Topic: আমার দেশের একটুকরো

গত ২৩ মে কলকাতায় গিয়েছিলাম সিভিল সার্ভিস পরিক্ষা দিতে। ভোরের ট্রেনে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেটের মধ্যে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে গেল। না, যা ভাবছেন তা নয়। পরীক্ষার ভয়ে আমার এমনটা কখনোই হয় না। আগের দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে চাঊমিন+ফুচকা(বাজি ধরে ৫০ টি) সেবনের ফল এটা।
যাই হোক, ট্রেণের জল প্রায় শেষ করে দিয়ে যখন নামলাম, স্টেশনে দেখলাম এক মজার বিজ্ঞাপন। যদিও এমন বিজ্ঞাপন হাটে বাজারে দেয়ালে দেয়ালে দেখা যায় কিন্তু রেলস্টেশনে দেখার আশা করিনি। মোবাইল বের করে ছবি তুলে নিলাম। ছবি আপনাদের জন্যে রইল।
http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1274900638.gif
এখন এই বিজ্ঞাপনে যা দাবী করা হয়েছে তা সরল ভাষায় বলা যায় একটি ফৌজদারী অপরাধ। ভারতীয় সংসদে পাশ হওয়া আইন The Drug and Magic Remedies (Objectionable Advertisement) Act অনুসারে অলৌকিক উপায়ে রোগ সারিয়ে দেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া বে-আইনী। কেবল বিজ্ঞাপনদাতা নয়, প্রকাশকের-ও শাস্তির বিধান আছে ওই আইনে। এর পরেও রেল দপ্তর যদি কিছু পয়সা কামানোর জন্য আইন ভাঙ্গায় মদত জোগায়, তাহলে আইন মেনে চলার আশা রাখব কাদের কাছে?
মজা এই কারণে লাগল যে এই বিজ্ঞাপন-টা  রীতিমত আইনসঙ্গতভাবে লাগানো। হাটে বাজারে দেয়ালে লাগানো পোস্টারের মত নয়।
যেসব ব্যক্তি এইসব দাবী করছেন তাঁদের নাম ঠিকানা বিজ্ঞাপনে আছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ রইলো, যদি কেঊ এনাদের কাছাকাছি হন, দয়া করে যাচিয়ে দেখবেন। মন্দিরে গিয়ে যদি সত্যিই হার্টের রোগ সেরে যায়, অন্ধের চোখ ফিরে আসে তাহলে তো আনন্দের কথা।


হাওড়া থেকে বেরিয়ে বড়বাজারে দেখলাম আর এক আনন্দময় সিন। ফুটপাথের দোকান থেকে শয়ে শয়ে ইলেক্ট্রিকের তার জড়াজড়ি করে ঘিরে আছে বাড়িগুলোকে। শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে দমকল সামলাতে পারবে কিনা তারাই জানে। এই রকমই এক তারে ঢাকা খুপরি ঘরের মধ্যে দেখা পেলাম তক্তাপোশে শুয়ে থাকা এক বিদেশি অমানুষের। পারস্য থেকে আসা এক বিশাল রামছাগল। বর্তমান মালিকের কাছ থেকে শুনলাম যে এক কাবুলবাসীর হাত থেকে ওই অজরাজকে তিনি পেয়েছিলেন বছর চার আগে। এখন ওজন ৫২ কিলো, দাঁড়ালে উচ্চতা চার ফুট। গোটাকয়েক ছবি তুল্লাম মালিকের পার্মিশন নিয়ে। দাঁড়ানো ছবি তোলার ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হল না। ক্যামেরাটা ভালো না বলেই হোক বা আনাড়ী ক্যামেরাম্যান বলেই হোক, মালিক পেটে খোঁচা মেরে উঠিয়ে দেবার পর তিনি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। বেদম রেগেমেগে দড়ি ছিঁড়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমি একটু চিন্তায় পড়েছিলাম, পরে জানলাম এরকম প্রায়ই হয়ে থাকে। আমিও আর দেরী না করে শুভকাজটা (আমার জ্ঞানের শ্রাদ্ধটা) সারতে রওনা দিলাম।

(আগের ইমেজটা ঠিক আসছে কিনা দেখে তবে ছাগল টা দেবো!)
এসেছে!

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019521.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019634.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019717.gif

Last edited by Jibangmail.com (2010-05-28 09:45:13)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

চলো যাই নিক্কো পার্ক
নিক্কো পার্ক দেখবার ইচ্ছে ছিল অনেক দিন থেকে। ২০০১ সালে যখন আনন্দলোক নেত্রালয়ে চোখের অপারেশন করাতে যাই তখন বাইরে থেকে শেষ দেখেছিলাম। ডাক্তার এর অনুমতি পাওয়া যায়নি ভিতরে ঢোকার। এবারেও ভিতরে যাওয়া হল না। বাইরে থেকে আবার একবার দেখে নিয়ে চলে আসতে হল।

পরিক্ষার সময় হয়ে আসায় খাল পার হয়ে হাজির হলাম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়-২ এর গেটে। পরিক্ষাটা সেখানেই। স্কুল এর জ্ঞানভান্ডার আর নিক্কো পার্ক এর আনন্দভান্ডার খুব কাছাকাছি। একটা পচা খালের এপার ওপার। আমাদের দেশের সনাতন ঐতিহ্য অনুসারে শিক্ষা আর আনন্দের মাঝে একটা পচা খাল থাকেই। তবে ওখানে অনেকগুলো ব্রিজ ছিলো। গাড়ি চলার ব্রিজ় গুলো ভারি সুন্দর করে রঙ করা আর সাজানো। হাঁটার গুলো অতটা নয়। কয়েকটা তো বেশ ভাঙ্গাচোরা। খালে দুধারে তারের জাল লাগিয়ে বাগান-টাগান ও করা হয়েছে। সবই দারুণ সুন্দর লাগছিল, খালের জলটা বাদে।

স্কুলের গেটের ধারে বসে অপেক্ষা করছি, এমন সময় আমার পাশে এক দাদু এসে বসলেন। সঙ্গে তাঁর নাত্নী। বসার পরেই নাত্নী বই খুললো, আর দাদু খবরকাগজ খুলে পড়তে শুরু করলেন। ভীষণ সাবধানী লোক। এমনভাবে কাগজটা ধরেছিলেন যাতে আমি বিজ্ঞাপনের পাতাটা ছাড়া আর কিছু দেখতে না পাই। এমন মানুষ জত থাকে ততই কাগজওয়ালা দের লাভ।
বাধ্য হয়ে আমি বিজ্ঞাপঙ্গুলোই পড়তে চেষ্টা করলাম। হরি হরি, এখানেও সেই একই কান্ড কারখানা। একগাদা জ্যোতিষী আর বাবাজী-মাতাজী ছবি সহ দাবী করছেন যে তাঁরা সকলেই আদি ও অকৃত্রিম 'খণা' 'ভৃগু' 'পরাশর' 'জৈমিনি' ইত্যাদি প্রভৃতি। সকলেই সকল সমস্যার সমাধান করতে ওস্তাদ। অনেকে আবার ২৪ ঘন্টায় তীব্র বশীকরণ করার গ্যারান্টী দিয়েছেন। পেটের মধ্যে সোডার বোতল খুলে গেল, হোহো করে হেসে ফেললাম।
দাদু গোমড়া মুখে তাকিয়ে বললেন "কি হল?"
চুপ করে যেতে গিয়ে আচমকা নাতনীর দিকে চোখ পড়ে গেল। দেখলাম আঙ্গুল থেকে কাঁধ অব্দি নানারকম শিকড়-বাকড় তাবিজ় রত্ন দুই হাতে। রগড় করার ইচ্ছে চাপতে পারলাম না। বললাম, দাদু কি কোলকাতার?
হ্যাঁ। কেন বলো তো?
আচ্ছা, এই যে সব ঠিকানাগুলো দেওয়া আছে, কিভাবে যেতে হয় বলতে পারেন?
দাদু একবার নাতনীর দিকে আড়চোখে চাইলেন। বললেন, "কেন? স্টোনম্যান হতে চাও নাকি? এসব মানো?"
বুঝলাম দাদু-নাতনীর মধ্যে এই নিয়ে মাঝে মধ্যে লেগে থাকে। বললাম "না দাদু, যখন অন্যভাবে চেষ্টা করে কাজ না হয় তখন একবার দেখতে দোষ কি!"
দাদু আবার আড়চোখ দেখিয়ে মুচকি হাসি ছাড়লেন। "সমস্যাটা কি? প্রেমিকা পালিয়েছে?"
"পালিয়েছে তো অনেকদিন, বিয়েও করে ফেলেছে। কিন্ত এখন আমার ভালো করতে গিয়ে কেস কিচাইন করে দিয়েছে।"
"কিরকম", দাদুর আগ্রহ বেশ বেড়েছে মনে হল।
শুনুন তবে। আমি আমার civil service  এর ফর্ম টা সই টই করে ওকে দিয়েছিলাম ফিল-আপ করে পোস্ট করে দিতে। ও আমার অপশনাল সাব্জেক্ট এর জায়গায় ভারতের ইতিহাস বসিয়ে দিয়েছে। এদিকে আমার সাবজেক্ট হল Physics. পরিক্ষা যা হবে তা তো ভালোই বুঝছি, এখন এনাদের আশীর্বাদে যদি উতরে যাই তাহলে বেশ হয়।"

দাদু-নাতনী দুজনেরই বত্রিশ পাটি বেরিয়ে এসেছিল। কিছু একটা বলতে গেলেন, এমন সময় স্কুলের গেট খুলে গেল আর তাঁরা আমার সমস্যা ভুলে উঠে পড়লেন।

(চলবে)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

3

Re: আমার দেশের একটুকরো

Hmm !! aapni dekchi onek dikei dhoni !! amader moto mukkhu lok non !! aha jodi aapnar moto lekha pora sikhte paartam ........ ki aar kora jabe class 3 te 3 bar fail korlam, Bidyasagar mosai onurodh korlen aar naa porte tai chere dilam, jodi naa chartam tahole aaj hoito class 2 te pouche jetam !! tobu aapnar lekha pore ektu pet ebon matha kharap hoi kintu kichui korar nei !! ektu ektu kore gyan obbossoi deben !!

