Topic: যমজ প্রতিভা_পথিক গুহ
যমজ প্রতিভা
পথিক গুহ
ভারতবর্ষে এই তাঁর প্রথম আগমন। অন্তত একক ভাবে। এর আগে, বিক্ষিপ্ত আয়োজনে, অনেকের মধ্যে শেষ কবে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, তা মনে করতে পারেন না রসিকজনেরা। তাঁদের কথা ভেবে ফরাসি এবং ভারত সরকার অবশেষে উদ্যোগী হয়েছেন এই বিশেষ আয়োজনে। এ সপ্তাহে দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে যার শুরু। একক পিকাসো প্রদর্শনী। মোট ১২২টি শিল্পকর্মের এক বিশাল সমারোহ। কোনও বিশেষ বিষয়-নির্ভর নয় এই প্রদর্শনী। নয় শুধু ছবির মেলাও। তার পাশাপাশি ভাস্কর্য, সেরামিক, ড্রইং, এচিং এবং ফোটোগ্রাফ— এতগুলি মাধ্যমে পিকাসো। প্রায় আট দশক জুড়ে নানা পর্বে শিল্পীর অত্যাশ্চর্য প্রতিভার নিদর্শন। কলকাতার শিল্পপ্রেমীদের দুর্ভাগ্য, এক সঙ্গে এতগুলি পিকাসোর স্বাদ পাবেন না তাঁরা। নির্ঘন্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে তিন সপ্তাহের পর, প্রদর্শনীর ঠিকানা মুম্বই। ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্ট।
সুযোগের সদ্ব্যবহারে বোধ করি ভুল করবেন না দিল্লি আর মুম্বই-এর রসিক মানুষেরা। ভিড় জমাবেন পিকাসো-প্রদর্শনীতে। একজন আধুনিক চিত্রকরের বিশ্বখ্যাতির রহস্য অনুধাবনে। পিকাসো সত্যিই এক আইকন। তাঁর সমকালে এতটা জনপরিচিতি কি অর্জন করেছিলেন স্বয়ং মাইকেল এঞ্জেলো? হয়তো নয়। হয়তো আর কারও কাজ শিকার হয়নি এতটা ব্যাখ্যা, প্রশস্তি, নিন্দা কিংবা গুজবের। এই আকর্ষণ স্বাভাবিক। অনেকের মতে, প্রতিভা বাদ দিলেও, শুধু সংখ্যার হিসেবেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম সবার আগে। তা ছাড়া, আর কোনও শিল্পী জীবদ্দশায় হতে পারেননি তাঁর মতো ধনবান। শিল্পশৈলীতে আধুনিকতার পথপ্রদর্শকদের অন্যতম তিনি। এতটাই আধুনিক যে, একদা বলতে পেরেছিলেন, ‘‘আমি যখন যা কিছু রচনা করেছি, তা সবই বর্তমানের জন্য। এই আশায় যে, সেসব টিঁকে থাকবে বর্তমানের হয়ে। শিল্পকর্মে কিছু প্রকাশ করতে গিয়ে কখনও ভাবিনি অতীত বা ভবিষ্যৎ।’’এহেন স্রষ্টাকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল তো থাকবেই।
কিন্তু, প্রশ্ন জাগে, দিল্লি কিংবা মুম্বইতে তাঁর প্রতিভার স্বাদ পেতে, প্রদর্শনীতে সমাগত মানুষের মধ্যে থাকবেন কি কোনও বিজ্ঞানী? অথবা বিজ্ঞানে অনুসন্ধিৎসু কোনও শিক্ষার্থী? যদি থাকেন তাঁরা, যদি পিকাসো-প্রদর্শনী হয়ে ওঠে কলাপিপাসু আর বিজ্ঞান-রসিকদের মিলনমেলা, তবেই হয়তো সার্থক হবে আয়োজন। কারণ, অতলান্ত পিকাসোয় অবগাহন করতে করতে বিজ্ঞান-গবেষকেরা অবশ্যই আবিষ্কার করবেন তাঁদের চেনা আরও একজনকে। আলবার্ট আইনস্টাইন। আরও একজন আধুনিকতার জনক। পিকাসো যদি হন আধুনিক শিল্পের নামান্তর, তবে আইনস্টাইন নিশ্চয়ই আধুনিক বিজ্ঞানের। সমকালীন এই দুই ব্যক্তিত্ব গত শতাব্দীর শুরুতে প্রায় একই সঙ্গে কলা এবং বিজ্ঞানে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন প্রথাগত ধারণাকে। কিন্তু, না, শুধু নতুনকে আহ্বানের ভগীরথ হিসেবেই সমান নন এই দুই অসামান্য চরিত্র। সন্ধানীরা ইদানীং আবিষ্কার করেছেন এঁদের দুজনের মধ্যে