Re: কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (দ্বিতীয় খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi
Mantabba nishproyojan. Thanks a lot and cheers
You are not logged in. Please login or register.
Banglalibrary - Forum » Self Writen Bengali & English » কাজলদীঘি শ্মশান ও পীরসাহেবের থান (দ্বিতীয় খন্ড)_মামনজাফরান_Kajaldighi
Mantabba nishproyojan. Thanks a lot and cheers
Simply wonderful Dada! We love it.
Thanks Dada, chalea jan. Wonderful.
বেড়ে লিখেছেন দাদা! তবে "ফিক করে" এবং "হো হো করে" হাসা'র বাহুল্য কমাতে পারলে আরো ভালো হয়।
Dada heavy likhesen, keep going, we are here to support.
হরিদা বটাদা চা নিয়ে ঢুকলো। পেছন পেছন অর্ক, অরিত্র, সায়ন্তন, সন্দীপ, দ্বীপায়ন।
দেখ সন্দীপ দেখ অনি লেখা পাঠিয়েছে। একচ্যুয়েলি তিনটে ইনস্টলমেন্টে পুরোটা বেরিয়ে যায়। একসপ্তাহ ধরে কনটিনিউ করবি। দ্বীপায়ন ছবিগুলো ভালো করে প্লেস কর।
ঘরের মধ্যে যেন হরির লুট চলছে।
দাদা বড়মাকে ফোন করলো।
ইসলামভাই ওর্ণাদিয়ে চোখ মুছছে।
তোমার আবার কি হলো ইসলাম।
ডাক্তারদাদা বললো।
গতো সপ্তাহ পর্যন্ত যা ভুল কাজ করেছি, তার একটা লিস্ট পাঠিয়েছে। কি করতে হবে তাও বলে দিয়েছে।
তার মানে গত সপ্তাহ পর্যন্ত ও কলকাতায় ছিল ?
ডাক্তারদাদা অনুপের দিকে তাকাল।
কি অনুপ তুমি মিছে কথা বলছো কেন।
বিশ্বাস করুণ স্যার। আজ সকালে এই স্যুটকেশ আর এই চিঠিটা আমার বাড়িতে আসে। গাড়ির কাঁচে লেখা ছিল প্রেস বিবিসি।
আমাকে বাক্সটা হ্যান্ড ওভার করে গাড়িটা ভোঁ করে চলে গেল।
তারপর আমার মোবাইলে একটা ম্যাসেজ এলো আধঘন্টা পর। পরলাম। সব জানতে পারলাম। আপনি যদি ম্যাসেজটা দেখতে চান এখুনি দেখাতে পারি।
দেখাও।
ডাক্তারদাদা মুখের কথা আর কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না।
অনুপ মোবাইল থেকে ম্যাসেজটা বার করে ডাক্তারদাদার হাতে দিল।
অনুপ ম্যাসেজটা ফরোয়ার্ড করে দাও না।
দেবাশীষ বললো।
অনুপ হাসছে।
নিয়ে নিন।
ঘরে তখন হৈ হৈ রৈ রৈ।
আচ্ছা মামনি।
আমি ইসলামভাই-এর দিকে তাকালাম।
এখানে কেউ আবার অনির ইনফর্মার নেই তো।
সবাই উচ্চশ্বরে হেসে ফেললো।
জব্বর কথা বলেছো ইসলাম।
দাদা বললো।
কাকে বিশ্বাস করি বলুন দাদা। সব কেমন যেন স্বপ্ন দেখছি মনে হচ্ছে।
তুমি স্বপ্ন দেখ আমি আর দেখতে রাজি নই। ছেলেটা এলো, তোমরা খপ করে ধরতে পারলে না।
কি করে বুঝবো। যে কটাকে আমি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলাম, তাদের গলা শুনলেন।
তুমি খোঁজ লাগাও, দেখ ওদের চ্যালা চামুন্ডা কে আছে।
আমি কি বসে আছি দাদা। নো ট্রেস।
একবার ভালকরে খুঁজে দেখ ঠিক পেয়ে যাবে।
দেখি।
অনুপ তার কার্ডটা আমাকে দিল।
আমি আমার কার্ড দিতে গেলাম।
আপনাদের সবার নম্বর আমার কাছে আছে।
তারপর দাদার কাছে গিয়ে বললো দাদা একটা অপরাধ হয়ে গেছে।
আবার কি হলো ?
আপনাদের কাউকে প্রণাম করা হয় নি।
কেন খবরটা চলে গেছে বুঝি।
সবাই আবার হেসে ফেললো।
অনুপ সবাইকে প্রণাম করে চলে গেল।
যাওয়ার আগে বললো, আমাকে প্রয়োজন হলে ফোন করবেন।
ফোন করবো কি হে তুমিই তো এখন শিখন্ডি।
আবার সবাই হাসে।
আমি অনুপের পেছন পেছন বাইরে এলাম।
গেটের মুখে দাঁড়ালাম।
এটা আমার তরফ থেকে আপনাকে দিলাম। কেউ যেন জানতে না পারে। এমনকি অনি পর্যন্ত। তাহলে ওর হাতেই আমার মৃত্যু লেখা থাকবে। আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি।
আমি ছোট্ট খামটা ওর হাত থেকে নিলাম। হাসলাম।
আসি ম্যাডাম।
নিজের ঘরে গেলাম। ব্যাগটা গুছিয়ে নিলাম। দাদার ঘরে গেলাম।
দাদা আজ আর ভাল লাগছে না। আমি বাড়ি যাই।
ডাক্তারদাদা হঁ হঁ করে উঠলো। তুই একা কেন। আমিও যাব।
ইসলামভাই উঠে দাঁড়াল। আমিও যাব।
আমার গাড়িতেই সকলে এক সঙ্গে উঠলাম।
গাড়ি এসে গেটের কাছে দাঁড়াতেই বারান্দা দিয়ে দেখলাম দামিনীমাসি নেমে বাগানে চলে এল। পেছন পেছন বড়মা, ছোটমা, জ্যেঠিমনি।
মনে মনে ভাবলাম এরি মধ্যে দামিনীমাসি, জ্যেঠিমনি এলো কোথা থেকে!
আমাদের কি নামতে দেয়।
আমি নামতেই দামিনীমাসি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ গুঁজলো।
ছোটমা, বড়মা, জ্যেঠিমনির মুখ কাঁদো কাঁদো। দিদিভাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে। তোর ছেলে মেয়ে পিকু তার স্বরে চেঁচা মিচি করছে।
অনি কোথায় আছে বল।
আচ্ছাই শুরু করলে তোমরা, ভেতরে চলো, সব বলছি।
কে কার কথা শোনে।
ততক্ষণে রবীন গাড়ির পেছন থেকে সেই বড়ো এ্যাটাচিটা নামিয়ে নিয়েছে।
দিদিভাই এইবার বারান্দা থেকে বাগানে নেমে এলো।
তোর ছেলেমেয়েদের কোন হুঁস নেই। পিকুদাকে পেয়ে তারা স্বর্গরাজ্য দেখেছে।
দিদিভাই ইসারা করে বললো বল না একটু।
আমি মনে মনে হাসি। আসল লোকটার দেখা নেই। তার গলা নিয়ে কি কান্ডটাই না ঘটে যাচ্ছে।
আচ্ছা তোর কি একটুও ইচ্ছে করে না। এদের মুখ গুলো দেখতে।
আমরা তিনজনে এসে ভেতরের ঘরে বসলাম।
তোর মেয়ে ইসলামভাই-এর গলা জড়িয়ে ধরে বললো, ভাইদাদাই আমরা চোর পুলিশ খেলছি।
তোরা ওই ঘরে গিয়ে খেল, আমরা একটু কথা বলি।
ওরা চলে গেল।
ডাক্তারদাদা ইসির দিকে তাকিয়ে বললো, একটু চা কর না।
কিছু খেয়েছো।
বড়মা বললো।
না সকাল থেকে যা চললো জুটবে কোথা থেকে।
ভাত খাও।
আগে একটু চা দাও।
দিদিভাই রান্নাঘরের দিকে গেল। বুঝলাম কানটা এদিকে রেখে গেল।
কি বলবো। খালি ওর গলা শুনলাম।
মল্লিক যে বললো ও কলকাতায় এসেছিল। বড়মা বললো।
ইসলাম বললো সাতদিন আগে পর্যন্ত ছিল। দামিনীমাসি বললো।
ইসলামভাইকে জিজ্ঞাসা করো।
এসেছিল আমরা কেউ দেখতে পাই নি। অনুপ বলে ছেলেটি ওর সঙ্গে ছিল।
ডাক্তারদাদা বললো।
হ্যাঁগো ইসলাম তুমি কি করছিলে।
কি করবো তুমি আমাকে বলো দিদি।
রতন আবিদ কি করছে।
ওরা হয়তো আমার থেকে বেশি জানে।
আসুক আজকে ঝেঁটা মেরে বিদায় করবো।
এই মুহূর্তে আমার হাসি পেল না। কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি।
দিদিভাই চা নিয়ে এলো।
চা খেতে খেতে আমি ওদের রেকর্ডিংটা শোনালাম। জ্যেঠিমনি, বড়মা ডুকরে কেঁদে উঠলো।
এই দেখো তোমরা এরকম করলে আমি উঠে চলে যাব।
বড়মা আমার পাশে এসে বসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
কান্না থামাও আর একটা জিনিষ শোনাব।
বড়মা চোখ মুছছে।
শোনার পর কাঁদতে পারবে না। প্রমিস।
বড়মা মাথা দোলাচ্ছে।
আবার কি শোনাবি!