4

Re: আমার দেশের একটুকরো

Jibangmail.com wrote:

গত ২৩ মে কলকাতায় গিয়েছিলাম সিভিল সার্ভিস পরিক্ষা দিতে। ভোরের ট্রেনে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেটের মধ্যে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে গেল। না, যা ভাবছেন তা নয়। পরীক্ষার ভয়ে আমার এমনটা কখনোই হয় না। আগের দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে চাঊমিন+ফুচকা(বাজি ধরে ৫০ টি) সেবনের ফল এটা।
যাই হোক, ট্রেণের জল প্রায় শেষ করে দিয়ে যখন নামলাম, স্টেশনে দেখলাম এক মজার বিজ্ঞাপন। যদিও এমন বিজ্ঞাপন হাটে বাজারে দেয়ালে দেয়ালে দেখা যায় কিন্তু রেলস্টেশনে দেখার আশা করিনি। মোবাইল বের করে ছবি তুলে নিলাম। ছবি আপনাদের জন্যে রইল।
http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1274900638.gif
এখন এই বিজ্ঞাপনে যা দাবী করা হয়েছে তা সরল ভাষায় বলা যায় একটি ফৌজদারী অপরাধ। ভারতীয় সংসদে পাশ হওয়া আইন The Drug and Magic Remedies (Objectionable Advertisement) Act অনুসারে অলৌকিক উপায়ে রোগ সারিয়ে দেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া বে-আইনী। কেবল বিজ্ঞাপনদাতা নয়, প্রকাশকের-ও শাস্তির বিধান আছে ওই আইনে। এর পরেও রেল দপ্তর যদি কিছু পয়সা কামানোর জন্য আইন ভাঙ্গায় মদত জোগায়, তাহলে আইন মেনে চলার আশা রাখব কাদের কাছে?
মজা এই কারণে লাগল যে এই বিজ্ঞাপন-টা  রীতিমত আইনসঙ্গতভাবে লাগানো। হাটে বাজারে দেয়ালে লাগানো পোস্টারের মত নয়।
যেসব ব্যক্তি এইসব দাবী করছেন তাঁদের নাম ঠিকানা বিজ্ঞাপনে আছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ রইলো, যদি কেঊ এনাদের কাছাকাছি হন, দয়া করে যাচিয়ে দেখবেন। মন্দিরে গিয়ে যদি সত্যিই হার্টের রোগ সেরে যায়, অন্ধের চোখ ফিরে আসে তাহলে তো আনন্দের কথা।


হাওড়া থেকে বেরিয়ে বড়বাজারে দেখলাম আর এক আনন্দময় সিন। ফুটপাথের দোকান থেকে শয়ে শয়ে ইলেক্ট্রিকের তার জড়াজড়ি করে ঘিরে আছে বাড়িগুলোকে। শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে দমকল সামলাতে পারবে কিনা তারাই জানে। এই রকমই এক তারে ঢাকা খুপরি ঘরের মধ্যে দেখা পেলাম তক্তাপোশে শুয়ে থাকা এক বিদেশি অমানুষের। পারস্য থেকে আসা এক বিশাল রামছাগল। বর্তমান মালিকের কাছ থেকে শুনলাম যে এক কাবুলবাসীর হাত থেকে ওই অজরাজকে তিনি পেয়েছিলেন বছর চার আগে। এখন ওজন ৫২ কিলো, দাঁড়ালে উচ্চতা চার ফুট। গোটাকয়েক ছবি তুল্লাম মালিকের পার্মিশন নিয়ে। দাঁড়ানো ছবি তোলার ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হল না। ক্যামেরাটা ভালো না বলেই হোক বা আনাড়ী ক্যামেরাম্যান বলেই হোক, মালিক পেটে খোঁচা মেরে উঠিয়ে দেবার পর তিনি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। বেদম রেগেমেগে দড়ি ছিঁড়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমি একটু চিন্তায় পড়েছিলাম, পরে জানলাম এরকম প্রায়ই হয়ে থাকে। আমিও আর দেরী না করে শুভকাজটা (আমার জ্ঞানের শ্রাদ্ধটা) সারতে রওনা দিলাম।

(আগের ইমেজটা ঠিক আসছে কিনা দেখে তবে ছাগল টা দেবো!)
এসেছে!

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019521.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019634.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019717.gif

Naam ta tahole " aami dada o Chagol" kore dei !! ki bolen??

5

Re: আমার দেশের একটুকরো

dada apnar pariksa ta je school e porechilo seta to ekkebare 1stclass school...apnar sujog hoyeche apni dhukechen...ta niccopark e gechilen to...na gele kin2 chokher khoti...ta dada apnar bari kothai....
kirokom holo xam...

Re: আমার দেশের একটুকরো

dada aami o gadha !! wrote:
Jibangmail.com wrote:

গত ২৩ মে কলকাতায় গিয়েছিলাম সিভিল সার্ভিস পরিক্ষা দিতে। ভোরের ট্রেনে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেটের মধ্যে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে গেল। না, যা ভাবছেন তা নয়। পরীক্ষার ভয়ে আমার এমনটা কখনোই হয় না। আগের দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে চাঊমিন+ফুচকা(বাজি ধরে ৫০ টি) সেবনের ফল এটা।
যাই হোক, ট্রেণের জল প্রায় শেষ করে দিয়ে যখন নামলাম, স্টেশনে দেখলাম এক মজার বিজ্ঞাপন। যদিও এমন বিজ্ঞাপন হাটে বাজারে দেয়ালে দেয়ালে দেখা যায় কিন্তু রেলস্টেশনে দেখার আশা করিনি। মোবাইল বের করে ছবি তুলে নিলাম। ছবি আপনাদের জন্যে রইল।
http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1274900638.gif
এখন এই বিজ্ঞাপনে যা দাবী করা হয়েছে তা সরল ভাষায় বলা যায় একটি ফৌজদারী অপরাধ। ভারতীয় সংসদে পাশ হওয়া আইন The Drug and Magic Remedies (Objectionable Advertisement) Act অনুসারে অলৌকিক উপায়ে রোগ সারিয়ে দেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া বে-আইনী। কেবল বিজ্ঞাপনদাতা নয়, প্রকাশকের-ও শাস্তির বিধান আছে ওই আইনে। এর পরেও রেল দপ্তর যদি কিছু পয়সা কামানোর জন্য আইন ভাঙ্গায় মদত জোগায়, তাহলে আইন মেনে চলার আশা রাখব কাদের কাছে?
মজা এই কারণে লাগল যে এই বিজ্ঞাপন-টা  রীতিমত আইনসঙ্গতভাবে লাগানো। হাটে বাজারে দেয়ালে লাগানো পোস্টারের মত নয়।
যেসব ব্যক্তি এইসব দাবী করছেন তাঁদের নাম ঠিকানা বিজ্ঞাপনে আছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ রইলো, যদি কেঊ এনাদের কাছাকাছি হন, দয়া করে যাচিয়ে দেখবেন। মন্দিরে গিয়ে যদি সত্যিই হার্টের রোগ সেরে যায়, অন্ধের চোখ ফিরে আসে তাহলে তো আনন্দের কথা।


হাওড়া থেকে বেরিয়ে বড়বাজারে দেখলাম আর এক আনন্দময় সিন। ফুটপাথের দোকান থেকে শয়ে শয়ে ইলেক্ট্রিকের তার জড়াজড়ি করে ঘিরে আছে বাড়িগুলোকে। শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে দমকল সামলাতে পারবে কিনা তারাই জানে। এই রকমই এক তারে ঢাকা খুপরি ঘরের মধ্যে দেখা পেলাম তক্তাপোশে শুয়ে থাকা এক বিদেশি অমানুষের। পারস্য থেকে আসা এক বিশাল রামছাগল। বর্তমান মালিকের কাছ থেকে শুনলাম যে এক কাবুলবাসীর হাত থেকে ওই অজরাজকে তিনি পেয়েছিলেন বছর চার আগে। এখন ওজন ৫২ কিলো, দাঁড়ালে উচ্চতা চার ফুট। গোটাকয়েক ছবি তুল্লাম মালিকের পার্মিশন নিয়ে। দাঁড়ানো ছবি তোলার ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হল না। ক্যামেরাটা ভালো না বলেই হোক বা আনাড়ী ক্যামেরাম্যান বলেই হোক, মালিক পেটে খোঁচা মেরে উঠিয়ে দেবার পর তিনি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। বেদম রেগেমেগে দড়ি ছিঁড়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমি একটু চিন্তায় পড়েছিলাম, পরে জানলাম এরকম প্রায়ই হয়ে থাকে। আমিও আর দেরী না করে শুভকাজটা (আমার জ্ঞানের শ্রাদ্ধটা) সারতে রওনা দিলাম।

(আগের ইমেজটা ঠিক আসছে কিনা দেখে তবে ছাগল টা দেবো!)
এসেছে!