এক গভীরতর মিল। আর, তা এই যে, চর্চার ক্ষেত্রে কলা বা বিজ্ঞানের মতো ভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা হলেও, উদ্ভাবনা দুজনের একই। পিকাসোর কিউবিজম আর আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি মূলত একই সমস্যা সমাধানে দুটি আলাদা উদ্যোগ। স্পেস-টাইম, অর্থাৎ স্থান আর কাল সম্পর্কে আমাদের চিরাচরিত ধারণা যে ভুল, তা উপলব্ধি করেছিলেন এই শিল্পী এবং বিজ্ঞানী। করেছিলেন বলেই সচেষ্ট হয়েছিলেন ভ্রান্ত ধারণা বিসর্জন দিয়ে সত্যসন্ধানে।
কিউবিজম আর রিলেটিভিটি যে সেই সত্যসন্ধানেরই ফসল, স্থানকাল অনুধাবনে বিশেষ বিশেষ দর্শন, সেই উপলব্ধি, বলা বাহুল্য, নতুন নয়। শিল্পবোদ্ধা কিংবা বিজ্ঞানবিদেরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন বহুকাল। জেনেছেন, কী ভাবে পিকাসো এবং আইনস্টাইন সফল হয়েছেন সত্যদর্শনে। তাঁদের দুজনের কৃতিত্ব ব্যাখ্যায় পাণ্ডিত্যের যে বিশেষ শাখা গড়ে উঠেছে অনেকদিন, তাতে নতুন চিন্তার সংযোজন ঘটেছে সম্প্রতি। প্রকাশিত হয়েছে একটি বই। ‘আইনস্টাইন, পিকাসো: স্পেস, টাইম অ্যাণ্ড দি বিউটি দ্যাট কজেস হ্যাভক’। লেখক আর্থার আই মিলার। না, ‘ডেথ অব এ সেলস্ম্যান’-এর সেই বিখ্যাত লেখক আর্থার মিলার নন। এই মিলার পেশায় অধ্যাপক। পড়ান ইউনিভার্সিটি কলেজ লণ্ডন-এ। বিষয় বিজ্ঞানের ইতিহাস এবং দর্শন। আইনস্টাইন বিষয়ে একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা এই পণ্ডিত গভীর আগ্রহী আর একটি প্রশ্নে। মানুষের সৃজনশীলতা ব্যাপারটি রীতিমতো কৌতূহলের মনে হয় তাঁর। ১৯৯৬ সালে তিনি এ বিষয়ে লিখেছিলেন একখানি বই। ‘ইনসাইটস অব জিনিয়াস: ইমেজারি অ্যাণ্ড ক্রিয়েটিভিটি ইন সায়েন্স অ্যাণ্ড আর্ট’। ‘আইনস্টাইন, পিকাসো...’ মিলারের সাম্প্রতিকতম রচনা। এর প্রতিপাদ্য কিছুটা আলাদা। কী ভাবে তাঁরা পৌঁছলেন স্থানকাল সম্পর্কে নতুন ধারণায়? না, মিলার এখানে সে ব্যাখ্যায় যাননি। বরং চেষ্টা করেছেন বুঝতে, কেন এই দুজন আবিষ্কার করলেন সেসব। নেমেছেন কঠিন কাজে। কী শিল্পে, কী বিজ্ঞানে কৃতিত্বের মূলে ‘কেন’ প্রশ্নটির জবাব চিরকালই কঠিন। এ ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। কারণ, আলোচ্য বিষয় এখানে প্রতিভার এমন দুই নিদর্শন, যাঁদের তাৎপর্য রেনেসাঁ-পর্বে ইউরোপের কথা মনে করায়। মিলার তাই প্রবৃত্ত হয়েছেন গভীর এক অনুসন্ধানে। খুঁজেছেন উৎসমুখ। কিউবিজম এবং রিলেটিভিটির। জানতে চেয়েছেন ঠিক কী কী কারণে পিকাসো এবং আইনস্টাইন প্ররোচিত হয়েছিলেন জগৎ-বিখ্যাত দুই আবিষ্কারের লক্ষ্যে। এই গবেষণা তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে বিংশ শতাব্দীর সূচনায় দুটি বিপ্লবের মূলে প্রেরণা আসলে অভিন্ন।