ইসলামভাই-এর চোখ বড়ো বড়ো।
শোন না আগে তারপর বলছি।
সবাই হুমড়ি খেয়ে পরেছে। আমার মোবাইলটার ওপর। আবার সকলের চোখে মুখে উত্তেজনা।
আমি দশ বছর আগে তোর গলার রেকর্ডিংটা অন করলাম।
কিরে আজ আবার পা পিছলে ছিলি।
কই।
তাহলে মিত্রাকে খবর পাঠালি কেন।
এ খবরটাও তোর কাছে চলে গেছে।
তোকে বলেছিনা চিকনা আমি সাধনা করছি। আমার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাবার চেষ্টা করবি না।
ক্ষমা কর।
আমার কাছে ভুলের কোন ক্ষমা নেই। এটা তুই ভাল করে জানিস।
কি করবো, গুরুমার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না।
ওটা তোর আর তোর গুরুমার ব্যাপার।
একটুক্ষণ চুপ।
চুপ করে রইলি কেন।
কি করবো বক বক করবো, তুই আমাকে আর ফোন করে জানতে চাইবি না।
তাহলে সরে যেতে হবে।
কবে সরাবি বল, আমি প্রস্তুত। আমার আর ভাল লাগছে না।
চিকনার কান্না।
বাচ্চা দু’টোকে কোলে নিয়েছিলাম বললো তুমি আমার বাবাকে দেখাবে। কি উত্তর দেব।
মেয়ের দিব্যি খেয়ে বলছি চিকনা টোডিকে এমন মার মারব, ওর বডির একটা টুকরো তোরা কেউ খুঁজে পাবি না। খালি কয়েক টুকরো পোড়া মাংসো পাবি।
একটু থেমে।
শালা জীবনটাকে জ্বালিয়ে পুরিয়ে খাক করে দিলো। গলাটা ধরে গেল।
চুপ চাপ।
কথা বলছিস না কেন, আমার প্রশ্নের উত্তর দে। পৃথিবীতে তুই ঠিক আর সবাই ভুল।
চুপ চাপ।
বোবার শত্রু নেই তাই না। তুই কি হনু হয়ে গেছিস। আমি আর কতো জবাব দিহি করবো। কতো মিথ্যে কথা বলবো। বড়মা, ছোটমা, জ্যেঠিমনি, সুরো কতো নাম বলবো।
সুরো এসেছে!
হ্যাঁ।
কাঁদছিস ?
না।
বৌদি।
এসেছে।
হ্যাঁরে বাচ্চাদুটো তোকে কি বললো।
দেখলাম বড়মা মুখে কাপর চাপা দিয়েছে। কাঁদতে পারছে না। ছোটমা, জ্যেঠিমনি, দামিনীমাসির একই অবস্থা।
ডাক্তারদাদার চোখ মুখ স্থির, যাকে বলে একেবারে কুল।
ইসলামভাই-এর গাল বেয়ে জল গড়াচ্ছে।
কি বলবে, পাটালি খাওয়ালাম। নিজে হাতে বানিয়ে ছিলাম।
খাইয়েছিস। কি বললো খেয়ে।
কি বলবে, কিছুটা খেয়ে আমার মুখে ঢুকিয়ে দিল।
কেমন দেখতে হয়েছেরে, মিত্রার মতো ?
কাল এসএমএস করে তোকে ছবি পাঠাব।
পাঠা।
বুঝলি এবার কলকাতা গিয়ে তিনবার চান্স নিলাম দেখার জন্য, দেখতে পেলাম না। কেউ নিয়ে বাগানে বেরলই না।
তুই এখন কোথায়। দুবাই না লন্ডন।
লন্ডন।
মিথ্যে কথা বলছিস।
বিশ্বাস কর। কাগজের অফিসটা বানাব তার তোর জোর করছি।
হ্যাঁরে, বড়মার চুলগুলো একেবারে সাদা হয়ে গেছ তাই না।
আচ্ছা তার আগে বল কারা কারা এসেছে।
সবাই। দামিনীমাসি পর্যন্ত।
দামিনীমাসি এসেছে!
হ্যাঁ।
শোবার জায়গা কোথায়।
রাজপ্রাসাদ বানিয়েছি।
আবার ঝামেলা শুরু করে দিলি।
ছাড়, কথা বলতে ভালো লাগছে না।
তুই এখন কোথায়।
পীরসাহেবের থানে বসে আছি।
কটা বাজে বলতো।
দুটো ফুটো হবে।
আমাদের এখানে সবে মাত্র বিকেল হলো।
হ্যাঁরে ছোটমাকে দেখতে কেমন হয়েছে।
ছবি তুলে পাঠাব, দেখে নিবি।
তুই গরম খেয়ে যাচ্ছিস কেন।
বেশ করছি, কবে মারবি বল।
তোকে মারলে আমিই মরে যাব।
মেয়েটা তোর মতো দেখতে হয়েছে।
ধ্যাত।
দেখে নিবি।
কোনটা বেশি দুষ্টু।
মেয়েটা। ছলেটা ভিঁজে বেড়াল।
কি রকম করে কথা বলছে।
রেকর্ড করে পাঠাব।
পাঠা। প্রজেক্টের খবর বল।
ঠিক ঠাক চলছে। একটু ঝামেলা হচ্ছিল পার্টিগত ভাবে।
অনিমেষদাকে জানিয়েছিস।
না। সামলে নিয়েছি।
রসদ আছে।
আছে।
কাকা কেমন আছে।
ভাল। তোর ওদিকের কাজের খবর কি।
মিঃ মুখার্জীকে যে মাল গুলো সাল্টে ছিল। তার চারটেকে হজম করেছি। আর দুটো বাকি আছে। আশা রাখছি আগামী সপ্তাহে হজম করে নেব।
অবতার সাগির কোথায়।
দুবাইতে।
টোডি।
লন্ডনে।
তাই তুই লন্ডনে।
হ্যাঁ। ওকে চেইন করে বেঙ্গলে নিয়ে যাব। শালা নাম ভাঁড়িয়ে বড়ো ব্যবসায়ী হয়েছে।
কতোদিন সময় নিবি।
বলতে পারছি না। তবে ওই কাজটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারুর সঙ্গে কথা বলবো না।
নেক্সট ডেট বল।
ম্যাসেজ করবো।
তোর নম্বরটা গুরুমাকে দেব।
না। কাজের জায়গায় দুর্বলতার কোন স্থান নেই। একথা তোকে আগেও বলেছি।
আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
সম্ভব না হলে অনাদি বাসুকে দায়িত্ব দিতাম, তোকে দিতাম না।
অনাদি এখানে স্কুল করতে চাইছে।
কোথায় ?
