Topic: খলনায়ক_পথিক গুহ_J.CRAIG VENTER

খলনায়ক
পথিক গুহ

আবার, আবারও তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এবং খবরের শিরোনাম। স্তুতি নয়, নিন্দার বলয় তাঁকে ঘিরে। সতীর্থরা সমালোচনায় মুখর। প্রায় বদ্ধপরিকর তাঁর কৃতিত্ব নস্যাৎ করতে। যেন, তেমন বড় কিছু, বা কিছুই তেমন করেননি তিনি। কেবল যশোলোভ আর অর্থলাভের তাড়নায় ছুটেছেন। অপবিত্র করেছেন এক পবিত্র পেশাকে। এতটাই যে, মিথ্যাচারী বলা যায় তাঁকে। সাব্যস্ত করা যায় অপরাধী। হ্যাঁ, আমেরিকার মেরিল্যাণ্ডের রকভিল-এ সেলেরা জিনোমিক্স কোম্পানির প্রধান ড: জন ক্রেগ ভেন্টার এখন, কারও কারও চোখে, একজন ভিলেন।

অথচ, ভিন্ন, একেবারে উল্টো পরিচয়েও প্রতিভাত হতে পারতেন তিনি। খ্যাত হতে পারতেন এই মুহূর্তে এই গ্রহের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী হিসেবে। নিতান্ত নির্দয় না হলে নোবেল কমিটি পুরস্কারের তালিকা থেকে কিছুতেই বাদ দিতে পারতেন না তাঁর নাম। কারণ, বিজ্ঞানে সম্প্রতি সূচনা হল যে বিপ্লবের, নতুন শতাব্দীতে নতুন যুগের আভাস মিলল যাতে, তার মূল হোতা না হলেও, এক অনন্য কারিগর তো তিনিই।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে, ১৮৯৭ সালে, গবেষণায় সন্ধান মিলেছিল ইলেকট্রন নামে এক কণার। উন্মোচিত হয়েছিল পরমাণুর রহস্যময় অন্দরমহল। সেখানে অভিযানের ফল একাধিক উদ্ভাবন। পরমাণু বোমা কিংবা কম্পিউটার। ঊনবিংশ শতাব্দী যদি যন্ত্রবিপ্লবের, তবে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি নিশ্চয়ই ইলেকট্রনিক্স রিভলিউশনের। তা হলে একবিংশ শতাব্দী? হ্যাঁ, ঊনবিংশের আবিষ্কারে সমৃদ্ধ হয়েছিল যেমন গত শতক, তেমনই গত শতকের এক অভিযানে রচিত হয়েছে এই শতকের ভাগ্য। আর, আগের মতো, এবারেও সেই বিন্দুর ভিতরে সিন্ধু আবিষ্কার।

craig venter

পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষের দেহ প্রায় ১০০,০০০,০০০,০০০,০০০ কোষের পাহাড়। এদের প্রতিটির কেন্দ্রে রয়েছে ৪৬টা ক্রমোজম। যেগুলো আসলে লম্বা দড়ির মতো (বা পেঁঁচানো মই-এর মতো) অণু। ডিঅক্সিরাইবোজ নিউক্লিক অ্যাসিড। সংক্ষেপে ডি এন এ। ওই ডি এন এ যদি একটা মালা হয়, তা হলে তা গাঁথা হয়েছে চার রকম ফুলে। অ্যাডিনিন (এ), সাইটোসিন (সি), গুয়ানিন (জি) এবং থাইমিন (টি)। জিন বা ডি এন এ-র অংশ বিশেষ, সুতরাং, ওই এ-টি-জি-সি’র শেকল। জিনের কাজ দেহকোষে প্রোটিন উৎপাদন। ওই প্রোটিন আবার শারীরিক ক্রিয়ার সব চেয়ে দামি উপাদান। কারণ, দেহের প্রতিটি অণু হয় নিজে একটি প্রোটিন, নয়তো কোনও প্রোটিনের ক্রিয়ার ফল। আমাদের বেঁচে থাকা যেহেতু প্রতি মুহূর্তে প্রোটিনেরই খেলা, সেহেতু ডি এন এ-র ওই এ-টি-জি-সি আসলে নিয়ন্ত্রণ করছে সব। ওই শেকলের মধ্যে নিহিত আছে রোগব্যাধি কিংবা সুস্বাস্থ্যের পূর্বাভাস। কারও চোখ বাদামি হবে, না নীল, তার মৃত্যু হতে পারে কি না হার্ট অ্যাটাকে বা ক্যানসারে— এসবই লেখা থাকে ওই ডি এন এ-র ৩২০ কোটি এ-টি-জি-সি’র মালায়। সুতরাং মানুষের জিনোমে, অর্থাৎ তার কোষে উপস্থিত পুরো ডি এন এ-তে ওই এ-টি-জি-সি’র পরপর অবস্থান যদি জানা যায়, তবে এক লাফে অনেক দূর চলে যাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান। আসবে নতুন ডাক্তারি। ক্যানসার শরীরে ধরা পড়ার পরে নয়, তার সম্ভাবনা আগাম ধরে ফেলে শুরু হবে চিকিৎসা। যক্ষা, হেপাটাইটিস কিংবা এডস্‌-এর জীবাণুর সঙ্গে লড়তে বাজারে মিলবে ওষুধ। কোনও দম্পতি চাইলে পারবেন নিজেদের যৌবন ধরে রাখতে। কিংবা খুশি মতো হবু অ্যাথলিট বা শিল্পী-সন্তানের জন্ম দিতে।