দুই প্রতিভার জীবনকাহিনীতেও কত মিল! প্রচ্ছন্ন কিংবা প্রকট। আইনস্টাইনের জন্ম ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মার্চ। জার্মানির উল্ম শহরে। বাবা হেরম্যান আইনস্টাইনের ছিল বৈদ্যুতিক সাজসরঞ্জামের ব্যবসা। সে ব্যবসাও তেমন চলে না। তাই পাততাড়ি গুটিয়ে কখনও ম্যুনিখ, তো কখনও মিলান। অবশেষে দেনার দায়ে তাও উঠে যাবার জোগাড়। এই অসচ্ছল পরিবারেও পিতা উদ্বিগ্ন ছিলেন পুত্রের সার্বিক শিক্ষায়। হয়তো তাই তাঁর ছ’বছর বয়সে তাঁকে কিনে দিয়েছিলেন বিশেষ এক খেলনা। কম্পাস। যাকে ঘোরালে-ফেরালেও এক রত্তি কাঁটাটি বারবার দাঁড়ায় উত্তর-দক্ষিণে। এ কোন ভানুমতির খেল? মুগ্ধ বিস্ময়ে এক শিশু আয়ত্ত করেছিল প্রকৃতি বিষয়ে তার প্রথম পাঠ: বিশ্ব রহস্যময়। আশ্চর্য, এমন সংবেদনশীল শিক্ষার্থীও উপেক্ষিত ছিল স্কুলে। উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ব্যাকরণ-শিক্ষক ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন ছাত্রটিকে মূল্যায়ণের সুবাদে। ‘‘জীবনে কিস্সু হবে না তোমার’’— এই ভর্ৎসনা বাক্য উচ্চারণের কৃতিত্বে। কটু মন্তব্যের মূলে যে বিরক্তি, তা অবশ্য ছাত্রটির একান্ত স্বোপার্জিত। আইনস্টাইন আশৈশব জেদি, একরোখা। কর্তৃত্ব কিংবা শাসন তাঁর কাছে নেহাতই উপেক্ষা আর বিদ্রূপের যোগ্য। যৌবনে মা-বাবার ঘোর অপছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করায়, কলেজে অধ্যাপকের নোটস অপছন্দ হলে তা বাজে কাগজের ঝুড়িতে ছুঁড়ে ফেলায় ওই বিদ্রোহেরই ঘোষণা। এ রকম স্বাধীনচেতা যুবকের চাকরিভাগ্য করুণ হতে বাধ্য। উপযুক্ত সুপারিশের অভাবে স্কুল টিচারের চাকরিও জোটে না আইনস্টাইনের। প্রতিভাবানদের জীবনে যাত্রাপথের শুরুটা কবে আর মসৃণ হয়েছে?
পিকাসোর বেলায় তো আবার মাতৃগর্ভের বাইরে আসাটাই রীতিমতো বিঘ্নসংকুল। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অক্টোবর স্পেন-এর মালাগা শহরে প্রায়-মধ্যরাতে জন্ম হয়েছিল যে শিশুর, সে নিথর। না শ্বাসপ্রশ্বাস, না কান্নাকাটি। তাঁর জীবনের আশা ত্যাগ করে ধাত্রীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন মায়ের পরিচর্যায়। চিকিৎসক এক কাকা সেখানে উপস্থিত না থাকলে পৃথিবী পিকাসোকে হারাত জন্মমুহূর্তেই। শোনা যায়, মৃতবৎ নবজাতকের মুখের উপর ঝুঁকে তিনি ছেড়েছিলেন চুরুটের একরাশ ধোঁয়া। নাসারন্ধ্রে তীব্র ঝাঁঝ, ফুসফুসে কঠিন জ্বালা জীবনদায়ী হয়েছিল সেই শিশুর ক্ষেত্রে।
নামকরণ অনুযায়ী জোস রুই ব্লাসকো এবং মারিয়া পিকাসো লোপেজ-এর প্রথম সন্তান পাবলো দিয়েগো জোস ফ্রানসিসকো দ্য পাওলো জুয়ান নেপোমুসিনো মারিয়া দ্য লস রেমেদিওস ক্রিসপিন ক্রিস্পিয়ানো সানতিসিমা রুই ই পিকাসো। সংক্ষেপে পাবলো রুই। যৌবনে, অনেকটা বাবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণায়, পারিবারিক উপাধি ত্যাগ করে, পিকাসো নিয়ে ফেলেন মায়ের পদবি। বনে যান পাবলো পিকাসো। অসফল চিত্রকর ব্লাসকো-র এই সন্তান নাকি শৈশবে প্রথম উচ্চারণ করেছিল একটি শব্দ। ‘পিজ’। হাত বাড়িয়ে ওই শিশু চেয়েছিল ‘লাপিজ’, অর্থাৎ পেনসিল। পড়াশোনায় একান্ত বিরাগ, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায় মরাকান্না যে ছেলের, সে যখন-তখন যেখানে-সেখানে খাতা ভরিয়ে ফেলত ছবিতে। তার কাছে জগৎ এতই চিত্রময় যে, গণিতের পাঠ নিতে বসে ইংরেজির ‘সাত’ অঙ্কটির দিকে তাকিয়ে সে বলে উঠেছিল, ‘‘ওটা তো ওল্টানো নাক!’’ ‘আট’ নাকি মানুষের পেটের উপর মাথা! ‘নয়’ গাছের ডালে ফুল! ‘তিন’-কে চিত করে দিলে স্তন কিংবা নিতম্ব!