মোরাম রাস্তার ধারে।
জমি যেটা নেওয়া হবে সবাই যেন পয়সা পায়। ফোঁকটসে নয় মাথায় রাখবি।
ও হাফদাম দেবে বলেছে।
পয়সাকি ওর বাবার ঘর থেকে দেবে।
আমিও সেই কথা বলেছি।
চেপে যা দেখনা কি করে। তারপর আমি লোক পাঠাব। হিমাংশুর কাছে গেছিলি।
হ্যাঁ।
ডিডটা তৈরি করে দিয়েছে।
দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে পরিদার দোকানে লোক যাবে দিয়ে দিবি। সাইন করে পাঠিয়ে দেব।
তুই কি সত্যি সব উইল করে দিবি।
আমার নিজস্ব বলে কি আছে বলতো চিকনা। বাবার কয়েক বিঘে জমি।
ওটাও তো বাসন্তী মাকে দিয়ে দিলি।
যদি না ফিরি। যাদের জিনিষ তাদের দিয়ে দেওয়া ভালো।
আর কয়েকদিন পর করলে হতো না।
হতো। তবে ডিসিসন নিলাম যখন করেই ফেলি।
তনুদি কবে আসবে।
লন্ডনের অফিসটা বানিয়ে নিই তারপর।
তুই এতো টাকা পাচ্ছিস কোথায়।
মস্তানি করে।
খিস্তি দেব।
দে। অনেকদিন তোর মুখের গালাগাল শুনি নি।
তুই কবে আসবি।
কেন, কথা বলছি, তাতে আশ মিটছে না।
গুরুমার সঙ্গে একটু কথা বল না। মনটা শান্তি পেত।
আমাকে দুর্বল করে দিসনা চিকনা। তুই পাশে আছিস এই যথেষ্ট।
বাচ্চাদুটোর সঙ্গে কথা বল।
ওরা বড়ো হলে নিজের তাগিদে তাদের বাবাকে খুঁজে নেবে। শোন আমি একটু বেরোব। একটা মিটিং আছে। পারলে কালকের আপডেটটা দিস, ঠিক এই সময়ে।
কে ফোন করবে তুই না আমি।
আমিই করবো।
আচ্ছা।
রাখছি।
ফটোগুলো পাঠাতে ভুলিস না যেন।
ফোনটা কেটে গেলো।
আমি ফোনটা হাতে তুলে নিলাম।
বড়মা চোখ মুছতে মুছতে বললো। তোকে কবে ফোন করেছিল।
আমাকে করে নি। চিকনাকে করেছিল। চিকনা কনফারেন্সে আমাকে শুনিয়েছে।
কবে করেছিল বললি না।
দশ বছর আগে। যেদিন কৃষিফার্মটার উদ্বোধন হয় তার আগের দিন।
আমাকে এতদিন জানাস নি কেন।
শুনলে তোমার ছেলের কথা, কি বললো।
বড়মা ডুকরে কেঁদে উঠলো। আমাকে আষ্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।
তুমি এরকম করলে আমি কি নিয়ে থাকব।
কিছুতেই কান্না থামে না।
ডাক্তারদাদা উঠে এলো। কোনপ্রকারে সামলে নিলাম নিজেকে।
তারপর হাজার প্রশ্ন। ইসলামভাই, ডাক্তারদাদার। উত্তর দিতে দিতে আমি হাঁপিয়ে উঠলাম।
দাদা মল্লিকদা ফিরে এলো।
দাদা ঢুকেই স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে বড়মাকে বললো, জানো বড়ো আজ অনি লেখা পাঠিয়েছে।
বড়মা কোন কথা বললো না।
দাদা চুপ করে গেল।
তোমার প্যাকেটটা খুলেছো। দেখো কি আছে। আমার জন্য খালি একটা লেখা পাঠিয়েছে।
বড়মা কথার কোন উত্তর দিচ্ছে না।
বুঝেছি খালি তোমারই একা কষ্ট হয় আমার হয় না। আমি পাষাণ।
দাদা নিজের ঘরে চলে গেল।
দেখলাম বড়মা দাদার পেছন পেছন ঘরে গিয়ে ঢুকলো।
ছেলে-মেয়ে এসে দাপাদাপি শুরু করে দিয়েছে মল্লিকদার সঙ্গে।
আমি ছোটমার দিকে তাকালাম।
একটু ওপর থেকে আসি খাবার রেডি কর।
বেরিয়ে এলাম।
নিজের ঘরে ঢুকলাম।
আজ ভারি ভালো লাগছে।
ক্রমশঃ
সারাটাদিন লোকের ভিড় আর বড়মাকে সামলাতে আমি হিমসিম খেয়ে গেলাম। সবাই আছে। তবু ঘন ঘন আমার ডাক। আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না।
তুইও অনির মতো হয়ে গেলি। দশ বছর ধরে নিজের কাছে গোপন রাখলি আমাকে একটি বারের জন্যও শোনালি না।
কাকে কি বলবো। সব তুই। তোর জন্য আজ এই অবস্থা।
রাতে অনিমেষদা এলো তাকেও আমার সম্বন্ধে এক ঝুড়ি নালিশ করলো। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। ব্যাপারটা এরকম আমি তুই শলা-পরামর্শ করে এসব করছি।
মাঝে মাঝে তোর ওপর ভীষন রাগ হয়। তারপর কি জানি, মনে হয় তুইই ঠিক। তুই যদি ঠিক না থাকতিস তাহলে হয়তো এই জায়গায় পৌঁছন যেত না।
অনেক ঝড় এই কয় বছরে গেল, সব উতরে গেছি।
বেশ মনে পরে যখন ওই জায়গাটায় অফিস এক্সটেনসনের জন্য হাত দিলাম। তখন মলের আত্মীয় স্বজন বাধা দিল।
ইসলামভাই যথেষ্ট করলো কিন্তু হলে হবে কি পার্টির একটা লবি দেখলাম মলের আত্মীয়দের হয়ে কথা বলছে।
অনিমেষদা সব শুনলো। বললো একটু অপেক্ষা কর। আমি আগে নিজের ঘরটা সামলে নিই। পার্টির ভেতরে কথা বলি, তারপর তুই কাজে হাত দিস।
তখন আমার কি টেনসন।
কাকে বলবো মনের কথা।
হিমাংশু খালি একটা জেরক্স দিতে পেরেছিল।
তাতে কি কাজ হয়।
ইসলামভাই বললো টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে কাজ শুরু করি।
অগত্যা আমি রাজি হলাম।
অনিমেষদাকে সব বললাম।
অনিমেষদা শুনে বললো ঠিক আছে তোরা তোদের মতো এগো পার্টির ব্যাপারটা আমি বুঝে নেব।
সুজিতদাকে ধরে টাকা জোগাড় করলাম।
সুজিতদা এক কথায় দিয়ে দিল।
টাকা দিয়েও দিলাম। কম নয় তিন কোটি টাকা।
প্রায় দিন পনের হয়ে গেছে। কাজ শুরু করলাম। ইসলামভাই-ই সব দেখা শোনা করছে।
একদিন সাত সকালে ইসলামভাই একজন অপরিচিত লোককে নিয়ে হাজির আমি তাকে কোনদিন দেখি নি।
ইসলামভাই বললো, ইনি তোর সঙ্গে একটু আলাদা করে কথা বলতে চান। আমাকে কিছুতেই ভেঙে বলছেন না। ইনি মলের ভাইপো।
দাদা মল্লিকদা ছিল।
আমি বললাম, আমি একা আপনার কথা শুনবো না। দাদা মল্লিকদা ইসলামভাই-এর সামনে আপনাকে বলতে হবে।
ভদ্রলোক রাজি হলেন। বললেন খালি আপনি হ্যাঁ বলবেন, না হলে আমি মার্ডার হয়ে যাব। আমার কাকা আপনার সঙ্গে ভালো বিহেভ করে নি।
ওপরের ঘরে সবাই বসলাম।
উনি নিজের পরিচয় দিলেন আমি ওম আছি ম্যাডাম। চাচা বহুত ব্লান্ডার কিয়া আপনাকো সাথ। অনিবাবু আপনার হাজব্যান্ড আছে।
আমি চুপ চাপ শুনে যাচ্ছি।
ও দো মকান আপনে রেনোভেসন কা কাম চালু কিয়া ও আপ কুছদিন বন্ধ রাখিয়ে।
কেন। আপনারা যে টাকা ডিমান্ড করেছিলেন সে টাকা দিয়ে দিয়েছি।
ওহিতো গজব হো গয়া। হামি আপনাকে টাকা ওয়াপাস করবে।
কেন।
সে আপনাকে বলতে পারবে না। নেহিতো গজব হো জায়েগা। হামি মার্ডার ভি হো সাকতা হ্যায়।
ও আপনাদের ব্যাপার, কাজ আমি বন্ধ করবো না।
আপনি বলেন তো হামি আপনার পাও ভি ছুঁ সাকতা হুঁ।
কেন বলছেন ও কথা।
বহুত দুঃখ কি বাত।
ভদ্রলোক চুপ করে রইলেন।
ও জায়গা ভি আপনা পিতাজীকা হ্যায়। মেরা চাচা ডুপ্লিকেট ডিড বানাকে ও জায়গা লে লিয়া। অনিবাবুকা পাস অরিজিন্যাল ডিডকা কপি হ্যায়। চাচাকা পুত্তর আপনাকো প্রেসার কারকে ও রুপিয়া লেকে ভাগ গিয়া।
আমি ওমের কথা শুনে থ। কি বলে কি ভদ্রলোক ওই জায়গাটা বাবার!