এই ‘চিচিং ফাঁক’-এর দুনিয়ায় ঢুকতে, জীববিজ্ঞানীদের বহুকালের দাবি মেনে, ১৯৯০ সালে শুরু হয় মানুষের ডি এন এ-র মানচিত্র তৈরির কাজ। হিউম্যান জিনোম প্রোজেক্ট। ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল সরকারি উদ্যোগ। খরচ আর তাৎপর্যের বিচারে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে আমেরিকার বোমা বানানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বায়োলজির ‘মানহাটান প্রোজেক্ট’।

না, ভেন্টার সেই রাজসূয় যজ্ঞের কেউ নন। অথচ, কী আশ্চর্য, অলক্ষ্যে তিনিই যেন করলেন পুরোহিতের কাজটা। কী ভাবে? শত্রুরূপে। জিনোম প্রোজেক্টের কাজ তো শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু, তা যে শেষ হল ২০০০-এর জুন মাসে, সে তো ভেন্টারের জন্যেই। সরকারি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি নিজেও নেমেছিলেন ডি এন এ মানচিত্র তৈরিতে। ফলে, একই লক্ষ্যের দিকে শুরু হয়েছিল রুদ্ধশ্বাস দৌড়। এক দিকে আমেরিকা, ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, চিন, জাপানের মতো ১৬টা দেশের সরকারি গবেষণাগারের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী, অন্য দিকে ভেন্টারের নিজের কোম্পানি সেলেরা জিনোমিক্স-এর এক ঝাঁক বিশেষজ্ঞ। প্রতিযোগিতা-সর্বস্ব বিজ্ঞানের দুনিয়াতেও এমন দ্বন্দ্বযুদ্ধের তুলনা বিরল। যুদ্ধে জয়ী কে? অবশ্যই ভেন্টার। তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার ভয়েই জিনোম প্রোজেক্টের বিজ্ঞানীরা তাঁদের কাজ-শেষের বছর ক্রমশ এগিয়েছেন। ২০০৫ থেকে ২০০৩। ২০০৩ থেকে ২০০১। তারপর ২০০০। মান বাঁচাতে, অতঃপর, গত বছর দু’পক্ষের সন্ধি। ঢাকঢোল পিটিয়ে এক সঙ্গে পাশাপাশি খসড়া মানচিত্র প্রকাশ।

তবুও ভেন্টার কেন অনেকের চক্ষুশূল? সমালোচনার শিকার?

এসব প্রশ্নের জবাব সোজা। জিন-মানচিত্রের পিছনে দৌড় আসলে দুই দর্শনের দ্বন্দ্ব। সরকারি বনাম বেসরকারি প্রচেষ্টার চিরকালীন সংঘর্ষ। ৩০০ কোটি ডলারের প্রোজেক্টের সঙ্গে টেক্কা দিতে ভেন্টার ব্যয় করেছেন মাত্র ৩০ কোটি ডলার! আর, তার চেয়েও বড় কথা, ভেন্টার মানচিত্র বানাননি শুধু জনসেবায়। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট। ওই মানচিত্র যদি হয় নতুন চিকিৎসার ‘চিচিং ফাঁক’, তবে তা অবশ্যই নতুন ব্যবসার হাত ধরে নতুন ধনাগারের হদিস। হ্যাঁ, ভেন্টার মানচিত্রলব্ধ জ্ঞান পেটেন্ট করে ভবিষ্যতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামাতে চান। ঠিক এই জন্যেই, অনেকের চোখে, তিনি বিজ্ঞানী নন। বরং মূর্তিমান শয়তান। এতটাই যে, তাঁরা স্মরণ করেন ‘স্টার ওয়ারস’ ফিল্‌ম-এ পৃথিবী ধ্বংসকামী দানব ডার্থ ভেদার-এর কথা। ভেন্টারকে বলেন, ‘ডার্থ ভেন্টার’। কে এই ম্যাড, ব্যাড সায়েন্টিস্ট?