শিল্পখ্যাতির শিখরে পৌঁছে একবার শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী উদ্বোধন করতে গিয়ে পিকাসো বলেছিলেন, ‘‘ছোটবেলায় এ রকম প্রদর্শনীতে কিছুতেই অংশ নিতে পারতাম না। বারো বছর বয়সে আমি আঁকতাম রাফায়েল-এর মতো।’’ এমন প্রতিভার সঙ্গে মিশেছিল গভীর আত্মপ্রত্যয়। হয়তো বা অহংকারও। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে, অর্থাৎ উনিশ বছর বয়সে, ভাগ্যানুসন্ধানে প্রথমবার প্যারিসযাত্রার আগে, যে একখানি আত্মপ্রতিকৃতি আঁকেন পিকাসো, তার পাশে লিখে রাখেন: ‘ইয়ো—এল রে; ইয়ো—এল রে; ইয়ো—এল রে’ (আমি সম্রাট; আমি সম্রাট; আমি সম্রাট)।
ভাগ্যান্বেষণ অথবা প্রতিভার স্ফূরণ— লক্ষ্য যাই হোক, যৌবনের শুরুতে আইনস্টাইন এবং পিকাসো দুজনেই প্রায় ভবঘুরে। আইনস্টাইনের ক্ষেত্রে ঠিকানা কখনও জুরিখ, কখনও স্কাফাউসেন, আবার কখনও বার্ন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপনা বা স্কুলমাস্টারের চাকরি না পেয়ে, পেট চালাতে সস্তার ট্যুইশানি। সেটা জোটাতেও গলদঘর্ম। শেষে খবরের কাগজে এই মর্মে বিজ্ঞাপন যে, ‘ট্রায়াল লেশনস ফ্রি’। আর খেদভরে এক বন্ধুর কাছে আইনস্টাইনের মন্তব্য: ‘‘এর চেয়ে রাস্তায় বেহালা বাজালেও রোজগার হত বেশি।’’ বাবার চাকরি চলে যাওয়ায় পিকাসোর পরিবার মালাগা ছেড়ে স্পেনের উত্তর উপকূলের শহর কোরুনা-য়। তারপর সেখান থেকে বার্সেলোনা। দিগভ্রান্ত পিকাসো অবশ্য কখনও মাদ্রিদ, কখনও হোর্তা দ্য এব্রো-য়। অবশেষে, ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে, স্বপ্নের শহর প্যারিসে। শিল্পসৃষ্টির মক্কায়।
পিকাসোর জীবনীকারদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জন রিচার্ডসন। শিল্পীর জীবন ও প্রতিভার বর্ণনায় বহু খণ্ড বিস্তৃত রচনার কাজ যিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও। তাঁকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিকাসোর প্রণয়িনীদের অন্যতম ডোরা মার জানিয়েছিলেন সেই পাঁচটি উপাদান। যেসব, তাঁর মতে, নানা পর্বে নিয়ন্ত্রণ করেছে পিকাসোর বিচিত্র জীবনধারা এবং সেই সূত্রে তাঁর শিল্পরচনার বিশেষ ভঙ্গি। কী সেই পঞ্চ রস? মার-এর তালিকা: প্রেমপর্ব, কবিসংসর্গ, বাসস্থান, বন্ধুকুল এবং পোষ্যপ্রাণী। হ্যাঁ, কিউবিজম শুরুর পর্বে, অর্থাৎ ১৯০৭ থেকে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পিকাসোর জীবনে ওই পাঁচ উপকরণ রীতিমতো লক্ষ্যণীয়। তিনি নিজেই বলতেন, ‘‘যৌনতা এবং শিল্প আমার জীবনে সমার্থক।’’ রিচার্ডসন লিখেছেন, পনেরো বছর বয়সে আর্ট স্কুলের ছাত্রাবস্থায় বার্সেলোনার গণিকাপল্লিতে পিকাসোর যাতায়াত শুরু। কপর্দকশূন্য এই ছাত্রের কাছে অর্থের বদলে গণিকারা দাবি করত দ্রুত এঁকে ফেলা তাদের এক একটি পোর্ট্রেট। নারীসঙ্গের নেশায় গোটা জীবনে পিকাসো পরিণত হয়েছিলেন এক কিংবদন্তিতে। অসংখ্য তাৎক্ষণিক প্রেম বাদ দিলেও, ৯১ বছরের দীর্ঘ জীবনে অন্তত সাত জন স্ত্রী কিংবা সঙ্গিনী পাশে ছিলেন তাঁর। এই তালিকায় প্রথম রীতিমতো সুন্দরী ফার্নান্দ অলিভিয়ের। করুণ অতীত আর নিষ্ঠুর স্বামীকে পিছনে ফেলে যিনি প্যারিসে শুরু করেছিলেন ন্যুড মডেলিং-এর কাজ। পিকাসোর জীবনে তাঁর আবির্ভাব ১৯০৪ সালে। আর, সম্পর্কের ইতি ১৯১২-য়। কিউবিজম-এর সূচনাকালে পিকাসোকে ঘিরে কবি আর শিল্পীবন্ধুদের যে পরিমণ্ডল— পরে যা ‘লা বাঁদ আ পিকাসো’ নামে চিহ্নিত— তার মধ্যে ছিলেন ম্যাক্স জ্যাকব, গিলাম অ্যাপোলিনায়ার, জর্জ ব্রাক্ কিংবা অঁরি মাতিস। বাসস্থান বলতে তখন পিকাসোর ঠিকানা শিল্পীদের মহল্লা বাতু লাভোয়া-র ১৩ রু রাভিয়নাঁ। আর, পোষা জীব বিশাল দেহী সারমেয় ‘ফ্রিকা’। ওই পোষ্য বাদ দিলে রিলেটিভিটি পর্বে আইনস্টাইনের জীবনও একই রকম। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বসন্তে তাঁর ঠিকানা সুইৎজারল্যাণ্ডের বার্ন শহরে গরিব এলাকা ৪৯ ক্রামগ্রাস। বন্ধু বলতে ফিজিক্স আলোচনার সঙ্গী কনরাড হাবিখ্ট, মরিস সলোভিন এবং মাইকেল বেসো। আর, নারী? আইনস্টাইনকে যাঁরা সাধুসন্ত কিংবা ফকিরের বৈজ্ঞানিক সংস্করণ ভেবেছিলেন বহুকাল, তাঁদের ভুল ভেঙেছে এখন। ১৯৮৬ সালে তাঁর বহু ব্যক্তিগত চিঠিপত্র আবিষ্কারের পর জানা গেছে, একটি অবৈধ সন্তানের জন্মদান এবং দু’টি বিয়ের মধ্যেই শেষ হয়নি তাঁর নারীসঙ্গ। সারা জীবনে একাধিক প্রণয়িনীকে পরিত্যাগ করেছেন তিনি। ‘ম্যারেজ’ তাঁর কাছে ছিল ‘অ্যান আনসাকসেসফুল অ্যাটেম্পট টু মেক সামথিং লাস্টিং আউট অব অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’। রিলেটিভিটি আর কিউবিজম আবিষ্কারকালে আইনস্টাইটন আর পিকাসো-র ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমপর্বের ছবিগুলো আলাদা। আইনস্টাইটন ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলেভা মারিক-এর মধ্যে অসন্তোষ তখনও শুরু হয়নি। আর পিকাসো এবং ফার্নান্দের সম্পর্কে বড়সড় ফাটল। এতটাই যে, দু’জনেই অন্য মহিলা বা পুরুষের সঙ্গে রাত কাটাচ্ছেন!