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019521.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019634.gif

http://forum.banglalibrary.org/extensions/image_upload/images/1275019717.gif

Naam ta tahole " aami dada o Chagol" kore dei !! ki bolen??

কার নাম বলুন তো? আমার নাম আপনাকে রাখতে হবে না। আমার 3 in one হবার দরকার নেই। যদি নিজের নামের কথা বলেন, নিজের খুশীমতো রাখুন। আপনি তো আর ছয় মাসের শিশু নন, যে অন্যের পছন্দের নাম ঘাড়ে বয়ে বেড়াবেন!

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

aponbhola1 wrote:

dada apnar pariksa ta je school e porechilo seta to ekkebare 1stclass school...apnar sujog hoyeche apni dhukechen...ta niccopark e gechilen to...na gele kin2 chokher khoti...ta dada apnar bari kothai....
kirokom holo xam...

কোনো সন্দেহ নেই, স্কুলটা খুবই ভালো। আমি যখন প্রাইমারীতে পড়তাম, আমাদের মাটিতে বসে ক্লাস হত। হাইস্কুলে উঠে প্রথম বেঞ্চ পেলাম। সেখানেও ইলেক্ট্রিক লাইন ছিল না। কলেজে প্রথম ফ্যানের হাওয়া খেয়ে ক্লাস করি। এই স্কুলের সেট-আপ দেখলাম আমাদের কলেজের চেয়েও ভালো।
ঢোকার সুযোগ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেদিন রবিবার ছিলো। তাই স্কুলের খাঁচাটা দেখেই খুশি থাকতে হল। প্রাণের সঙ্গে পরিচয় করার সুযোগ পেলাম না।
নিক্কোপার্ক এর ভেতরে যাওয়া হয়নি। সময় ছিল না। হয়ত ভবিষ্যতে কোনো একদিন আবার সু্যোগ আসবে।
এক্সাম ভালোই হয়েছে। তবে যেহেতু এটা কম্পিটিশন, কাজেই অন্যরা কি করেছে সেটার উপর নির্ভর করে আমার অবস্থান কোথায়।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি...

স্কুলে ঢুকেই মালপত্র সব জমা করে দিতে হল। তারপর লোটা-কম্বল (admit card, kolom, pencil) সম্বল করে বসে গেলাম নিজের নিজের জায়গায়। আবার এক মজার সিন দেখতে পেলাম পরিক্ষা শুরুর পর। আমাদের ঘরটায় ২৪ জনের সিট ছিল। দেখলাম মাত্র সাতজন এসেছে। বাকিদের দেখা নেই। আন্দাজ করলাম বাকি সব ঘরের অবস্থাও আলাদা নয়। মানে কম্পিটিশন ৩০% এর চেয়েও কম। এত বেশি আনন্দ হল যে পেটের মধ্যে আবার মেঘের ডাকাডাকি শুরু হয়ে গেল। মনে মনে গতকালের ফুচকাগুলোকে গালাগালি দিতে দিতে সাদা কাগজ কালো করতে লেগে গেলাম। গালাগালি খেয়ে ফুচকারা আরো খেপে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন শুরু করে দিল। যদিও চাওমিন দের সঙ্গে আমি কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি, কিন্ত তারা দেখলাম ফুচকাদের তালে তাল দিচ্ছে। তাদের দাবিয়ে রাখা ক্রমেই আরো কঠিন হয়ে উঠছিল।

অন্যদিকে মাথার মধ্যে আর এক ঝামেলা। যাঁরা BSF এর সিলেকসন র‌্যালী দেখেছেন তাঁরা মোটামুটি ধারণা পাবেন। এক একটা প্রশ্ন পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথার মধ্যে এতদিন বেকার বসে থাকা লক্ষ লক্ষ জ্ঞানের টূকরো লাইন দিয়ে এগিয়ে আসছিল। তাদের মধ্যে থেকে এক এক জনকে বেছে নিয়ে সঠিক জায়গায় বসানোর চেষ্টা করতে করতে একসময় পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল। সমস্ত ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে, এবারেও অনেক শুন্যপদ রয়ে গেল। সেসব আগামী বছরের জন্যে রেখে দিয়ে সটান উত্তর জমা দিয়ে বেরিয়ে এলাম।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

dada aami o gadha wrote:

Hmm !! aapni dekchi onek dikei dhoni !! amader moto mukkhu lok non !! aha jodi aapnar moto lekha pora sikhte paartam ........ ki aar kora jabe class 3 te 3 bar fail korlam, Bidyasagar mosai onurodh korlen aar naa porte tai chere dilam, jodi naa chartam tahole aaj hoito class 2 te pouche jetam !! tobu aapnar lekha pore ektu pet ebon matha kharap hoi kintu kichui korar nei !! ektu ektu kore gyan obbossoi deben !!

আমিও ভাবি 'আহা যদি একটু গান গাইতে পারতাম.........'

আমাদের সময় প্রাইমারীতে পাশ-ফেল ছিল না। থাকলে হয়তো আমিও.........

বিদ্যাসাগর মশাই ঠিক কি বলেছিলেন বলুন তো.........

পেট খারাপ সাধারণতঃ উন্নত প্রজাতির প্রাণীদেরই হয়।  পোকামাকড়, সাপ ব্যাং, আরশোলা, টিকটিকি ইত্যাদিদের কখনো পেট খারাপ হয়েছে শুনিনি। মাথা খারাপ হওয়াটা মানুষের লক্ষ্মণ। আপনার মাথা আছে তাই খারাপ হয়। একসময় আমারও হত।

জ্ঞান একসাথে বেশি দেবার ক্ষমতা নেই। যেমন জুটবে তেমন দেব। একা আমার ভরসায় না থেকে বরং পুরো ইন্টারনেট এর সব সাইটগুলো দেখতে থাকুন। তবে আমার সাইট www.madvoice.co.cc টা আগে দেখবেন। (এই তালে একটু নিজের ঢাক পেটালাম আর কি!)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

age primary tte pass fell chilo na --r ekhn to class 8 porjonto pass fell nei.....ki ajob amader sorkar dekhechen dada...

r jibonda parle ekbar niccopark e dhukben...dekhben khub ananda korte parben

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

জীবনকবি বাবু স্যার,

তোমার লেখাগুলো পরলাম বেশ মনোগ্রাহী। এইরকম অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেশ লিখছো। লেখ। আমি তোমার লিঙ্ক গুলো লাইব্রেরীর ফেসবুক এবং টুইটারে এ্যাকাউন্টে দিলাম।

নিক্কোপার্ক তুমি দেখতে পাও নি। হয়তো তোমার মনে একটা আক্ষেপ আছে। লোভ সামলাতে পারলাম না, এখানে একটু নিক্কোপার্কের কথা বলি।

আমার অফিস থেকে নিক্কোপার্ক ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। বলতে পারো অফিসের জানলা দিয়ে নিক্কোপার্ক নলবন দুটোই দেখা যায়। একটা সময় এই নিক্কোপার্কের আসল নাম ছিল ঝিলমিল। সেটা ৮১/৮২ সালের ঘটনা। তখন কলকাতা শহরের বুকে প্রেম করার জায়গা ছিল না। আর সল্টলেক ততটা উন্নত করে নি। আমাদের তখন ইউনিভার্সিটি লাইফ দঙ্গল বেঁধে আমরা আসতাম ঝিলিমিলিতে। তখন এখনকার মতো এতো সাজানো গোছান ছিল না। একটা সুন্দর বাগানের মতো। ফাঁকা ফাঁকা আমরা বন্ধুরা অনেকক্ষণ জলের ধারে বসে থাকতাম। বিশাল বিশাল সব ভেঁড়ি মাইলের পর মাইল জল। এপার ওপার দেকা যেত না। ভীষণ ভালো লাগতো। বিকেল হলেই পাখিরা বাসায় ফিরছে তাদের কিচির মিচির ডাক। ভেঁড়ি থেক মাছ তুলে খাওয়ার যুদ্ধ লেগে যেত বকেদের মধ্যে। নাম না জানা আরও কতো পাখির মেলা বসতো।