জন্ম ১৯৪৬-এর ১৪ অক্টোবর। আমেরিকার সল্ট লেক সিটিতে। বাবা ট্যাক্স কনসালট্যান্ট। মা শিল্পী। ভেন্টার-এর ছেলেবেলা কেটেছে সানফ্রানসিস্কোর অদূরে মিলব্রে শহরে। বাবা ভর্তি করেছিলেন ওখানকার মিলস হাই স্কুলে। কিন্তু, বইপত্রে মন ছিল না মোটে ডানপিটে ছাত্রের। তাঁর নিজের কথায়: ‘একেবারেই শিক্ষাপদ্ধতির অনুরাগী ছিলাম না আমি। পাতার পর পাতা মুখস্থ করা আর তার চর্বিতচর্বন ছাড়াও অন্য কাজ ছিল আমার। বেশ পটু ছিলাম ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটে জড়িয়ে পড়ায়।’ এহেন ছেলের কাছে ক্লাস পালানো দারুণ আনন্দের। সেই আনন্দ সে উপভোগ করে এক নেশায় ডুবে গিয়ে। সমুদ্রের নেশা। সার্ফিং-এর টান। এতটাই যে, নিজের নৌকো নিজেই বানিয়ে নিত সে। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাত ঢেউ-এর মাথায়। বয়স যখন সতেরো, স্কুলের পাট চুকেছে অনেক কষ্টে, তখন এই যুবক চলে আসে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে। সেখানে চাকরি পাব আর রেস্তোরাঁয়। যাতে কাজ করা যায় রাতে। আর, দিনের বেলা কাটানো যায় সফেন সমুদ্রে। এই সময় আর একটা ইচ্ছেও উঁকি দিত ভেন্টারের মনে। পপ স্টার হওয়ার বাসনা। ১৯৬০-এর দশকের গোড়ায় এরকমই ছিল আমেরিকান যুবকের জীবন। নিরুদ্বেগ, উদ্দাম ও স্বাধীন।

সেই সুখের আকাশে কালো মেঘ হয়ে নেমে আসে ভিয়েতনাম। পৃথিবীর অন্য প্রান্তে এক যুদ্ধে বলি দিতে চাই হাজার হাজার তরতাজা প্রাণ। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধরে আনো যুবকদের। ১৯৬৫ সালে নেভিতে যোগ দিতে হয় ভেন্টারকে। অবশ্য, তখনও তাঁর মনে বড় সাঁতারু হওয়ার বাসনা। অলিম্পিকে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করার আশা। অচিরে চূর্ণ হয় সেসব। কারণ, প্রেসিডেন্ট লিণ্ডন জনসন ভেঙে দেন সেনাবাহিনীর সব স্পোর্টস টিম। এদিকে আই কিউ পরীক্ষায় ৩০ হাজার যুবকের মধ্যে প্রথম হওয়ায় ভেন্টারের ভাগ্যে জোটে বিশেষ প্রশিক্ষণ। হাসপাতালে কাজের। ঠাট্টা করে ভেন্টার বলেন, ‘লিণ্ডন জনসন প্রথমে শেষ করেন আমার সার্ফিং কেরিয়ার। তারপর আমার সাঁতারু-জীবন।’

১৯৬৭ সাল। রাতারাতি ঠিকানা বদলে যায় একুশ বছর বয়সী স্বপ্নভঙ্গ এক যুবকের। সে এক অন্য জগৎ। ভূগোলে ও পরিবেশে। নিউ পোর্ট-এর ঘুমপাড়ানি সী বিচ-এর বদলে দা নাং-এর কাদামাটি জঙ্গলে। অলস হই হুল্লোড় থেকে একেবারে বোমা-কামানের যুদ্ধে। অভিজ্ঞতায় বদলে যায় মানুষ। ব্যতিক্রম নয় ভেন্টারও। তাঁর নিজের কথায়: ‘চারপাশে পৈশাচিক হত্যালীলা। রক্তনদী আর শবের মিছিল। দেখতে দেখতে মাথা খারাপ হয়ে যায়। বিদ্রোহ করে মন। আরও হাজার হাজার যুবকের মতো আমিও জানি না, কেন আমাদের ঠিকানা এই বধ্যভূমি। বুঝি না সেই রাজনীতি, যা আমাদের বানিয়েছে খুনি।’ রাগে আর ক্ষোভে প্রায়ই অশালীন আচরণ করেন সেনাবাহিনীর এই রিক্রুট। একবার কোর্টমার্শালও হয় তাঁর। ঊর্ধ্বতন এক মহিলা অফিসারকে গালাগালি করার অপরাধে। সেই অফিসারের সঙ্গে অবশ্য তখন চাকরির বাইরে তাঁর ডেটিং-এর সম্পর্ক! মহিলা কেবল তাঁকে হুকুম করেছিলেন চুল ছোট করে ছাঁটতে। তাতেই বিদ্রোহ। আসলে, যে কোনও নির্দেশই তাঁর মনে হত পেন্টাগনের অত্যাচার।