রিলেটিভিটি কিংবা কিউবিজম-এর জন্মলগ্নে আইনস্টাইন আর পিকাসো দু’জনেরই বয়স ছাব্বিশ। এই রকম দু’ই যুবক, বার্ন এবং প্যারিসে বসে চিরতরে বদলে দিলেন বিজ্ঞান এবং শিল্প। কী ভাবে? প্রথমে আইনস্টাইন দিয়ে শুরু করা যাক। দেখে নেওয়া যাক ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ফিজিক্সের অবস্থা। কয়েকবছর ধরে অনেকগুলো আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো উজ্জীবিত। ১৮৯৫ সালে খোঁঁজ মিলেছে অদৃশ্য আলো এক্স রশ্মির। যা দৃশ্যগোচর করে মাংসপেশীতে-ঢাকা মানুষের হাড়। পরের বছর আবিষ্কৃত হয়েছে আর এক বিচিত্র বিকিরণ— রেডিওঅ্যাকটিভিটি। যা ভেদ করে চলে যায় মোটা ধাতুর পাত। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ধরা পড়েছে ইলেকট্রিসিটির মূলে দায়ী কণা ইলেকট্রন। বোঝা গেছে পদার্থকণার ভিতরে রয়েছে রহস্যময় এক জগৎ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞানীরা যখন ভাবতে শুরু করেছেন যে, অনেক কিছুই জানা হয়ে গেছে, ঠিক তখনই বার্ন-এ পেটেন্ট অফিসের কর্মচারী আইনস্টাইন মাত্র এক বছরের মধ্যে পাঁচ-পাঁচটি পেপার লিখে উল্টেপাল্টে দিলেন ফিজিক্স। এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিভার এরকম বিস্ফোরণ এর আগে বা পরে আর কখনও দেখা যায়নি। পদার্থবিদ্যা বিষয়ে জার্মান পত্রিকা ‘অ্যানালেন ডার ফিজিক’-এ প্রকাশিত ওই পাঁচটি পেপারের মধ্যে চতুর্থটি রিলেটিভিটি সংক্রান্ত। তিরিশ পৃষ্ঠা ব্যাপী ওই প্রবন্ধে আইনস্টাইনের প্রতিপাদ্য রীতিমতো বৈপ্লবিক। বস্তুত, ফিজিক্সের মূল ভিতটাই চুরমার। সেই ভিত, যার উপর আইজাক নিউটন পর্যন্ত দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁর বিশাল তত্ত্ব। আপাতদৃষ্টিতে যে ভিতের দুর্বলতা চোখে পড়ে না মোটেই। ওই যে, আমরা ধরে নিই, স্পেস আর টাইম, অর্থাৎ কিছুটা আয়তন আর সময়, এগুলো একই থাকে, কখনও বদলায় না। এক ঘনমিটার স্থান বা এক ঘন্টাকাল দুজন মানুষের বেলায় একই হবে। আইনস্টাইন দেখিয়ে দিলেন, তা হবে কেবল মানুষদুটো স্থির থাকলে, অথবা দুজনেই সমবেগে ছুটলে। কিন্তু, যদি এক জনের তুলনায় আর এক জন চলনশীল হয়, তা হলে তারা দুজনে এক ঘনমিটার মাপলে দুটো আয়তন সমান হবে না। তেমনই তাদের দুজনের ঘড়িতে এক ঘন্টা সময়টাও আসলে পরিমাণে হবে আলাদা। চূড়ান্ত স্পেস বা চূড়ান্ত টাইম বলে কিছু নেই। যার যার, তার তার। এই প্রতিপাদ্য থেকে আইনস্টাইন পৌঁছে গেলেন আরও গভীর এক সত্যে। স্পেস আর টাইম আলাদা নয়। সময় আসলে আয়তনের তিন মাত্রা (দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতা)-র মতো আর একটি (চতুর্থ) মাত্রা। অর্থাৎ, স্থান আর কাল একই জিনিস। স্পেস এবং টাইমের আলাদা অস্তিত্ব অসম্ভব। ওরা মিলেমিশে একাকার। স্পেস আর টাইম নয়। স্পেসটাইম।
পিকাসোর তুলিতে কিউবিজমের আত্মপ্রকাশ ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে। বিভিন্ন জীবনীকারের বর্ণনায় জানা যাচ্ছে, সেসময় শিল্পীর বিপর্যস্ত মানসিকতা। ফার্নান্দের সঙ্গে প্রায় ছাড়াছাড়ি। মাদকের নেশায় রীতিমতো আসক্ত পিকাসো। অনেকটা ভেঙে গেছে ‘লা বাঁদ আ পিকাসো’-র পুরনো আড্ডা। ফার্নান্দকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, পিকাসে কি পাগল হয়ে যাচ্ছেন? চারদিকে ভাঙনের এই মিছিলে স্রষ্টা একা কেবল প্রস্তুত হতে