাশের চাঁদ পেলাম যে একে "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিরাট সাফল্য" বলব? একজন রুটিওয়ালার ছেলে টাকার লোভে আর মগজ ধোলাইয়ের কল্যাণে পাকাপোক্ত খুনী হয়ে উঠল। তারপর সে এদেশে এসে ভিডিও ক্যামেরার সামনে এলোপাথাড়ি খুন করল। এরকম ভিডিও ক্যাসেট থাকলে তো তার দোষ প্রমাণ হবেই। বিশেষ করে তার যদি টাকার জোর না থাকে। এরকম খুনী কি আমাদের দেশে নেই? প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় এই রকম লোক আছে, যারা দাদাদের গদি কায়েম রাখার জন্যে একই রকম কাজ করে থাকে। উদাহরণ হিসাবে নাম করেই বলতে পারি, ২০০১ সালে বিধানসভা (আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর এলাকা) নির্বাচন-এর সময় এন্তার বোমা, গুলি চলেছিল। কারা এমন করেছিল তাদের ভিডিও ছবির লাইভ টেলিকাস্ট অনেকেই দেখেছেন। এর পরেও তারা বিন্দাস আছে কারণ তারা মুখ্যমন্ত্রী তৈরির মত মহৎ কার্যে লিপ্ত ছিল। তাছাড়া তারা তো আর পাঁচতারা হোটেলে থাকা VIP দের বা হোটেলের মালিকের কোনো ক্ষতি করেনি, গোটাকয়েক হরিদাস পাল বোমা খেলে কিই বা আসে যায়!

যাইহোক কাসভ যে দোষী প্রমাণ হয়েছে আনন্দের কথা, কিন্তু তাজ হোটেলের মত জায়গায় অত অস্ত্র নিয়ে ঢোকা কি কয়েকজন বিদেশীর পক্ষে সম্ভব? তাদের তো আর তল্লাসী না করে ঢোকানো হয়নি! ওরকম হোটেলে অত অস্ত্র জমা করতে পারে তারাই যাদের চেকিং না করে যেতে দেওয়া হয়। সেই তালিকায় আমাদের PM,CM থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় নেতা-অভিনেতা খেলোয়াড় VIP আছেন। সকলেই জানে যে আমাদের দেশে ৯৯% রাজনৈতিক নেতা আসলে Criminal ছাড়া আর কিছুই না, (আর প্রতিটা political party এক একটা  terrorist group) তবুও দেশের সর্বত্র তাদের বিনা তল্লাসীতে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়, এমনকি বিদেশ থেকে ফেরার সময়েও চেকিং করা হয় না। এদের অনেকেই বিদেশী ব্যাংকে নম্বরী Account খুলে রেখেছেন, আর সেখানে মোটা রকম ডিপোজিট করে দিলে তাঁরা কেবল দেশ নয়, নিজের মাথাও বেচে দিতে এক পায়ে খাড়া। টাটা, বিড়লা, আম্বানী, বাজাজ দের মত ব্যবসাদারেরা থেকে শুরু করে দাউদ অব্দি এইসব নেতা-অভিনেতাদের টাকা দিয়ে পুষে রাখে সাধারণ মানুষকে টুপি পরিয়ে নিজেদের পকেট ভর্তি করার জন্যে। আমাদের দেশে এখন সব বড়লোকেই নেতা পোষে, যার যেমন ক্ষমতা। গ্রামের চোলাই-বিক্রেতা পঞ্চায়েতের মেম্বারকে টাকা খাওয়ায়, হর্ষদ মেহতা কয়েক ডজন মন্ত্রীর ভোটের খরচ দেয়। আর অভিনেতাদের তো কথাই নেই। বিশ্ববিখ্যাত সিনেমা-সুন্দরী দশ টাকার সাবানের গুণ বোঝাতে গিয়ে একেবারে ......(আর বলব না, নিজেরা টিভিতে দেখে নেবেন)। বাস্তবে সেই সাবান তিনি পায়ের তলাতেও মাখেন না। কেবল পয়সার জন্যেই আমাদের মত বোকাদের জ্ঞান দিতে আসেন।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