তকন অনেকবার গেছি। যেদিন থেকে ঝিলিমিল ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেল, নাম বদলে হলো নিক্কোপার্ক আর সেইভাবে যাই নি। একবার মনে হয়েগেছি। তবে বছরে দু-তিনবার বিনে পয়সায় ঢোকার পাশ পাই। রাইডগুলো চড়ার পাশও পাই। এখানে অনেক বাচ্চা ছেলে মেয়ে আছে তাদের দিয়ে দিই। কখনো এলে আমাকে বোলো আমি তোমাকে নিয়ে যাব তবে সামনের দিক থেকে নয় পেচন দিক থেকে। যেখানে ভেঁড়ি রয়েছে সেই বাঁধের ওপর দিয়ে তোমাকে নিক্কোপার্ক দেখাব। দেখবে সামনের প্রদান গেট দিয়ে নিক্কোপার্কে ঢোকা আর পেছন দিকে ওই বিশাল জলরাশির পারে বসে নিক্কোপার্ক দেখার মজাই আলাদা।

আর নলবন ? এই সেদিন জন্মালো। লোকে জানতো ওটা নলবন ভেঁড়ি। কয়েকবছর আগে। নলবন যে ব্যবসায়ী ইজারা নিয়েছেন, তিনি ওই ভেঁড়ির জলের ওপর বাংস বেঁধে দুর্গোৎসব করতে চাইলেন বিরাট প্যান্ডেল করলেন। এলাহি ব্যবস্থা। কিন্তু সল্টলেক পুরসভা অনিমতি দিলনা। পূজো বন্ধ হয়ে গেল। তাহলে কি করা যায়। তাই সেই সুন্দর প্যান্ডেলে ভূতের মেলা বসালো। নামদিলো ভূত বাংলো। কাতারে কাতারে ভদ্র-সভ্য আধুনিক ছেলে-মেয়েরা দেখতে এলো। সে এক এলাহি ব্যবস্থা। আমিও গেলাম ভূত দেখতে। দশটাকা টিকিট তা আমার পয়সা লাগলো না। বেশ গা ছমছমে মিউজিক তার সঙ্গে বিভৎস সব আওয়াজ সবাই বেশ ভয় পাচ্ছে, আমার বেশ মজা লাগছে। একটার পর একটা ঘরে খালি ভূতের মেলা। শেষে একটা ঘরে ঢোকানো হলে সেখানে সব কবরের থেকে ভূত উঠছে। টিন এজের ছেলে মেয়েরা ভূত দেখতে দেখতে যার যার নিজের কাজে মত্ত। সব কিছুই চোখে পরে যাচ্ছে। শেষে খুব ইচ্ছে হলো যে ভূতগুলো কবরের থেক উঠে আবার শুয়ে পরছে কাছে গিয়ে দেখি কেমন লাগে তা এক ভূত জড়িয়ে ধরতে এলো। আস্তে করে বললাম টিপে দেব। ওমনি ভূত বলে উঠলো দাদা আমি পলা কাল তোমার অফিসে গিয়ে দেখা করবো।
হেসে ফেললাম। প্রতিদিন অফিসে আসার পথে ওকে মাছ বিক্রী করতে দেখি। যাওয়া আসার পথেই আলাপ। ব্যাটা বিকেলে গিয়ে ভূত বাংলোতে ভূত সেজেছে।

তরপর থেকে লোকে নলবনের মাহাত্ম জানতে পারলো।

তুমি লেখো। আমিও মাঝে মাঝে তোমার থ্রেডে এসে আমার কিছু ছোট ছোট অভিজ্ঞতার কথা লিখবো।

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

aponbhola wrote:

age primary tte pass fell chilo na --r ekhn to class 8 porjonto pass fell nei.....ki ajob amader sorkar dekhechen dada...

r jibonda parle ekbar niccopark e dhukben...dekhben khub ananda korte parben

আজব নয় দাদা, আমাদের নেতারা জেনেশুনে আমাদের বারোটা বাজানোর জন্য এইসব জিলিপির প্যাঁচ কষছেন। এদের ব্যাপারে একটা কথাই বলব। যদি সত্যিই এনেরা মনে করেন এই ব্যবস্থা টা ভালো, তাহলে নিজেদের ছেলেপুলেদের জন্যে আলাদা ব্যবস্থা করেন কেন?

খোলা চ্যালেঞ্জ রইল সমস্ত বামপন্থীদের জন্য। নাম বলুন সেই সব বামপন্থী বিধায়কদের, যাঁরা তাঁদের সন্তানদেরকে ইংরাজী আর পাশ ফেল তুলে দেওয়া স্কুলে ভর্তি করেছেন।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

এ কেমন রঙ্গ?

আর অপেক্ষা করা গেল না। এতক্ষন বৃহত্তর স্বার্থে চাওমিন-ফুচকাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে মন দেওয়া হয়নি। এবাব্র ভাবলাম তাদের স্বাধীনতার দাবী মেনে নেওয়াই ভালো। তবে স্বাধীনতা তো আর বললেই দেওয়া যার না! তার জন্যে যেতে হল ------- (বুঝতেই পারছেন)।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করতে গিয়ে দেখি একটা কলেও জল পড়ে না। কাজেই বাধ্য হয়ে আমার বাড়ী থেকে নিয়ে আসা গেঁইয়া খাবার-জল টার সদব্যবহার করলাম। এই স্কুলের ইতিহাসে হয়তো প্রথম বার এই বাথরুমে এমন গাঁইয়া জল পড়ল। এরকম একটা ঐতিহাসিক ঘটনা কি না বলে থাকা যায়? জলটা নষ্ট হল, কি আর করা যাবে।
দ্বিতীয় পর্বের পরিক্ষা শুরু হতে পাক্কা তিন ঘণ্টা দেরি ছিল। ভাবলাম একটু আশপাশ টা দেখে নেওয়া যাক। কিন্তু স্কুল থেকে বেরিয়েই পড়ে গেলাম সেই দাদু আর নাতনীর সামনে। ঠিক যেখানে তাঁরা বসেছিলেন ঢোকার আগে, বেরিয়েও সেইখানেই বসেছেন। আর আগের মতই বই আর কাগজ খুলে পড়া শুরু করেছেন। এক কথায় বোঝাতে গেলে বলতে হয় "সেই ট্রাডিসন সমানে চলছে......"
আমাকে দেখেই দুজনেরই দাঁত বেরিয়ে গেল। বুঝলাম দাদু তাঁর টাইম পাস করার জন্য আমাকেই একখানা পেয়েছেন। ডাকাডাকি করে পাশে বসালেন। তারপর বললেন, "হ্যাঁ, তুমি কি একটা সমস্যা মেটাতে চাইছিলে না?"
একেই ফুচকা-চাওমিন দের আচরনের প্রতিবাদে সকাল থেকে অনশন করে ছিলাম। তার পরও তারা আমাকে এই ভয়ানক বিদেশে ত্যাগ করে গেল। তার ওপর বাড়ি থেকে নিয়ে আসা বোতলের জলের জন্য শোক। এক ফোঁটাও মুখে দিতে পাইনি। মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। এই অবস্থায় নিজের দুঃখের ইতিহাস রিপিট করতে ভালো লাগে না। কিন্তু হাজার হোক দাদুকে তো আর বকে দেওয়া যায় না! তাই মিষ্টি করে বললাম "তিনটে সমস্যা আছে দাদু। এক নম্বর; রবি ঠাকুরের নোবেল টা খুঁজে দিতে হবে। কেন্দ্র সরকার তো এর জন্য দশ লাখ টাকা দিতে রাজি। দুই নম্বর হল বশীকরণ। কিসেনজ়ীকে বশ করে মাওবাদীদের শান্তি প্রস্তাবে রাজী করতে হবে। তিন নম্বর হল শত্রু দমন। পাকিস্তান দমন করতে পারলেই হবে। বাকি শত্রুদের জন্যে চিন্তা নেই।"

দাদু আর হাসি চাপতে পারলেন না। বললেন "এসব তো অনেক দিনের সমস্যা বাবা। এতদিনেও কি কেউ ওনাদের বলেনি? মনে হয় এগুলো ওনারা করেন না। তবে এক কাজ করতে পারো, যাঁরা 'যে কোনো মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন' তাঁদের বলো তোমাকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি করে দিতে। বাকি সব সমস্যা নিজেই মিটে যাবে।"
নাতনী কেমন যেন ছটফট করছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম আমাদের কথা শুনে ওর হাতের তাবিজ কবচগুলো বুঝি রাগে গরম হয়ে উঠেছে। কিন্তু আসলে তা নয়। নাতনী বলল "দাদু, খেতে হবে।"
দাদু অমনি উঠে পড়লেন। দু মিনিটের মধ্যে একটা ট্যাক্সি ডেকে হাওয়া হয়ে গেলেন। অবশ্য আমাকে যে নেমন্তন্ন করেন নি তা নয়। কিন্তু একটু আগেই শোষনের বিরুদ্ধে ফুচকা-চাওমিন দের সফল আন্দোলনের কথা মনে করে আর কিছু খাবার কথা ভাবতেও সহস পেলাম না।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

mamonjafran wrote:

জীবনকবি বাবু স্যার,

তোমার লেখাগুলো পরলাম বেশ মনোগ্রাহী। এইরকম অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেশ লিখছো। লেখ। আমি তোমার লিঙ্ক গুলো লাইব্রেরীর ফেসবুক এবং টুইটারে এ্যাকাউন্টে দিলাম।

নিক্কোপার্ক তুমি দেখতে পাও নি। হয়তো তোমার মনে একটা আক্ষেপ আছে। লোভ সামলাতে পারলাম না, এখানে একটু নিক্কোপার্কের কথা বলি।

আমার অফিস থেকে নিক্কোপার্ক ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। বলতে পারো অফিসের জানলা দিয়ে নিক্কোপার্ক নলবন দুটোই দেখা যায়। একটা সময় এই নিক্কোপার্কের আসল নাম ছিল ঝিলমিল। সেটা ৮১/৮২ সালের ঘটনা। তখন কলকাতা শহরের বুকে প্রেম করার জায়গা ছিল না। আর সল্টলেক ততটা উন্নত করে নি। আমাদের তখন ইউনিভার্সিটি লাইফ দঙ্গল বেঁধে আমরা আসতাম ঝিলিমিলিতে। তখন এখনকার মতো এতো সাজানো গোছান ছিল না। একটা সুন্দর বাগানের মতো। ফাঁকা ফাঁকা আমরা বন্ধুরা অনেকক্ষণ জলের ধারে বসে থাকতাম। বিশাল বিশাল সব ভেঁড়ি মাইলের পর মাইল জল। এপার ওপার দেকা যেত না। ভীষণ ভালো লাগতো। বিকেল হলেই পাখিরা বাসায় ফিরছে তাদের কিচির মিচির ডাক। ভেঁড়ি থেক মাছ তুলে খাওয়ার যুদ্ধ লেগে যেত বকেদের মধ্যে। নাম না জানা আরও কতো পাখির মেলা বসতো।

তকন অনেকবার গেছি। যেদিন থেকে ঝিলিমিল ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেল, নাম বদলে হলো নিক্কোপার্ক আর সেইভাবে যাই নি। একবার মনে হয়েগেছি। তবে বছরে দু-তিনবার বিনে পয়সায় ঢোকার পাশ পাই। রাইডগুলো চড়ার পাশও পাই। এখানে অনেক বাচ্চা ছেলে মেয়ে আছে তাদের দিয়ে দিই। কখনো এলে আমাকে বোলো আমি তোমাকে নিয়ে যাব তবে সামনের দিক থেকে নয় পেচন দিক থেকে। যেখানে ভেঁড়ি রয়েছে সেই বাঁধের ওপর দিয়ে তোমাকে নিক্কোপার্ক দেখাব। দেখবে সামনের প্রদান গেট দিয়ে নিক্কোপার্কে ঢোকা আর পেছন দিকে ওই বিশাল জলরাশির পারে বসে নিক্কোপার্ক দেখার মজাই আলাদা।

আর নলবন ? এই সেদিন জন্মালো। লোকে জানতো ওটা নলবন ভেঁড়ি। কয়েকবছর আগে। নলবন যে ব্যবসায়ী ইজারা নিয়েছেন, তিনি ওই ভেঁড়ির জলের ওপর বাংস বেঁধে দুর্গোৎসব করতে চাইলেন বিরাট প্যান্ডেল করলেন। এলাহি ব্যবস্থা। কিন্তু সল্টলেক পুরসভা অনিমতি দিলনা। পূজো বন্ধ হয়ে গেল। তাহলে কি করা যায়। তাই সেই সুন্দর প্যান্ডেলে ভূতের মেলা বসালো। নামদিলো ভূত বাংলো। কাতারে কাতারে ভদ্র-সভ্য আধুনিক ছেলে-মেয়েরা দেখতে এলো। সে এক এলাহি ব্যবস্থা। আমিও গেলাম ভূত দেখতে। দশটাকা টিকিট তা আমার পয়সা লাগলো না। বেশ গা ছমছমে মিউজিক তার সঙ্গে বিভৎস সব আওয়াজ সবাই বেশ ভয় পাচ্ছে, আমার বেশ মজা লাগছে। একটার পর একটা ঘরে খালি ভূতের মেলা। শেষে একটা ঘরে ঢোকানো হলে সেখানে সব কবরের থেকে ভূত উঠছে। টিন এজের ছেলে মেয়েরা ভূত দেখতে দেখতে যার যার নিজের কাজে মত্ত। সব কিছুই চোখে পরে যাচ্ছে। শেষে খুব ইচ্ছে হলো যে ভূতগুলো কবরের থেক উঠে আবার শুয়ে পরছে কাছে গিয়ে দেখি কেমন লাগে তা এক ভূত জড়িয়ে ধরতে এলো। আস্তে করে বললাম টিপে দেব। ওমনি ভূত বলে উঠলো দাদা আমি পলা কাল তোমার অফিসে গিয়ে দেখা করবো।
হেসে ফেললাম। প্রতিদিন অফিসে আসার পথে ওকে মাছ বিক্রী করতে দেখি। যাওয়া আসার পথেই আলাপ। ব্যাটা বিকেলে গিয়ে ভূত বাংলোতে ভূত সেজেছে।

তরপর থেকে লোকে নলবনের মাহাত্ম জানতে পারলো।

তুমি লেখো। আমিও মাঝে মাঝে তোমার থ্রেডে এসে আমার কিছু ছোট ছোট অভিজ্ঞতার কথা লিখবো।

ধন্যবাদ দাদা,
আপনি যে আমার লেখা পড়ছেন এতে বেশ এনার্জি পেলাম। দয়া করে ভুলটুল থাকলে শুধরে দেবেন। আমি চাই না কেউ কোনো ভুল তথ্য পাক।
ঝিলিমিল নামটা শুনেছিলাম। কিন্তু সেটাই যে আজকের নিক্কো পার্ক তা জানা ছিল না। আপনি যদি আগে বলতেন যে আপনি এত কাছে থাকেন তাহলে সল্টলেকের রাস্তায় লাঙ্গল চষে না বেড়িয়ে আপনাকে একটু দেখে আসতাম। তবে রোববারে কি আপনি অফিসে থাকেন?
ভূতের ওপর আমার টান একটু বেশি। নলবনের ভূতেদের দেখার ইচ্ছে রইল। ভূতেরা নাকি মানুষের ঘাড়ে চাপতে ভালোবাসে। ছোটোবেলায় আমার জীবনের অন্যতম ambition ছিল একটা ভূতের ধরে পোষা। ছেলেবেলায় (১০-১২) যেসব গাছতলা দিয়ে লোকে একা দিনের বেলাতে পার হতে চাইতো না সেইসব গাছে আমি সন্ধে রাতে গিয়ে নাম লিখে রেখে আসতাম। মাঝরাতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না। তবে দুঃখের কথা হল এইসব কান্ড করে গ্রামে আমার popularity বাড়লেও ভূতেদের popularity কিন্তু মোটেই কমেনি। মাঝখান থেকে আমার নাম করার পর লোকে রাম-নাম করে নিত। গ্রামের পুরুতমশাই আমার জন্যে স্পেশাল মাদুলি বানিয়েছিলেন অনেকবার। সেগুলো আমি ভুতে পাওয়া গাছের ডালে বেঁধে দিয়ে গাছের ভূত ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। বোধহয় কাজ হয়নি। শুনতে পাই সেইসব গাছে নাকি আজো তেনারা আছেন। সত্যিই তো, মানুষের ওষুধে কি গাছের ভূত সারে?

পরের বার যখন কলকাতা যাব, নিশ্চয় আপনাকে জানাব। আপনাকে নিয়ে জায়গাগুলো দেখার মজাই আলাদা হবে।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

jibon da ebar theke nicco park e jete hole mamonda r kache jete hobe...ki bolen...r apnar ovigyota pore mone porche sei mul kotha ta..jaha chokmok kore taha sona nohe....

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

aponbhola wrote:

r apnar ovigyota pore mone porche sei mul kotha ta..jaha chokmok kore taha sona nohe....