আভি হাম শুনা ও ভাগা নেহি অনিবাবু উসকো উঠাকে দুবাই লেকে চালা গিয়া। উসকা টোটাল যো প্রপার্টি হ্যায় ও ভি রেজিস্ট্রি করকে আপনা নাম কর লিয়া। কলকাত্তাকা প্রপার্টি ওউর রাজস্থানকা প্রপার্টি। হামারা সাথ উসকা বাত হুয়া।
আপনার সাথে ওর কথা হয়েছে!
সবার চোখ বড়ো বড়ো।
হ্যাঁ। আভি ও পত্রকার নেহি দাদা বন গায়া।
মুখটা কাঁচু মাচু করে বললো।
হামকো বোলা টাকা ওয়াপাস করনেকে লিয়ে।
উসকা সাথ বাতচিত করনেকে বাদ হাম রাজি হো গয়া।
বাত এহি হ্যায় হামারা পাস ক্যাস হ্যায় চেক মে হাম নেহি দে সাকতা। অনিবাবু বোলা জরুর চেক লেকে আপনা পাস আনেকে লিয়ে। আপ ক্যাস লে লিজিয়ে মেম সাব।
দাদা খেপে উঠলো। তোমরা এসব কি নোংরামি শুরু করেছ।
দাদা আপকো হাম বোল নেহি সাকতা, কেয়া হুয়া কেয়া নেহি হুয়া। স্রিফ আপ যো রুপায়া হামি লোগ লিয়া ও আপনে ওয়াপাস লে লিজিয়ে।
ইসলাম তুমি কি বলো।
হামি ইসলামকো থোরা হিন্টস দিয়া। ইসলাম মেরে জানপাহচন আদমি হ্যায়।
কি বলবো বলুনতো দাদা, হাতের কাছে ওকে পাচ্ছিনা যে চেপে ধরবো।
ইসলামভাই, অবতার সাগির ভি উসকা পাস হ্যায়। ওহি সব কুছ অপারেট কিয়া।
ইসলামভাই আমার দিকে তাকাল।
এ যো ড্রিল হোগা দুসরা কোই আদমী জানেগা নেহি। তো ভি হামকো লিয়ে খতরনাক বন সাকতা। এ মেরা রিকোয়েস্ট।
চুপ করে রইলাম।
ছোটমা চা নিয়ে এলো।
দাদা সব কথা বললো ছোটমাকে।
কি শুরু করেছে বলোতো ছেলেটা।
ছোটমার চোখ ছল ছল করে উঠলো।
শেষ পর্যন্ত টাকাটা আমাকে নিতে হলো।
ওখানে বসেই ভদ্রলোক একটা ম্যাসেজ করলো।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তার রিপ্লাইও এলো। খালি ইসলামভাইকে দেখাল। ইসলামভাই আবার নিজের ফোন থেকে ম্যাসেজ করলো। তারও রিপ্লাই এলো। তারপর ভদ্রলোক চলে গেল।
ইসলামভাই-এর কাছ থেকে নম্বরটা নিয়ে ফোন করতে দেখলাম ওটা তনুর নম্বর।
আর কি শুনতে চাস বল। এরকম কতো ঘটনা আছে লিখে শেষ করতে পারব না।
তুই বড়মাকে কি লিখেছিস বাঁদর একবার আয় তোর হবে।
আমি মহা সুখে আছি।
জানিস চিঠিটা বড়মা পড়তে পড়তে কতো বার যে কাঁদল কি বলবো। তোর মেয়ের হাজার প্রশ্ন। তার উত্তর দেওয়া সত্যি খুব মুস্কিল।
বড়মা একটা লাড্ডু নিয়ে এসে তোর মুখে ছোঁয়াল। তোর মেয়ে তাই দেখে বললো দিদানটা কি বোকা দেখ, বাবা খেতে পারে নাকি, ওটা বাবার ছবি তার থেকে আমাকে দাও খেয়ে নিচ্ছি।
ছোটমা, জ্যেঠিমনি সবার একই অবস্থা।
আমার জন্য কিছু পাঠাস নি। আমি কি তোর কেউ নই।
তোর মেয়ের জামাটা ভীষণ সুন্দর হয়েছে। ছেলে প্যান্ট পরে তখন থেকে ঘুরে বেরিয়েছে সারাটা দিন।
রাতে ল্যাপটপে অনুপের দেওয়া পেনড্রাইভ থেকে খালি তোকে দেখলাম। মন ভরে গেল।
এটা শুধু আমার। এর ভাগ কাউকে দেওয়া যাবে না।
তোর গলা শুনছি। তোর মুভমেন্ট দেখছি। কতোবার যে দেখলাম তার ইয়ত্তানেই। বুঝলাম পুরোটা অনুপ নিজের মোবাইলে তুলেছে। তুই জানিস ?
তোকে কিন্তু আগের থেকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে।
একেবারে চ্যেংরা ছেলের মতো। তোর পাসে আমাকে একেবারে বেমানান।
তুই কি শরীর চর্চা করছিস।
বল না।
তোর হাসিটা কিন্তু আগের থেকে আরো বেশি কিউট। যে কোন মেয়ে পটে যেতে পারে।
কিরে কারুর সঙ্গে ইন্টু-মিন্টু করছিস নাকি। তাহলে আমি কিন্তু স্যুইসাইড করব। তখন তোর মিত্রাকে তুই খুঁজে পাবি না।
দূর ছাই কার সঙ্গে বক বক করছি।
তুই তো ছবি।
ছবি হয়েই থাক।
আজকের দিনটা অনেক দিন মনে থাকবে বুঝলি।
একটু ফ্রেস অক্সিজেন পেলাম।
ঘুম পাচ্ছে।
আর ভালো লাগছে না।
পারলে একবার মিত্রার নম্বরে ভুল করে ফোন করিস। নম্বরটা চেঞ্জ করিনি।
আজ অফিসে যাওয়ার পথে আকাশের দিকে তাকালাম। দেখলাম পশ্চমি দিকটা মেঘলা করেছে।
সেই দিনটার কথা মনে পরে গেল বুঝলি।
তখন সবে মাত্র তিন মাস।
বড়মা অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
সপ্তাহে একদিন অফিসে যাই।
নিজের ঘরে বসে কাজ করছিলাম।
তুই হুড়মুড় করে দরজা ঠেলে ঢুকলি।
কি করছিস রে।
ট্রান্সপোর্টের ফাইলটা দেখছি।
বন্ধ কর।
কেন!