আবার পরিক্ষা

নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করতে গিয়ে দেখি চারিদিক থেকে সকলে কেমন উসখুস করছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পরিক্ষা শুরু হবার সময় হয়ে এসেছে অথচ এখনো স্কুলের গেট খোলা হয়নি। বললাম "দাদু, ট্রেনের সময় তো হয়ে এল, এবার কি হবে?"
"হবে আর কি বাবা! পথে তো বসেই আছ।" বলে দাদু নিজের ঘড়ি বার করতে গেলেন এমন সময় আমার মোবাইল বাজতে শুরু করল। আর একই সঙ্গে স্কুলের গেটও খুলে গেল।

মোবাইল বার করে দেখি অচেনা এক নম্বর। কানে লাগাতেই দেখি এক মহিলাকন্ঠ বলছেন "কেমন আছেন? আমার বন্ধু হতে চান? তাহলে এখনি ডায়াল করুন ... ইত্যাদি ইত্যাদি। কোম্পানীর আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, আমার জন্যে একেবারে বুক ফেটে যাবার যোগাড়।
ফোন অফ করে পকেটে রেখে দেখি সকলে ভেতরে চলে গেছে। আমিও মহাজনদের পথে এগোলাম। একবার পেছন ফিরে দেখি দাদু বসে বসে ঘাস ছিঁড়ছেন। একবার ভাবলাম বারণ করি, হাজার হোক সবুজ তো কিছু কমে যাচ্ছে! তার পরেই দেখি গেট বন্ধ, পরিবেশ রক্ষা করা আর হলনা। সোজা সেই হলে গিয়ে টেবিলের সামনে বসে গেলাম। তার পর সাদা কাগজ কালো করতে শুরু করলাম।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

Sender:
M.K. GANDHI
+919400000000
Sent: 00:00:45
15/8/1947



Sorry for the late delivery
-BSNL.



We live in a country, where Pizza reaches home faster than Ambulance/Police,
because pizza selling is free enterprise and ambulance & police is "govt bureaucracy" , try selling pizza thru government, you will never receive it.

Where you get car loan @ 5% and education loan @ 12%,
in a free enterprise u want people to buy and not invest.

Where rice is Rs 40/- per kg but sim card is free,
rice fills your stomach but a phone fills up somebody else's stomach.

Where a millionaire can buy a cricket team instead of donating the money to any charity,
because people think - in immediate sense - revenue generated by cricket outnumbers the revenue generated by charity.

Where the footwear, we wear, are sold in AC showrooms, but vegetables, that we eat, are sold on the footpath,
In fact that's the right way to keep the food prices low... do you want to add the "frill" cost to the food?

Where everybody wants to be famous,
but nobody wants to follow the path to be famous.

Where we make lemon juices with artificial flavours and dish wash liquids with real lemon.

Where people are standing at tea stalls reading an article about child labour from a newspaper and say, "yaar bachhon se kaam karvaney wale ko to phansi par chadha dena chahiye"
and then they shout "Oye chhotu, 2 chaii dena....."

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

অবজেক্টিভ এর উত্তর দেওয়া সোজা কাজ নয়। খুদে খুদে গোল্লাগুলিকে ঠিকমত ভর্তি করা এক মহান শিল্পকর্ম বলেই মনে হচ্ছিল। অনেকে হয়ত ভাববেন যে এই কথাটা আমি দ্বিতীয় ভাগে কেন বলছি। পরিক্ষার প্রথম অংশেও তো এই মহান শিল্পকর্ম করতে হয়েছে। আসলে তখন পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। চাউনিম ও ফুচকাদের মিলিত স্বাধীনতা আন্দোলনের ফলে অন্য দিকে মন দেবার অবসর ছিল না। কিন্তু এখন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মাথায় আরো অনেক নতুন প্রশ্ন জেগে উঠতে লাগল।