ভিয়েতনামের সেই বিষণ্ণ দিনগুলো রচনা করে ভেন্টারের ভবিষ্যৎ। তাঁর কাজের মধ্যে দিয়ে। দা নাং-এর নাভাল হসপিটালে বিচিত্র ডিউটি ছিল এই চিকিৎসা-কর্মীর। দিনের শেষে ট্রাক বোঝাই হয়ে সেখানে পৌঁছত রক্তাক্ত, অচৈতন্য সৈনিকের দল। তাদের বেশির ভাগ নিশ্চিত মৃত্যুর দরজায়। আয়ু হয়তো বা কয়েক মিনিট বা ঘন্টা। স্তূপের ভিতর ওদের বাতিল করে ভেন্টারকে আলাদা করতে হত সেইসব আহত সৈনিকদের, যাদের বাঁচানো যায় চিকিৎসায়। এই কাজের সূত্রে তাঁর জীবনে আসে নতুন মোড়। দুই আহত সৈনিকের চিকিৎসার সুবাদে। এক জনের মাথায় ছিল সামান্য চোট। বুলেটের, তবে তা গভীর নয়। চলে গেছে গা ঘেঁষে। তাই, ভেন্টার সরাসরি তাকে পাঠিয়ে দেন শুশ্রূষার জন্য। অথচ, কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যায় বেচারা। এর কয়েকদিন পরে আহতের ভিড় থেকে আলাদা করা হয় আর এক জনকে। দেহ রক্তাপ্লুত। গুলিতে পেট ছিন্নভিন্ন। বাঁচানোর আশা জলাঞ্জলি দিয়েও তাকে দ্রুত ইমারজেন্সিতে পাঠিয়ে দেন ভেন্টার। শুরু হয় চিকিৎসা। আর, সবাইকে অবাক করে দিয়ে, কয়েক ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসে তার। বুলেটে ঝাঁঝরা পাকস্থলি নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে সেই সৈনিক। বেঁচে থাকে আরও কয়েক সপ্তাহ। ভেন্টারের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে জানিয়েও দেয় তার বাসনা। আমেরিকায় ফিরে নিজের কলেজের বাস্কেটবল টিমে যোগ দিতে হবে।

মৃত্যু অমোঘ। জীবনের তা একমাত্র উপসংহার। তবু, ওই দুটি পরিণতি কত আলাদা! যার আঘাত সামান্য, সে মরে গেল দ্রুত। আর, যার মরে যাওয়ার কথা তৎক্ষণাৎ, সে বেঁচে রইল কয়েক সপ্তাহ। একুশ বছর বয়সী চিকিৎসাকর্মী প্রশ্ন করেন নিজেকে: মানুষের জীবন তা হলে কী? তা যদি একটা ইঞ্জিন হয়, তবে সেই যন্ত্র চালায় কে? এই সব প্রশ্নের উত্তর না জানলে চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চাই বৃথা।

১৯৭০। ভিয়েতনাম থেকে মুক্তি। দা নাং-এর জলজঙ্গল থেকে সান ডিয়েগো-র রোশনাইতে। কিন্তু, ভেন্টারের লক্ষ্য স্থির। বাউণ্ডুলে জীবন আর নয়। পড়তে হবে বায়োকেমিষ্ট্রি। তাই নাম লেখানো ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে। ১৯৭৬-এ ওখান থেকেই পি এইচ ডি। পেশায় ডাক্তার হতে পারতেন ভেন্টার। হলেন না। থেকে গেলেন গবেষণায়। জীবরসায়নের গভীরে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক-এ। এবং রসওয়েল পার্ক ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে। রিসার্চের অতি ব্যস্ততায় অশান্তি দাম্পত্যজীবনে। এক সন্তান নিয়ে তিনি বিবাহবিচ্ছিন্ন। এবার নতুন প্রেম। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের গবেষিকা ক্লেয়ার ফ্রেজার তার পর থেকে তাঁর জীবনসঙ্গীনী। সব দিক দিয়ে।