যা বলছি কর না।
কেন বলবি তো।
খালি বক বক। নিজে ড্রাইভ করতে পারবি।
পারবো।
নীচে আয়। ঝটপট।
কোথায় যাবি কিছুই বললি না। তোর সবকিছুতেই এইরকম।
নীচে গিয়ে দেখলাম মেঘটা কালো করে রয়েছে। একটু পরেই প্রবল বৃষ্টি হবে।
নে ঝটপট কর। সময় হয়েগেছে।
কোথায় যাবি বলবি তো ? এই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে!
যাহান্নামে।
হেসেফেললাম।
গাড়িতে উঠেই বললি সোজা সেকেন্ড হুগলি ব্রিজ দিয়ে বোম্বে রোডে চল।
তোর কথা মতো রাস্তা দিয়ে এলাম।
তখন সবে মাত্র বৃষ্টিটা ঝিড় ঝিড় করে পরছে।
বোম্বেরোডে উঠে কিছুটা আস্তেই তুই একটা ফাঁকা মাঠের মতো জায়গায় গাড়িটা দাঁড় করাতে বললি। গাড়ি সাইড করে থামালাম।
দুজনে গাড়ি থেকে নামলাম।
ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সামান্য বৃষ্টি। মিশ কালো মেঘটা ছাতার মতো পৃথিবীটাকে যেন ঢেকে রেখেছে। যতোদূর চোখ যায় খালি কালো মেঘের আস্তরণ।
দূরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তুই অবাক হয়ে চারদিক দেখছিস। তোর চোখে বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা।
পাশ দিয়ে হুস হুস করে গাড়ি চলে যাচ্ছে।
হাওয়া দিতে শুরু হলো প্রথমে আস্তে তারপর প্রবল ঝড়।
আমরা দুজনে গাড়িতে উঠে এলাম।
জানলার কাঁচটা একটু নামানো।
সোঁ সোঁ একটা শব্দ। গাছপালা গুলো বেঁকে ধনুকের মতো হয়ে যাচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বাজ পরছে। কড় কড় করে।
আমি তোকে জড়িয়ে ধরে আছি। চোখ বন্ধ।
মিত্রা।
উঁ।
তুই চুপ।
কি বলবি তো।
সামনের দিকটা একবার তাকা।
না। আমার ভয় করছে।
দূর ভয়। আমিতো আছি। মেঘগুলো একে অপরের সঙ্গে কিভাবে মারপিট করছে দেখ।
তোর কথায় চোখ খুলে তাকালাম।
এই ভাবে আগে কোনদিন মেঘ দেখি নি। মুষল ধারে বৃষ্টি পরছে। দূর থেকে বৃষ্টিটা কেমন আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে আমাদের গাড়ির দিকে। কে আগে আসবে তার জন্য যেন যুদ্ধ চলছে। তারপর হুড়মুড় করে আমাদের গাড়িটাকে গ্রাস করে ফেললো। কি দারুণ সেই দৃশ্য।
তারপর বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দ। ফাঁকা মাঠে গাড়ির ভেতর আমরা দুজন। গাড়ির ছাদটা ফুটো হয়ে যেন বৃষ্টির ফোঁটা আমাদের গায়ে পরছে। বৃষ্টির প্রবল বেগে সামনে ধূসর হয়ে গেছে কিছু দেখা যাচ্ছে না।
মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কি প্রচন্ড জোরে মঘের সেই গর্জন। ভয়ে আমার বুক ঢিপ ঢিপ করছে।
তোর ভালো লাগছে না।
হুঁ।
এইভাবে আগে কখনো বৃষ্টি দেখেছিস।
তোর মতো পাগলের পাল্লায় পরি নি তো।
এইরকম বৃষ্টিতে কখনো ভিঁজেছিস।
না।
জানিস আমি যখন ক্লাস নাইনে পরতাম সেই সময় একবার ভীষণ কালবৈশাখী হয়েছিল।
চিকনা আমি মেঘ করতেই দে ছুট। স্কুল থেকে ফেরার পথে শবর পাড়ার কাছে যে আমবাগান, এক দৌড়ে সেখানে। তারপর সে কি ভীষণ ঝড়। ঝপাঝপ আম পরছে।
বিদ্যুৎ গুলো মাঠের মধ্যে আছড়ে আছড়ে পরছে। পরমুহূর্তেই সেই বিকট শব্দ কড় কড় কড়। আমার ভীষণ ভালো লাগছিল। চিকনা আম গাছের তলায় দেখি গুটি সুঁটি মেরে বসে কাঁপছে।
কিরে।
বাড়ি চল।
দাঁড়া বৃষ্টিটা থামুক।
থামবে না।
তুই কি করে বুঝলি।
আকাশের অবস্থা দেখেছিস।
তাহলে ভিঁজে যাবি।
বাকি কি আছে।
তারপর দিলো আমাকে গালাগালি।
সে কি ওর লম্ফ ঝম্প।
কিন্তু আমাকে ছেড়ে যাবে না।
বৃষ্টিতে ভিঁজে দুজনে কাকস্নান করে ফেলেছি।
ঘন্টা খানেক পর বৃষ্টি থামল।
দুজনে বাড়ি ফিরলাম।
ফিরেই একেবারে কাকার মুখো মুখী। কপালে উত্তম মধ্যম জুটলো।
জানিস বুবুন আমরা তোর মতো ভিঁজতে পারতাম না। কখনো সখনো স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টি এলে ছাতা থাকলেও ইচ্ছে করে ছাতাটা মাথা থেকে সরিয়ে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিঁজতাম। জুতো জামা ভিঁজে যেত। দুদিন স্কুল যাওয়া বন্ধ।
তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছিস।
হঠাৎ তুই বললি মিত্রা তুই একটু শো তো।
কেন। করবি।
শো না। খালি খুচখুচানি।
আমি পেছনের সিটে শুলাম।
তুই আমার পেটের কাপর সরিয়ে কানটা রাখলি।
বুবুন সুর সুর করছে।
দাঁড়া না।
কি করছিস বলবিতো।
আবার কথা বলে। চুপ করে শো।
বাইরে তখন প্রবল বৃষ্টি।
গাড়ির কাঁচগুলো ঝাপসা হয়ে গেছে।
না, কাঁদছে না বুঝলি।
কে কাঁদবে।
তুই বোকার মতো হাসলি।
বুঝলি না।
না।
তোর পেটে যেটা আছে। কান দিয়ে শুনলাম। মেঘের গর্জনে সে কাঁদছে কিনা।
তোর ইনোসেন্ট মুখটা আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।
তোকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলাম।
তবু তোর চোখের ভাষা বদলালো না।
প্রায় একঘন্টা আমরা ওই ফাঁকা মাঠে বসে বসে বৃষ্টি দেখলাম।
দুজনে ফিরে এলাম বৃষ্টি স্নাত রাস্ত দিয়ে। তখন বৃষ্টি একটু থেমেছে।
আমার সেই বুবুন এখন কোথায়। কেন বুবুনকে আমি হারিয়ে ফেললাম।
কিছুতেই মেলাতে পারি না।
এখনো কি আমার বুবুন আমাকে ছাড়া একা একা বৃষ্টি দেখে। ওই রকম ইনোসেন্ট হয়ে পরে ?
