Topic: আমার দেশের একটুকরো
গত ২৩ মে কলকাতায় গিয়েছিলাম সিভিল সার্ভিস পরিক্ষা দিতে। ভোরের ট্রেনে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পেটের মধ্যে মেঘের গর্জন শুরু হয়ে গেল। না, যা ভাবছেন তা নয়। পরীক্ষার ভয়ে আমার এমনটা কখনোই হয় না। আগের দিন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে চাঊমিন+ফুচকা(বাজি ধরে ৫০ টি) সেবনের ফল এটা।
যাই হোক, ট্রেণের জল প্রায় শেষ করে দিয়ে যখন নামলাম, স্টেশনে দেখলাম এক মজার বিজ্ঞাপন। যদিও এমন বিজ্ঞাপন হাটে বাজারে দেয়ালে দেয়ালে দেখা যায় কিন্তু রেলস্টেশনে দেখার আশা করিনি। মোবাইল বের করে ছবি তুলে নিলাম। ছবি আপনাদের জন্যে রইল।
এখন এই বিজ্ঞাপনে যা দাবী করা হয়েছে তা সরল ভাষায় বলা যায় একটি ফৌজদারী অপরাধ। ভারতীয় সংসদে পাশ হওয়া আইন The Drug and Magic Remedies (Objectionable Advertisement) Act অনুসারে অলৌকিক উপায়ে রোগ সারিয়ে দেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া বে-আইনী। কেবল বিজ্ঞাপনদাতা নয়, প্রকাশকের-ও শাস্তির বিধান আছে ওই আইনে। এর পরেও রেল দপ্তর যদি কিছু পয়সা কামানোর জন্য আইন ভাঙ্গায় মদত জোগায়, তাহলে আইন মেনে চলার আশা রাখব কাদের কাছে?
মজা এই কারণে লাগল যে এই বিজ্ঞাপন-টা রীতিমত আইনসঙ্গতভাবে লাগানো। হাটে বাজারে দেয়ালে লাগানো পোস্টারের মত নয়।
যেসব ব্যক্তি এইসব দাবী করছেন তাঁদের নাম ঠিকানা বিজ্ঞাপনে আছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ রইলো, যদি কেঊ এনাদের কাছাকাছি হন, দয়া করে যাচিয়ে দেখবেন। মন্দিরে গিয়ে যদি সত্যিই হার্টের রোগ সেরে যায়, অন্ধের চোখ ফিরে আসে তাহলে তো আনন্দের কথা।
হাওড়া থেকে বেরিয়ে বড়বাজারে দেখলাম আর এক আনন্দময় সিন। ফুটপাথের দোকান থেকে শয়ে শয়ে ইলেক্ট্রিকের তার জড়াজড়ি করে ঘিরে আছে বাড়িগুলোকে। শর্ট সার্কিট হয়ে গেলে দমকল সামলাতে পারবে কিনা তারাই জানে। এই রকমই এক তারে ঢাকা খুপরি ঘরের মধ্যে দেখা পেলাম তক্তাপোশে শুয়ে থাকা এক বিদেশি অমানুষের। পারস্য থেকে আসা এক বিশাল রামছাগল। বর্তমান মালিকের কাছ থেকে শুনলাম যে এক কাবুলবাসীর হাত থেকে ওই অজরাজকে তিনি পেয়েছিলেন বছর চার আগে। এখন ওজন ৫২ কিলো, দাঁড়ালে উচ্চতা চার ফুট। গোটাকয়েক ছবি তুল্লাম মালিকের পার্মিশন নিয়ে। দাঁড়ানো ছবি তোলার ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হল না। ক্যামেরাটা ভালো না বলেই হোক বা আনাড়ী ক্যামেরাম্যান বলেই হোক, মালিক পেটে খোঁচা মেরে উঠিয়ে দেবার পর তিনি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালেন না। বেদম রেগেমেগে দড়ি ছিঁড়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমি একটু চিন্তায় পড়েছিলাম, পরে জানলাম এরকম প্রায়ই হয়ে থাকে। আমিও আর দেরী না করে শুভকাজটা (আমার জ্ঞানের শ্রাদ্ধটা) সারতে রওনা দিলাম।
(আগের ইমেজটা ঠিক আসছে কিনা দেখে তবে ছাগল টা দেবো!)
এসেছে!



Last edited by Jibangmail.com (2010-05-28 09:45:13)