১৯৮০-র দশকের গোড়ায়, বায়োকেমিষ্ট্রির গবেষণায় ডুবে যেতে যেতে, একটা ব্যাপার বুঝতে পারেন ভেন্টার। জিনচর্চা একদিন নিয়ন্ত্রণ করবে সব কিছু। সাফল্য চাই, আর সেটা চাই তাড়াতাড়ি। এই ব্যস্ততা তাঁর জীবনে আর একটি বড় শিক্ষা। ভিয়েতনামের মতো যা গেঁথে আছে মনে। এই দ্বিতীয় শিক্ষার মূলেও এক অভিজ্ঞতা। বাবার মৃত্যু। ১৯৮২ সালে। ভদ্রলোকের বয়স তখন ৫৯। অর্থাৎ, ভেন্টারের আজ যা বয়স, তার চেয়ে মাত্র পাঁচ বছর বাদে। ‘আমার জীবনে সে এক বিরাট ধাক্কা’, বলেছেন ভেন্টার, ‘মানুষটা সারা জীবন খাটাখাটুনির পর থিতু হয়েছিলেন একটু। পরিবারের জন্য ত্যাগ স্বীকারের পর তৈরি হচ্ছিলেন আরাম-আয়েসের জন্য। আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল খুব। বিজ্ঞানী হওয়া দূরে থাক, আমার স্বভাবের জন্য ভাবতেন যে, জীবনটা ছেলের জেলেই কাটবে। প্রথম দিকে আমাদের দুজনের বনিবনা ছিল না তেমন। পরের দিকে আমরা কাছাকাছি আসছিলাম একটু একটু করে। তখনই চলে গেলেন মানুষটা। যেন, বলে গেলেন, কাজ সেরে ফেল তাড়াতাড়ি।’

human genome
Scientist Craig Venter discusses the 10 years he spent sequencing the human genome

১৯৮৪ সালে ভেন্টার আর ক্লেয়ার যখন গবেষণা কর্মী হিসেবে মেরিল্যাণ্ডের বেথেসডা-য় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এন আই এইচ)-এ যোগ দেন, তখনও জিন গবেষণার গতি বেশ শ্লথ। জীবনে প্রথম যে জিনটি ভেন্টার আবিষ্কার করেন (যা মানুষের মস্তিষ্কের কোষে বিশেষ প্রোটিন উৎপাদনের মূলে), সেটি শনাক্ত করতে তাঁর সময় লাগে প্রায় দশ বছর। এই দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ সে সময়ের প্রচলিত পদ্ধতি। যে রাসায়নিক পন্থায় শনাক্ত করা হত ডি এন এ-র ‘এ’, ‘টি’, ‘জি’ বা ‘সি’-কে, তা ছিল সময়সাপেক্ষ। এই জন্যেই মানুষের ডি এন এ-র ৩২০ কোটি এ-টি-জি-সি শনাক্ত করার কাজ থেকে সভয়ে দূরে ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সরে ছিলেন, এটা জেনেও যে, কাজটা করতে পারলে বিরাট লাভ হবে। যে উদ্যোগ সময় নিতে পারে কয়েক দশক, কিংবা একটা শতক, তার পিছনে ছুটে কী লাভ? এই হতাশা দূর হয় এক আবিষ্কারে। ক্যালটেক-এর দুই বিজ্ঞানী লীরয় হুড আর মাইকেল হাংকাপিলার বানিয়ে ফেলেন এ-টি-জি-সি শনাক্ত করার অটোমেশিন। কম্পিউটার প্রযুক্তি আর জীবরসায়নের মিশ্রণে। অটোমেশিনে অনেক লাভ। গবেষককে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয় না বিক্রিয়ার দিকে। যন্ত্র করে যায় কাজটা। দিনে চব্বিশ ঘন্টা। সপ্তাহে সাত দিন। অবিরাম। এই সুবিধে কাজে লাগিয়ে ডি এন এ-র সব এ-টি-জি-সি শনাক্ত করতে ততদিনে তৈরি হয়েছে ‘হিউম্যান জিনোম প্রোজেক্ট’। নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন জেমস ওয়াটসন। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী। ১৯৫৩ সালে ফ্রান্সিস ক্রিক-এর সঙ্গে ডি এন এ-র আসল চেহারা (পেঁচানো মই) বলে দিয়ে যিনি বায়োলজিতে বিপ্লব এনেছিলেন। জিনোম প্রোজেক্ট চলবে এন আই এইচ-এর তত্ত্বাবধানে। সুতরাং, ওয়াটসন এলেন ভেন্টারের বস হয়ে।