ম্যাডাম এসেগেছি।
রবীনের ডাকে চমকে তাকালাম।
রবীন গাড়িথেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে।
দূর কোথায় চলে গেছিলাম। আর কোথায় এলাম।
গাড়ি থেকে নামলাম।
ভেতরে এলাম। সবাই কেমন নড়ে চরে বসলো। সদ্য কালকের ঘটনা। অফিসের অবস্থা দেখলাম বেশ চনমনে।
নিজের ঘরে এসে বসতেই, চম্পকদার ফোন।
ক্রমশঃ
সবাই কিরকম চুপি চুপি পরে যাচ্ছেন। আমার লেখা যারা একান্তই ভালবাসে তারা ছাড়া কারুর রিপ্লাই দেখছিনা কেনো ? ভালো মন্দের বিচার না জানতে পারলে লিখি কেমন করে।
darun hochye dada
আজকের পোস্ট-এ বেদনার নীল বসনের আড়ালে স্নিগ্ধকর সৌন্দর্য স্ফুরিত হতে দেখলাম।
Dada I have not read yet your latest post, but I'm sure will be great as it was.
Keep going we are here.
Dada idaning khub bhalo mude achen mane hoche! Thanks for nice and heavy update. Cheers
Onek din por ektu onnorokom bhabe ONIR abirbhab ghotlo. The way you write is really amazing. We like it dada. Please continue.
dada ,
shesh part , i mean 21-23 kothai paabo, ki bhabe paabo?
dada ,
shesh part , i mean 21-23 kothai paabo, ki bhabe paabo?
আপনি ৪০ পাতায় যান দেখুন ১ থেকে ২৩ পর্যন্ত লিঙ্ক আপডেট দেওয়া আছে। ডাউনলোড করে নিন।
page no. 40 kothai ??
LIBRARY PRESENT CONDITION IS VERY SERIOUS, FOR THIS ADMINUSR PRAY TO ALL READERS OF FORUM AND KAJALDIGHI
FOR FULL AND COMPLETE VOLUME (TOTAL TEN VOLUMES PER VOLUME INR 200.00)
REQUEST DONATE LIBRARY A/C INR 2000.00 (Draft or Bank Transfer)
OR EQUIVALENT AMOUNT IN FOREIGN CURRENCY
AND THEN SEND US A MAIL AT bengali.elibrary@gmail.com
WITH YOUR DEPOSIT DETAILS AND AFTER CONFIRMATION WE WILL SEND YOU A LINK IN YOUR E-MAIL ADDRESS PART BY PART FOR FULL DOWNLOAD
BENGALI E LIBRARY
A/C No. 017010200018692
BANK NAME-AXIS BANK
IFS CODE-UTIB0000017
SWIFT CODE AXIS INBB005.
KANKURGACHI BRANCH, KOLKATA
INDIA.
Bank Address :
KANKURGACHI, KOLKATA [WB]
P-35, CIT ROAD, SCHEME VII (M)
MANICKTALA MAIN ROAD, KOLKATA
KOLKATA- 700054
dada ajker update koi?
Dada last update ta porlam, ek kothai khub valo hoease.
Aaj ker update kothai? Pl continue we are here to support you.
আজকের আপডেটের জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হবে মনে হচ্ছে।
mama khub.................valo hocchea. apni chaliea jan. amra apner sathea achi.
লিখছি রাতের দিকে আপডেট দেবো।
LIBRARY PRESENT CONDITION IS VERY SERIOUS, FOR THIS ADMINUSR PRAY TO ALL READERS OF FORUM AND KAJALDIGHI
FOR FULL AND COMPLETE VOLUME (TOTAL TEN VOLUMES PER VOLUME INR 200.00)
REQUEST DONATE LIBRARY A/C INR 2000.00 (Draft or Bank Transfer)
OR EQUIVALENT AMOUNT IN FOREIGN CURRENCY
AND THEN SEND US A MAIL AT bengali.elibrary@gmail.com
WITH YOUR DEPOSIT DETAILS AND AFTER CONFIRMATION WE WILL SEND YOU A LINK IN YOUR E-MAIL ADDRESS PART BY PART FOR FULL DOWNLOAD
BENGALI E LIBRARY
A/C No. 017010200018692
BANK NAME-AXIS BANK
IFS CODE-UTIB0000017
SWIFT CODE AXIS INBB005.
KANKURGACHI BRANCH, KOLKATA
INDIA.
Bank Address :
KANKURGACHI, KOLKATA [WB]
P-35, CIT ROAD, SCHEME VII (M)
MANICKTALA MAIN ROAD, KOLKATA
KOLKATA- 700054
ফার্মের প্রোডাক্ট সেলের ব্যাপারে ও হেল্প করবে। তবে কোয়ালিটি ডিটোরিয়েট করলে কপালে দুঃখ আছে। এমনকি এ্যাডের ব্যাপারে আমাকে কয়েকটা জায়গায় যেতে বলেছে।
ভেবে দেখ কোথায় আছে জানিনা আমাদের মালের ব্যাপারটা জোগাড়ের চিন্তা ভাবনা করছে।
বুঝলে চম্পকদা অনির একটা বদ অভ্যাস হচ্ছে ও ঘাড়ে সচর আচর কিছু নেয় না। একবার নিয়ে নিলে তুমি নিশ্চিন্ত। খালি ফলো আপ করো নিশ্চিত রেজাল্ট।
মিলি ফিরে এলো। সবাই দাদার ঘরে গেলাম। সারাটা দিন দাদার ঘরে কাটল।
প্রত্যেকের চিঠি পরে পরে দাদাকে শোনান হলো। তারপর ডিসিসনে আসা হলো।
দাদা একবার মাঝে ইসলামভাইকে অফিসে আসতে বললো। হিমাংশুকে তুই লিখেছিস রতনের নামে এবং আবিদের নামে একটা এক্সপোর্ট লাইসেন্স বার করতে। ওরা বাইরে মাল পাঠাবে। ইসলামভাই আমাদের ফার্মের ষাটভাগ মাল কিনে রতনদের সেল করবে।
ইসলামভাই প্রথমে ব্যাপারটা ধরতে পারে নি। তারপর হিমাংশু বুঝিয়ে দিল।
ইসলামভাই খালি মাথা দুলিয়ে যাচ্ছে। ও কি করতে যাচ্ছে আমার বোধগম্য হচ্ছে না।
হিমাংশু বললো, আমাকে লিখেছে লাইসেন্স বেরিয়ে যাবার পর অনুপকে জানাতে। অনুপ সব ব্যবস্থা করবে। এ্যাকাউন্টসের পার্ট আমার বাকি পার্ট অনুপের।
আচ্ছা তুই এতো খবর পাস কি করে। তোর কে আছে আমাদের অফিসে বল না।
তোকে নিয়ে অফিসে কতো মাতামাতি। আমি তার ফ্লেভারটুকু উপভোগ করি। তোকে কাছে পাই না। পেলে আরও ভালো লাগতো।
আজ সুরোর বিয়ে হলো।
শেষটা এমন হলো মনটা ভারি হয়ে গেলো। কান্নাছাড়া আমার জীবনে কিছু নেই বুঝলি। লোকে এরপর থেকে আমাকে কাঁদুনি মাসি বলবে।
তোর সঙ্গে ওর চুক্তি হয়েছিল, এক তুই যেখানেই থাকিস ওর বিয়েতে আসবি। দুই তোর বিয়ে যেখানে হবে ওর বিয়ে সেখান থেকে হবে। মানে সেই বাড়ি থেকে।
তাই এই বাড়িকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ছেলের নাম অংশুমান। তুই চিনিস, সুরো বললো।
একবার নাকি তোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। ওর থেকে তিন বছরের সিনিয়ার। আমাদের কলেজেই পরতো।
এখন প্রফেসারি করছে।
দেখতে বেশ ভালো ছেলেটাকে।