আমি যদ্দুর দেখেছি, কলকাতার প্রায় সব অতি-নামকরা institute গুলোয় বাইরের পরিক্ষার্থীদের যথেষ্ট অবহেলা করা হয়। সে তুলনায় ছোটো ও মাঝারী স্কুল কলেজ গুলো অনেক বেশি আন্তরিক।

গত জুলাই এর কথা (২০০৯), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে DOEACC A-Level পরিক্ষার মাঝে (বেলা ২ টা থেক পাঁচটা) সব রকম নিয়মকে শিকেয় তুলে সারাক্ষন মাইক বাজানো হয়েছিল। সে সময় একটা ফুটবল ম্যাচ চলছিল ওখানেকার মাঠে। ১০০ র ওপর পরিক্ষার্থীকে বসানো হয়েছিল মাঠের পাশে Project Impact Building এর তিনতলায়। একটা মাইক থেকে তার দুরত্ব ৫০ ফুটের মতো ছিলো। পুরো পরিক্ষাটা হয়েছিল খেলার ধারাবিবরণী আর গান শুনতে শুনতে।

২০০০ বা ২০০১ সাল হবে, ঠিক মনে পড়ছে না। আমাদের এখানকার এক হরিসভা কমিটি মাধ্যমিক পরিক্ষার দিন কয়েক আগে সপ্তাহব্যাপী নামসংকীর্তন এর আয়োজন করেছিলেন। প্রতি বছরই হত। সেবার সময়টা পড়েছিল পরিক্ষার আগেই। অবশ্য পরিক্ষা চলার সময় মাইক বাজত না, তবু কে বা কারা DM এর কাছে অভিযোগ করেছিল এতে নাকি রাতে পড়াশুনার আর ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। এর পরে হরিসভার সদস্যরা যা অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন তার পরে দশ বছর হতে চল্ল। আজো ওনারা কোনো অনুষ্ঠানে চোঙ্গা ব্যবহার করেন না। বক্স দিয়েই কাজ চালিয়ে নেন।

অন্যদিকে যাদবপুরের খেলায় অনেক হোমরা-চোমরা এসে চাঁদের হাট বসিয়েছিলেন। পুলিশও ছিলো আইন ভঙ্গকারীদের নিরাপত্তার জন্য।

সেদিন আমাদের হাজার খানেক জাতির ভবিষ্যতেরা পশ্চিমবঙ্গের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে practical শিক্ষা পেয়েছিলাম "আইন, সে তো তামাশামাত্র"।

DOEACC এর Regional headquarter এর অফিসটা ওই মাঠের পাশেই। সবই তাঁরা নিজের চোখে দেখেছেন। সেখানে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। তাঁরা পরামর্শ দিলেন 'একটু কনসিডার' করে নিতে। কিন্ত পরিক্ষা খারাপ হলে DOEACC কনসিডার করে পাশ করিয়ে দেবে কিনা তার কোনো উত্তর ওনারা দিতে পারলেন না।

কাগজপত্রে নিয়ম যা লেখা আছে থাক। আমরা, জাতির ভবিষ্যতেরা আরো শিখলাম "যারা উপরে আছে তারা কি করবে কিছুই বলা যায় না। তবে যারা নিচে আছে তাদের মানিয়ে নিয়ে চলতে হয়।"

Last edited by Jibangmail.com (2010-05-30 09:29:13)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

ta ja bolechen....harisova gulor ki kaj nei je sara week dhore chalate hobe....amader ekhaneo horisovar সপ্তাহব্যাপী নামসংকীর্তন ache r koyekdin por theke..ekhon chada tola hocche...r school college gulo ekmatro nijeder sartho chara r kichui dekhe na..ta se তুলনায় ছোটো ও মাঝারী স্কুল কলেজ ee hok na kno..ha keu kom dekhe keu ba  besi..tarpor ki holo...sei natni dadu ki hariye gelo?

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

দুরত্ব বজায় রাখুন
তখনো আড়াই ঘণ্টা বাকি। বসে থাকতে ভালো লাগল না। ভাবলাম জায়গাটা  একটু ঘুরে দেখাই যাক। শুরুটা করলাম নিক্কো পার্কের গেট থেকে। সেখানে যাবার জন্যে অবশ্য আবার খাল পার হলাম। তবে তাতে নতুন কিছু হয়নি। শুধু দেখলাম যে নিক্কো পার্কের মধ্যে খোকাদের যেমন ভীড় লেগে আছে, খালের জলে পোকাদের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। পোকাদের খোকারা কচুরিপানায় চড়ে খেলা করছিল। এত কাছে নিক্কো পার্কের মত ভালো জায়গা থাকতেও ওদের মধ্যে কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হল না।
নিক্কো পার্কের আস্মনে গিয়ে আর একবার যতটা পারা যায় দেখে নিলাম। তার পর হাঁটা দিলাম নলবনের দিকে। মাথার ঊপরে রোদটা সোজা পড়ছিল। তবে আমার ওতে কিছু অসুবিধা হয় না। নলবনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দেখতে পেলাম নানা রকমের গাছ। তার সঙ্গে সোনালী রঙের সুপারী গাছও ছিলো। আর পথের ধারে খুঁটিগুলোয় "সল্টলেক- শেয়ালের ঠেক", "রাজারহাট- ফাঁকা মাঠ" ইত্যাদি বাণী পড়তে পড়তে একেবারে শেষ প্রান্তে এসে একটুখানি ফাঁক দিয়ে নলবনের জল দেখে চোখ সার্থক হল।
এরপর সামনের দিকে এগোতে এগোতে এক ফুটপাথের হোটেলের সামনে এসে বুঝলাম আমার মধ্যপ্রদেশ খাদ্যের দাবী করতে শুরু করেছে। এগিয়ে গিয়ে দেখি হোটেল টার পাশে এক বিশাল হোর্ডিং। আমাদের দেশের অনেক মানুষের মাথায় অতবড় ছাত জুটলে তারা পীরের দরগায় সিন্নি চড়াতে ছুটবে। সেই হোর্ডিং এর মধ্যে কেবল তিনটি কথা লেখা। শিশু                         শ্রমিক এবং "দুরত্ব বজায় রাখুন"। তার নিচে হোটেলে দুজন কর্মীর বয়স দেখলাম ১৪ বছরের নিচে। ঞ্ছোটোটা হাঁড়িতে কাঠি মারছে, আর অন্যজন করছে খাবার দেওয়ার কাজ। খদ্দেরের ভীড় বেশ ভালোই। কেউই দুরত্ব বজায় রাখতে চায় না। সময় বেশি ছিল তাই খানিকটা গল্প করা হল ওদের সঙ্গে। জানলাম যে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এত কাছে সারাদিন থেকেও ওরা পড়াশুনো ডকে তুলে বসে আছে। হাতের নাগালে নিক্কো পার্কেও কখনো যায় নি। (যাই হোক কেউ যেন আবার রিপোর্ট করে বসবেন না। বেচারাদের পেটে লাথি পড়ে যাবে। আমিও অবশ্য এক্স্যাক্ট লোকেশন টা পালটে দিয়েছি।)

শুধুমাত্র ঘ্রাণে ভোজন করে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আবার ফিরে এলাম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কাছে। তারপর ভাবলাম স্কুলটাকে একবার বাইরে থেকে ঘুরে দেখা যাক। গেট থেকে বেরিয়ে বাঁদিকে ঘুরে যে রাস্তাটা গেছে সেটা ধরলাম। General pool quarter এর পাশ দিয়ে ঘুরে এসে পড়লাম বোস মশাইয়ের বেসিক বিজ্ঞান কেন্দ্রে। সেটা পার হয়ে স্কুলটার ডাইনের রাস্তায় এসে দেখলাম কয়েকটা চারফুটের মতো হাইটের ঝুপড়ি। তার সামনে একটা ছ-সাত বছরের মেয়ে কোলে একটা কচি শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে একটা আম খাবার চেষ্টা করছে। আমটা দেখেই বোঝা যায় যে ওটা ডাস্টবিন থেকে তুলে আনা। ডাস্টবিন টা একটু দূরে, সেখানে বসে একটা বাচ্চা ছেলে কয়েকটা বোতল বেছে বিরাট একটা বস্তায় ভরছিল। বস্তাটার মধ্যে ওরকম চারটে ছেলেকে ভরে রাখা যায়। বুঝলাম যে General pool quarter এর থেকে যেসব জঞ্জাল ফেলে দেওয়া হয় সেগুলো এইভাবে কাজে লাগে। আহা, এমন সুন্দর জঞ্জাল প্রকৃয়াকরণ পদ্ধতি থাকতে আমাদের আর ভাবনা কি!
এতদিন ধরে পড়ে পড়ে মুখস্ত করেছি ভারত সরকার কোন কোন প্রকল্পে কত কোটি টাকা খরচ করছে। ICS এর জন্য সব জানতে হয়। যাদের জন্য প্রকল্প, তারা মাথাপিছু কত পেল এমন প্রশ্ন কোনো যায়গায় দেখিনি। কোনো বইয়েও এসব লেখা নেই। কাজেই জানি না এইসব শিশুরা কি খেয়ে বাঁচে আর কেমন ভাবে মরে। সরকার যিদি কোনো পরিক্ষায় এই রকম প্রশ্ন করতে শুরু করে তখন হয়তো উত্তরটাও পাবো কোনো চকচকে ছাপানো বইয়ে। তার আগে কাগজ নষ্ট কেউ করবে বলে মনে হয় না। কাছে গিয়ে শুধালে হয়তো জানা যেত। কিন্তু বিবেকানন্দের বাণী মনে পড়ে গেল। তিনি নাকি বলেছিলেনঃ

"তুমি কি পড়েছ, কি জেনেছ, সেটা বড় কথা নয়।
তুমি কি হয়েছ সেটাই বড় কথা।"

মহামানবের বাণী অনুসরন করে আমি সুড়সুড় করে কেটে পড়লাম। জানবার আর চেষ্টাই করলাম না। সময় শেষ হয়ে এসেছিল। IAS হওয়াটাই যে বড় কথা সেটা তো মানতেই হবে, নাকি?