এসেই ঝামেলা। ভেন্টার তাঁর কাজের জন্য অটোমেশিন কিনতে চান। কিন্তু, ডলারের আর্জি না-মঞ্জুর। বাইরে থেকে তা জোগাড় করে যন্ত্র কিনে ভেন্টার বুঝিয়ে দিলেন উপরওয়ালার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা তাঁর পোষায় না। এই মনোভাবের অনিবার্য পরিণতি সংঘাত। তা-ই হল অচিরে। যখন খারিজ হল ভেন্টারের দ্বিতীয় এবং আরও বড় আর্জি। অটোমেশিন দিয়ে ডি এন এ-র একটা অংশে ১০০,০০০ এ-টি-জি-সি শনাক্ত করেও খুশি নন ভেন্টার। লক্ষ্য তাঁর আরও দ্রুত কাজ। তাই, এবার এগোলেন একান্ত নিজস্ব পথে। আসল প্রয়োজন তো সব এ-টি-জি-সি শনাক্ত করা নয়, ডি এন এ-র মধ্যে জিনগুলোকে খুঁজে পাওয়া। ডি এন এ-র মাঝে মাঝে কিছু কিছু অংশ হল জিন। যারা ভূমিকা পালন করে প্রোটিন উৎপাদনে। বাকি অংশে অকেজো এ-টি-জি-সি’র মালা। যা কোনও কাজেই লাগে না। তাই ওই অংশগুলোকে বলে ‘জাংক’। আবর্জনা। ডি এন এ-র ৯৭ শতাংশই এই জাংক। জিনোম প্রোজেক্টের বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য পুরো জিনোমের পাঠোদ্ধার। ভেন্টার রাজি নন তাতে। অযথা সময় নষ্ট করায় সায় নেই তাঁর। তিনি চান ডি এন এ-র ৩ শতাংশ— সেই আসল জায়গাগুলো পড়তে, যেখানে রয়েছে জিন। আর, এক একটা জিন খুঁজে বের করতে। মাথা খাটিয়ে এ কাজের বিশেষ পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন ভেন্টার। ফলে, চেনা গেল বেশ কিছু জিন। আর, ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে ১৯৯১ সালের জুন মাসে ‘সায়েন্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত হল দীর্ঘ প্রবন্ধ। ভেন্টার তা উৎসর্গ করলেন তাঁর বাবার স্মৃতির উদ্দেশে। এরপর, নিজের কাজের স্বীকৃতি আর আবিষ্কৃত জিনের ব্যবসায়িক মূল্য বিচার করে ভেন্টার দাবি করলেন, এন আই এইচ জিনগুলোর পেটেন্ট নিক।

প্রস্তাবে বাধ সাধলেন ওয়াটসন। জিনোম প্রোজেক্টের অগ্রগতি পর্যালোচনায় মার্কিন সেনেটের এক সভায় তিনি বলে দিলেন, ভেন্টারের উদ্ভাবিত পদ্ধতি ‘বিজ্ঞানই নয়’। ওই মেশিনগুলো তো ‘বাঁদরেও চালাতে পারে’। সভায় উপস্থিত ভেন্টার যেন বিশ্বাস করতে পারলেন না নিজের কানকে। পরে বলেছেন, ‘ওয়াটসন জিনচর্চার পিতৃপুরুষ। তিনি আক্রমণ করলেন আমাকে! যে কিনা তাঁর চেয়ে অনেক ছোট এবং গবেষণায় নবাগত।’ ভেন্টারের নিন্দাকে তাঁদের সকলের অপমান বলে ধরে নিলেন তাঁর সহকর্মীরা। প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন তাঁদের একজন ল্যাবে এলেন বাঁদরের পোশাকে। আর, বন্ধুরা ছবি তুললেন তাঁর হাতে ওয়াটসনের লেখা বই রেখে!