থাকেন বৃহৎ এক সৃজনের লক্ষ্যে। আর সবাইকে ছাপিয়ে যেতে। সমস্যা অনেক। তাঁর ঘুপচি আস্তানায় আট ফুট বাই আট ফুট ক্যানভাস রেখে ছবি আঁকার জায়গা নেই। পুরনো কিছু ছবি বিক্রির পয়সায় আর বান্ধবী গারত্রুড স্টেইন-এর সহায়তায় এক স্টুডিও ভাড়া নেন পিকাসো। কয়েক মাস ধরে এঁকে চলেন তাঁর সাধের ছবি। ‘এল বরদেল’। হ্যাঁ, পিকাসো ছবিটার ওই নামই দিয়েছিলেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লেখক-বন্ধু আন্দ্রে সামন মুগ্ধ বিস্ময়ে নতুন নাম দেন সেই ছবির। ‘লে দেমোয়াজেল দা’ভিয়ঁ’। ১৯৩০-এর দশকে পিকাসো দান করার পর থেকে ওই পেইন্টিং-এর ঠিকানা নিউ ইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট। কিউবিজমের প্রথম স্বাক্ষরটিকে একবার দেখার জন্য যেখানে আজও হাজির হন শিল্পরসিকেরা।
কেমন ছবি ‘দেমোয়াজেল’? শিল্পের যে কোনও আশ্চর্য নজিরের মতোই এর কোনও ব্যাখ্যা হয় না। বা হয় হাজারটা। ক্যানভাস জুড়ে পাঁচ নিরাভরণ নারী। আসলে পাঁচ গণিকা। পিকাসোর জীবনে বার্সেলোনার বেশ্যালয়ের স্মৃতি। পাঁচ বারাঙ্গনার চার জনই দাঁড়িয়ে। তাদের দুজন যেন সকলের সামনে থেকে একটা পর্দা সরানোর ভঙ্গিমায়। আর এক জন বসে, কিঞ্চিৎ বিচিত্র ভঙ্গিতে। তার পিঠ দর্শকের দিকে, অথচ, মুখ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে; সেও দর্শকের দিকে তাকিয়ে। পাঁচ নারীর নিজেদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ নেই। তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ কেবল খদ্দেরের দিকে। দেহ বিক্রির আশায়, এই মুহূর্তে, তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ঠিক যেমন পরিবেশ থাকে যে কোনও গণিকালয়ে। কিন্তু, বারবণিতাদের পেইন্টিং-এ প্রায়শ যৌনতার যে সমারোহ থাকে, তা এখানে প্রায় অনুপস্থিত। বরং, বোঝা যায়, পেলবতা আর ক্রূরতার এক অদ্ভুত মিশ্রণই বুঝি বা চিত্রায়িত করতে চেয়েছিলেন পিকাসো। বিচিত্র ভঙ্গিমায় আসীন পঞ্চম গণিকার দিকে তাকালে এটা বোঝা যায়। সে ভীষণ দর্শনা। মুখ তার ভাঙাচোরা, বিশ্রী। দৃষ্টি হিংস্র পশুর চেয়েও ভয়াল। ব্যাখ্যাকারদের ভাষ্য, বৈপরীত্যের এই সমারোহ পিকাসোর মানসিকতার প্রতিফলন। ‘দেমোয়াজেল’-এ একজন গণিকা অবশ্যই ফার্নান্দের প্রতিমূর্তি। আর ভয় পিকাসোর নিজের সঙ্গী। অতিরিক্ত গণিকাসংসর্গে এক সময় সিফিলিসে মৃত্যুর দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। আসলে, বেশ্যালয়মুখী যে কোনও পুরুষের তাৎক্ষণিক অনুভূতিই এক চরম বৈপরীত্য। ভোগ এবং ভয়। জীবন ও মৃত্যু।
কিন্তু, ওসব তো বিষয়বস্তুর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। ‘দেমোয়াজেল’-এর আসল পরিচয় তার শৈলীতে। যা বস্তুত এক ল্যাণ্ডমার্ক। ক্যানভাস জুড়ে বারবণিতাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জ্যামিতিক আকারের ছড়াছড়ি। এমনকী, বক্ষদেশ পর্যন্ত ত্রিভূজ বা চতুর্ভূজ। কারও নাক, চোখ আবার একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে একাধিক দৃষ্টিকোণে। পাশ থেকে বা সামনাসামনি। গণিকাদের সামনে টেবিলে রাখা ফলমূল তো আবার যেন দেখা যাচ্ছে ঘরের সিলিং থেকে! তা ছাড়া, প্রেক্ষিত বা কাছে-দূরের মায়া তৈরি হয়েছে রং-এর তারতম্যে। বোঝা যাচ্ছে, পেইন্টিং-এর এই শৈলী যেন অগ্রাহ্য করছে অতীতের প্রায় সব ধারাকে। রেনেসাঁর