প্রথমেই মনে হল কেন উত্তর কেবলমাত্র গ্রাফাইট পেন্সিলে দিতে হবে? এমনিতে সবই ঠিক আছে কিন্তু আমার এই উত্তর তো কোনোভাবেই Evidence বা  অথেন্টিক ডকুমেন্ট হিসাবে দাম পাবে না। যেহেতু ট্যাম্পারিং এর সুযোগ পুরোপুরি থেকেই যায়। জানিনা আমার এরকম ভাবা উচিত কিনা। কিন্তু IAS মার্কা মাথায় যদি এমন চিন্তা না আসে তাহলে ভারি চিন্তার কথা। "মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ" এরকম কথা অনেক মহামানব বলেছেন বটে, কিন্তু যাঁরা পরিক্ষাগুলো নেন তাঁরা পরিক্ষার্থীদের উপরে আদৌ বিশ্বাস রাখেন কি? তাঁরা Admit card এ ছবি লাগান, সই এর স্ক্যান কপি রাখেন, যাতে কিনা পরিক্ষার্থীরা চিটিং করতে না পারে। অন্যদিকে পরিক্ষকেরা যাতে চিটিং করতে না পারেন তার জন্য কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিক্ষার্থীদের কাছে কোনো প্রমাণই থাকেনা সে পরিক্ষায় উপস্থিত ছিল বলে। অনেক পরিক্ষায় তো আবার Admit card টা পর্যন্ত ফেরত নিয়ে নেওয়া হয়।

সাদা কাগজ কালো কত্রে যখন বের হলাম তখন গেটের সামনে মেলা বসে গেছে। সেই ভিড়ের মধ্যে দাদুকে খোঁজার চেষ্টা করলাম। যেখানে তাঁরা গাছতলা রিজার্ভ করে বসছিলেন সেখানে গিয়ে দেখি জায়গাটা ফাঁকা। কেবল শ্রীযুক্ত আজমল কাসভের সেই কাগজখানা পড়ে আছে। ভারি মন খারাপ হয়ে গেল। বেচারা এত কষ্ট করেও পরিক্ষার প্রশ্নে নাম ওঠাতে পারল না। হয়তো মাস খানেক আগে থেকে চেষ্টা করলে হয়ে যেত।

ফাঁকা গাছতলায় বসে পকেট থেকে মোবাইল বের করে অন করলাম। দেখি বেশ কয়েকটা মিস-কল এসেছিল। এখন আমার এয়ারটেল বিনে পয়সায় Alert দেয় কিন্তু কোন নম্বর থেকে মিস-কল হয়েছে তা জানায় না। তাই আমাকে একে একে ২৭ টা মিস-কল করতে হল। মোবাইল অন করেছি এটা আমার বন্ধুদের জানিয়ে দিতে হবে তো!

মহান কর্তব্য শেষ করে দেখি আমি একাই বসে আছি, বাকি সকলে রওনা হয়ে গেছে। আমিও আর দেরি না করে খাল পার হবার জন্য ব্রিজের ধারে এসে হাজির হলাম। ব্রিজটা নেহাত ছোট নয়। লিলিপুটদের ট্রাক তার উপর দিয়ে আরামে পার হতে পারে। কিন্তু আমাদের হবু IAS এবং তাদের গার্জেনদের ভারি অসুবিধা হচ্ছিল। কয়েকজন তো রেলিং এর উপর দিয়ে সার্কাস করতে করতে পার হচ্ছিলেন। পোকাদের ছোট ছোট খোকারা আমাদের কান্ড ভালো করে দেখার জন্যে খালের জল থেকে উঁকি মারছিল। অনেকে কচুরিপানা গাছে উঠে ভেংচিও কেটে গেল আমাদের। আর সেই সার্কাসের মাঝেই আমার পকেটের মধ্যে চার বার মিসকল পেলাম। বুঝলাম বন্ধুরা আমার মতোই তাদের কর্তব্য করতে শুরু করেছে।

খাল পেরিয়েই দেখি আমার জন্যে বাস দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বাসের মধ্যে ঢুকে যা দেখলাম তাতে আরো আনন্দ হল। বাসের পুরোটাই খালি, ড্রাইভার পর্যন্ত নেই।  কেবল আমার সেই দাদু আর দাদুর সেই নাতনী বাস আলো করে বসে আছেন।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

আমি প্রথমে ভাবলাম দাদু অথবা নাতনির পাশে বসা উচিত হবে কিনা। কিন্তু শেষ অব্দি ইচ্ছেটা ছাড়তে হল। না, কোনো অন্য কারনে নয়, জানলার ধারে বসার লোভ কিছুতেই সামলাতে পারা গেল না। অবশ্য দাদু এবং নাতনি  দুজনেই তাই করেছিলেন, প্রত্যেকেই আলাদা সিটে জানলার ধারে বসেছিলেন। কাজেই When in Rome মনে  করে আমিও তাই করলাম।