mycoplasma capricolum
Mycoplasma capricolum

পেটেন্ট-বিতর্কের ফল হল দুটো। এক, ওয়াটসন ত্যাগ করলেন জিনোম প্রোজেক্টের প্রধানের পদ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন বিখ্যাত জিন-বিশেষজ্ঞ, মিশিগান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড: ফ্রান্সিস কলিন্স। দুই, ভেন্টার আর ক্লেয়ার ব্যাঙ্কে মাত্র দু’হাজার ডলার সম্বল করে বেরিয়ে গেলেন এন আই এইচ থেকে। ওঁদের কব্জা করলেন উদ্যোগপতি ওয়ালেস স্টেইনবার্গ। সাত কোটি ডলার ব্যয়ে বানালেন নতুন কোম্পানি। ‘দি ইনস্টিটিউট ফর জিনোমিক রিসার্চ’। টি আই জি আর। কিন্তু, উচ্চারণে ‘টাইগার’। কাজেও প্রায় তা-ই। ভেন্টারের অবাধ স্বাধীনতা এখানে। চার বছরের মধ্যে তার সুফল। ‘হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি’ নামে সেই জীবাণু, যা মেনিনজাইটিস বা বধিরতা আনে প্রায়ই, তার ডি এন এ মানচিত্র (কুড়ি লক্ষ এ-টি-জি-সি’র নির্দিষ্ট অবস্থান) তৈরি করে ফেললেন ভেন্টার। এই প্রথম মিলল একটি প্রাণীর ডি এন এ মানচিত্র। বিরাট সাফল্য। ভেন্টারের সমালোচক ওয়াটসনও কবুল করলেন, ‘ইটস আ গ্রেট মোমেন্ট ইন সায়েন্স।’

অবশ্য, এর পরেও টাইগার-এ টিঁকলেন না ভেন্টার। সেই পেটেন্ট নিয়ে স্টেইনবার্গের সঙ্গে ঝামেলা। বেরিয়ে এসে ১৯৯৮ সালে অ্যাপ্লায়েড বায়োসিস্টেমস কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে গড়লেন নতুন সংস্থা। নিজেই তার সি ই ও। কোম্পানির নাম ‘সেলেরা জিনোমিক্স’। সেলেরা ল্যাটিন শব্দ। ইংরেজিতে মানেটা ‘কুইক ’। বোঝা গেল, ভেন্টার এবার দৌড়বেন আরও বেগে। সত্যি। কিনে ফেললেন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার (প্রথমটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের)। তারপর, প্রেস কনফারেন্স ডেকে ঘোষণা করলেন, তিন বছরের মধ্যে, আর ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে, তিনি বানিয়ে ফেলবেন মানুষের ডি এন এ মানচিত্র। অর্থাৎ, জিনোম প্রোজেক্টের এক পঞ্চমাংশ সময়ে, ও এক দশমাংশ খরচে ওই বিশাল কাজ সারবেন তিনি। এ এক বিরাট ধাক্কা। যেন, ‘মানহাটান প্রোজেক্ট’ শেষের আগেই কোনও অস্ত্রকারখানার বোমা বানিয়ে ফেলার হুমকি। কিংবা, ‘নাসা’-র নীল আর্মষ্ট্রংকে চাঁদে পাঠানোর আগেই কোনও এরোপ্লেন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারকে সেখানে পাঠানোর তোড়জোর।

রীতিমত বেকায়দায় জিনোম প্রোজেক্টের বিজ্ঞানীরা। ধাক্কা খেয়ে বাড়িয়ে দিলেন কাজের স্পিড। শুরু করলেন ভেন্টারের সমালোচনা। মানচিত্র বানাতে তাঁর কাজের পদ্ধতির। সেটা অবশ্যই আলাদা। জিনোম প্রোজেক্টে ডি এন এ-কে প্রথমে কিছু কিছু পরিচিত জায়গায় কেটে নিয়ে, সেই অংশগুলোর এ-টি-জি-সি শনাক্ত করে, পরে একসঙ্গে সবটা জোড়া হচ্ছিল। আর, ভেন্টার প্রথমেই ডি এন এ-কে অজস্র টুকরো করে, সবগুলোর এ-টি—জি-সি একসঙ্গে খুঁজে মানচিত্র বানাচ্ছিলেন। প্রথম পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, কিন্তু, আপাতদৃষ্টিতে, নিখুঁত। দ্বিতীয়টায় কাজ এগোয় দ্রুত, তবে ভুলের সম্ভাবনা বেশি। ভেন্টার জানালেন, ‘না, সেদিকটা সামলাবে আমার সুপার কম্পিউটার।’ বিবৃতি আর পাল্টা বিবৃতির তোড়ে ঝগড়া জমে উঠল বেশ। তাঁদের মধ্যে একটা রেস শুরু হয়েছে কি না জানতে চাইলে, ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের রিপোর্টারকে জিনোম প্রোজেক্টের প্রধান কলিন্স বললেন, ‘রেস! বলেন কী? আমরা তো ভাবছি হিউম্যান রেস-এর [প্রজাতির] কথা।’ আর, ভেন্টার ‘নিউ ইয়র্কার’-কে বললেন, ‘দুই নৌকো পাশাপাশি ছুটলে, যারা পিছিয়ে পড়ে, তারা বলে, আমরা মোটেই পাল্লা দিচ্ছিলাম না।’