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

হ্যাঁ জীবন আমি রবিবার অফিসে থাকি। বেলা দুটোর পর। আসার একবার ফোন কোরো ৯৮৩১১৯৩২৯৮

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

jibon da apnar jonno mamon dar ph no ta paoa gelo..chaliye jan...lekha valo hocche...ami sec-V ei IEM e pori...

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

aponbhola wrote:

jibon da apnar jonno mamon dar ph no ta paoa gelo..chaliye jan...lekha valo hocche...ami sec-V ei IEM e pori...

ভালোই হল। কেবল নিক্কো পার্ক দেখতেই একবার যাবো। সবাই মিলে তীর্থদর্শন করে আসা যাবে। পন্ডিতেরা বলেন যে সাধুসঙ্গে তীর্থদর্শন করলে শতগুণ পুণ্য বাড়ে।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

খালি পেটে খাওয়ার গল্প

ঘড়ি ব্যবহার করি না, তাই পকেট থেকে মোবাইল বের করলাম কটা বাজে দেখবার জন্যে। দেখি মোবাইল বন্ধ পড়ে আছে। পরিক্ষার সময় অফ করেছিলাম, আর চালু করা হয়নি। চালু করা মাত্রই তিনটে মিসকল মেসেজ পেলাম। যেহেতু আমার সাবস্ক্রাইব করা নেই কাজেই বুঝতে পারলাম না কারা কল করেছিল। সময় দেখলাম ১-২০ বেজে গেছে। স্কুলের দিকে চলতে চলতেই ফোন বেজে উঠল। বের করে দেখি মন্তা কল করেছে।
ভীষন চিন্তায় পড়ে গেলাম। মন্তার ফোন পাওয়া মানে কোনো সাঙ্ঘাতিক কিছু। মন্তা ফোন করেছে মানে ধরে নিতে হবে যে ২০১২ সাল একবছর এগিয়ে এসেছে, বা আটলান্টিস খুঁজে পাওয়া গেছে, কিম্বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে, এরকম কিছু। মন্তার সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৯২ সালে। এই নিয়ে ৫ বার ওর ফোন রিসিভ করার সৌভাগ্য হল। মিসকল অবশ্য হামেশাই পাই, তারপর রিং ব্যাক করতে হয়। সকলের প্রতি ওর এই ব্যাপারে সমান ব্যবহার। এমনকি ও যে সাতটা মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে তারাও ওর মিসকল পেয়ে ওকে ফোন করে। (আমরা কেউ ভেবেই পাই না এমনটা কিভাবে সম্ভব।) বেশির ভাগ সময়েই ওর ফোন ব্যস্ত থাকে, আমরা তো মাঝ মধ্যে মিসকল পেলেই বর্তে যাই। এমন এক VIP যদি আমার মত হরিদাস পালকে মিসকল না করে ফোন করে (বাজাতেই থাকে), একটু চিন্তা তো হয়ই।
রিসিভ করে বললাম "কিরে সব খবর ভালো তো?'
"সব ভালো, সময় কাটছে না তাই তোকে ফোন করলাম।"
"সময় কাটছে না মানে? মেয়েগুলো সব একসাথে ধর্মঘট করেছে নাকি?"
"কি বাজে বকিস। ধর্মঘট কি করে করবে! ওদের কি ইউনিয়ন আছে নাকি? ওরা তো একে অন্যকে চেনেই না।"
"তাহলে ওদের ছেড়ে আমাকে ধরলি?"
"আসলে আজ রোববার তো। ওরা সব বাড়িতে আছে, সেখান থেকে ফোন করা সোজা না। স্কুল কলেজে থাকলে কোনো ঝামেলা হয় না।"
চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমিও যে একটা স্কুলে আছি সেটা বলা উচিত হবে কিনা ঠিক করতে পারলাম না। এর মাঝে মন্তা আর একখান বিষ্ফোরক খবর দিয়ে বসল। "জানিস, আমাদের গাইটার বাছুর হয়েছে দশদিন আগে। তোকে বলার সময় পাইনি। বাছুরটা অনেকটা তোর মত।"
"মানে? আমার মত দুপায়ে হাঁটে? নাকি চশমা পরে?"
"না না, চেহারায় নয়, স্বভাবে মিল আছে। তুই যেমন খড়ের চেয়ে আখ বেশি খাস, এটাও তেমনি।"
বেদম হাসিতে দম আটকে গেল। কোনো রকমে সামলে উঠে একটু জল খেতে গিয়ে দেখি বোতলটা খালি। এবার মনে পড়ল, বাইরের জল খেলে পেট খারাপ হতে পারে বলে বাড়ি থেকে আদর করে যে জল দিয়েছিল, সেটা আমি স্কুলের মধ্যেই ঢেলে এসেছি।
এদিকে ফোনের মধ্যে থেকে মন্তার গলা আসছিল। "কি হল রে? বেঁচে আছিস তো?"
"আছি, তাহলে কি খাওয়াবি বল?" তামাশা করে বললাম। মন্তা খাওয়াবে মানে সেটা ঐতিহাসিক কান্ড হবে। কিন্তু উত্তর যা পেলাম তা আরো মারাত্মক। মন্তা বললে "নিশ্চয় খাওয়াব। নিজে রান্না করে খাওয়াব। একটা নতুন জিনিস শিখেছি, ইটালিয়ান বিরিয়ানি।"
"ইটালিয়ান রান্না তুই করবি? পারবি তো?" আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। সেই সঙ্গে খালি পেটটা যেন কিছু একটা বলে উঠল।
"আহা, না পারার কি আছে?  আমি করে দেখেছি। রান্নাটা করা ভীষন সহজ। খাওয়াটাই যা কঠিন। তবে সেটা তোর অসুবিধে হবে না। আমি জানি তোর বাজি ধরে খাওয়া অভ্যেস আছে।"
এবার আর ভয়ে হাসতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দিয়ে স্কুলের গেটে হাজির হলাম। মোবাইলে তখন ১-৩৫ বাজে। দেখি সেই দাদু আর নাতনী সেই একই জায়গায় এসে একইভাবে বসেছেন। কেবল খবরকাগজটা বদলে গেছে। ছিল আনন্দবাজার, এখন হয়েছে বর্তমান।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

italian biriyani......kmn khelen.......

Thumbs up

24

Re: আমার দেশের একটুকরো

aponbhola wrote:

italian biriyani......kmn khelen.......

আমাদের গাইটার বাছুর হয়েছে দশদিন আগে। তোকে বলার সময় পাইনি। বাছুরটা অনেকটা তোর মত।"
"মানে? আমার মত দুপায়ে হাঁটে? নাকি চশমা পরে?"
"না না, চেহারায় নয়, স্বভাবে মিল আছে। তুই যেমন খড়ের চেয়ে আখ বেশি খাস, এটাও তেমনি।"
Ratone Raton chene, soure chene kochu !!
Khub bhalo lekha hochche !! chailiye jaan !!

Re: আমার দেশের একটুকরো

Aapnar lekha gulo choto holeo sundor & sathik tai khub bhalo laglo

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

newton007 wrote:

Aapnar lekha gulo choto holeo sundor & sathik tai khub bhalo laglo

ধন্যবাদ দাদা। আপনাদের মতামত পেলে ভালো লাগে। কেউ কিছু না বললে মনে ভাবি হয়তো খারাপ হচ্ছে। তাই আবেদন রইল, ভালো বা খারাপ যাই লাগুক সোজাসুজি বলে দেবেন। আপনারা যদি প্রব্লেম গুলো ধরিয়ে না দেন তবে পারফেক্ট হবো কি করে?