কিন্তু হায়! ইংরেজী প্রবাদ পড়ার সময় যদি বাংলা প্রবাদগুলো ভুলে না যেতাম তাহলে  বড়ই ভালো হত। "যার কর্ম তারে সাজে" এই কথাটা তখন মনেই পড়ল না। রোমানদের যা সাজে, তা যেমন  কলকাতিয়াদের সাজে না তেমনি কলকাতিয়ারা কলকাতার বাসে উঠে যা করতে পারে তা যে আমার না করাই ভালো  ছিল সেটা কিছুক্ষন পরে বুঝেছিলাম। আসার সময় ভিড়ের মধ্যে চ্যাপটা হয়ে দাঁড়িয়ে এসেছিলাম কাজেই জানালার লোভ  ছিলই, সেই সঙ্গে জানালার মহিমা বোঝাটাও বাকি ছিল।  যাইহোক দাদুর পিছনের সিটে জানালার ধারে বসে পচা খালের নির্মল বাতাস খেতে খেতে দাদুর সঙ্গেই গল্প করতে হচ্ছিল। কিন্তু আসলে আমার মাথায় ঘুরছিল নাতনির চিন্তা। তার পরিক্ষা আমার চেয়ে ভালো হল কিনা সেটা জানা প্রয়োজন, কিন্তু দাদুও বোধ হয় সেই একই মহান উদ্দেশ্য নিয়ে আমার পরিক্ষার পোস্ট-মর্টেম শুরু করে দিলেন। আর সেই সময় এক মিনিটের মধ্যে আমার মোবাইলে চার বার মিসকল এল। বন্ধুদের কর্তব্য পালন এখনো শেষ হয়নি।

মোবাইল বার করে দেখে কিন্তু অবাক হলাম। একটা অচেনা নম্বর থেকে ১৩ টা মিস কল। বাকিগুলো সবই আমার চেনা, যাদের আমি কর্তব্যবোধে জানিয়ে দিতে গেছিলাম যে আমার মোবাইল জেগে উঠেছে, তারাই কনফার্মেশন রিপোর্ট দিয়েছে। বুঝলাম আমার কোনো পুরোনো বন্ধু নতুন নম্বর নিয়ে আমার সাথে ঠাট্টা করছে। যদি রিং ব্যাক করি তাহলে গলা পালটে দেখবে আমি তাকে চিনতে পারি কিনা। যতক্ষন চিনতে না পারছি ততক্ষন আমায় জ্বালাবে। ভাবতে চেষ্টা করলাম মক্কেলটি কে হতে পারে। এদিকে দাদু জিগ্যেস করলেন “মিস কল দিয়ে কে জ্বালাচ্ছে এত?” (আসলে তিনি জানতে চাইছিলেন কোনো মিস কল করছে কিনা। সেটা তখন বুঝতে পারিনি।)
দাদুকে খুলে বললাম। তিনি মুচকি হাসি দিয়ে বললেন “দাও দেখি একবার ফোনটা”।
ফোন টা নিয়ে দাদু যা বললেন তা হলঃ-

অজানা নং- হ্যালো!
দাদু- নমস্কার, আপনি যে মোবাইল ব্যবহার করেন তার মডেল কি জানতে পারি?
অজানা নং – আপনি কে বলছেন? (বোঝা গেল আমার বদলে এক গম্ভীর বুড়ো গলা শুনে মক্কেল ভড়কে গেছেন।)
দাদু – আপনি এতবার মিস কল দিলেন, আর কাকে দিলেন জানেন না?
অজানা নং – সরি, মনে হয় আমি ভুল নম্বরে রিং করেছিলাম। কিন্তু ফোনের মডেল দিয়ে কি হবে?
দাদু – না। আসলে আমি দামটা জানতে চাই। আপনি কি পকেট খালি করে ফোন কিনেছেন? কল করার রেস্ত নেই?

এই না বলে দাদু টুক করে ফোন কেটে দিলেন। আমি হাসব কিনা ঠিক করতে পারলাম না। হাসলে কেউ বারন করত না জানি, কিন্তু মুখের মধ্যে ধুলো ঢোকার ভয় ছিল।

(ক্রমশঃ)
*************
হাঃ হাঃ আমিও মামন দাদার মত ক্রমশঃ লিখে দিলাম। এর মানে হল আবার কবে হবে ঠিক নেই।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

ভালো জমিয়েছ...

তবে আমার মতো করো না।

আমি প্যাঁচে পরে পঞ্চানন হযেগেছি।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up