তিক্ততা যখন এই পর্যায়ে, তখন তা অবসানে ময়দানে নামলেন কয়েক জন উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী। ফল মিলল তাঁদের প্রচেষ্টায়। ভেন্টারের সঙ্গে এঁটে উঠবেন না বুঝে কলিন্স বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত। গত বছর ২৬ জুন, হোয়াইট হাউসে এক প্রেস কনফারেন্সে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা ঘোষণা করলেন, মানচিত্র তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ। এবার শুধু তা একটা জার্নালে ছাপানোর পালা।

হায়, এত করেও শেষরক্ষা হল না। মানচিত্র ছাপানোর শর্ত নিয়ে ফের বাঁধল ঝগড়া। কলিন্স চান, মানচিত্র হোক পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। প্রয়োজনে যে কেউ কাজে লাগাক তার তথ্য। পেটেন্ট-মনস্ক ভেন্টার যে সেটার বিরোধী, তা বলাই বাহুল্য। ঝগড়ার জেরে দু’পক্ষ ফের দুই শিবিরে। কলিন্সদের মানচিত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ পত্রিকার এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়। আর ভেন্টারদেরটা প্রতিদ্বন্দ্বী জার্নাল ‘সায়েন্স’-এর ১৬ ফেব্রুয়ারির ইসুতে। ঝগড়া চলছে তার পরেও। এবং, এখন তা সংক্রামিত হয়েছে ওই দুটো পত্রিকার পৃষ্ঠাতেও। গত মাসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী স্যামুয়েল কারলিন ‘নেচার’-এ একটি প্রবন্ধ লিখে দাবি করেছেন, ভেন্টারের মানচিত্র এত তাড়াহুড়োয় বানানো যে, তাতে ভুল থাকতে বাধ্য। এদিকে, এই সব কাজিয়ার মাঝখানে বাজারে সেলেরা জিনোমিক্সের শেয়ারের দামের ওঠানামা অব্যাহত।

ভেন্টার কি বিল গেটস হতে চান? মাইক্রোসফ্‌ট-এর মালিক লক্ষ লক্ষ লাইন কম্পিউটার কোড থেকে কোটি কোটি ডলার কামিয়েছেন। ভেন্টার হয়তো তা কামাতে চান কোটি কোটি এ-টি-জি-সি’র মালা থেকে। আসলে, এ এক অদ্ভুত কাল। একদা কোনও ফারাক ছিল না বিশুদ্ধ আর ফলিত বিজ্ঞানে। স্যার হামফ্রে ডেভি শুধু সাতটি মৌল পদার্থ আবিষ্কার করেননি, বানিয়েছিলেন খনি-শ্রমিকদের সেফটি ল্যাম্পও। লুই পাস্তুর কেবল রাসায়নিক যৌগের ধর্মে মগ্ন ছিলেন না, বাতলেছিলেন দুধ নষ্ট হওয়া ঠেকানোর উপায়ও। তারপর বদলে গিয়েছিল হাওয়া। বিজ্ঞান আর বাণিজ্যে রচিত হয়েছিল ব্যবধান। অন্তত কিছুটা।

এখন আর তা নেই। ড্রাগ ইণ্ডাষ্ট্রি এত কাল ঘাড়ে চেপেছিল রসায়নবিদ্যার। এখন তা দৌড়তে চায় জীববিজ্ঞানের হাত ধরে। গবেষণা আর শিল্পের লক্ষ্য তাই মিলেমিশে একাকার। জিনোম প্রোজেক্ট আর সেলেরা জিনোমিক্সের দ্বন্দ্বযুদ্ধ, আসলে, জীববিদ্যার সাবালকত্ব প্রাপ্তির ইঙ্গিত।

তা হলে, ভেন্টার কী? হিরো, না ভিলেন? হয়তো এসবের কোনওটাই নন। তিনি শুধু বিজ্ঞানী। তবে, একুশ শতকের।

সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ৯ আষাঢ় ১৪০৮ রবিবার ২৪ জুন ২০০১

One best book is equal to hundred Good FRIENDS;
But one good friend is equal to a LIBRARY

Thumbs up

Re: খলনায়ক_পথিক গুহ_J.CRAIG VENTER

Ei Lekhatao Darun..

Thumbs up