অনিমেষদা বৌদি দুজনে দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে সব কেনা কাটার জন্য।
ইসলামভাই বিয়ের সব অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছে।
এলাহি ব্যবস্থা।
তোর ছেলে মেয়ের কি আনন্দ সুরো পিসির বিয়ে। পাত পেরে খাবে। পিকু একটু বরো সে তো আর এক কাঁটা ওপরে।
এখানেও তুই নেই।
সবার সেই এক কথা।
সবাই আগের রাত থেকে আমাদের বাড়িতে। সুরো গত সাতদিন ধরে রয়েছে।
শয়নে স্বপনে অনিদা।
কতোবার যে চিকনাকে ফোন করে বলেছে, তুমি অনিদার সঙ্গে আমাকে একবার কথা বলিয়ে দাও না।
কে কার কথা শোনে। অনিমেষদাকে পর্যন্ত ফিরিয়ে দিয়েছে।
বলেছে অনি নম্বর চেঞ্জ করেছে।
সকাল বেলা সুরো একটু কান্না কাটি করছিল। তারপর আবার ঠিক হয়ে গেছে।
মিলি তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে। টিনা তার মেয়েকে নিয়ে এসেছে। সব গ্যাঁড়া গ্যাঁড়া। অদিতির ছেলেটা একটু বড়ো। প্রথমটা নষ্ট হয়ে গেছিল। দ্বিতীয়টাকে যাই হোক নীরু জানপ্রাণ দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছে। সেটারই এখন বয়স দশ।
সবাই এসেছে। আড্ডা খাওয়া দাওয়া। হই হুল্লোড়।
ছেলের বাড়ি থেকে গায়ে হলুদ এসেছে।
সুরোর শ্বশুর নিজে এসেছেন।
সব কাজ মিটে যাবার পর আমাকে এসে বললো মা আমাকে একটা জিনিষ দেখাবে।
প্রথমে আমি একটু অবাক হয়ে গেছিলাম।
বলুন।
অনির একটা ছবি তোমার ঘরে আছে আমাকে একটু দেখাবে।
হাসলাম।
আমার বৌমা অনেকবার আমাকে তার দাদার গল্প করেছে। লোকের মুখে খোঁজ খবর নিয়েছি। অনিমেষবাবুর কাছ থেকেও সব শুনেছি। ও তো একটা মিথে পরিণত হয়ে গেছে।
নিজের ঘরে নিয়ে গেলাম। তোর ছবিটার সামনে ভদ্রলোক অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। কি বিড় বিড় করলেন কি জানি।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন।
চোখ দুটো যেন কথা বলছে মা।
তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
এখন আর সেই ভাবে মন খারাপ হয় না। এটুকু মনে মনে জানি তুই আছিস।
তোর মেয়ে ছুটতে ছুটতে এলো, মা আমাকে দুটো লুচি দেবে।
কেনরে এই তো খেলি।
না আমি খাবো না। বাইরে একটা পাগল বসে আছে খেতে চাইছে।
তোকে বুঝি খেতে চাইল।
মাথা দোলাল।
হাসলাম।
একা একা যেও না। কাউকে সঙ্গে নিয়ে যাও। না হলে পাগলটা আবার ধরে নিয়ে যাবে।
রান্নাঘর থেকে দুটো লুচি তরকারি একটা প্লেটে করে মেয়ের হাতে দিলাম।
মেয়ে নাচতে নাচতে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললো, জল দাও।
ভাগ এখান থেকে খেতে পেলে শুতে চায়। ছগন দাদাকে বল তারিয়ে দিতে। কাজের বাড়িতে এরকম অনেক পাগল আসে।
দাও না।
আবার জল দিলাম।
মেয়ে দিয়ে এলো।
একবার আমি নিজে গিয়েও বাইরে বেরিয়ে দেখে এলাম। একটা নয় তিনটে পাগল।
আবার তোর মেয়েকে ডেকে লুচি দিলাম।
অনিমেষদা হাসতে হাসতে বললো। মিত্রা তোর মেয়ে দরিদ্র নারায়ণ সেবা করছে।
ছগনলাল একবার তারিয়ে দিল। দেখলাম এই ফুটপাথ থেকে ওই ফুটপাথে গিয়ে বসলো।
দুপুরে দেখলাম তোর মেয়ে নিজে হাফ খেয়ে থালা নিয়ে উঠে যাচ্ছে।
ধর ধর বলে চেঁচিয়ে উঠলো সকলে।
বললো বাইরের পাগলটা খায় নি। ওদের দিয়ে আসি।
বড়মা খেতে খেতে উঠে গেল।
আচ্ছা পাগলের পাল্লায় পরেছি। সকাল থেকে বড্ড জ্বালাচ্ছে।
চল তোর পাগলদের খেতে দিয়ে আসি।
রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে, নিজে মেয়ের সঙ্গে গিয়ে খাবার দিয়ে আসল।
মনে হয় দুটো মুখও করে আসলো। গলা পাচ্ছিলাম।
আমাকে এসে বললো কোথায় তুই অনেকগুলো বললি। দেখলাম তো একটা। কি দুগ্গন্ধ বেরচ্ছে। ছগনলালকে বলে এসেছি দূর কর। কাজের বাড়ি বলে কথা।
বিকেল বেলা সুরো সাজতে গেল।
সেজেগুজে সুরো ফিরে এলো সাড়ে পাঁচটা নাগাদ।
চারিদিকে লাইট জ্বলছে।
বাড়ি ভর্তি লোকজন। তোর মেয়ে আবার জ্বালাতন শুরু করলো। খালি ঘ্যানর ঘ্যানর।
আজ ওকে পাগলে পেয়েছে।
শেষ মেষ সুরোকে ধরলো।
সুরো কনের সাজে নিজে গিয়ে তোর মেয়ের সঙ্গে পাগলকে খাইয়ে এলো।
সবাই সুরোর পেছনে কি লাগা। সুরো পুন্যি করলো।
তখন কটা হবে ছটা।
এরপর বড় এলো।
আমরা সবাই বিয়েতে মেতে গেলাম। ছেলের বাড়ি থেকে বড় যাত্রী এসেছে। তাদের দেখভাল করছে সবাই। আমি ঘর সামলাচ্ছি।
প্রথমে রেস্ট্রি হলো তারপর বিয়ের আসর বসলো।
নীপা আজ খুব সুন্দর সেজেছে। ভীষণ মিষ্টি লাগছে।
ওর পেছনে কনিষ্ক, বটা, নীরু পরে রয়েছে।
এবার তোর পালা নীপা, তৈরি হয়ে যা।
বরুণদা হেভি সার্ভিস দিচ্ছে।
মাঝে একবার অনিমেষদা নীপাকে বলেছিল।
হ্যাঁরে নীপা সবাই এলো চিকনা এলো না কেন।
সে এখন নেতা হয়েছে। সময় নেই।
সবাই নীপার কথায় হাসে।
রাতে নাচ গান হলো। তারপর খেতে বসা হলো।
আমার বিয়ের মতো সবাই এক সঙ্গে বুফে সিস্টেমে। সুরোর ইচ্ছে।
হঠাৎ দেখি সুরোর চোখ ছল ছল।
বুঝলাম মনে পরে গেছে। কাছে গেলাম।
বেশতো ছিলি সারাদিন, আবার কি হলো।
অনিদাটা থাকল না। বলেছিল তোর বিয়েতে খুব আনন্দ করবো।
বিধানদা বোঝাল।
প্রবীরদা বোঝাল, অনুপদা, রূপায়ণদা কেউ বাকি নেই।
কে কাকে বোঝায় তার ফোঁপানি বন্ধ হল না।
তারপর যা হোক তার কান্না থামল।
খাওয়া তখন বলতে পারিস শেষ।
তোর ছেলে মেয়ে তাছাড়া যতো গুলো বাচ্চা ছিল ঘুমোতে গেছে ডাক্তারদাদার বাড়িতে।
আমরা বেশ হৈ চৈ করছি।
আমাদের বিয়ের টুকরো টুকরো গল্প হচ্ছে।
অনুপদা বললো মনে আছে সুরো অনির বিয়েতে সেই নাচ, চল চল আর একবার নেচে নিই।
পাবলিকের সামনে নাচলে পেঁদাবে।
বেশ আনন্দ হচ্ছিল।
হঠাৎ সুরোর ফোনটা বেজে উঠলো।
সুরো আমার দিকে তাকিয়ে বললো, শিষ্য ফোন করেছে।
বলো।
আমি পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।
কে রে ?
বৌদি বললো।
চিকনা।
বৌদি মুখ টিপে হাসল।
সুরো কথা বলিসনা ওর সঙ্গে।
খাওয়া দাওয়া হয়ে গেছে।
হ্যাঁ আঙুল চাটছি। তুমি কোথায় ?