সময় থেকেই শিল্পীরা ত্রিমাত্রিক (দৈর্ঘ, প্রস্থ, উচ্চতা) স্পেস-কে দ্বিমাত্রিক (দৈর্ঘ, উচ্চতা) ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আস্ত একটা ঘনককে একটা তলে ফুটিয়ে তুলতে, প্রেক্ষিতের মায়া তৈরি করতে আশ্রয় নিয়েছেন আলোছায়ার। অথবা, কাছের জিনিসকে দেখিয়েছেন বড়, আর দূরের বস্তুকে ছোট। যেন দ্রষ্টা কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে একটি স্থির দৃশ্য দেখছে। এই নিয়ম না মানলে ক্ষতি কী? কেমন হয়, যদি দ্রষ্টা পরপর অনেকগুলো অবস্থান থেকে একই বস্তুকে দেখেন? ছবি আঁকার এই নতুন স্টাইল তা হলে শুধু স্পেসই নতুন করে তৈরি করছে না, তার মধ্যে আবার আমদানি করছে নতুন একটি মাত্রা— টাইম। কিউবিজম সত্যিই পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনের আবির্ভাব। শিল্প-রচনার পদ্ধতিটাই এখানে শিল্পের উপাদান। ‘আর্ট থিংকিং অ্যাবাউট আর্ট’।
তা হলে, সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়ের চর্চাকারী হয়েও, আইনস্টাইন আর পিকাসো কেন আকৃষ্ট হলেন স্পেসটাইম-এর একই চরিত্রে? রিলেটিভিটি গবেষণার পিছনে প্রেরণা সম্পর্কে আইনস্টাইন কোনও দিন স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। শুধু জানিয়েছেন, ফিজিক্সের বেশ কিছু তত্ত্বের অসংগতি তাঁকে ভাবাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। আর পিকাসো? কিউবিজম-চিন্তার উৎস সম্পর্কে উত্তরসূরিদের ধন্দে রাখতে, স্বাভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে, সারা জীবন বলেছেন উল্টোপাল্টা কথা। ১৯১১-য় এক সাক্ষাৎকারে এক সাংবাদিক এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে, রীতিমতো বিরক্ত হয়ে, ‘‘কিউবিজম বলে কিছু নেই’’— এই বলে তিনি মত্ত হয়ে পড়েন পোষা বাঁদরকে খাবার খাওয়াতে। ‘আইনস্টাইন, পিকাসো...’ বইটিতে লেখক মিলার ভেদ করেছেন রহস্য। প্রচুর তথ্য ঘেঁটে তিনি আবিষ্কার করেছেন দুই প্রতিভার গবেষণার মূলে এক জনের প্রভাব। কে তিনি? ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি পয়ঁকার। ১৯০২ সালে প্রকাশিত পয়ঁকার-এর ‘লা স্যঁস এ লি’পোথেস’ বইতে দীর্ঘ আলোচনা ছিল স্থানকাল জ্যামিতি নিয়ে। ছিল এই অব্যর্থ ঘোষণাও যে, ‘‘চূড়ান্ত স্পেস রলে কিছু নেই... চূড়ান্ত টাইম বলেও কিছু হয় না।’’ ১৯০৪ সালে জার্মান অনুবাদে পয়ঁকার-এর বই পড়ে ভীষণ অনুপ্রাণিত হন আইনস্টাইন। তেমনই ওই বইয়ের প্রতিপাদ্যে নতুন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হন পিকাসো। বইটির জটিল বিশ্লেষণ বুঝতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন তাঁর বান্ধবীর স্বামী মরিস প্রিশে। মিলার লিখেছেন, ‘‘সময় বিষয়ে পয়ঁকার-এর অন্তর্দৃষ্টি যেমন আইনস্টাইনকে অনুপ্রাণিত করেছিল, স্পেসটাইম-এর নতুন জ্যামিতি আবিষ্কারে, তেমনই তা পিকাসোকে ঠেলে দিয়েছিল জ্যামিতিকে শিল্পের নতুন ভাষা হিসেবে চিনে নিতে।’’
সত্যিই কি বিজ্ঞান আর কলার মধ্যে কোনও ভেদ আছে? বিজ্ঞানীর মতো শিল্পীও কি আকৃষ্ট নন প্রকৃতির রহস্যে? যদি তাই হয়, তা হলে এই অন্বেষণ কি দুজনকেই পৌঁছে দেয় না সেই একমেবাদ্বিতীয়ম্ সত্যে?
সৌজন্যঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪০৮ রবিবার ৯ ডিসেম্বর ২০০১
But one good friend is equal to a LIBRARY