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

বোকারা যা বোঝে না
দাদুদের কান্ড দেখে আমার মাথায় প্রথম যে কথাটা এলো তা হল এই যে দাদুরা বার বার ঐ একই যায়গায় বসছেন কি করে? ওখানে বসাটা বেশ আরামের। কিন্তু পর পর তিনবার ওনারা ওখানেই বসলেন, ওখানে তো অন্য কেউ এসেও বসে যেতে পারত! জানিনা, কলকাতায় গাছতলারও রিজার্ভেশন হয় কিনা।
দাদুও আমাকে দেখতে পেয়েছিলেন, হাত নেড়ে ডাকলেন। এক পা যেতে না যেতেই জোর হাওয়ায় একটা রাস্তায় পড়ে থাকা পুরোনো খবরের কাগজ উড়ে এসে আমার মুখের ওপর পড়ল। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আবার মোবাইল বেজে উঠল।
কাগজটা বেশ পরিস্কার ছিল। পেতে বেশ বসা যাবে, এই ভেবে সেটা ফেলে দিলাম না। ফোনটা বার করে দেখি রসুন এর ফোন।
রসুন আমার ক্লাস ওয়ানের বন্ধু। পড়াশোনার দিকে কোনোকালেই মন ছিল না। একমাত্র চিন্তা ছিল ব্যায়াম আর খেলা। স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এত রকম কসরত করত যে দেখেই আমাদের শরীর খারাপ লাগত। এর মধ্যে অন্যতম ছিল কাঁচা রসুন খাওয়া। গা দিয়ে রসুনের গন্ধ বেরোত বলেই স্কুলে শেষ অবধি ওর নাম হয়েছিল রসুন। একমাত্র উচ্চাকাংখা ছিল পুলিশে কাজ করা। সবই ঠিক ছিল কিন্তু পয়সার অভাবে সব মাটি হল। চোখের সামনে দেখলাম এরকম একজন অ্যাথলেট বার বার বাদ পড়তে লাগল ফিজিক্যাল মিজারমেন্টে। অন্যদিকে এও দেখলাম কোলকাতা পুলিশের কনেস্টবল সিলেকসনে ৮০০ মিটার দৌড়ের মাঝখানে মাঠে বসে যাওয়া ছেলে সিলেক্টেড হয়ে গেল। প্রতিবাদ ওঠেনি তা নয়, কিন্তু আমাদের সরকার সঙ্গে সঙ্গে নতুন টোপ ছাড়লেন। সেকেন্ড লিস্ট শিগগীর বেরোবে বলে ঝুলিয়ে রাখলেন আর অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের প্যানেল থেকে বেঙ্গল পুলিশে চাকরি দেবেন বলে ঘোষণা করে দিলেন। এর ফলে যারা ঝামেলা পাকাতে পারত তারা আশায় আশায় চুপ করে বসে রইল। সেই ফাঁকে বড়কত্তারা কনেস্টবল পিছু ২ লাখ থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত কামিয়ে নিলেন। এসব হয়ে যাবার পর সেকেন্ড লিস্ট বের হল। যারা পয়সা কম দিতে পারল তারা সেকেন্ড ক্লাসে পড়ল। যারা দিতে পারল না তাদের জন্য বেঙ্গল পুলিশের টোপ ঝোলানো রইল।
এই ঘুষের চাকরির বিষয়ে লোকে বলে যে এগুলো কেবল টাকা কামাবার ফন্দি। আমার কিন্তু মনে হয় টাকা কামানোটা গৌণ ব্যাপার। কারণ যারা এই টাকার ভাগ পায় না তারাও কিন্তু মুখ বন্ধ করে থাকে। আসলে মুল লক্ষ্য হল একটা কোরাপ্টেড সিস্টেমের মধ্যে সৎ লোকেদের ঢুকতে না দেওয়া। এর বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে টাকা রোজ়গার হয়ে যায়।
আজকাল মাঠের পারফরম্যান্সের ভিডিও তুলে রাখা চালু হয়েছে। কিন্তু যদ্দুর জানি, পুলিশের লোকেরাই এইসব ভিডিও তোলে। আমার মনে হয় মাঠে উপস্থিত যে কোনো লোকের সবকিছুর ছবি তোলার অধিকার থাকা উচিত। মিডিয়ারও এদিকে নজর দেওয়া দরকার। আর যদি ক্যান্ডিডেট-রা সকলেই ছবি তুলে রাখা শুরু করে, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।
এইসব আজেবাজে চিন্তার মাঝে মোবাইল বাজতে বাজতে থেমে গিয়েছিল। কাজেই আমাকেই রিং ব্যাক করতে হল। প্রথমেই চমকে গেলাম ওর কথা শুনে, "দারুণ পরিক্ষা দিলি তো!"
"কে বল্ল?"
"এইমাত্র মন্তা ফোন করেছিল।"
চিন্তার কথা! আমি যে সিভিল সার্ভিস পরিক্ষা দিচ্ছি সে কথা আমি মন্তা কে বলিনি। বাড়ির লোক ছাড়া কেউ জানেই না। মন্তার সঙ্গে ফোনে যা কথা হয়েছিল তাতে পরিক্ষার নামগন্ধ ছিল না।‌‌‌ জিগ্যেস করতেই যা উত্তর পেলাম তাতে নিজেকেই গাধা মনে হল।
"শোন তবে, তুই মোবাইল সুইচ অফ রেখেছিস মানেই পরিক্ষা দিচ্ছিস। কারণ এমনিতে সব সময় তোর মোবাইল চালু থাকে। আজ সিভিল সার্ভিস পরিক্ষার দিন আর ঠিক সেই সময়েই তোর ফোন অফ। আর যেহেতু মন্তা তোর বত্রিশ পাটি ফোনেও দেখে ফেলেছে, তাই পরিক্ষা খারাপ হয়নি। ওকে বাই!"
আর বেশি কিছু বলার আগেই হতচ্ছাড়া ফোন কেটে দিল। ভীষণ বাজে স্বভাব, কাজের কথা ছাড়া কিস্যু বলে না।
এর মধ্যে দাদুর কাছে এসে গিয়েছিলাম। উড়ে পাওয়া কাগজটা পেতে বসতে যাব, এমন সময় নাতনীর চোখে পড়ে গেল। "দেখি একবার" বলে হাত বাড়াতে বললাম "এটা পুরোনো"।
নাতনী বললে "জানি"।
এর পর দিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। একবার দাদুর দিকে তাকালাম। দাদু মুচকি হেসে কাগজটায় ছাপা একটা সচিত্র সংবাদের দিকে আঙ্গুল দেখালেন। এবার বুঝলাম নাতনীর আগ্রহের কারণ কি। current affair এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মহাপুরুষের ছবিটা দেখে না চেনার কিছু নেই। বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রীমান আজমল আমীর কাসভ।
পরিক্ষার হলে ঢুকতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। নাতনীকে মন দিয়ে পড়ার সুযোগ দিয়ে আমি দাদুর পাশে মাটিতেই বসে গেলাম। তার পরেই জিগ্যেস করলাম সেই রিজার্ভেশনের প্রশ্নটা। গাছতলার রিজার্ভেশন হয় কিনা।
দাদু হয়তো ভাবলেন আমি ঠাট্টা করছি। সিরিয়াস ভাবে এক কথায় উত্তর দিলেন, "তুমি এসব বুঝবে না। এসব বোঝা বোকাদের কাজ নয়।"
আমার মজা লাগল। বললাম "আমি বোকা তা কি করে বুঝলেন দাদু?"
দাদু একই রকম সিরিয়াস ভাবে বললেন "বোকা না হলে এইসব আবোল তাবোল কথা নিয়ে মাথা ঘামাতে না। বরং যে কাগজটা নাতনীকে ধার দিলে সেটা ভালো করে পড়তে। আর না হলে ওটার বদলে তুমিও ওর কাছে একটা বই টই কিছু পড়ার জন্যে ধার চাইতে।"
এই বলে তিনি নাতনীর পায়ের কাছে পড়ে থাকা ক্রনিকল-খানা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমিও নিজেকে বুদ্ধিমান প্রমাণ করার কাজে লেগে পড়লাম।

Last edited by Jibangmail.com (2010-06-04 07:59:12)

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

খুব সুন্দর খুব সুন্দর।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

register1803 wrote:

খুব সুন্দর খুব সুন্দর।

কোনটা সুন্দর? আজমল আমীর কাসভের ছবি? একটু ঝেড়ে কাশুন দাদা। (Please cough out clearly).

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up

Re: আমার দেশের একটুকরো

dada aami o gadha !! wrote:
aponbhola wrote:

italian biriyani......kmn khelen.......

আমাদের গাইটার বাছুর হয়েছে দশদিন আগে। তোকে বলার সময় পাইনি। বাছুরটা অনেকটা তোর মত।"
"মানে? আমার মত দুপায়ে হাঁটে? নাকি চশমা পরে?"
"না না, চেহারায় নয়, স্বভাবে মিল আছে। তুই যেমন খড়ের চেয়ে আখ বেশি খাস, এটাও তেমনি।"
Ratone Raton chene, soure chene kochu !!
Khub bhalo lekha hochche !! chailiye jaan !!

কিছু মনে করবেন না, এই প্রশ্নটা আমি মিস করে গেছিলাম। আসলে সেই সময় নিউটন দাদা এসে এমন প্রশংসা করে দিলেন যে সঙ্গে সঙ্গে আপডেট লিখতে শুরু করলাম।
যাই হোক ইটালিয়ান বিরিয়ানি এখনো খাওয়া হয়নি। আসলে ওই খাওয়ার ভয়ে আমি মন্তার ধারে কাছে যেতে চাইছি না। যে ছেলে কাঁচা লঙ্কার কুচি মিশিয়ে পায়েস খায় (মিষ্টি ভালো লাগে না বলে) সে কেমন খাওয়াবে কে জানে। আর বাজী ধরে খেলে তো আমি পালাতেও পারব না।

এ শুধু বিষের ঋণ, এ লগন বিষ ছড়াবার।

Thumbs up