পীরসাহেবের থানে বসে আছি।
তোমার সঙ্গে কথা বলবো না।
কেন।
তুমি এলে না।
কি কথা হলো চিকনার সঙ্গে বুঝলাম না। কথা বলতে বলতেই সুরোর মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেল, ফোনটা নিয়ে পরি কি মরি করে গেটের দিকে রুদ্ধ শ্বাসে দৌড়ল।
আমি ধরতে পেরেছিলাম কিছু একটা হয়েছে।
অংশু ওর পেছন পেছন দৌড়চ্ছে।
আমি কি ওর সঙ্গে পারি।
আবিদ রতন সবাই দৌড়ে গেল।
একটা হতোভম্ব করা পরিবেশ। হুট করে কি যে হোল।
সুরো সটাং গেটের বাইরে এসে কাকে যেন খুঁজছে।
আমি ছুটতে ছুটতে কাছে গেলাম।
সুরো আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো।
অনিদাকে তোমরা কেউ চিনতে পারলে না।
আমি তখনো হাঁপাচ্ছি। কথা বলতে পারছি না।
নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না।
হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, কি পাগলের মতো বলছিস!
হ্যাঁগো বৌদি চিকনাদা এখুনি বললো। অনিদা এসেছিল।
ততক্ষণে সবাই কাছে চলে এসেছে। সুরো অঝোড়ে কাঁদছে।
রতন আবিদ গেট থেকে বেরিয়ে ছিটকে গেল।
ইসলামভাই কাকে যেন বললো গাড়িটা ওপাশ থেকে নিয়ে আয়।
মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ওলট-পালট হয়েগেল।
ছগনলাল গেটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে।
কি হয়েছে বল। আমি সুরোকে জড়িয়ে ধরে আছি।
সুরো বললো।
চিকনাদা বললো, মনটা ভাল নয় সুরো।
কেন।
সে তোকে বলা যাবে না।
আমারও মনটা ভাল নয়।
কেন।
আমি বললাম আমার দাদা নেই।
চিকনাদা বললো, কেন, দাদাকে অতো পরি পাটি করে খাইয়ে দিয়ে এলি।
কি বাজে বকছো।
কনে সেজে তুই অনিসা খেতে দিস নি কাউকে।
সে তো বাইরে একটা পাগল ছিলি। সকাল থেকে বহু জ্বালাচ্ছিল।
ওটাই তোর অনিদা।
তুমি বলো বৌদি সকাল থেকে আমার দাদা গেটের বাইরে বসে রইলো। তোমরা কেউ চিনতে পারলে না।
ইসলামভাই রতন আবিদ তখন রাস্তায় বেরিয়ে গেছে।
ছগনলাল চেঁচিয়ে উঠলো।
কুথা যাবেন বাবু, তাকে পুলিশে উঠায়ে লিয়ে গেছে।
অনিমেষদা, প্রবীরদা, বিধানদা থম মেরে গেছে। রূপায়ণদা, অনুপদা কাকে ফোন করছে।
দাদা, মল্লিকদা, ডাক্তারদাদা কেমন যেন বোবা হয়ে গেছে।
সবাই কেমন হতভম্ব হয়ে গেছে কথাটা শোনার পর।
ইসলামভাই তখন ফোনটা বার করেছে পকেট থেকে। আমি ইশারায় না করলাম। আমার ফোনটা এগিয়ে দিলাম।
চিকনাকে রিং করে আমাকে দাও।
সুরো আমার বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে।
কার চোখে জল নেই। বড়মা, ছোটমা, জ্যেঠিমনি, দামিনীমাসি মাথায় হাত দিয়ে মাটিতে বসে পরেছে। সবার এঁটো মুখ, কারুর হাত ধোয়া হয় নি।
টিনা, মিলি, অদিতি, নীপা ভেতর থেকে জলের বোতল আনতে ছুটল।
ইসলামভাই ফোনটা ধরে আমাকে দিল।
ভয়েজ অন করা আছে সবাই শুনবে, নাহলে আমার ষষ্ঠী পূজো হবে।
বলো গুরুমা।
গলাটা ভাড়ি ভাড়ি কেন।
পীরসাহেবের থানে বসে আছি, একটু ঠান্ডা লেগেছে।
কাঁদছো কেন।
তোমরা আমার গুরুকে দুটো খেতে দিতে পারলে না। তোমাদের বাড়িতে খাওয়ার এতই অভাব।
চিকনা ঝাঁজিয়ে উঠলো।
চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসছে, তবু কাঁদতে পারছি না।
অনিমেষদাকে দেখলাম চোখ থেকে চশমাটা খুলে রুমাল দিয়ে মুখ মুছছে। এই প্রথম একটা দোর্দন্ড প্রতাপ লোককে এতোটা ভেঙে পরতে দেখলাম।
আমার কথাটা শোনো।
শুনবো না, তুমি আমাকে একা থাকতে দাও।
বুঝলাম চিকনা অঝোড়ে কেঁদে চলেছে। সবাই নিস্তব্ধ।
কান্নাকি আমারও পাচ্ছে না, কি করবো। দিনে দিনে কেমন যেন হয়ে যাচ্ছি। জীবনের সব তাপ উত্তাপ হারিয়ে ফেলেছি।
তবু নিজের মেয়েটার হাতে দুটো লুচি এঁটো ভাত খেয়েছে।
বুকের ভেতরটা ভীষণ যন্ত্রণা করছে বুঝলি বুবুন।
যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে।
একদিকে সুরো আর এক দিকে চিকনা।
যার দিকে তাকাই সেদিকে ছলছলে চোখ ছাড়া কিছুই চোখে পরে না। আমি নিজেই কাঁদতে ভুলে গেছি।
ফোনে তখনো চিকনার ডুকরে ডুকরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।
তুমি এতো দিন কি করে ঘর করলে ওর সঙ্গে।
তুমি একটু আমার কথাটা ভাবো।
ঠিক আছে ওকে চিনতে পারনি, টনা মনাকে চিনতে পারেল না কেন।
প্রবীরদা কাছে এগিয়ে এলো। ফোনটা বার করতে গেল পকেটে থেকে।
অনুপদা হাতটা চেপে ধরলো।
টনা, মনাও ছিল!
ছিলতো।
কি করে বুঝবো বলো।
সবাই আমাকে ঘিরে ধরে আছে।
পাঁচিলের পাশে একটা ছেঁড়া পোঁটলা পরে আছে। ওটা নিয়ে এসো।
বুঝলাম চিকনা ফোঁপাচ্ছে।
আর কি বললো।
বম্বে এয়ার পোর্টে নেমে আমাকে ফোন করলো। রাত দেড়টার ফ্লাইটে লন্ডন যাবে। বললো চিকনা আজ আর কাউকে কিছু বলিস না। কাল সকালে বলিস।
মেয়ের হাতের লুচিগুলো ভীষণ ভালো খেলাম বুঝলি।
চিকনা কেঁদে ফেললো।
সারাদিন না খেলেও চলতো। শেষ বেলায় সুরোর হাতে খেলাম।
চিকনা ঢেউ তুলে তুলে কাঁদছে আর বলে যাচ্ছে।
ইসলামভাই মেনুগুলো বেশ ভালো বানিয়েছে। মাংসটা আর একটু সেদ্ধ হতো, তবে রাতের দিকে ঠিক হয়ে যাবে।
দেখলাম ইসলামভাই ওর্ণা দিয়ে চোখ মুছছে।
ক্রমশঃ
Thanks for timely and lively update. Quality of writing as usual. Cheers
সেন্টমেন্টালিটির খোসা ছাড়ানো ঝাঁঝ পাচ্ছি।
khub valo laagche .
Excellent...Keep going. We are here to support.
dada er por ??
valo hoyeacha mama. aro besi korea update chi.
Posts [ 61 to 90 of 2,824 ]
[ Generated in 0.407 seconds, 8 queries executed ]